Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৬ ভাদ্র ১৪২১ মঙ্গলবার ২ সেপ্টেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
ব্যারেটোর স্বজনকে সারদার টাকা ।। স্কুলে গিয়ে বাঁশি বাজিয়ে শোনালেন ‘ছাত্র’ মোদি ।। ঐতিহাসিক মহামিছিলে ১৫ দলের আবেদন, চাই আরও ঐক্যবদ্ধ বাম ।। চৌরঙ্গিতে বি জে পি-কে কোনও জমি না ছাড়ার নির্দেশ মমতার ।। ধর্মঘটে অনড় ‌ট্যাক্সি, রাজ্য আরও কড়া ।। ভাড়া বাড়লেও বাস কম কম! ।। আজ পাহাড়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর চোখ উন্নয়নেই ।। কয়লা ব্লকের বণ্টন নাকচ না করতে অনুরোধ কেন্দ্রের ।। উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপতি: বিশ্বভারতী ছাত্রী নিগ্রহের ঘটনার খোঁজ নিলেন ।। বি জে পি-র রাজ্য কমিটিতে বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য বিশিষ্টরা ।। শরিফকে সরতে বলল পাক ফৌজ ।। ‘আগ্রাসী’ চীনকে খোঁচা মোদির
কলকাতা

ঐতিহাসিক মহামিছিলে ১৫ দলের আবেদন, চাই আরও ঐক্যবদ্ধ বাম

চৌরঙ্গিতে বি জে পি-কে কোনও জমি না ছাড়ার নির্দেশ মমতার

মধ্য কলকাতায় ২০টি বাড়িতে বিপজ্জনক নোটিস পুরসভার

ধর্ষণ করে ফেলে যাওয়া হল প্রেসিডেন্সি জেলের সামনে

ঐতিহাসিক মহামিছিলে ১৫ দলের আবেদন, চাই আরও ঐক্যবদ্ধ বাম

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



আজকালের প্রতিবেদন: প্রকৃতিও যেন হার মানল কলকাতার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মহামিছিলের কাছে৷‌ এমনিতে প্রত্যেকবারই বামফ্রন্টের ডাকা এই ১ সেপ্টেম্বরের মিছিল রাজপথ ছাপিয়ে বার্তা দেয় যুদ্ধের বিরুদ্ধে, শাম্তির পক্ষে৷‌ এবার সেই মিছিল যেন আরও বড় হয়ে আছড়ে পড়ল দেশবন্ধু পার্কে৷‌ কারণ এবার কলকাতার এই শাম্তি মিছিলে একজোট ১৫ বামপম্হী দল৷‌ বার বার ঝেঁপে আসা বৃষ্টিকে মাথায় নিয়েও মস্ত শুঁয়োপোকার মতো মিছিলের মুখ যখন দেশবন্ধু পার্কে পৌঁছে গেছে, লেজ তখনও শিয়ালদা উড়াল সেতুতে উঠতে পারেনি৷‌ মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছে যুদ্ধবাজ আমেরিকা ভারত থেকে হাত ওঠাও৷‌ সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক৷‌ রাজনৈতিক বিভেদ দূরে রেখে ১৫ বামদলের ঐক্যবদ্ধ মহামিছিল যেন এদিন বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে, বাম ঐক্যকে আরও ঐক্যবদ্ধ করাই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার অন্যতম পথ৷‌ উল্লেখ্য, প্রথম থেকেই এবার রাজ্য বামফ্রন্ট উদ্যোগী হয়, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সমস্ত বামদলকে অন্যান্য বিভেদ সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ করা হবে৷‌ সেই মতো ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু পৃথক ভাবে সমস্ত দলের সঙ্গে কথা বলেন৷‌ সকলে রাজিও হন৷‌ এর পর বামফ্রন্টের ১০ শরিকদল এবং আরও ৫ বামপম্হী দল, যারা বামফ্রন্টের বাইরে আছে, একসঙ্গে বৈঠকে বসে৷‌ মিছিলের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনার পরই সিদ্ধাম্ত হয় এবারের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শাম্তিমিছিল হবে ১৫ বামদলের মহামিছিল৷‌ শুধু তাই নয়, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা, মানবাধিকার সংগঠন, বিশিষ্ট শিক্ষক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ যাঁরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁদের সবাইকে প্রকাশ্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এই বামদলগুলি৷‌ ফলে এবারের মহামিছিল যে কলেবরে বাড়বে তা জানাই ছিল৷‌ সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল খামখেয়ালি৷‌ শরতের ছেঁড়া মেঘের খেয়ালিপনায় সকাল থেকেই চলছিল রোদবৃষ্টির খেলা৷‌ কিন্তু তা উপেক্ষা করেই শিয়ালদা রামলীলা ময়দানের সামনে একের পর এক সাজানো ট্যাবলো, পোস্টার, ফেস্টুন নিয়ে আসতে থাকেন মানুষ৷‌ দুপুর ১টার সময় যুদ্ধবিরোধী মানুষের ভিড়ে সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়৷‌ হঠাৎই প্রকৃতি যেন আরও একটু খেয়ালি হয়ে বৃষ্টি এল ঝেঁপে৷‌ ভিজতে ভিজতেই সি পি এম নেতা নিরঞ্জন চ্যাটার্জির সঙ্গে গলা মিলিয়ে যুদ্ধবিরোধী স্লোগান তোলে জনতা৷‌ পাশে সার দিয়ে দাঁড়ানো সুসজ্জিত ট্যাবলোগুলোও তখন বৃষ্টিভেজা হয়ে নীরবে স্লোগান তুলছে হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সুকাম্ত, সলিল চৌধুরি থেকে শুরু করে নজরুল, রবীন্দ্রনাথের সুরে৷‌ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই হাজির হলেন বিমান বসু, সূর্যকাম্ত মিশ্র, দেবব্রত সরকার, কার্তিক পাল, সৌমেন বসু, বর্ণালী মুখার্জি, সম্তোষ রানা, অসীম চ্যাটার্জিরা৷‌ বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শুরু হল মিছিল৷‌ এমন মোটাসোটা মিছিল শেষ কবে দেখেছে কলকাতা? গমগমে স্লোগান নিয়ে মিছিল এগোতে থাকে মৌলালি হয়ে শিয়ালদা উড়াল সেতুর দিকে৷‌ মিছিলে যাঁরা হাঁটলেন না তাঁদের অনেকে রইলেন অন্য ভূমিকায়৷‌ একদল মানুষ ছাতা মাথায় দু’পাশের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে মিছিলের কলেবর মাপলেন৷‌ নিরাপত্তার খাতিরে পুলিসের কিছু অফিসার, কর্মীকে হাঁটতে হল মিছিলে৷‌ বাকিরা দাঁড়িয়ে রইলেন দু’পাশে৷‌ আর যাঁরা মিছিলে হাঁটলেন না, তাঁরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে রইলেন স্বেচ্ছাসেবক হয়ে৷‌ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তাঁরা মিছিলকে জোগালেন পানীয় জল আর বাতাসা৷‌ স্লোগান, পোস্টার, ফেস্টুনের পাশাপাশি মিছিলে ছিল গানও৷‌ গলায় গলায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে শাম্তিসঙ্গীতের কোরাস, কোলাজ৷‌ রাজাবাজার মোড় থেকে মিছিল চলল গ্যাস স্ট্রিটের দিকে৷‌ পেছনে রামলীলা ময়দানের সামনে সুসজ্জিত ট্যাবলোগুলো তখনও মিছিলে ঢোকার সুযোগ পায়নি৷‌ ফের বৃষ্টি এল ঝিরঝিরিয়ে৷‌ এভাবে মিছিল রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট দিয়ে যখন দেশবন্ধু পার্কে পৌঁছাল, আশপাশের রাস্তায় যানবাহন থমকে গেছে৷‌ উত্তর কলকাতা তখন মিছিলে আবিষ্ট৷‌ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সেখানে শুরু হয়ে যায় সভা৷‌ বিমান বসু বলেন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মানেই যুদ্ধ, প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলি হানার অমানবিক ছবি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমেরিকার মদত ছাড়া এই অমানবিক যুদ্ধের সাহস পেত না৷‌ নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি৷‌ কিন্তু মাথা নত করেনি প্যালেস্টাইনের মানুষ, গাজা ভূখণ্ডের মানুষ৷‌ আমাদের লড়াই, আমাদের মিছিল এই লড়াকু মানুষের পক্ষে, সাম্রাজ্যবাদের মূল শক্তি আমেরিকার বিরুদ্ধে৷‌ মিছিলের লেজ তখনও রাজাবাজার মোড়ে গণসঙ্গীতে মুখর৷‌ এদিনের সভার শুরুতে বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ডাঃ সূর্যকাম্ত মিশ্র৷‌ তিনি বলেন, যাঁরা বলেন বামপম্হীরা শেষ হয়ে গেছে, তাঁরা দেখুন চারদিকে শুধুই লাল পতাকার মিছিল৷‌ তিনি বলেন, অনেকেই বলে থাকেন আমরা বামপম্হীরাই নাকি শুধু সাম্রাজ্যবাদের কথা বলে চেঁচাই৷‌ কোথায় সাম্রাজ্যবাদ? তিনি বলেন, মাটির নিচের জল, জমি এমনকী আকাশেরও দখল নিচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ৷‌ ভবিষ্যতে আর তেল নিয়ে নয়, জল নিয়ে যুদ্ধ বাধাবে সাম্রাজ্যবাদীরা৷‌ এ দেশে এখন শুধু এফ ডি আই আর পি পি পি৷‌ এখন শুনছি মিডিয়ারও দখল নিতে চলেছে এফ ডি আই৷‌ অর্থাৎ শুধু দেশের নয়, দেশের মানুষের মগজেরও দখল নেবে৷‌ এ জন্যই আমরা সাম্রাজ্যবাদের বিপদ দেখতে পাই৷‌ আমরা তাই বলি দুনিয়ার মজদুর এক হও৷‌ কারণ আমরা মনে করি সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে লড়ার একমাত্র পথ হল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার বিশ্বায়ন৷‌ এদিন প্রায় একই সুরে সাম্রাজ্যবাদ, এ দেশে ও রাজ্যে তার দোসরদের বিরোধিতা করেন এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বসু, আর এস পি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোজ ভট্টাচার্য, সি পি আই রাজ্য সম্পাদক মঞ্জুকুমার মজুমদার, ফরওয়ার্ড ব্লক রাজ্য নেতা হাফিজ আলম সইরানি, সি পি আই (এম এল) লিবারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কার্তিক পাল, সি পি আই (এম এল) নেতা সম্তোষ রানা, ডি এস পি নেতা প্রবোধ সিন‍্হা, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ভারত-এর নেত্রী বর্ণালী মুখার্জি, নকশাল নেতা অসীম চ্যাটার্জি প্রমুখ৷‌ এঁদের কথায়, যুদ্ধ রক্তক্ষয় শুধু হিটলারের নামে হয় না, এ রাজ্যে, দেশে কর্পোরেটের টাকায় যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাও সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র৷‌ ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হল বামপম্হীদের শক্তি কমাও, ঘরে ঢুকিয়ে দাও ওদের৷‌ কেন না সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় তো বামপম্হীরাই সরব৷‌ প্রায় সমস্ত নেতা, নেত্রীই উল্লেখ করেন, ঐক্যবদ্ধ বামপম্হাই এই লড়াইয়ের অন্যতম পথ৷‌ আরও ঐক্য চাই৷‌ কমিউনিস্ট পার্টি অফ ভারতের নেত্রী বর্ণালী এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি আর এ রাজ্যে মমতা ব্যানার্জি হলেন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দোসর৷‌ দেশের কর্পোরেট শক্তি এদের সামনে রেখেই সাম্রাজ্যবাদীদের কাজ পরিচালনা করছে এ দেশে৷‌ যতক্ষণ না লাল কেল্লায় লাল নিশান উঠছে ততক্ষণ এই সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবিলা করা যাবে না৷‌ তাই দরকার আরও বামঐক্য৷‌ বিমান বসু বলেন রেল, প্রতিরক্ষা, বিমা সর্বত্র যে এফ ডি আই আসছে তা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরই সাফল্য৷‌ আর তা এনে দিয়েছে এ দেশের তাদের তল্পিবাহক, দোসররা৷‌ ১৫ দলের পক্ষ থেকে এদিন আমরা এক দিনের একটি মিছিল করলাম৷‌ এই ঐক্যকে আরও অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited