Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ কার্তিক ১৪২১ বৃহস্পতিবার ২৩ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
সারদা: সেন কমিশনের ইতি ।। সারদা-তদম্তে প্রথম চার্জশিট দিল সি বি আই ।। সারদার সম্পত্তির খোঁজে এবার রাজ্যের কাছে নথি চায় ই ডি ।। ভোট কোথায় পেলেন? বি জে পি-কে সি পি এম ।। সূর্যকাম্ত: মেহনতি মানুষ জাগছে বলেই বিভাজনের রাজনীতি বি জে পি, তৃণমূলের ।। অধীর: সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে হাতিয়ার করে বাংলা ভাগের চেষ্টা ।। উপাচার্যের মতে, প্রায় স্বাভাবিক যাদবপুর ।। বর্ধমান-কাণ্ডে দুই মহিলার জেল, হাসেমের পুলিস হেফাজত ।। নেই পুলিসের কড়াকড়ি, নুঙ্গিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে শব্দবাজি ।। জোটসঙ্গী হতে বি জে পি-র দরবারে শিবসেনা নেতারা ।। রাত বাড়তেই ফাটল শব্দবাজি ।। দেশের নিরাপত্তার সমান দায় কেন্দ্র, রাজ্যের: প্রভাস
কলকাতা

কলকাতায় কালীপুজো ২৭০০

১০ কোটির হীরের গয়নায় সেজেছে যুবশ্রীর শ্যামা

উপাচার্যের মতে, প্রায় স্বাভাবিক যাদবপুর

কলকাতায় কালীপুজো ২৭০০

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অমিত বসু

প্রেম-বিদ্বেষ গাড়ির দুটো হেডলাইট৷‌ একটু দূরে গিয়ে একাকার৷‌ আলাদা করা অসম্ভব৷‌ ভালবাসাবিলাসীরা ঘৃণা থেকে মুক্তি চায়৷‌ সেটা হয় না৷‌ দুই-ই নিতে হবে৷‌ সাধ্য থাকলে দুইকে এক করা যেতে পারে৷‌ তার জন্য অসীম শক্তি দরকার৷‌ ক্ষমতা না থাকলে খামোকা গালাগালি দিয়ে লাভ নেই৷‌ আলো আলো করে হেদিয়ে মরেও কী হবে৷‌ অন্ধকার ফেলনা নয়৷‌ অম্তত ঘুমোনোর জন্য৷‌ একাম্ত প্রয়োজনীয়৷‌ সৃষ্টির জন্য তো বটেই৷‌ আঁধার না থাকলে গাছপালা মরবে৷‌ ফুল ফুটবে না, ফল ফলবে না৷‌ নিশীথের গর্ভে দিনের জন্ম৷‌ গভীর তিমিরে কালীসাধনা৷‌ সারাদিন নিরম্বু উপবাস থেকে শেষ রাতে অঞ্জলি৷‌ যারা চায় কী চায়৷‌ আমার অন্ধকার নাও, আমাকে আলোয় ভরিয়ে দাও৷‌ চাইলেই পাবে এমন গ্যারান্টি কোথায়৷‌

একই সঙ্গে অমাবস্যার সঙ্গে আতশবাজির লড়াই৷‌ ফুলঝুরি রঙমশাল তুবড়িও কম যায় না৷‌ তাতে যাদের মন ওঠে না, বোমা ফাটায়৷‌ এলাকা কাঁপিয়ে প্রমাণ দিতে চায় শক্তির৷‌ শক্তিটা যে তার নয়, বোমার, বোঝে না৷‌ শক্তি বাড়াতে কে না চায়৷‌ হাই প্রোটিন, সঙ্গে ভিটামিন৷‌ নিয়মমতো শরীরী কসরতে পেটের ওপর ছ’টা মাসল, যার নাম সি‘ প্যাক৷‌ দেহ গৌরব চুড়োয়৷‌ ঘুসি মেরে ইট ভাঙলে হাততালি৷‌ বুকের ওপর দিয়ে হাতি গেলে বলাবলি৷‌ কালকেতুর মতো বডি হলেই চলবে৷‌ তাতে সব কাজ করা যাবে৷‌ মগজ যদি জমে বরফ হয়, মনটা যদি আর বেঁচে না থাকে তাহলেও কী সক্রিয় থাকা যায়৷‌ একদিনের কালীপুজোয় কার কী প্রাপ্তি জানলে ভাল হত৷‌

যারা মনে করে পুজো মানে মৌজ-মস্তি, ম্যাজিক, তাদের কিছু বলার নেই৷‌ ফুর্তি করলে রুখবে কে৷‌ রেস্ত পকেটে আসবে অকাট্য পদ্ধতিতে৷‌ কোত্থেকে আসবে, কেন আসবে সে প্রশ্ন বৃথা৷‌ টাকা না দিয়ে নিরীহ লোকও পার পাবে না৷‌ বেয়াড়া জীবনে, একদিনের খুশির ফোয়ারায় পাবলিক সাপোর্ট থাকবে না কেন৷‌ সেটাকে জুলুম বলে, মজাটা মাটি করার মানে আছে৷‌

দমকলের ডিরেক্টর গৌরপ্রসাদ ঘোষ জানিয়েছেন, প্রপার কলকাতায় কালীপুজো ২৭০০৷‌ অম্তত রেকর্ড সে কথাই বলছে৷‌ বৃহত্তর কলকাতা ধরলে নিঃসন্দেহে সংখ্যাটা আরও বেশি৷‌ বেশি থাক, যা পাওয়া গেছে তাই ধরা যাক৷‌ প্রত্যেক পুজোয় যদি গড়ে একশো করে লোক যুক্ত থাকে, সংখ্যাটা দাঁড়ায় দু লাখ সত্তর হাজার৷‌ রাউন্ড ফিগারে তিন লাখ মানুষ দীপাবলির দিন রাতের কলকাতাকে মাত করে দেবে নিজেদের ঐশ্বর্যে৷‌ জানলা-দরজা বন্ধ করেও ঘুমোনো যাবে না৷‌ কলকাতায় তুলকালাম৷‌

নৈরাজ্যের রজনীতে নেশাভাঙ চলবে৷‌ নারীরা শঙ্কায় জড়সড় হয়ে থাকবে ঘরের ভেতর৷‌ রাস্তায় বেরনোর সাহস ক’জন দেখাবে৷‌ নেশাসক্ত উপাসকরা কপালে লাল তিলক কেটে কখনও বিলাপ করবে, আবার বোধবুদ্ধি একেবারে লোপ পেলে হিংস্র হয়ে উঠবে৷‌ মস্তানির প্রমাণ দিতে পুজোয় পুজোয় সঙঘাতও অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে৷‌ পাবলিক মনে মনে বলবে, উঃ, কালীপুজোর রাতটা গেলে বাঁচি!

কালীপুজো মানে কী কেবল খারাপ লোকেদের উপদ্রব? না, কখনওই নয়৷‌ যোগ্য ভক্তও আছে৷‌ দশমহাবিদ্যার দশরূপ৷‌ কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী, কমলা৷‌ বিমানের ফ্লাইট রেকর্ডারের ডাকনাম ব্ল্যাক ব‘৷‌ দেখতে উজ্জ্বল কমলা৷‌ পূর্ণপ্রাণে দেখলে কালীও কমলা৷‌ সব রঙ মিশেছে তিমিরে৷‌ হাজার হাতের কালীও আছে৷‌ সামনে দুটি, ৯৯৮টি পেছনে৷‌ দশমুণ্ড কালীও রয়েছে৷‌ চেতলা হাট রোডে ছিন্নমস্তা মূর্তি বিস্ময়কর৷‌ তরবারি দিয়ে মা নিজেই নিজের মস্তক ছিন্ন করছেন৷‌ সম্তানদের অপকর্মের অপমানে আত্মবিনাশী৷‌ মা হার মানলে ছেলেরা যাবে কোথায়!

ভারতে মাতৃ আরাধনাই বেশি৷‌ মহারাষ্ট্রে গণেশ, বেশ কিছু রাজ্যে শিবসাধনা৷‌ ৭৯.৫ শতাংশ হিন্দুর মধ্যে অধিকাংশই রাধা-কৃষ্ণের প্রেমে বিভোর৷‌ সব থেকে বেশি হিন্দু নেপালে৷‌ ৮০.৭ শতাংশ৷‌ বাংলাদেশে ৯.৩, ইন্দোনেশিয়ায় ১.৭, পাকিস্তানে ১.৯, শ্রীলঙ্কায় ১৩.৬, আমেরিকায় ০.৬, মালয়েশিয়ায় ৬, মায়ানমারে ১.৭, যুক্তরাজ্যে ১.৩, বিশ্বের বাকি দেশে ০.১ শতাংশ৷‌ বিশ্বে মোট হিন্দু জনসংখ্যা ১৫ শতাংশ৷‌ তাদের বেশিরভাগই রাধাকৃষ্ণ-প্রেমী৷‌ হিন্দু ধর্মে আরাধনার অনেক ভাগ৷‌ তার মধ্যে একমাত্র শাক্তরা কালীভক্ত৷‌ তার সঙ্গে তন্ত্রসাধনাও যুক্ত৷‌

হিন্দু ধর্মের মধ্যে সব থেকে নরম বৈষ্ণবরা৷‌ তারা নিরামিষাশী৷‌ হিংসা থেকে শতহাত দূরে৷‌ শাক্তরা ঠিক বিপরীত৷‌ তন্ত্রে পশুবলি শুধু নয়, মানুষকেও যূপকাষ্ঠে চড়ানো হত৷‌ সে-সব বন্ধ হলেও কঠোরতা কমেনি৷‌ ভারতের অন্য রাজ্যে প্রবাসী বাঙালিরা দুর্গাপুজো করলেও, কালীপুজো করে না৷‌ বাংলার গ্রামাঞ্চলে কালীমন্দিরে কালীপুজো হয়৷‌ আলাদা করে মণ্ডপ গড়ে পুজোর রীতি তেমন নেই৷‌

দুর্গাপুজোর সহজতা কালীপুজোয় নেই৷‌ উমাকে ঘরের মেয়ে ভাবা হয়৷‌ তাকে আম্তরিক আনন্দে বরণ করতে অসুবিধে নেই৷‌ তিনশো বছর আগে রামপ্রসাদ সেন যেমন কালীকে ঘরের মেয়ে করে তুলেছিলেন গানে গানে৷‌ কখনও তিনি মা-ও হয়েছেন৷‌ শ্যামাসঙ্গীতে যে সহজ সুর ছিল তাতে বাঙালি শক্তির দেবী হিসেবে কালীসাধনা করলেও তেমন আপন করতে পারেনি৷‌ দূরত্ব থেকে গেছে৷‌

শহরে বহু ঘরে কালীপুজো হলেও নীতিনিয়মের বেড়াজালে মা বন্দী৷‌ পুজো প্রক্রিয়ায় পান থেকে চুন খসলেই বিপদ বলে মনে করা হয়৷‌ সরস্বতীর সঙ্গে শ্যামার তুলনায় সেটা পরিষ্কার৷‌ কোনও শিক্ষায়তনে কালীপুজোর কথা কী কেউ ভাবতে পারে! হুগলির বামহাটিতে ডাকাতে কালী আছে৷‌ বিশাল ভয়ঙ্কর মূর্তি৷‌ রাতে ডাকাতি করার আগে ডাকাতরা সেখানে যেত আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে৷‌ অপারেশনে ব্যর্থ হলে মাতৃমূর্তির হাত ভেঙে দিয়ে যেত৷‌ আবার সাফল্য এলে নতুন করে হাত গড়ে দিত৷‌ অলঙ্কারে ভরে দেওয়া হত পা থেকে মাথার চুল পর্যম্ত৷‌ শক্তিময়ীর সঙ্গে হিসেবনিকেশ ছিল পরিষ্কার৷‌

সব ধর্মের সারকথা আত্মিক শুদ্ধতা৷‌ তা না হলে ধর্মাচরণ অর্থহীন৷‌ সমাজে যার অবস্হান যেখানেই হোক অন্ধকারে বিচরণ করলে শক্তি কমবেই৷‌ শক্তিবৃদ্ধি দূরের কথা, পতন অনিবার্য৷‌ জেল এখন সংশোধনাগার৷‌ সমাজে তার বেশি প্রয়োজন৷‌ জেলে যাওয়ার আগে শুধরে নিলে ল্যাঠা চুকে যায়৷‌ কালিমালিপ্ত জীবনে কালী আরাধনায় মুক্তি অসম্ভব৷‌ অন্ধকারের সঙ্গে বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়ার রাস্তা একটাই, সচেতন হওয়া৷‌ নিজের ময়লা নিজেকেই সাফ করতে হবে৷‌ ভুল পথে লাভের ধারণাটা লোপাট হয় এক লহমায়৷‌ মহাকাল সব জঞ্জালই ফেলে দেয়৷‌ মহাকালী তারই প্রতীক৷‌ বিশাল বাজেটের কালীপুজো বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করে৷‌ মস্তানির নেশায় চরম অন্ধকারকে তখন পরম আশ্রয় বলে মনে হয়৷‌ মা কালী লজ্জায় জিভ কাটেন৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited