Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৩ আশ্বিন ১৪২১ শনিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
যাদবপুর অচল--গৌতম চক্রবর্তী ।। ‌ট্যাক্সি উধাও, বাস-মিনিবাসও কম--আজ চালকদের ‘লালবাজার চলো’ ।। মধ্যমগ্রাম গণধর্ষণ--৫ অভিযুক্তের ২০ বছরের কারাদণ্ড ।। শ্রমিক-অসম্তোষ, বন্ধই হয়ে গেল গ্লস্টার জুট মিল--প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায় ।। আগামী বছরের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর ।। আগামী দিনে কংগ্রেসের ভাল দিন দেখছেন নেতারা ।। ভারত-চীন যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্ব পেল সীমাম্ত-শাম্তি ।। ওড়িশা, বাংলায় ডবল এজেন্টের হদিস ।। তৃণমূলের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কংগ্রেসি ভোট যাবে বি জে পি-তে ।। বামফ্রন্টের ২২শের মিছিলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও ‘ইস্যু’ হবে ।। স্বাধীনতা নয়! রায় স্কটল্যান্ডের ।। শুভেন্দু আর রবীন এক নয়: সূর্য
কলকাতা

যাদবপুর অচল

সুতোর টানে স্বপ্নের দেশে

আজ নন্দন চত্বর থেকে মিছিল

যাদবপুর-কাণ্ড: রাজ্য সরকার কী ব্যবস্হা নিয়েছে জানতে চাইল হাইকোর্ট

আহিরিটোলা যুবকবৃন্দের মণ্ডপে এবার ম্যাজিক

যাদবপুর: কাঁকিনাড়ায় ছাত্রীদের বিক্ষোভে হামলা

যাদবপুর অচল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

গৌতম চক্রবর্তী

যাদবপুর-কাণ্ড নিয়ে কার্যকরী সমিতি (ই সি) থেকে সরে দাঁড়ালেন এক অধ্যাপক৷‌ যাদবপুরের দর্শন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৌমিত্র বসু এদিন কার্যকরী সমিতি থেকে পদত্যাগ করলেন৷‌ ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিসের নির্মম অত্যাচার এবং তাই নিয়ে উদ্ভূত পরিস্হিতির প্রেক্ষিতে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন৷‌ সৌমিত্রবাবু বলেন, বিবেক দংশন হচ্ছিল৷‌ ছাত্রছাত্রীদের ওভাবে ফেলে রেখে যাওয়া উচিত হয়নি৷‌ সেদিন যখন আমাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ওই জায়গাটা ফাঁকা ছিল৷‌ ভেবেছিলাম পুলিস ওদের সরিয়ে দিয়েছে৷‌ তখন ভাবতেও পারিনি পুলিস এই ঘটনা ঘটিয়েছে৷‌ পুলিস আসার সিদ্ধাম্ত এগজিকিউটিভ কাউন্সিলে হয়নি৷‌ বাড়ি ফিরে বিবেক যন্ত্রণায় ভুগেছি৷‌ তাই পদত্যাগের সিদ্ধাম্ত৷‌ এদিকে আজ, শনিবার ছাত্রছাত্রীরা মহামিছিল করে রাজভবনে যাবেন৷‌ সেখানে রাজ্যপালের কাছে তাঁদের বক্তব্য জানাবেন৷‌ সব মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-কাণ্ড এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে৷‌ শুক্রবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে৷‌ এদিন আবার ছাত্রছাত্রীরা সকাল ৯টা নাগাদ অবস্হান বিক্ষোভ শুরু করেন৷‌ অরবিন্দ ভবনের গেটে বসে ছাত্রছাত্রীরা স্লোগান দিয়ে তাঁদের দাবি জানাতে থাকেন৷‌ উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং সহ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা সরব হন৷‌ সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ রেজিস্ট্রার প্রদীপকুমার ঘোষ অরবিন্দ ভবনে ঢুকতে গেলে তিনি ছাত্রদের বাধার মুখে পড়েন৷‌ ছাত্রছাত্রীরা বলেন, ভেতরে ঢুকতে গেলে তাঁদের ওপর দিয়ে যেতে হবে৷‌ রেজিস্ট্রার তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন৷‌ কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন৷‌ ফলে রেজিস্ট্রারের ভেতরে ঢোকা আটকে যায়৷‌ তিনিও ছাত্রছাত্রীদের অবস্হানের পাশে চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন৷‌ রেজিস্ট্রার জানান, অফিসে কাজে এসেছি৷‌ ছাত্রছাত্রীরা আটকে দিয়েছেন৷‌ এখানেই বসে থাকব৷‌ তাঁরা যতক্ষণ না ছাড়ছেন৷‌ তবে কাউকে উদ্ধার করতে আসতে হবে না৷‌ এর কিছুক্ষণ পরে সহ-উপাচার্য সিদ্ধার্থ দত্ত আসেন৷‌ তিনিও ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন৷‌ রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একই জায়গায় বসে যান৷‌ ছাত্রছাত্রীদের অবস্হান বিক্ষোভ এই দুই আধিকারিকের সামনেই চলতে থাকে৷‌ গত দু’দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন বন্ধ হয়ে ছিল৷‌ এদিনও ক্লাস বয়কটের জেরে তা বন্ধ হয়েই থাকে৷‌ তবে প্রশাসনিক দুই কর্তা আটকে পড়ায় এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও বিঘ্নিত হয়৷‌ সহ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারকে ছাত্রছাত্রীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে আটকে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে৷‌ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা এই দুই আধিকারিককে ঘিরে রাখেন৷‌ পরে পরিস্হিতি অনেকটাই শাম্ত হয়ে যায়৷‌ আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যান৷‌ সহ-উপাচার্য সিদ্ধার্থ দত্ত একটু অসুস্হ বোধ করায় তিনি নিজেই মেডিক্যাল ইউনিটে দেখাতে যান৷‌ স্লোগানে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুপুর ২টো নাগাদ ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেন৷‌ বৈঠকে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তার সিদ্ধাম্ত নেন৷‌ বিকেল ৪টে নাগাদ ছাত্রছাত্রীরা ঠিক করেন অরবিন্দ ভবনের ভেতরে ঢুকতে দেবেন৷‌ সেই মতো তাঁরা রেজিস্ট্রার প্রদীপকুমার ঘোষকে ভেতরে ঢুকতে দেন৷‌ ছাত্রনেতা, ফেটসু-র সম্পাদক চিরঞ্জিত ঘোষ জানান, সহ-উপাচার্য মৌখিকভাবে তাঁদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷‌ এবং সর্বসমক্ষে ক্ষমা চাইবেন বলে জানিয়েছেন৷‌ শুধু তাই নয়, তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন৷‌ সেদিনের ঘটনায় তাঁদের অন্ধকারে রেখেই এবং কার্যকরী সমিতিতে আলোচনা না করেই উপাচার্য নিজের সিদ্ধাম্তে পুলিস ডেকেছিলেন বলেও সহ-উপাচার্য ছাত্রদের কাছে বলেন বলে ছাত্রনেতার দাবি৷‌ এই আশ্বাস সহ-উপাচার্যের কাছ থেকে পাওয়ার পরই ছাত্রছাত্রীরা একটু নরম হন৷‌ তাঁরা দুই আধিকারিককে অরবিন্দ ভবনে ঢুকতে দিতে সম্মত হন৷‌ পাশাপাশি তাঁদের অবস্হান বিক্ষোভ কর্মসূচিও স্হগিত রাখেন৷‌ তবে তাঁরা কোনও ভাবেই তাঁদের দাবি থেকে সরছেন না৷‌ তাঁদের দাবি মূলত ৪টি৷‌ প্রথম, ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গ তদম্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্হা নিতে হবে৷‌ দ্বিতীয়, আই সি সি কমিটিতে যে দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের সরাতে হবে এবং স্টুডেন্ট মেম্বার নিতে হবে৷‌ তিন, ঘটনার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে উপাচার্যকে৷‌ জনসমক্ষে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে এবং উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগ করতে হবে৷‌ চার, কার্যকরী সমিতিতে আগে স্টুডেন্ট প্রতিনিধি থাকতেন৷‌ এখন আবার স্টুডেন্ট প্রতিনিধি নিতে হবে৷‌ এদিকে বিকেল ৫টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন ছাত্রছাত্রীরা৷‌ এই সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা জানান, পুলিসের তরফ থেকে যে বহিরাগত এবং সশস্ত্রদের ছাত্র আন্দোলনে উপস্হিতির অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ঠিক নয়, মঙ্গলবার রাতে ঘটনার সময় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের ৪ নেতা তাঁদের আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এসেছিলেন৷‌ সুমাল্য মুখার্জি, অমরদীপ সিং, দেবশ্রী চক্রবর্তী এবং দেবজিৎ ঠাকুর নামের ৪ ছাত্র তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে ছিলেন৷‌ তাঁরা সম্মতি নিয়েই এসেছিলেন৷‌ তাঁরা বহিরাগত নন এবং তাঁদের কাছে অস্ত্রও ছিল না৷‌ এ ছাড়া সেদিনের পুলিসি অভিযানে মহিলা পুলিস যথেষ্ট পরিমাণে ছিল বলে যে দাবি করেছেন পুলিস কমিশনার, তাও ঠিক নয়৷‌ লাঠি নিয়েই পুলিস এবং উর্দিবিহীন পুলিস তাঁদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল বলেও ছাত্রদের তরফে দাবি করা হয়৷‌ অন্য দিকে ক্লাস বয়কট জারি রাখার পাশাপাশি শনিবার রবীন্দ্রসদন থেকে মহামিছিল নিয়ে রাজভবনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে বলে ছাত্রদের তরফে জানানো হয়েছে৷‌ এই মিছিলে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেবেন বলে ছাত্ররা জানান৷‌ তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-কাণ্ড যে ঘটনাকে ঘিরে অর্থাৎ দ্বিতীয় বর্ষের কলা বিভাগের যে ছাত্রীকে হস্টেলে টেনে নিয়ে গিয়ে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ ওঠে, সেই ছাত্রীর বাবা এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, উপাচার্য তাঁর মেয়ের এই ঘটনার বিষয়ে সেভাবে পদক্ষেপ করতে রাজি হননি৷‌ এমনকী তাঁকে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বই তিনি নিতে পারবেন না৷‌ এদিন অবশ্য হাইকোর্টে যাদবপুর-কাণ্ড নিয়ে অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দের জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়৷‌ পাশাপাশি কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরি, মানস ভুঁইয়া প্রমুখ রাজ্যপালের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেন৷‌ তাঁরা যাদবপুর-কাণ্ডে বিচারবিভাগীয় তদম্তের দাবি করেন৷‌ উপাচার্য এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷‌ রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেন৷‌ ছাত্ররা অবশ্য আজ, শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হস্তক্ষেপের আর্জি জানাবেন বলে জানা গেছে৷‌

যাদবপুরে পুলিসি সন্ত্রাস হয়েছে: বাবুল-সুপ্রিয়

আসানসোল থেকে দেবব্রত ঘোষ জানাচ্ছেন: ‘যাদবপুরে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি৷‌ এটা বাঞ্ছিত নয়৷‌ রাজ্যপাল এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চয় এই ব্যাপারগুলো দেখছেন৷‌ এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে৷‌’ শুক্রবার জামুরিয়ায় চাকদোলা মোড়ে এক কর্মিসভায় বলেছেন বি জে পি সাংসদ বাবুল-সুপ্রিয়৷‌ সভায় উপস্হিত ছিলেন বি জে পি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা৷‌ তিনি বলেন, ‘রাজ্যে বি জে পি-র জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে এখানকার শাসকরা অস্হির হয়ে পড়েছেন৷‌ তাই ক্ষমতায় থেকে তারা যা করছে তা অন্যায়৷‌ পুলিসকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে৷‌ এদিকে, বাবুল-সুপ্রিয় বিকেলে যান রূপনারায়ণপুরে হিন্দুস্তান কেবলসের কর্মীদের সঙ্গে মিলিত করতে৷‌ তিনি বলেন, ‘অচলাবস্হা সরিয়ে হিন্দুস্তান কেবলসকে একটা ভাল অবস্হায় আনতে পেরেছি৷‌ পুজোর আগেই এই কারখানার কর্মীরা তাঁদের বকেয়া টাকা পেয়ে যাবেন৷‌ হিন্দুস্তান কেবলস নবপর্যায় নতুনভাবে খুলবে৷‌’ কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রক জানিয়েছে যে অর্ডিন্যান্স বোর্ড শিগগিরি হিন্দুস্তান কেবলস অধিগ্রহণ করবে৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
sangskriti || ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited