Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ বৈশাখ ১৪২১ শনিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
রাতভর হোটেলে জেগে কাটালেন মমতা ।। আমাকে মেরে ফেলার চক্রাম্ত করা হয়েছিল: মমতা ।। মুখ্যমন্ত্রীর সভার কাছেই জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হল! ।। বি জে পি-র অঙ্ক: পদ্ম ফুটবে বাংলা থেকে ।। সততার প্রতীক এখন সারদার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: বুদ্ধদেব ।। টাকা লেনদেনের দুই চিঠি পেল ই ডি, নজরে বহু ব্যবসায়ী ।। মোদি ঢেউ নেই যে যোশিকে কে জেতাবে!--দেবারুণ রায়, কানপুর ।। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিরোধেই জোর--নিজেও তদম্তের ঊধের্ব নই: মোদি ।। গার্সিয়া মার্কেস: অত্যাশ্চর্য জীবনের ইতি ।। এবার ইট-পাটকেল ধেয়ে এল কেজরিওয়ালের দিকে! ।। সারদার ১২৮০ কোটি টাকার খোঁজে ই ডি ।। সি বি আই চাইলেন বিমান
ঘরোয়া

ঘুঙঘট কি আড় সে

ঘোমটা খোলার উপায়

স্বস্তির সাদায় ফ্লোরাল মোটিফ

ঘুঙঘট কি আড় সে

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



রোদ্দুর এখন বিচিত্র এক রূপ পেয়েছে৷‌ আর রূপ দিয়েছে নারীকে৷‌ বিশেষত কলকাতায়, এমনটা ছিল না বছর কয়েক আগেও৷‌ আসলে, রোদ্দুরের দোষ কী? বাঙালি মেয়েরাই বরং সচেতন হচ্ছে৷‌ সচেতনতা বাড়ছে রূপ আর রঙের৷‌ তাতেই নতুন হয়ে যাচ্ছে কলকাতার সাজ-পোশাক৷‌ এখন সকাল থেকে দুপুর পর্যম্ত রাস্তাঘাটে যত তরুণী- যুবতীকে দেখা যায়, দেখবেন, তাদের অধিকাংশই মুখ ঢেকে রাখেন৷‌ শুধু মুখ নয়, একেবারে মাথা থেকে ঢাকা৷‌ খোলা শুধু চোখ দুটি৷‌ তাতেও আবার রোদ চশমার আবডাল৷‌ বলা যায়, এখন তাঁরা স্বেচ্ছায় পর্দানশিন৷‌ কারণ এ তো আর অন্য কোনও ব্যাপার নয়, একেবারে রোদে পুড়ে যাওয়া বলে কথা৷‌ অসূর্যম্পশ্যা নারীদের সৌন্দর্যের কথা আমরা কত জায়গায় কতবার পড়েছি৷‌ কিন্তু এমন করে কখনও ভেবেছি কি? বরং নারীবাদী ভাবনাচিম্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, এ আবার কী কথা? একটা মেয়ে কখনও সূর্যের মুখ দেখবে না? রঙের মায়া এমন মোহন যে, তাঁকে গহ্বরে রেখে দিতে হবে! বছর তিরিশ আগে পর্যম্ত বাড়ির বউকে মাথা ঢাকতে হত ঘোমটায়৷‌ তাতে বিস্তর আপত্তিও উঠেছিল মা-কাকিমার সময় থেকে৷‌ ঠাকুমার সময়কাল পর্যম্ত ঘোমটা ছিল এক বিশেষ আচরণীয় ব্যাপার৷‌ সতীলক্ষ্মী, পয়মম্ত বধূটির সাজের অঙ্গ ছিল ঘোমটা৷‌ সেখানেই প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন আমাদের মায়েদের প্রজন্ম৷‌ ঘোমটা বর্জন হয়ে উঠেছিল তাঁদের আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ৷‌ কেউ কেউ আবার বাড়ির চাপে ঘোমটা রাখতেন নিজস্ব গণ্ডিতে৷‌ আর ইসলামি সম্প্রদায়ের পর্দাপ্রথার কথা তো আলাদাই৷‌ পাশ্চাত্য দেশগুলোতেও মাথায় কোনও না কোনও ধরনের ঢাকা থাকতই৷‌ বা এখনও থাকে৷‌ এটা সম্মানের প্রতীক৷‌ রানী এলিজাবেথ আজও মাথায় টুপি রাখেন৷‌ এমনকী এই তো সেদিন যুবরানী কেট গেলেন ছুটি কাটাতে, কোলে নিয়ে রাজপুত্র জর্জকে৷‌ তাঁর মাথাতেও টুপি ছিল একটা৷‌ আবার খ্রিস্টীয় মতে, চার্চে গিয়ে বিয়ে করার সময়ও কনে তার সাদা ওয়েডিং গাউনের সঙ্গে মিলিয়ে একটা ডিজাইনার ভেল ব্যবহার করেন৷‌ কখনও কখনও সেই ঘোমটার প্রাম্ত ঢেকে দেয় তার মুখও৷‌ তবে সে নিতাম্তই জালের, অতি স্বচ্ছ৷‌ টুপি, পাগড়ি বা ঘোমটা সব কিছুই আসলে প্রয়োজনের তাগিদেই এসেছিল৷‌ কখনও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, কখনও বা পরিস্হিতির হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে৷‌ এই বাঁচিয়ে রাখা থেকেই নারীবাদী সেই প্রশ্নটি উঠে আসে, ঘোমটার আড়াল দিয়ে কি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যায়? নাকি, সে কেবল অসহায় আত্মসমর্পণ মাত্র! ঘোমটা কি স্বাধীনতার পরিপম্হী? এই ২০১৪ সালের প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস কলকাতায় আধুনিকারা কিন্তু অনায়াসে টেনে আনছেন সেই চিরম্তনী ঘোমটাকে৷‌ পরনে জিনস অথবা অতিআধুনিক কোনও পোশাক৷‌ তার সঙ্গেই গলায় ঝুলছে রঙ-বেরঙের ওড়না৷‌ সেটা এখন ‘ফ্যাশনে ইন’৷‌ বিকেলে বা রাতে তারা ঝুলে পড়ে গলা ধরে৷‌ কিন্তু সকালবেলা বাড়ি থেকে অফিস পর্যম্ত সেঁটে থাকে কপাল, গাল, ঠোঁট, নাক জুড়ে৷‌ ঘোমটা রোদের কড়া ধমক আটকায়৷‌ রঙের চাকচিক্য সহজে নষ্ট হয় না৷‌ গরমের ধাক্কায় লু লেগে যাওয়ার ভয় নেই৷‌ ধুলোর হাত থেকেও বেশ সহজেই বাঁচা যায়৷‌ শুধু বাইরের চামড়া নয়, খানিকটা রক্ষা শরীরের অভ্যম্তরীণ যন্ত্রগুলোকেও৷‌ তাতে ক্ষতি কী? এর আগে রক্ষণশীলতার প্রশ্নে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সৈয়দ তনবির নাসরিন আমাদের জানিয়েছিলেন, মাথায় কাপড় দিয়ে চলাটা কোনও রক্ষণশীলতার নিদর্শন নয়৷‌ এমনটা তো হতেই পারে, কোনও মহিলা স্বেচ্ছায় ওই পরিচ্ছদ বহন করেন৷‌ অথচ, মনের দিক থেকে তিনি অনেক বেশি প্রগতিশীল৷‌ তাই ঘোমটা বা হিজাবটা কোনও বিষয়ই নয়৷‌ আর সেটা যদি নিজের শরীরকে সুস্হ রাখার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হয়, তাতে দোষের কিছু নেই৷‌ শুধু দোষ নেই তাই নয়, এ বছরের ফ্যাশন স্টেটমেন্টে ওড়নার একটা বড় ভূমিকা আছে বলে জানান ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পলও৷‌ ২০১৪-র ট্রেন্ড সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, এ বছর নানা রকমভাবে ওড়না বা স্কার্ফ ব্যবহার করা হবে মাথায়৷‌ কখনও হেয়ার ব্যান্ডের মতো, কখনও পাগড়ির ধাঁচে৷‌ কখনও না হয় সেটা ঘোমটাই হল৷‌ নৃত্যশিল্পী অলকনন্দা রায় তাঁর নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন পাগড়ি ধাঁচের ওড়না৷‌ তিনি জানালেন, আমি ২০১৩-র শেষ থেকেই এটা বেছে নিয়েছি৷‌ আমার ভাল লাগে৷‌ শুধু এই পাগড়ি নয়, আমার খুব ভাল লাগে ঘোমটা দেওয়ার কায়দাটাও৷‌ ঘোমটা হোক বা হিজাব, সেটা যদি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা মোটেও স্বাভাবিক নয়৷‌ কিন্তু তার বাইরে ঘোমটা বিষয়টা খুবই এলিগ্যান্ট৷‌ মেয়েদের খুব সুন্দর লাগে৷‌ তা ছাড়া, এই রোদে ছাতা বয়ে না বেরিয়ে যদি ঘোমটা দিয়ে চলা যায়, তাহলে বেশ বাঁচানো যায় নিজেকে৷‌






bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited