Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৭ চৈত্র ১৪২১ বুধবার ১ এপ্রিল ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বাবরি: আদবানিদের নোটিস সুপ্রিম কোর্টের--রাজীব চক্রবর্তী ।। সেবি-র নিষেধ উড়িয়ে টাকা তুলেছে রোজভ্যালি--সোমনাথ মণ্ডল ।। রাজনাথের রাজনৈতিক সফর! প্রতিবাদ মমতার ।। আলুচাষের বিপর্যয়, আর্থিক সঙ্কটে তল্লাটের কৃষি সমবায় ।। ওরা স্বস্তিতে নেই বলেই শক্তি প্রয়োগ করছে: সূর্য ।। খাগড়াগড় নিয়ে মমতাকে সিদ্ধার্থনাথের ১০ প্রশ্ন ।। সন্ত্রাস দমনের নামে আনা মোদির রাক্ষুসে বিল ফের পাস গুজরাটে ।। নতুন দল? যোগেন্দ্র-প্রশাম্ত বৈঠক ডেকেছেন ১৪ তারিখ ।। চীনে ঝাড়ুতে কলকাতা সাফ!--তাপস গঙ্গোপাধ্যায় ।। পুরভোটে তৃণমূলকে সমর্থন সিদ্দিকুল্লার--দীপঙ্কর নন্দী ।। ওপারেও পুরভোট ।। ইয়েমেনে আটকে আছে ৪০ বাঙালি
বাংলা

আলুচাষের বিপর্যয়, আর্থিক সঙ্কটে তল্লাটের কৃষি সমবায়

রাজনাথের রাজনৈতিক সফর! প্রতিবাদ মমতার

সি পি এম রাজ্য কমিটি বৈঠক

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় করতে তিনবিঘা চুক্তি দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত: রাজনাথ

খাগড়াগড় নিয়ে মমতাকে সিদ্ধার্থনাথের ১০ প্রশ্ন

সেবি-র নিষেধ উড়িয়ে টাকা তুলেছে রোজভ্যালি

পাহাড়ি পথে দিনভর অক্লাম্ত ট্রেকিং মুখ্যমন্ত্রীর

জেলে গিয়ে গৌতম কুণ্ডুকে জেরা করতে পারবে ই ডি

তৃণমূল প্রার্থীকে হারাতে মন্ত্রণা দলেরই পুরপ্রধানের?

জাতীয় সড়ক বাড়াতে গাছ কাটা চলবে না

বর্ধমানে ছাত্রছাত্রীদের ওপর টি এম সি পি-র হামলা

কন্যাকেই পয়মম্ত ভাবছে ধর্মভীরু হাসেমের পরিবার

পুর নির্বাচন নির্বিঘ্নে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন অধীরের

বসিরহাটে বি জে পি-র প্রার্থিপদ বিক্রির অভিযোগ

জয়ের আভাস দিলেন অশোক

ইয়েমেনে আটকে আছে ৪০ বাঙালি

সুন্দরবনের সব রিসর্ট, লজে কড়া নিরাপত্তা

স্ত্রীকে বেল্ট দিয়ে খুন: স্বামীর যাবজ্জীবন

ফিনান্স অফিসারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

আলুচাষের বিপর্যয়, আর্থিক সঙ্কটে তল্লাটের কৃষি সমবায়

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

তুফান মণ্ডল: আরামবাগ, ৩১ মার্চ– আলুচাষের বিপর্যয়ে এবার টালমাটাল অবস্হা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিগুলিরও৷‌ আলুচাষে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা ঋণ শোধ করতে না পারায় আরামবাগ মহকুমার সমবায়গুলিও এবার চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷‌ মহকুমার সমবায়গুলি থেকে পাওয়া খবর, চাষীদের দেওয়া বেশিরভাগ ঋণই অনাদায়ী থেকে গেছে৷‌ সমবায়ের কর্মকর্তারা জানালেন, এই সমবায়গুলি মূলত বছরে দু’বার বার্ষিক ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়ে থাকে৷‌ একবার আমন ধানের জন্য, অন্যটি আলু চাষের জন্য৷‌ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করতে পারলে সরকার আবার ৩ শতাংশ ছাড় দেয়৷‌ অর্থাৎ, ৪ শতাংশ সুদে চাষী ঋণ পান৷‌ খরিফ মরশুমে আমন ধানের জন্য নেওয়া ঋণ শোধ করতে হয় ৩১ মার্চের মধ্যে৷‌ আর রবি মরশুমে আলুর জন্য নেওয়া ঋণ শোধ করতে হয় ৩১ আগস্টের মধ্যে৷‌ এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করতে না পারলে চাষীকে ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়৷‌ চাষীরাও তাই সবসময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমবায় থেকে নেওয়া তাঁদের ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন৷‌ না হলে পুনরায় তাঁদের ঋণ পেতে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়৷‌ তখন সমবায় ছেড়ে চাষীরা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আরও বড় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন৷‌ কিন্তু এ বছর একেবারেই ধান বিক্রি হয়নি৷‌ তার ওপর আলুও অবিক্রীত৷‌ ফলে চাষীরা নিজেদের সম্তানদের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন৷‌ এরপর তাঁরা সমবায়ের ঋণ পরিশোধের কথা ভাবতেই পারছেন না৷‌ এই ঘটনায় বিপাকে পড়েছে ঋণদানকারী সমবায় সমিতিগুলি৷‌ পুরশুড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক সুদাম ধাড়া জানালেন, তাঁদের সমিতির ঋণগ্রাহক সদস্য ৪৪০ জন৷‌ খরিফ মরশুমে আমন ধানের জন্য নেওয়া ঋণ গত বছর এই সময় যেখানে চাষীরা ৯০ শতাংশের বেশি শোধ করে দিয়েছিলেন, সেখানে এ বছর ঋণ পরিশোধের হার মাত্র ৬০ শতাংশ৷‌ আর আলুর জন্য নেওয়া ঋণ গত বছর এই সময় ৩০ শতাংশ শোধ হয়ে গেলেও এবার তা ৫ শতাংশে নেমে গেছে৷‌ বারবার নোটিস করা হয়েছে, এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে৷‌ কিন্তু চাষীদের কাছে টাকা না থাকলে তাঁরা কোথা থেকে দেবেন৷‌ পুরশুড়ারই নিমডাঙ্গি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির কোষাধ্যক্ষ অনুপকুমার পণ্ডিত জানালেন, আমন ধানের জন্য ৬৭৯ জন চাষী ৭০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন৷‌ কিন্তু মাত্র ২০৮ জন চাষী মাত্র ২৮ লক্ষ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন৷‌ আর আলুর জন্য ৮৫৭ জন চাষী ২ কোটি ৬০ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ নিলেও মাত্র ৯ জন চাষী ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা শোধ করেছেন৷‌ অনুপবাবুর কথায়, এখন চাষীদের অবস্হা এতটাই খারাপ যে, তাঁদেরকে ঋণ পরিশোধের কথা বলতেও বিবেকে লাগছে৷‌ আবার ঋণ না পরিশোধ হলে সমিতিগুলিকেও বাঁচানো যাবে না৷‌ আরামবাগের হাটবসম্তপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার অমিত ভাণ্ডারি জানালেন, আমন ধানের ঋণ চাষীরা প্রায় শোধ করেই ফেলেছেন৷‌ কিন্তু আলুর জন্য ১৬৩ জন চাষী ৪৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ নিয়ে ছিলেন৷‌ এর মধ্যে মাত্র দু’জন চাষী ঋণ পরিশোধ করেছেন৷‌ তবে তিনি জানান, চাষীদের সুবিধার্থে গতবারের ঋণের ৩ শতাংশ ছাড়ের টাকা এবং ২০১২-১৩ সালের শস্যবিমার টাকা সরাসরি চাষীদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে৷‌ গোঘাটের কামারপুকুর-১ নং সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার রাধাকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তাঁদের সমিতির ঋণগ্রাহক সদস্য ৯৬৩ জন৷‌ তাঁদের মধ্যে আমন ধানের ঋণের মাত্র ২৫ শতাংশ তাঁরা শোধ করেছেন৷‌ আর আলুর জন্য নেওয়া দেড় কোটি টাকা ঋণের মধ্যে মাত্র আড়াই লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে৷‌ সমবায় কর্তাদের বক্তব্য, তাঁদের নিজস্ব তহবিল খুবই কম৷‌ তঁরা মূলত জেলার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে তহবিল গড়ে তোলেন৷‌ সেই তহবিল থেকেই চাষীদের হাতে ঋণ তুলে দেওয়া হয়৷‌ আবার চাষীরা তাঁদের ঋণ পরিশোধ করলে সমবায় সমিতিগুলিও কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ককে তাদের টাকা মিটিয়ে দেয়৷‌ কিন্তু এ মরশুমে চাষীদের নেওয়া ঋণের প্রচুর টাকা অনাদায়ী থেকে যাওয়ায় সমিতিগুলিকেও টাকা মেটাতে সমস্যায় পড়তে হবে বলে জানিয়েছেন সমবায় কর্তারা৷‌ এদিকে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আলুচাষী আত্মহত্যা করায় বিষয়টি স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে৷‌ তাই সমবায়গুলির পক্ষ থেকে চাষীদের কাছ থেকে চাপ দিয়ে ঋণের টাকা আদায়ও সম্ভব নয়৷‌ কারণ তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে৷‌ ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের আরও বেশি বিপদে ফেলে দেওয়ার জন্য সমবায় সমিতিগুলির দিকে অভিযোগের আঙুল উঠতে পারে৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited