Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ মাঘ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
এখনও বলছি কোনও অনৈতিক কাজ করিনি: মুকুল--দীপঙ্কর নন্দী ।। মুখ্যমন্ত্রী: রাজ্যে শিল্প হচ্ছে,আর চিম্তা নেই--আবির রায় ।। নিগ্রহের কথা বলে আক্রাম্ত শিক্ষক ।। রামপুরহাটে ১০০ আদিবাসীকে ধর্মাম্তরকরণ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ।। কিরণকে তুলে ধরে বি জে পি-তে ভাটার টান? ।। পদক পেয়ে পরের দিনই কাশ্মীরে শহিদ তরুণ কর্নেল ।। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট হয়েছ শাম্তিপূর্ণ, ফল আজ দুপুরে ।। খানাকুলে তরুণীকে পণের দাবিতে চুল কেটে ছ্যাঁকা ।। সারাদিন দুর্ভোগ, বিকেলে উঠল ‌ট্যাক্সি ধর্মঘট ।। এস এস সি দপ্তরে চাকরিপ্রার্থীদের অনশন দ্বিতীয় দিনে পড়ল ।। বইমেলা শুরু, চলছে তুলির শেষ টান ।। সুন্দরবন বাঁচাতে বিশ্বব্যাঙ্ক
বাংলা

ক্রেডিট-কার্ড: গৌরী সেন বেশি শাইলক

খানাকুলে তরুণীকে পণের দাবিতে চুল কেটে ছ্যাঁকা

সঞ্চয়ের বিকল্প পথ গৃহঋণে বাড়ি কেনা

মুখ্যমন্ত্রী: রাজ্যে শিল্প হচ্ছে,আর চিম্তা নেই

এখনও বলছি কোনও অনৈতিক কাজ করিনি: মুকুল

সারাদিন দুর্ভোগ, বিকেলে উঠল ‌ট্যাক্সি ধর্মঘট

নিগ্রহের কথা বলে আক্রাম্ত শিক্ষক

আজ সুদীপ্তকে জেলে জেরা ই ডি-র

সুন্দরবন বাঁচাতে বিশ্বব্যাঙ্ক

রামপুরহাটে ১০০ আদিবাসীকে ধর্মাম্তরকরণ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

পতাকা নাড়বে টেকনোর পড়ুয়ারা

আজ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি

জল প্রকল্পে জ্যোতি বসুর নাম বাদ, ওয়াক আউট বামেদের

এস এস সি দপ্তরে চাকরিপ্রার্থীদের অনশন দ্বিতীয় দিনে পড়ল

বৌভাতের দিন সকালে গলায় দড়ি নতুন বরের

জলসা থেকে ফেরার পথে নাবালিকাকে ধর্ষণ, ধৃত ৩

দিল্লির টাকায় বাংলার প্রকল্প চলছে না: ববি

আর এস পি নেতা মিহির ব্যানার্জি প্রয়াত

খাগড়াগড়-কাণ্ডে আরও ৪ জঙ্গি এন আই এ-র জালে

প্রাক্তন মন্ত্রীর আমলে দুর্নীতির অভিযোগের তদম্ত হবে: সাবিত্রী

ক্ষমতায় আসছি, কেউ ছাড়া পাবে না

খাগড়াগড়-কাণ্ডে মুর্শিদাবাদ থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল এন আই এ

কলেজ নির্বাচন ঘিরে উত্তাল জয়নগর, অবরোধ

পরিবহণমন্ত্রীর মতো সুবিধা চেয়ে প্রিজনভ্যানে উঠতে আপত্তি: আদালতে কুণাল

আই পি এস পর্যায়ে বড় রদবদল, সরছেন বীরভূমের পুলিস সুপার

বিয়ের আশীর্বাদের দিন বসিরহাটে যুবক খুন

হাওড়ার ১৩টি কলেজ টি এম সি পি-র দখলে

শ্রীরামপুর কলেজে জয়ী টি এম সি পি

মুর্শিদাবাদ: সি পি এম জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক

সদানন্দ, সৃঞ্জয়কে ফের জেরা

ক্রেডিট-কার্ড: গৌরী সেন বেশি শাইলক

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

জ্যোতিপ্রকাশ খান

হাজার বছর আগে জাপানের সামুরাই যোদ্ধাদের ‘উচিগাটানা’ তরোয়াল তৈরি হত এক বিশেষ ধরনের ইস্পাত দিয়ে৷‌ ‘টোগিশি’ বা তরোয়াল কারিগর আকরিক লোহা আগুনে তাতিয়ে তাকে দুমড়িয়ে ভাঁজ করে পিটিয়ে তৈরি করতেন ‘থামাহানি’ ইস্পাত৷‌ ‘শিন্টো’ বা ‘কামি-নো-মিচি’ প্রথায় প্রার্থনা করে, শুরু হত তরোয়াল তৈরি৷‌ ফলকের জন্য ইস্পাত বানাতেই সময় লাগত অনেক৷‌ ৩২ ইঞ্চি লম্বা ‘গাটানা’ তরোয়ালের এক কোপে নিমেষে শত্রুর ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দিতে পারত জাপানের সামুরাইরা৷‌ বিংশ শতাব্দীতে দেখা গেল সহজ ভঙ্গুর প্লাস্টিক, ‘থামাহানি’ ইস্পাতের চেয়ে কম শক্তিশালী নয়৷‌ শুরু হল প্লাস্টিকের কার্ড দিয়ে বেচা-কেনার যুগ৷‌ ১৯৫০ সালে রেস্তোরাঁয় খানাপিনার খরচ মেটানোর জন্য এল ‘ডাইনার্স কার্ড’৷‌ এর কিছু পরেই ১৯৫৮ সালে পুরোদস্তুর ক্রেডিট কার্ড চালু করল ‘অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস’৷‌ এই ‘প্লাস্টিক কারেন্সির’ সুবিধা-অসুবিধার দিকগুলি দেখে নেওয়া যাক৷‌

· ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা চলে যে-কোনও ব্যাঙ্কেই৷‌ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন যাচাই ও খোঁজখবর নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক৷‌

· আবেদনকারীর আয়ব্যয়ের বহর, শিক্ষাগত৷‌পেশাদারি যোগ্যতা, বয়স, পেশা প্রভৃতি দেখে ব্যাঙ্ক ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের ‘ক্রেডিট’ অর্থাৎ ধার-বাকিতে ক্রয় করার সীমা নির্ধারণ করে গ্রাহকের নামে কার্ড চালু করে দেবে৷‌

· ব্যাঙ্কের দিক থেকে ক্রেডিট কার্ড অত্যম্ত লাভজনক ব্যবসা৷‌ এক তো, যে-সব প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহক পণ্য ক্রয় করবেন, ব্যাঙ্ক তাদের থেকে ‘ফি’ আদায় করবে এবং দ্বিতীয় তো গ্রাহক যত বেশি ধারবাকিতে জিনিস বা পরিষেবা কিনবে ব্যাঙ্ক তার ওপর সুদ নেবে৷‌ আর এ ক্ষেত্রে সুদের হার সাধারণ ঋণের চেয়ে অনেক বেশি৷‌

· ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড পরিষেবায় অম্তর্ভুক্ত করা হয় হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সব রকমের দোকান-বাজার, হাসপাতাল, মাল্টিপ্লে‘, রেল-প্লেনের টিকিট-সহ খরচ করার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই৷‌ ‘প্লাস্টিক মানি’-র অগ্রগতির দাপটে, ভবিষ্যতে হয়ত মুদ্রার ব্যবহারই লুপ্ত হয়ে পড়বে৷‌

· পরিষেবা ও পণ্য বিক্রয়কারী সংস্হাদের সঙ্গে ব্যাঙ্কের টাকা পয়সার লেনদেন হয় ‘ভিসা’ ও ‘মাস্টারকার্ডের’ মতো আম্তর্জাতিক অর্থসংস্হার মাধ্যমে৷‌

· ‘ভিসা’ ও ‘মাস্টারকার্ডের’ মতোই আরও ক্রেডিট কার্ড সংস্হা আছে, যেমন ‘অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস’ ও ‘ডাইনার্স কার্ড’৷‌

· কেবল নগদে বেচা-কেনা হলে মোট ব্যবসার পরিমাণ হত সীমিত৷‌ তাই পণ্য ও পরিষেবা বিক্রয়কারী সংস্হার ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ক্রেডিট কার্ড সংস্হার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ৷‌ তবে এর জন্য তাদের নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিতে হয় ব্যাঙ্ককে, তবেই ক্রেডিট কার্ড পরিষেবায় তাদের জুড়ে নেয় ব্যাঙ্ক৷‌

· গ্রাহক যখন কার্ড মারফত তাঁর ক্রয় করা পণ্যের দাম মেটান, কাউন্টারের কর্মী কার্ডটি একটি যন্ত্রে ঘষে, ছোট্ট একটি স্লিপ দেন গ্রাহককে স্বাক্ষর করার জন্য৷‌ এটাকে বলে কার্ড সোয়াইপ করা৷‌ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকের বিলের অঙ্ক ক্রেডিট কার্ড সংস্হার কেন্দ্রীয় কম্পিউটার মারফত ব্যাঙ্কের কাছে পৌঁছে যায়৷‌

· ক্রেডিট কার্ড সংস্হার কম্পিউটার দ্রুত যাচাই করে নেয়, গ্রাহকের বাকিতে কেনাকাটা করার অনুমতি আছে কিনা৷‌ তা যদি থাকে, বিলের অঙ্ক গ্রাহকের কার্ডে, আদায়ের ঘরে জুড়ে দেওয়া হয়৷‌

· গ্রাহকের স্বাক্ষরিত কাগজের স্লিপটি ব্যাঙ্কের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পণ্য বিক্রেতা সংস্হা তার প্রাপ্য টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে পেয়ে যায়৷‌ তবে বর্তমানে এই পদ্ধতি পাল্টেছে৷‌ ক্রেডিট কার্ড সংস্হা গ্রাহকের ধার-বাকি যাচাই করে সম্মতি জানাবার সঙ্গে সঙ্গেই পণ্য বিক্রেতা সংস্হার অ্যাকাউন্টে বিলের টাকা পৌঁছে যায়৷‌

· কার্ড সংস্হা মারফত গ্রাহকের ব্যাঙ্ক সঙ্গে সঙ্গেই সঙ্কেত পায় এবং গ্রাহকের কার্ড অ্যাকাউন্টে খরচের অঙ্ক জুড়ে দেওয়া হয়৷‌ নির্দিষ্ট সময়ের পর গ্রাহকের কাছে ব্যাঙ্কের বিল পৌঁছে যায় এবং তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গ্রাহককে নগদে৷‌চেক দিয়ে মেটাতে হয়৷‌

· মনে হতে পারে, এ তো সহজ ব্যাপার, তা হলে বাসে লেখা সতর্কবাণীর মতো, ‘ক্রেডিট কার্ড হইতে সাবধান’ বলা হয় কেন৷‌ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ডে চার্জ করা মোটা অঙ্কের টাকা মিটিয়ে দিলে সমস্যা নেই৷‌ তবে ‘মিনিমাম ব্যালেন্স’ বা দেয় টাকার সর্বনিম্ন অংশ মিটিয়ে বাকি রাখলেই সুদ গোনার দিন শুরু হয়ে যাবে তৎক্ষণাৎ৷‌ ‘ইওর টাইম স্টার্টস নাউ’ গোছের ব্যাপার৷‌

· সাধারণ ভাবে, ব্যাঙ্ক বা অর্থ সংস্হা থেকে যত রকম ঋণ পাওয়া যায়, তার মধ্যে সুদের হার সব থেকে চড়া ক্রেডিট কার্ডে৷‌ বার্ষিক সুদের হার হয়ে দাঁড়ায় ৩৬-৪২শতাংশ৷‌ ক্রেডিট কার্ডের টাকা বাকি রাখা দুশ্চিম্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে সময় লাগে না৷‌ সুযোগ থাকলে, মেয়াদি আমানত ভাঙিয়ে বা সোনার গয়না ব্যাঙ্কে জমা রেখে তার বিনিময়ে ঋণ নিয়ে কিংবা বিমা পলিসি থেকে ঋণ নিয়ে কার্ডের বাকি মিটিয়ে ফেলাই শ্রেয়৷‌

· কার্ডের টাকার চেক যদি ফেরত আসে, তা হলে কার্ড সংস্হা চেক ফেরতের খেসারত তো আদায় করবেই তার সঙ্গে গ্রাহককে দিতে হবে, সময়ে পরিশোধ না করার জন্য ‘লেট ফি’ এবং অবশ্যই বাড়তি সুদ– বিল পাঠানোর তারিখ থেকে যত দিন না বিলের সম্পূর্ণ টাকা শোধ হচ্ছে ততদিন পর্যম্ত৷‌ সুদের হার হবে ৩৬-৪২শতাংশ৷‌

· কার্ডে কেনা-কাটা করার যে অঙ্ক নির্দিষ্ট করা আছে তার বাইরে গেলেই ৫শতাংশ সুদ গুনতে হবে বাড়তি খরচের জন্য৷‌

· অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদে টাকা তোলা যায়৷‌ কিন্তু সুদ বাবদ যা খেসারত দিতে হয় তা শুনলে শে‘পিয়রের মার্চেন্ট অফ ভেনিস নাটকের সুদ কারবারি শাইলকেরও চোখ কপালে উঠত৷‌ প্রথম তো যে অঙ্কের টাকা তোলা হয়, তার ওপর ২.৫০শতাংশ এককালীন চার্জ বা ‘ফি’ নেওয়া হয়৷‌ টাকা তোলার সময় থেকে শুরু করে মাসে ২.৯৫শতাংশ সুদ নেওয়া হয় পরিশোধ হওয়া পর্যম্ত৷‌ এ ছাড়া যে ব্যাঙ্কের কার্ড সেই ব্যাঙ্কের এ টি এম ছাড়া অন্যত্র টাকা তুললে বাড়তি খরচ দিতে হবে৷‌

· কার্ডের বার্ষিক চার্জ বা ‘ফি’ না দিলে গুনাগার দিতে হবে৷‌ সময়ে না দিলে সুদ দিতে হবে৷‌ গ্রাহক যদি কখনও মনে করেন, ক্রেডিট কার্ড আর ব্যবহার করবেন না তা হলে লিখিত আবেদন-সহ কার্ডটি ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার ব্যবস্হা করতে হবে৷‌ কার্ড ব্যবহার না করে এমনি ফেলে রেখে দিলেও বার্ষিক চার্জ বা ফি দিতে হয়৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited