Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১২ ভাদ্র ১৪২১ শুক্রবার ২৯ আগস্ট ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
সারা দিন সারদা- তল্লাশির ঝড়--সব্যসাচী সরকার ।। বি জে পি-র বেলুনের হাওয়া বেরিয়ে গেছে: মমতা--দীপঙ্কর নন্দী ।। পুলিসি ফতোয়া উপেক্ষা করে মিছিল চালকদের ।। ১ তারিখ থেকে বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়া ।। ই পি এফ: ন্যূনতম মাসিক পেনশন হল ১০০০ টাকা ।। বি জে পি জোট ছাড়লেন ভজন-পুত্র কুলদীপ ।। সি বি আই জেলে ভরবে রাঘববোয়ালদের: বৃন্দা ।। ধর্ষণ নিয়ে বেফাঁস মম্তব্য, দলেই নিন্দিত দীপক ।। বীরভূমের দুই থানার ও সি-কে ধরে আনতে বলল আদালত ।। মন্ত্রী, সচিবের ছবি দিয়ে ভুয়ো ওয়েবসাইট, বিরাট প্রতারণা! ।। শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য চলছে: অধীর ।। হাওড়া স্টেশনে বোমাতঙ্ক
বাংলা

সারা দিন সারদা- তল্লাশির ঝড়

বি জে পি-র বেলুনের হাওয়া বেরিয়ে গেছে: মমতা

ধর্ষণ নিয়ে বেফাঁস মম্তব্য, দলেই নিন্দিত দীপক

টাকা পাচার, আর্থিক তছরুপ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার

মন্ত্রী, সচিবের ছবি দিয়ে ভুয়ো ওয়েবসাইট, বিরাট প্রতারণা!

১ তারিখ থেকে বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়া

সি বি আই জেলে ভরবে রাঘববোয়ালদের: বৃন্দা

শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য চলছে: অধীর

ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি শ্যামল প্রয়াত

বীরভূমের দুই থানার ও সি-কে ধরে আনতে বলল আদালত

পরিষদীয় সচিব: রাজ্যের জবাব চাইল হাইকোর্ট

মুদ্রা বিনিময়: পেট্রাপোলে বিঘ্ন বাণিজ্যে

সুনিয়ায় বাম পরিষদীয় দল

দেবল ব্যানার্জি এ জি হচ্ছেন?

অধ্যক্ষকে তালা টি এম সি পি-র

প্রয়াত সাংবাদিক

সারা দিন সারদা- তল্লাশির ঝড়

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

সব্যসাচী সরকার




সারদার সুবিধেভোগীদের ‘মহাগোষ্ঠী’র সন্ধান পেল সি বি আই৷‌ আসামের প্রাক্তন মন্ত্রী ও ডি জি-র বাড়িতে, এ রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক বাপি করিমের বাড়িতে তল্লাশি চালাল৷‌ তল্লাশি চলল মুম্বইয়েও৷‌ সল্টলেকে সি বি আই দপ্তরে এনে ৬ ঘণ্টা জেরাও করা হয় বাপিকে৷‌ ৩ বছর তিনি মন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক ছিলেন৷‌ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের ২২টি জায়গায়, একই মাসে তৃতীয়বার তল্লাশি চালাল সি বি আই৷‌ সারদা-কাণ্ডে আসামের ‘কৃতী’-দের ভূমিকা ক্রমেই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে৷‌ পিছিয়ে নেই মুম্বইও৷‌ কলকাতায় সি বি আই হানা দিল ৭ জায়গায়৷‌ উল্লেখযোগ্য, ইস্টবেঙ্গলের প্রয়াত কর্তা পল্টু দাসের আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চলে৷‌ তল্লাশি চলে একটি দৈনিক কাগজের সম্পাদক আসিফ খানের বাড়িতে৷‌ চা-ব্যবসায়ী সজ্জন ও সন্ধির আগরওয়ালের অফিসে৷‌ প্রাক্তন পুলিস কর্তা দেবেন বিশ্বাসের বাড়িতে৷‌ ব্যবসায়ী রাকেশ সরাফের বাড়িতেও৷‌ পোস্তায় একটি অফিসেও তল্লাশি চলে৷‌ মুম্বইয়ে দেবব্রত সরকার (নীতু)-এর এক ঘনিষ্ঠের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়৷‌ তল্লাশির ঘটনায় এটা নিঃসন্দেহে নতুন বাঁক৷‌ এদিন ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলেছে আসামে৷‌ সারদা ব্যবসায় এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেই উঠেছিল৷‌ এদিন সি বি আইয়ের অফিসাররা হানা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী হিমম্ত বিশ্বশর্মার বাড়িতে৷‌ অন্য একটি দল যায় প্রাক্তন ডি জি শঙ্কর বড়ুয়ার বাড়ি, বিধায়ক অঞ্জন দত্তের বাড়ি এবং গায়ক সদানন্দ গগৈয়ের বাড়িতেও৷‌ সারদার অর্থ কেলেঙ্কারির জগতে আসামের গায়ক কী করে, কার হাত ধরে ঢুকে পড়েছিলেন, তা সত্যিই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা৷‌ তরুণ গগৈয়ের মন্ত্রিসভার দাপুটে নেতা হিমম্ত বিশ্বশর্মা সারদা গোষ্ঠীর ধুবড়িতে বিস্কুট কারখানার উদ্বোধনে ছিলেন৷‌ এমনকী টিভি চ্যানেল খোলার কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন৷‌ অভিযোগ অবশ্য হিমম্ত সব সময়ই উড়িয়ে থাকেন! এখন বাড়িতে তল্লাশির পর হিমম্ত চুপচাপ৷‌ ‘চক্রাম্ত চলছে’ বলেই থেমেছেন৷‌ সারদা কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর, সে রাজ্যের সংবাদমাধ্যমে সরাসরি হিমম্ত বিশ্বশর্মা ও তৎকালীন ডি জি শঙ্কর বড়ুয়ার নাম উঠে এসেছিল৷‌ সি বি আই সূত্রে খবর, বহু কোটি টাকা নয়ছয় ও টাকার বিনিময়ে সুবিধে দেওয়ার অভিযোগেই তল্লাশি৷‌ সারদার কাগজপত্র আগেই মিলেছিল এদের থেকে৷‌ যেমন, এত দিন প্রায় আড়ালে থাকার পর প্রাক্তন বিধায়ক অঞ্জন দত্তের বাড়িতে সি বি আই ঢোকা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷‌ প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল কর্তা প্রয়াত পল্টু দাসের বাড়িতে সি বি আই হানার অন্যতম কারণ স্বয়ং সুদীপ্ত সেনই৷‌ সি বি আই-কে লেখা চিঠিতেই তিনি জানিয়েছিলেন, ধৃত ইস্টবেঙ্গলের আরেক কর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নীতু-র টাকা নাকি আমহার্স্ট স্ট্রিটের একজনের বাড়িতে ব্যাগে করে রাখা হত৷‌ সুদীপ্ত সেনের দুই ড্রাইভার সে টাকা ব্যাগে করে পৌঁছে দিতেন৷‌ নীতুকে জেরা করার পরেই পল্টু দাসের বাড়ির খোঁজ পায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্হা৷‌ সন্ধির আগরওয়াল জেরায় প্রথম দিকে জানিয়েছিলেন, সেবি-র কর্তাদের সঙ্গে তাঁর কোনও অনৈতিক সম্পর্ক নেই৷‌ তিনি সজ্জন ব্যবসায়ী! কিন্তু সি বি আইয়ের দাবি, সন্ধিরের বাবা সজ্জনের সঙ্গে সুদীপ্তর আলাপ দেরিতে হলেও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে খুব তাড়াতাড়ি৷‌ সজ্জনের পুত্র সন্ধিরের এক্সাইড মোড়ের অফিসে বৃহস্পতিবার সকালেই সি বি আইয়ের দল যায়৷‌ বাজেয়াপ্ত হয় নানা নথি৷‌ মুম্বইয়ে নীতু-ঘনিষ্ঠর সঙ্গে সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক লেনদেন আদৌ হয়েছিল কিনা, হলে কীভাবে, তা খুঁজতেই যায় সি বি আই৷‌ মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে সারদা গোষ্ঠীর লগ্নি নিয়ে কিছু তথ্য অবশ্য আগেই পেয়েছিল ই ডি৷‌ আজ, শুক্রবার ই ডি একজন প্রভাবশালীকে ডেকে জেরা করবে৷‌ সূত্রের খবর, সারদা-কাণ্ডের নেপথ্যে ইনিও বড় ভূমিকায় ছিলেন৷‌ রাজ্যের বিধায়ক মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক বাপি করিম ২০০৯ সাল থেকে কাজে নিযুক্ত ছিলেন৷‌ পরিবহণমন্ত্রীর পদে মদন মিত্র আসার পরও কিছুদিন ছিলেন, পরে তাঁকে আপ্ত সহায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷‌ সল্টলেকে সি বি আই দপ্তরে দীর্ঘ জেরার পর সন্ধে ৭টা ১০ মিনিটে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে৷‌ সি বি আই কর্তাদের তিনি জানিয়েছেন, সারদার সঙ্গে তিনি কোনওভাবে জড়িত নন৷‌ কলম পত্রিকার সম্পাদক আসিফ খান এই মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছেন, সি বি আই জেনেছে৷‌ ‘কলম’ পত্রিকার জন্য সুদীপ্ত সেন ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন বলে জেরায় সি বি আই-কে জানিয়েছিলেন৷‌ ওই পত্রিকায় তিনি একটি কর্মী ইউনিয়নও গড়ে তোলেন৷‌ পরে, কাগজটির মালিকানা বদল হয়৷‌ নতুন নামে তা প্রকাশ হতে থাকে৷‌ সি বি আই ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কোথায় গেল, তার সন্ধানেই খোঁজখবর শুরু করে৷‌ আসিফ খানের বাড়িতে যায়৷‌ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে৷‌ সংবাদমাধ্যমে আসিফ খানের স্ত্রী জানান, সি বি আই সারদা-সংক্রাম্ত কোনও কাগজপত্র পায়নি৷‌ অন্য দিকে ই ডি বেশ কয়েকদিন যাবৎ সারদার সম্পত্তি তালিকাভুক্ত করার কাজে ব্যস্ত৷‌ সে কাজে গিয়ে নতুন অনেক তথ্য পেয়েছে ই ডি৷‌ আসাম, মুম্বই, ভুবনেশ্বর, কলকাতা– এই চার রাজ্যেই প্রভাবশালীদের মধ্যে একটা বৃত্তের সন্ধান পেয়েছে সি বি আই৷‌ সুদীপ্ত সেন সব ক্ষেত্রেই মোটা টাকা ঢেলে রাজ্যের প্রভাবশালীদের কব্জায় নিতেন৷‌ চার রাজ্যের মধ্যে আসামেই সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করেছিলেন৷‌ কেনা হয়েছিল বিলাসবহুল বাস, গাড়ি৷‌ কয়েক জায়গায় রিসর্টও করা হয়েছিল৷‌ বিস্কুট কারখানা এবং মনোরঞ্জনা সিংয়ের কথায় টিভি চ্যানেলে টাকাও ঢেলেছিলেন৷‌ আইনগত ঝামেলা এড়াতে ডি জি, মন্ত্রী সব স্তরেই কোটি কোটি টাকার উপঢৌকন দিতেন৷‌ সি বি আইয়ের এক কর্তা বৃহস্পতিবার রাতে জানান, আরও বহু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে৷‌ নাম কখনই শোনা যায়নি, এমন প্রভাবশালীর খবরও এসেছে৷‌ সারদা গোষ্ঠীর নগদে টাকা নেওয়া প্রভাবশালীরাও এখন বিপাকে, কেন না সি বি আই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখবে৷‌


kolkata || bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited