Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৭ ফাল্গুন ১৪২১ সোমবার ২ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
জায়গা খুঁজছেন মুকুল--‘বি জে পি সাম্প্রদায়িক দল নয়’ ।। অভিজিৎ-হত্যার তদম্তে এফ বি আই?--জঙ্গি ফারাবি পশ্চিমবঙ্গে? ।। মুখ্যমন্ত্রী হয়েই পাকিস্তান ও জঙ্গিদের ধন্যবাদ ।। দল সাজাতে নোট দিয়েই রাহুল ইউরোপে উপসনায়? ।। মুকুলপম্হীদের সরিয়ে নতুন কমিটি নদীয়ায় ।। যথাযথ পালন করব নতুন দায়িত্ব: বক্সি ।। জাল টাকা, মাদক পাচার রুখতে খাল কাটছে বি এস এফ--সব্যসাচী সরকার ।। মুকুলের পাপ ঘাড়ে নিতে চায় না কং: অধীর--বিজয়প্রকাশ দাস, স্নেহাশিস সৈয়দ ।। ডালমিয়াই প্রেসিডেন্ট--দেবাশিস দত্ত ।। বিশ্বকাপে ১০ দল?--ঠান্ডা ঘরে বসে ওঁরা সিদ্ধাম্তটা নিন: ধোনি ।। অভিজিৎ-হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার কলকাতা ।। আবার মুফতি
বাংলা

জায়গা খুঁজছেন মুকুল

অভিজিৎ-হত্যার তদম্তে এফ বি আই?

মুকুলপম্হীদের সরিয়ে নতুন কমিটি নদীয়ায়

পুকুর ভরাটে বাধা দেওয়ায়খুনের হুমকি তৃণমূলের বিধায়ককে

অপহরণের ৩ দিন পর বিষ্ণুপুরে মিলল ফলতার ব্যবসায়ীর দেহ

সাসপেনশনের চিঠি না পেলে মামলা করবেন স্বপনকাম্তি!

বাগুইহাটিতে মা-কে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে মেরে খুন করল ছেলে

যথাযথ পালন করব নতুন দায়িত্ব: বক্সি

দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে প্রতিম: অসুস্হ না থাকলে দেখে নিতাম

পাথরপ্রতিমার বধূর কাছে লড়াইয়ে হার মানল কুমির

কং কৌটো নেড়ে সদস্য জোগাড় করুক: ফিরহাদ

মুকুলের পাপ ঘাড়ে নিতে চায় না কং: অধীর

কাঁচরাপাড়া সন্ত্রাসমুক্ত হল!

মধ্যমগ্রামে দলের বৈঠকে হাজির শুভ্রাংশু

বিলাসে বন্দী

বন্ধ হয়ে গেল ভারত জুটমিল

সোয়াইন ফ্লুতে আক্রাম্ত ১৬

জায়গা খুঁজছেন মুকুল

‘বি জে পি সাম্প্রদায়িক দল নয়’

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দীপঙ্কর নন্দী




জায়গা খুঁজছেন মুকুল রায়৷‌ রবিবার নিজাম প্যালেসে বসে বলেন, আগেও পরিশ্রম করেছি৷‌ এখন নতুনভাবে পরিশ্রম করা শুরু হল৷‌ প্রত্যেকেরই একটি লক্ষ্য থাকে৷‌ অনেক সময় আছে৷‌ আমি কিন্তু হারিয়ে যাইনি৷‌ শনিবারই তাঁর হাত থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে৷‌ রাজ্যসভার দলনেতার পদটিও খুইয়েছেন তিনি৷‌ রবিবার নিজাম প্যালেসে বসে খোশমেজাজেই ছিলেন মুকুল৷‌ তিনি বলেন, আমি খুব আনন্দে আছি৷‌ আমার কোনও টেনশন নেই৷‌ ঘন ঘন সিগারেট খাচ্ছেন মুকুল৷‌ বললেন, আগের চেয়ে একটু বেশিই খাওয়া হচ্ছে৷‌ কী আর করা যাবে৷‌ এদিন তিনি বলেন, আমি এখনও বলছি, সারদা নিয়ে যাঁরা প্রতারিত হয়েছেন তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত৷‌ যাঁরা প্রতারণা করলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুকুল৷‌ মুকুল এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রতারিতদের পক্ষে যাঁরা রাস্তায় নেমেছেন তাঁদের সঙ্গে আমি নেই৷‌ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা যায় না৷‌ আইনের পথে যেতে হয়৷‌ যদি এ ব্যাপারে কেউ আমার সাহায্য চায়, আমি নিশ্চয়ই হাত বাড়িয়ে দেব৷‌ প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্যও দেব৷‌ এদিন সরাসরি মুকুল জানিয়ে দেন, আমি যদি দোষী হই তাহলে আগে তো চিহ্নিত করতে হবে৷‌ মুকুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মমতার সঙ্গে কি আপনার সরকারিভাবে বিচ্ছেদ হয়ে গেল? তিনি বলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে নিজলিঙ্গাপ্পা, অতুল্য ঘোষ প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন৷‌ পরে এঁদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়৷‌ আপনারাই বুঝে নিন৷‌ রাজ্যসভায় হুইপ প্রসঙ্গে মুকুল বলেন, দল যদি হুইপ দেয় তাহলে আমি মানতে বাধ্য৷‌ ডেরেকের দেওয়া হুইপ আমি মানব না৷‌ ঠিকভাবে হুইপ দিতে হবে৷‌ আমি তো দল ছাড়িনি৷‌ হুইপ তো আমি মানবই৷‌ মুকুল বলেন, সি পি এমের প্রথম সারির একজন-দু’জন নেতা আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, আগে নিজেকে ‘প্রোটে’’ করো৷‌ মমতা প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আমি প্রথম থেকে ছিলাম৷‌ এখন আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷‌ যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি চাইব তারা ভালভাবে কাজ করুন৷‌ আমার তো মনে হয়, এভাবে চলবে তৃণমূল ভবিষ্যতে ভারত শাসন করবে৷‌ সরাসরি এদিন মুকুল জানিয়ে দেন, আমি কোনও ছলচাতুরির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না৷‌ অনেকেই বলছেন, আমি নাকি ম্যানেজ করেছি৷‌ এসব জল্পনা হতে পারে৷‌ বাস্তবের সঙ্গে এর কোনও ভিত্তি নেই৷‌ মনমোহন সিংয়ের হাত থেকেও ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল৷‌ তাহলে কি বলবেন, রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল? পি ডি এস নেতা সমীর পুততুন্ড দু’দিন আগে মুকুলের সঙ্গে দেখা করে গেছেন৷‌ এক প্রশ্নের উত্তরে মুকুল বলেন, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে৷‌ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি তাঁকে বলেছেন, আমরা তো একসঙ্গে কংগ্রেস করতাম৷‌ তুমি যদি দলে আসার চিম্তাভাবনা কর, তাহলে আমাকে বোলো৷‌ পাশাপাশি তিনি এদিন বলেন, পদ গেছে তো কী হয়েছে? আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না৷‌ রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছে, কত নেতাকে তো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷‌ দল যা সিদ্ধাম্ত নেবে, তা মেনে নেব৷‌ বি জে পি-র পক্ষ থেকে মুকুলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, না, আমার সঙ্গে বি জে পি নেতাদের কোনও কথা হয়নি৷‌ কর্মীদের সঙ্গে তো কথা হয়ই৷‌ বি জে পি প্রসঙ্গ এনে মুকুল বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, মমতা ব্যানার্জি বি জে পি সম্পর্কে বলেছিলেন, কেউই অচ্ছুত নয়৷‌ আমি বলছি, বি জে পি সাম্প্রদায়িক দল নয়৷‌ তার কারণ, সাম্প্রদায়িক দল যদি হত তাহলে নির্বাচন কমিশন থেকে বি জে পি-কে স্বীকৃতি দেওয়া হত না৷‌ মমতাকে ঠেস দিয়ে মুকুল এদিন বলেন, ২০১১-য় নতুন সরকার হয়েছে, ৩৪ বছরের বাম জমানা শেষ হয়ে গেছে৷‌ আগামী বছর নির্বাচন৷‌ এই ক’মাসে মানুষ কিন্তু কতটা পরিবর্তন হল, তার হিসেব নেবে৷‌ মুকুল ঘুরিয়ে বলে দেন, মমতা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ঠিকভাবে পালন করা হয়নি৷‌ এদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সৌগত রায়, পার্থ চ্যাটার্জি, অর্জুন সিং, অতীন ঘোষ মুকুলকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন৷‌ উত্তর কলকাতার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বুথকর্মী সম্মেলনে উপস্হিত ছিলেন সৌগত রায়, সাধন পান্ডে ও অতীন ঘোষ৷‌ সৌগত বলেন, দল গঠনের সময় কে কাকে সদস্যপদ দিয়েছিলেন সেটা বড় ব্যাপার নয়৷‌ মমতাই এই দলটি তৈরি করেন৷‌ তাঁর জন্যই তৃণমূল তৈরি হয়েছে৷‌ তিনিই দলের শেষ কথা৷‌ মুকুল এদিনও বলেন, তৃণমূল স্বীকৃতি পাওয়ার পর মমতা কংগ্রেস ছেড়ে দলে আসেন৷‌ সৌগত বলেন, এসব কথার কোনও মূল্য নেই৷‌ মমতাকে দেখে মানুষ ভোট দেয়৷‌ পুরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বিপুলভাবে জয়ী হবে৷‌ মুকুল এদিন নিজাম প্যালেসে বলেন, এক সময় আমি ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম৷‌ বড় বাড়ি তৈরি করেছিলাম৷‌ এখন আমি জোগালে৷‌ কখন কী হয়, কে বলতে পারে! কল্যাণীতে গিয়েছিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি৷‌ তিনি মুকুলকে কটাক্ষ করে বলেন, আমাদের দলে ইট ভাঙার ক্ষমতা কারও নেই৷‌ ভাল মিস্ত্রি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ঘর৷‌ সাধন বলেন, অরুণ জেটলির নির্দেশে মুকুল তৃণমূলের ক্ষতি করতে নেমেছেন৷‌ মানুষ এটা মেনে নেবে না৷‌ অতীন এদিন বলেন, তৃণমূল যখন তৈরি হয় তখন হাজার হাজার কংগ্রেসকর্মী দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য এফিডেভিট করে৷‌ আমার অফিস থেকেই এই সব কাজ হত৷‌ দিদির নির্দেশেই আমরা এ কাজ করতাম৷‌ মুকুল সে সময় শুধু কাগজপত্র জমা নিতেন৷‌ তিনি ক্লার্ক ছিলেন৷‌ শুরু থেকেই মমতাদি এই দলে রয়েছেন৷‌ কয়েক দিন আগে বা কয়েক দিন পরে কে এসেছিলেন, সেটা বড় কথা নয়৷‌ মমতাদির জন্যই আজ তৃণমূল এই জায়গায় পৌঁছেছে৷‌ আমরা সরকার করতে পেরেছি৷‌ এদিন কাঁচরাপাড়ায় অর্জুন সিং বলেন, মুকুলের নির্দেশে কাঁচরাপাড়ায় পুলিস প্রথম থেকে যাঁরা তৃণমূল করছেন তাঁদের ওপর অত্যাচার করছে৷‌ এটা বন্ধ হওয়া দরকার৷‌ আমি কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলাম৷‌ সেখানকার কর্মীদের বলে এসেছি, আপনারা কোনও ভয় পাবেন না৷‌ দলের কাজ করুন৷‌ আমি আছি৷‌ দিদিকে আমি সময়মতো সব জানাব৷‌ আপনারা এটুকু জেনে রাখুন, মুকুলের জমানা শেষ৷‌ এদিকে, এদিন নিজাম প্যালেসে গিয়েছিলেন বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত৷‌ কয়েকদিন আগেই তাঁর হাত থেকে পরিষদীয় সচিবের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে৷‌ নিজাম প্যালেসে শীলভদ্র ছাড়াও ছাত্র পরিষদ নেতা সুজিত শ্যাম ছিলেন৷‌ তবে অন্য কোনও নেতাদের উপস্হিতি লক্ষ্য করা যায়নি৷‌ মুকুলকে জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রথম দিকে আপনার সঙ্গে অনেক নেতা ছিলেন, এখন তাঁরা কোথায়? মুকুল বলেন, নেতা বড় কথা নয়, আমি কর্মীদের গুরুত্ব দিই৷‌ তাঁরা আমার সঙ্গে আছেন, এটাই বড় কথা৷‌ আজ ভোরের বিমানে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন৷‌





kolkata || bangla || bharat || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited