Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ২ পৌষ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
পাশে ইমরান, জঙ্গি দমনে শরিফ ।। গুড তালিবান, ব্যাড তালিবান! ।। কলকাতা পুরভোটে সি পি এম-কে দ্বিতীয় শক্তি ধরছে তৃণমূল কংগ্রেস ।। মদনের কন্ঠস্বর রেকর্ড করার অনুমতি পেতে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে সি বি আই ।। বন্ধ পাটকাপাড়া চা-বাগানে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু ।। যাদবপুরে সমাবর্তনে সবাইকেই ডাকলেন উপাচার্য ।। সফির স্মরণসভায় আদবানি: রাজনীতিতে অস্পৃশ্যতা অনুচিত ।। সাগর মেলা: নামখানা-বেণুবন ফেরি সার্ভিসে জোর প্রশাসনের ।। কড়া বার্তা, ভারত ট!র নিতে তৈরি--সুনীল গাভাসকার ।। বিরক্তিকর ট্যাকটিক্যাল ফুটবল, জয় টাইব্রেকারে--গৌতম সরকার ।। পেশোয়ারের পর এবার নিশানা দিল্লি? ।। শীতের কামড় বাড়বে এবার
বাংলা

বন্ধ পাটকাপাড়া চা-বাগানে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

সোনালি-কাণ্ড: মোবাইলের ‘মেমোরি চিপ’, সি সি টিভি-র ফুটেজের ফরেনসিক পরীক্ষা

শীতের কামড় বাড়বে এবার

দলের রাজ্য সম্পাদক থাকছেন বিমান বসু

মদনের কন্ঠস্বর রেকর্ড করার অনুমতি পেতে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে সি বি আই

বিমান বাতিল বাগডোগরায়

দাম না পেয়ে অবরোধ করে ধান পোড়ালেন চাষীরা

সাগর মেলা: নামখানা-বেণুবন ফেরি সার্ভিসে জোর প্রশাসনের

ধর্মাম্তরের বিরুদ্ধে প্রচার করবে স পা

দুষ্কৃতীর গুলিতে প্রোমোটার খুন

পোষা বেজির অন্নপ্রাশন

রাহুল সিনহা: সি বি আই মোদির সর্বশক্তিমান তদম্তকারী সংস্হা

রাহুল, ফিরহাদের সঙ্গে বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

কথা রাখেনি বি জে পি, ক্ষুব্ধ মতুয়ারা এবার দিল্লিতে

ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গে ৫৭টি মামলা করেছে সি বি আই

লস্কর-হানা হতে পারে সতর্কিত রাজ্য, কলকাতা

বন্ধ পাটকাপাড়া চা-বাগানে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অম্লানজ্যোতি ঘোষ: আলিপুরদুয়ার, ১৭ ডিসেম্বর– বন্ধ পাটকাপাড়া চা-বাগানে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হল৷‌ বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ বাগানের গুদাম লাইনে শ্রমিক আবাসনে মৃত্যু হয় মহিলা চা-শ্রমিক বেণু গোর (৫৭)৷‌ উল্লেখ্য, ১৭ নভেম্বর আলিপুরদুয়ার লাগোয়া পাটকাপাড়া চা-বাগান হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়৷‌ ইতিমধ্যে তিনজন চা- শ্রমিক সোমরা ওরাওঁ, বান্দ্রা লোহার, শহরিয়া ওরাওঁয়ের মৃত্যু হয়েছিল বন্ধ বাগানটিতে৷‌ এদিন বাগান বন্ধের ঠিক একমাসের মাথায় আরও এক চা শ্রমিকের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়ায় বাগানটিতে৷‌ আগের তিনটি মৃত্যুর মতো এদিনও বেণু গোরের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে চা-শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, কার্যত অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কর্মরত মহিলা চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে৷‌ মৃতের পুত্র ত্রিশূল গোর জানান, মা ও আমি দুজনেই বাগানের শ্রমিক৷‌ এক মাস আগে বাগান বন্ধ হওয়ায় একসঙ্গে দুজনেই কাজ হারাই৷‌ মা গত ৪ মাস ধরে অসুস্হ ছিলেন৷‌ একবার বুকে, তলপেটে ব্যথা হওয়ায় আলিপুরদুয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম৷‌ একদিন সেখানে রেখে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম৷‌ বেশ কিছুদিন থেকে রক্তশূন্য হয়ে পড়েছিলেন মা৷‌ ত্রিশূল এ-ও জানান, বাগান বন্ধ হওয়ায় একসঙ্গে দুজনেই কাজ হারানোয় একমাস থেকে পরিবারের কথা ভেবে আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন মা৷‌ বাবা ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন৷‌ তাঁকে খবর পাঠানো হয়েছে৷‌ মৃতের প্রতিবেশী হাওড়া গোর জানান, বাগান বন্ধ৷‌ শ্রমিকেরা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন৷‌ চিকিৎসার অর্থ কোথায় পাবে? বাগান খোলা থাকলে শ্রমিকেরা প্রয়োজনে চাঁদা তুলে হলেও অসুস্হ রোগীকে হাসপাতালে পাঠান৷‌ চা-বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা আশিস রায় জানান, বাগানে বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্হ৷‌ রয়েছে অনাহার, অর্ধাহার থেকে অপুষ্টি৷‌ ডুয়ার্সে কড়া ঠান্ডা পড়েছে৷‌ সার্বিক পরিস্হিতি দেখে আমাদের মনে হচ্ছে প্রশাসন, স্বাস্হ্য দপ্তর অবিলম্বে উদ্যোগ না নিলে আগামীতে আরও মানুষের মৃত্যু হবে বাগানে৷‌ বাগান বন্ধ হওয়ার পর থেকে মাত্র একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়েছে৷‌ আমরা চাইছি সপ্তাহে অম্তত একটি দিন বাগানের হাসপাতালে একজন চিকিৎসক আসুক৷‌ এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগানে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না শ্রমিকেরা৷‌ কারণ অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হলেও তেলের খরচ শ্রমিকদেরই বহন করতে হবে৷‌ তবে বন্ধ বাগানের অনেক শ্রমিকের সেই সামর্থ্য নেই৷‌ এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে সময়মতো পাওয়া যায় না৷‌ শ্রমিক সংগঠন ইউ টি ইউ সি-র জেলা সম্পাদক নির্মল দাস জানান, প্রতিটি মৃত্যু প্রমাণ করেছে চা-বাগানটির শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙঘন হচ্ছে৷‌ প্রশাসন উদাসীন৷‌ আমরা জেলা প্রশাসনকে দাবিপত্র দিয়েছি আজ৷‌ এরপর যদি আর একটিও মৃত্যু হয় পাটকাপাড়ায়, সে ক্ষেত্রে শুধু চা-বাগান কর্তৃপক্ষ নন, দায়ী থাকবে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনও৷‌ ডুয়ার্স চা বাগান ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মনোহর তিরকি জানান, মৃত চা-শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীরভাবে সমবেদনা জানাচ্ছি৷‌ পাশাপাশি এটা দুর্ভাগ্যজনক যে বন্ধ চা-বাগানে শ্রমিকদের মৃত্যুর ফাঁদে ফেলে বাগান কর্তৃপক্ষ চলে গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনও ব্যবস্হা নেয়নি৷‌ এ ছাড়াও আলিপুরদুয়ার জেলা সদর কার্যালয় বন্ধ বাগানটি থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরে৷‌ প্রশাসনিক সক্রিয়তা থাকলে হয়ত এতগুলি মৃত্যু হত না৷‌ শুধু পাটকাপাড়া নয়, উত্তরবঙ্গের ৯টি বন্ধ চা-বাগানে সমস্যায় রয়েছেন শ্রমিকেরা৷‌ সিটুর আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ গুণ শ্রমিক মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার আবেদন রাখেন৷‌ এদিকে মঙ্গলবারই পাটকাপাড়া চা-বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিক সংগঠন ইউ টি ইউ সি-র রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষ দাবি করেছিলেন চা-শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙঘনের ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার কমিশনে যাচ্ছেন৷‌ এদিনও সে দাবির পাশাপাশি মৃত্যুর সমালোচনা করে বলেন, ‘বিনা চিকিৎসা অনাহারে শ্রমিকমৃত্যু হলেও রাজ্য সরকার সারদায় জড়িতদের বাঁচাতে ব্যস্ত৷‌ এর থেকে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না৷‌ উত্তরবঙ্গের সমগ্র চা বলয় এশিয়ার শ্রমিক শোষণের বৃহত্তম ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে৷‌ সদর মহকুমা শাসক সমীরণ মণ্ডল জানান, মৃত্যুর খবরটি আমরা পেয়েছি৷‌ সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে বন্ধ বাগানের বিষয়ে জানিয়েছি৷‌ বৃহস্পতিবার বন্ধ বাগানটি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে৷‌ তার ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে রয়েছি আমরা৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited