Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৭ কার্তিক ১৪২১ শনিবার ২৫ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রাম্ত পুলিস--পাড়ুই থানার ও সি-র মাথা লক্ষ্য করে বোমা ।। খাগড়াগড়, বেলডাঙায় সরেজমিনে এন আই এ-র ডি জি--পলাতকদের ধরতে বিশেষ স্ট্র্যাটেজি ।। সীমাম্তে ১০০০ অননুমোদনহীন মাদ্রাসা ।। মাদ্রাসা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের দাবি ।। কালো টাকার মালিকদের আড়াল করছেন! জেটলিকে জেঠমালানি ।। সোমবার মহারাষ্ট্রে নেতা নির্বাচন করবে বি জে পি ।। সেন কমিশন কেন বন্ধ হল?--রাজ্যের রিপোর্ট চান বিমান ।। রাজ্যে গ্রেপ্তার ১০৭৯ জন--বেহালায় মার খেলেন কনস্টেবল ।। আজ রবীন্দ্র সদন চত্বরে শুরু বাংলাদেশ বইমেলা ।। ৩০ বছর পূর্তিতে বিশেষ সাফাই অভিযান মেট্রো রেলে ।। পার্থর নিন্দা ।। রাজ্যে সদলে নিরাপত্তা কর্তারা
পর্দা

নির্ভার কমেডি, নতুন জুটির স্নিগ্ধতা

পাহাড়ের খাদ, জীবনের খাদ

চেনবাঁধা হাতি, স্বাধীন পিঁপড়ে

হ্যাপি নিউ ইয়ার

একই দিনে

বড়দিনে আসছে বাদশাহী আংটি

‘গেম ওভার’ ছবির গানে কুমার শানু

কালীপুজো উপলক্ষে সাধক বামাক্ষ্যাপার বিশেষ পর্ব

এক নজরে

নির্ভার কমেডি, নতুন জুটির স্নিগ্ধতা

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



জানলা দিয়ে বউ পালালো৷‌ ঘরপালানো দুই ছেলেমেয়ের প্রেম৷‌ আর তাদের ঘিরে নানা মজাদার চরিত্র, ‘স্ল্যাপস্টিক কমেডি’র আদর্শ পরিস্হিতি৷‌ নতুন জুটি অর্জুন ও অমৃতাকে সঙ্গে নিয়ে এক নির্ভেজাল আনন্দের হাওয়া বইয়ে দিলেন অনিকেত চট্টোপাধ্যায়৷‌

সম্রাট মুখোপাধ্যায়

জানলা দিয়ে বউ পালালো

পরিচালনা: অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

অভিনয়ে: অর্জুন চক্রবর্তী, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়,

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, শঙ্কর চক্রবর্তী, বিশ্বনাথ বসু

বিয়ের আসর থেকে বউ পালাল– সিনেমার চিত্রনাট্যে ‘জঁর’ হিসেবে এটা যথেষ্টই আকর্ষণীয়৷‌ বাংলা সিনেমায় তো বটেই, সফল ফর্মুলা হিসেবে এই উপাদানটির ডাক বারবার পড়েছে বলিউড এমনকি হলিউডেও৷‌ ঘর থেকে পালানো ঈষৎ ‘বোহেমিয়ান’ মনের নায়িকা, সঙ্গে উদারচিত্ত নায়ক আর উন্মুক্ত ‘আউটডোর’-এ তাদের ঘোরাঘুরি, মেশামেশি– বারবারই সিনেমা-নির্মাতাদের কাছে লোভনীয় এক হাতছানি হয়ে থেকেছে৷‌ দর্শকেরাও বারবারই তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন বক্সঅফিসে৷‌ ফলে ‘রানওয়ে ব্রাইড’ ধাঁচের ছবি এক অর্থে সিনেমা-ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য এক অঙ্গ৷‌

সেটাই আবার পরিচালক-চিত্রনাট্যকার অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ফিরে এসেছে ‘জানলা দিয়ে বউ পালালো’-তে৷‌ অনিকেতের এই ছবি কার্যত এই ধারার নানা পূর্বতন ছবির স্মৃতির ভেতর দিয়ে এক ‘ডি ট্যুর’৷‌ যা দেখতে-দেখতে নস্টালজিয়ায় আক্রাম্ত হবেন দর্শক৷‌ এটাই অনিকেতের আস্তিনের সবচেয়ে বড় তীর৷‌ আবার যাঁরা বাংলা সিনেমার তেমন ‘পাঁড়’ দর্শক নন, তাঁরাও এ ছবি দেখে একটা অন্য ‘ফ্রেশ’ মজা পাবেন, কারণ এ ছবির কেন্দ্রে আছে দুই তরুণ মুখ৷‌ অর্জুন চক্রবর্তী আর অমৃতা চট্টোপাধ্যায়৷‌ অমৃতার বড়পর্যায় এটাই প্রথম ছবি৷‌ কিন্তু ক্যামেরার ‘সন্ধানী’ চোখের চাপ সামলে, বেশ কিছুটা বাড়তিই দিয়েছেন অমৃতা৷‌ সন্দেহ নেই তাঁর উপস্হিতির মূল জোর তাঁর অভিনয়-ভাবনা৷‌ প্রচলিত গ্ল্যামার-সর্বস্বতার ছকে তাঁকে আটকেও রাখেননি অনিকেত৷‌ সহজ-স্বাভাবিক একটা অভিনয় সারাক্ষণ করে গেছেন অমৃতা৷‌ যা যথার্থ অর্থেই ‘সিনেম্যাটিক’৷‌ যথাযথভাবেই তাঁকে মনে হয়েছে ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’৷‌ এটাই ছিল অনিকেতের দ্বিতীয় তীর৷‌ তৃতীয় তীরটি অনিকেতের একেবারে নিজস্ব৷‌ সত্যি বলতে কী, যা তাঁর নিজস্ব একটা ‘ক্লায়েন্টেল’ বা দর্শক তৈরি করে দিয়েছে গত কয়েক বছরে৷‌ ‘বাই বাই ব্যাঙ্কক’, ‘ছ-এ ছুটি’ বা ‘গোড়ায় গন্ডগোল’-এর সুবাদে৷‌ এই কৌশলটি হল ‘এনসেম্বল কাস্ট’৷‌ অর্থাৎ একগুচ্ছ ভাল অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ‘কাস্টিং’-এ ব্যবহার করা৷‌ এ ব্যাপারে অনিকেতের পক্ষপাত অবশ্যই ভাল কমেডি অভিনেতাদের দিকে৷‌ গত তিন-চারটি ছবির সুবাদে তিনি নিজস্ব একটি টিমও বানিয়ে ফেলেছেন৷‌ সেই নিয়ম মেনেই এ ছবিতে আছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, মানসী সিনহা, বিশ্বনাথ বসু, লামা প্রমুখ৷‌ এককথায় ‘কমেডিয়ান অমনিবাস’৷‌

ছবির শুরুতে বউ পালানোর শুরুয়াৎটা তিনটি ধাপে বেশ জমিয়ে দিয়েছেন পরিচালক৷‌ এক, বিয়েবাড়ির জমজমাট আবহ৷‌ ব্যান্ড পার্টির সামনে জ্যাঠামশাইয়ের (বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী) তর্জন মনে করাবেই ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’-এর উৎপল দত্তের কথা৷‌ এর পরই অপছন্দের বরকে বিয়ে করবে না বলে নায়িকা মিমির তিনতলার ওপর থেকে পলায়ন৷‌ এখানে ব্যস্ত শ্যামবাজার অঞ্চলে মিমির চলে আসা ও তা পার হওয়া নানা অ্যাঙ্গেলে, মম্তাজের ধরনে যেভাবে এসেছে তাতে দ্বিতীয় ধাপটা জমে গেছে৷‌ এখানেই তার গায়ের গয়নার লোভে পিছু নিয়েছে এক চোর (সঞ্জীব সরকার) আর নায়িকা গিয়ে উঠেছে শিলিগুড়িগামী বাসে৷‌ সেখানেই নায়কের সঙ্গে তার দেখা৷‌ আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আলাপ হওয়াগুলো যেমন দ্রুত এবং জড়তাহীন, ঠিক তেমনটাই ভণিতাহীন আরেকটা ধাপ চমৎকারভাবে তৈরি করেছেন পরিচালক৷‌ এই পর্যায়ে অবশ্য তাঁর এই ভাবনাকে সাহায্য করেছে অর্জুন-অমৃতার জুটি হিসেবে স্বচ্ছন্দ বোঝাপড়া৷‌

এরপর আর গল্পকে ‘ইন্ডোর’-এ আটকে রাখতে চাননি অনিকেত৷‌ বরং তিনি চলে গেছেন রোডমুভি-র ধাঁচে৷‌ যেখানে নায়িকার ব্যাগে গয়না আর নায়কের ব্যাগে ত্রিশ লাখ টাকা পুরস্কারমূল্যের এক লটারির টিকিট৷‌ আর তাদের পেছনে বন্দুক হাতে জ্যাঠামশাই, লটারিখোর মামা (বিশ্বনাথ বসু), হেলমেটের বদলে হাঁড়িমাথায় উড়িয়া চাকর (লামা), দুই হাস্যকর পুলিস (খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক) এবং সেই চোর৷‌ আর মাঝখানে এক বাসভর্তি যাত্রার রাক্ষস! সব মিলিয়ে হাসির এক হাট৷‌ শুধু একটাই অভিযোগ, নায়ক উপগুপ্তর মতো একজন নরমসরম তরুণকে দিয়ে ওরকম অবিশ্বাস্য সব ‘অ্যাকশন’ করানোটা কি খুব জরুরি ছিল?

ছবির সূচনায় যেমন অমৃতার দৌড়ের দৃশ্য পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিনেমাফটোগ্রাফার সুপ্রিয় দত্তর দক্ষ সহযোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি মুগ্ধ করে স্বপ্নদৃশ্যে অমৃতা আর অর্জুনের গ্রামীণ দাম্পত্য ও সংসার৷‌ বোলপুরের অফুরম্ত সবুজ প্রকৃতিতে স্যাভির সুরে যে আবহ তৈরি হয়, সেখানে ধান শুকনো থেকে ঘড়া করে জল তোলা, মাছ ধরা থেকে দুধ দোওয়া কিছু করতেই বাকি রাখেনি অর্জুন, অমৃতা৷‌ তরুণ মজুমদারের স্মৃতি উসকে দিয়ে এই নতুন জুটি মন ভাল করে দেয়৷‌ শহুরে মেজাজ থেকে গ্রামের প্রেক্ষাপটেও এই নবীন জুটির স্বচ্ছন্দ সুন্দর অভিনয়, ‘জানলা দিয়ে বউ পালালো’র বড় প্রাপ্তি৷‌ অনিকেত এই নতুন জুটি উপহার দিলেন বাংলা ছবিতে, যাদের স্বাগত জানাবেন বাংলা ছবির দর্শক৷‌ সব মিলিয়ে, ‘জানলা দিয়ে বউ পালালো’ আজকের জটিল সময়ে এক নির্ভেজাল আনন্দের হাওয়া নিয়ে এল৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
sangskriti || ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited