Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৩ ভাদ্র ১৪২১ শনিবার ৩০ আগস্ট ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বি জে পি-কে রুখতে দরকার বামেদের সঙ্গে জোট: মমতা ।। মুখ্যমন্ত্রী: বাংলার প্রকল্পই দিল্লি নাম বদলে চালাচ্ছে ।। সুদীপ্তর সুদীপার খোঁজে সি বি আই--সব্যসাচী সরকার, অগ্নি পান্ডে ।। দরকারে হিমঘরের আলু বের করে বিক্রি ।। নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল--নির্যাতিতা ছাত্রীকে নিয়ে বিশ্বভারতী ছাড়লেন বাবা ।। অর্থতত্ত্বের মালিককে কলকাতায় এনে সোনা-ব্যবসায়ীদের জেরা --বরেন্দ্রকৃষ্ণ ধল ।। চলছে চূড়াম্ত প্রস্তুতি, ১ সেপ্টেম্বরের মহামিছিলের অবয়ব আরও বাড়বে! ।। পুঁজির খোঁজে শিল্পপতিদের নিয়ে আজ শুরু মোদির জাপান সফর ।। ঋতব্রতর নেতৃত্বে সুনিয়ায় বাম ছাত্র-যুব প্রতিনিধিরা ।। বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূল হারলে পুরবোর্ড থেকে সরে যাবে: মুকুল ।। সাইনার বিদায়ের দিনে উজ্জ্বল সিন্ধু ।। হকার পুনর্বাসন রিপোর্ট জমা মহানাগরিককে
পর্দা

অভিনয়ের মর্দানি রানীর

এক উড়ান এক ঝড়

নুন দিয়ে রসগোল্লা!

নতুন বাঁকে

হলিউডি বিপাশা

আবার এক গোয়েন্দা

ঋতুপর্ণার সিনেমাঘর

অভিনয়ের মর্দানি রানীর

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

শাম্তনু চক্রবর্তী




ছবি: মর্দানি

অভিনয়ে: রানী মুখার্জি, যীশু সেনগুপ্ত, তাহির রাজ ভাসিন, অনিল জর্জ৷‌

পরিচালনা: প্রদীপ সরকার

মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিনিয়র ইনস্পেক্টর শিবানী শিবাজি রায়কে আমরা প্রথম যে অ্যাকশনটায় দেখি, সেখানে তিনি শাড়ি-টাড়ি পরা ৩০ পেরনো দিব্যি একজন মধ্যবিত্ত গৃহবধূ টাইপ৷‌ কাঁধে একটা সাইডব্যাগ ঝুলিয়ে মাঝরাস্তায় হাত দেখিয়ে গাড়িতে ওঠেন৷‌ যেতে যেতে বসের সঙ্গে বসের বউয়ের পারিবারিক খিটিরমিটির নিয়ে জুনিয়র অফিসারদের সঙ্গে বেশ খানিকটা গসিপও করে নেন৷‌ তারপর বারোঘর এক উঠোন-মার্কা টিপিক্যাল মুম্বইয়া চওল-এর ৩ তলার একটা ঘরের দরজার সামনে পুরো ফোর্স নিয়ে যখন দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, তখন তিনি পুরোদস্তুর ‘পুলিসওয়ালি’৷‌ তখন তার গায়ে শাড়ি না ইউনিফর্ম সেটাও আর কারোর খেয়াল থাকবে না৷‌ ওই বন্ধ দরজার ওধারেই তাদের টার্গেট৷‌ তখন তার মাওকা-র সঙ্গে জমিয়ে রঙরলিয়া মানাচ্ছে৷‌ সাউন্ড ট্র্যাকে হালকা শীৎকারের শব্দ আর শিবানী রায়ের পুরুষ সহকর্মীটির ঠোঁটে ফিকফিক দুষ্টু হাসি৷‌ এরপর প্রেমিকাটিকে কী কায়দায় ঘরের বাইরে বার করে এনে, সদ্য মিলন সেরে ওঠা মাফিয়া রোমিওটিকে পাকড়াও করা হল, সে সব ডিটেইলেও আমরা ঢুকছি না৷‌

আমরা শুধু একটা ছোট্ট মুহূর্তের কথা বলব, মাফিয়া-বাহাদুরটিকে যখন পুলিস ধরে নিয়ে যাচ্ছে আর তাঁর গার্লফ্রেন্ডটির ঊধর্বাঙ্গে শুধু একটা অম্তর্বাস পরে হাপুস কাঁদছে, তখন ইনস্পেক্টর সাহেবই মেয়েটির গায়ে একটা কাপড় জড়িয়ে দেন৷‌ এমনিতে হিন্দি ছবির নায়ক যখন ভিলেনের হাতে ইজ্জত যেতে বসা কোনও মেয়ের বস্ত্রহরণের মাঝপর্বে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং তাকে ‘আব্রু’ দেন, তখন পর্দায় ব্যাপারটা নিয়ে বিপুল মেলোড্রামা তৈরি করা হয়৷‌

এখানে কিন্তু মেয়েটা তেমন ‘বিপন্ন’ কোনও নারী নয়৷‌ বরং তার কামরা থেকেই ধরা পড়েছে মোস্ট ওয়ান্টেড খতরনক মুজরিম৷‌ মেয়েটির সঙ্গে এমনি ব্যবহারেও শিবানী কোনও বাড়তি সহানুভূতি দেখাল না৷‌ কিন্তু চারদিকে পুরুষ পুলিস অফিসারদের ভিড়, তাদের চোখে খেলে যাওয়া হ্যাংলামো বা মজা দেখার উল্লাসের মধ্যেই ওই যে এক ‘কড়ক’ পুলিসওয়ালি চট করে মেয়েটির অসহায় লজ্জাটুকু ঢেকে দেন, সেখানে কোনও হিরো-চিত শিভালরি থাকে না! স্রেফ একটু বাড়তি মেয়েলি তাগিদ থাকে৷‌ ওই তাগিদ থেকেই পিয়ারি নামের কিশোরীটিকে তিনি ভি টি স্টেশন থেকে উদ্ধার করে একটা রেসকিউ হোমে ঠাঁই করে দিয়েছেলেন৷‌ নইলে আর একটু হলেই মেয়েটার কাকা ওকে বেচে দিত৷‌ নিজের মেয়ের মতো করেই তিনি তার দেখাশোনা করতেন৷‌ কিন্তু তারপরেও ওই হোম থেকেই মেয়েটি পাচার হয়ে যায়৷‌ যেমন করে প্রতি বছর হাজার হাজার মেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন প্রাম্ত থেকে পাচার হয়ে যায়৷‌ আর এখান থেকেই শিবানী শিবাজি রায় শুধুই একজন পুলিস অফিসার থাকেন না৷‌ নারীপাচার চক্রের বিরুদ্ধে তার লড়াইটাও শুধুই ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটা অ্যাসাইনমেন্ট থাকে না৷‌ তিনি বা বকলমে পরিচালক প্রদীপ সরকার এই জায়গা থেকেই ‘মর্দানি’ নামের ছবিটায় একটা মেয়েলি দৃষ্টিকোণ তৈরি করে নেন৷‌

শিবানী নামের পুলিস অফিসারটি যার বাড়িতে একজন শাম্ত-নির্বিবাদী ডাক্তার বর আছে, যিনি তার বাপ-মা মরা অনাথ বোনঝিটিকে মাতৃস্নেহেই মানুষ করছেন, যিনি বেশ গুছিয়ে সংসার করতে ভালবাসেন, তিনিই আবার সেই মেয়েলি মন আর পুরুষের দাপট নিয়েই রাস্তার বেফালতু হাঙ্গামা থামান, ভাড়াটে খুনির খুলি উড়িয়ে দেন, ভিলেনদের ডেরায় দুঃসাহসী ছাপ্পা মারেন৷‌ তার পেশার পুরুষপনা আর অন্দরের মেয়েলিয়ানাকে মিলিয়েই তার চরিত্রটাকে একটু একটু করে ক্লাইম্যাক্সে নিয়ে গেছেন ‘শিবানী’ রানী মুখার্জি৷‌ অবশ্য ক্রাইম ব্রাঞ্চের একজন অফিসার তার বাকি সব কাজ ছেড়ে একটা ব্যক্তিগত জেহাদের পেছনে ছুটতে পারেন কি না, এটা নিয়ে বোধহয় চিত্রনাট্যকারের একটু সংশয় ছিল৷‌ তাই ছবির শেষের দিকে ভিলেনের ডায়ালগেও এরকমই একটা প্রশ্ন রাখা হয়েছে৷‌ আমরা তবু ধরে নিতে পারি, পিয়ালী উদ্ধারের এই লড়াইটা শিবানী লড়ছেন একই সঙ্গে একটি মেয়ে, একজন মা এবং অবশ্যই একজন পুলিস ইনস্পেক্টর হিসেবে৷‌ কিন্তু সে জন্যে শেষ সিকোয়েন্সে ওভাবে ডঙ্কা বাজিয়ে, আদ্যাশক্তি মহামায়াগোছের মন্ত্রফন্ত্র শুনিয়ে, মেয়ে-পাচারকারীদের খপ্পর ধেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের প্রায় কুচকাওয়াজ করিয়ে অমন নারীজাগরণের খুব কি দরকার ছিল?

এতক্ষণে ছিপছিপে, ছিমছাম হলিউডি ঘরানার ছবিটা এখানে যেন কীরকম বলিউডি ধরনের আদিখ্যেতাটা এড়াতে পারল না৷‌

তবে পরিচালক যখন যা চেয়েছেন মর্দানি রানী তার পুরোটাই উসুল করে দিয়েছেন৷‌ শিবানীকে ঠেকাতে যখন তার ডাক্তার স্বামীর গালে মিথ্যে কলঙ্কের চুনকালি লাগিয়ে, জুতোর মালা পরিয়ে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, তখন রানীর দু-চোখে একই সঙ্গে অপমান-অসহায়তা-রাগ-কষ্ট আর বদলা নেওয়ার সঙ্কল্প অশ্রু হয়ে চিকচিক করে৷‌ আবার শেষ লগ্নে একেবারে ‘দিওয়ার’-এর অমিতাভ বচ্চন স্টাইলে অ্যাকশন সেরে, সেই একই ভঙ্গিতেও কল খুলে মুখে-মাথায় জল দেওয়ার ভঙ্গিতেও তিনি দুরম্ত নিখুঁত৷‌ আসলে এই ছবিটা তো রানী মুখার্জির জন্যে, রানী মুখার্জির পক্ষে মিস্টার রানী মুখার্জি মানে আদিত্য চোপড়া দ্বারা নির্মিত৷‌ তাই এখানে রানীর বাঙালি বরের ভূমিকায় যীশু সেনগুপ্তর বিশেষ কিছু করার থাকে না৷‌ তবে, এটাও ঘটনা, মেয়ে-পাচারকারী দলের সর্দারের ভূমিকায় নবাগত তাহির রাজ ভাসিন যদি ঠিকঠাক ঠেকা না দিতেন, তাহলে রানীর যাবতীয় মর্দানি ফিকে আর পানসে লাগত৷‌


kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited