Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ২ েবশাখ ১৪২১ বুধবার ১৬ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
‘দুবাই শেখর’ চন্দ্রর কাঁটা পরিবারতন্ত্র!--সব্যসাচী সরকার, হায়দরাবাদ ।। কাঁটায় ভরা আজ্জুর পথ--রাজীব চক্রবর্তী, সওয়াই মাধোপুর ।। বুখারির ভোট-ফতোয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া রেজ্জাকের ।। জলপাইগুড়িতে এবারও তৃণমূল পেরে উঠবে না ।। স্লোগান নয়, কটূক্তি নয় শুধু হেসে, হাত নেড়ে... ।। গোর্খাল্যান্ড পেতেই মোদিকে সমর্থন: গুরুং ।। তৃণমূল গরিব পার্টি? কোথা থেকে আসছে প্রচারের এত টাকা? বিমান ।। মালদায় আজ থেকে দ্বিতীয় দফার প্রচার শুরু মমতার ।। হালখাতা, খুঁটিপুজোয় মুখরিত বাঙালি--ঝড়ের প্রত্যাশা নিয়ে শুরু নতুন বছর ।। থাকছেন মহম্তর বাড়ি, গেলেন কাজির কাছে--বারাণসীতে কেজরিওয়াল ।। বৃহন্নলারা তৃতীয় লিঙ্গ ।। লড়াইয়ে সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কাও
আজকাল-ত্রিপুরা

স্বাগত ১৪২১

‘অকর্মণ্যতা ঢাকতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা’

বিশালগড়ে কংগ্রেস নেতা-সহ ভোটাররা জানালেন ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়েছে

সাফল্য কামনায় দেওয়া হল বারপুজো

বীরজিতের কেন্দ্রে কারা লোকসভায় ভোট দেননি?

বিশালগড়ের ওই ভোটকেন্দ্রের তদম্ত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে গেল

রাজ্য মহিলা ক্রিকেট, জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে খোয়াই দলের

খাস কল্যাণপুরে টি এস আর সরছে না জেনে রাস্তা অবরোধ প্রত্যাহার

প্রাচ্যভারতী স্কুলে রহস্যজনক চুরি

রাজ্য অনূর্ধ্ব-৯ দাবা প্রতিযোগিতা

স্বাগত ১৪২১

রাজ্যের নানা স্হানে বৈশাখী মেলা, বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আজকালের প্রতিবেদন: আপ পার্টির নেতারা শুনলে হয়ত খুশি হবেন, এবার বৈশাখী মেলায় দেদার ঝাড়ু বিক্রি হয়েছে৷‌ ফুল, শলার ঝাড়ু৷‌ এছাড়া হাতে হাতে ছিল তালপাতার পাখা আর মাটির সঞ্চয় ব্যাঙ্ক৷‌ নববর্ষের প্রথম দিনই হরেকরকম সামগ্রী নিয়ে মেলা বসেছিল শহর ও শহরতলিতে৷‌ একই ছবি গ্রাম-পাহাড়েও৷‌ কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরম দমাতে পারেনি মানুষের আনন্দকে৷‌ সূর্য ওঠার আগেই একদল লোক ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন নতুন আঙ্গিকে নতুন বছরকে বরণ করতে৷‌ ‘ওরে নতুন যুগের ভোরে’ গান গাইতে গাইতে ঘুম ভাঙালেন শ্রীপল্লীবাসীর৷‌ এরপর নবজাগরণ সঙেঘর গৃহে পাত পেতে বসে ভোজন করলেন পাম্তাভাত আর সিঁদল চাটনি ও গুরু দিয়ে৷‌ কী এক অদ্ভুত আয়োজন– বৈশাখের প্রথম দিনে৷‌ কোনও জাতপাত, ধর্ম ও বয়সের বালাই ছিল না৷‌ ছিল ভালবাসা আর আনন্দ৷‌ সন্ধ্যায় হল জাগৃতি মুক্তমঞ্চে বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷‌ প্রতি বছর নতুন বছরের প্রথম দিনটি এভাবেই উপভোগ করেন বাধারঘাটের শ্রীপল্লীর মানুষ৷‌ এর পেছনে অক্লাম্ত পরিশ্রম রয়েছে নবজাগরণ সঙেঘর কর্মীদের৷‌ এদিকে কুড়ি পুকুরপাড়ের মেলা থেকে বস্তা ভর্তি করে তুলো কিনে বাড়ি ফিরছেন বিশ্রামগঞ্জের সাধন জমাতিয়া৷‌ প্রতি বছর এই জায়গায় মেলা বসে৷‌ আগরতলা-উদয়পুর সড়কের পাশে৷‌ টিলা-লুঙ্গা-পুকুর-ধানখেত নিয়ে মেলার আয়োজন৷‌ সকাল থেকেই দূর-দূরাম্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছেন মেলায়৷‌ গ্রীষ্মের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে অপার আনন্দে৷‌ জাতি-উপজাতির মানুষ মেলার স্বাদ খোঁজে নিচ্ছেন নিজের মতো করে৷‌ কেনাকাটার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে, চুটিয়ে আড্ডা আর হরেকরকম খাবারে স্বাদ আস্বাদন৷‌ সবই ছিল প্রতিটি মেলায়৷‌ বড়জলা পঞ্চবটিতে বসেছে চড়ককে ঘিরে মেলা৷‌ সকাল থেকে রাত মানুষ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মেলায়৷‌ ছিল হরেক রকমের সামগ্রী৷‌ দা, হাতা, খুম্তি, কড়াই থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ এখন মেলায় পাওয়া যায়৷‌ গণেশ হাতে দোকানিরা৷‌ হালখাতা, মিষ্টি নিয়ে সকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁরা৷‌ পুজো সেরে বাড়ি ফেরা৷‌ দুপুরে ছিল রসালো ভূরিভোজের আয়োজন৷‌ যে যার সাধ্যমতো একত্রে বসে মজা করে খাওয়াদাওয়ার পর্বটা সারলেন৷‌ এর আগে সকাল থেকেই বড়বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাড়ার অস্হায়ী বাজারগুলোও দেদার বিক্রি করল মাছ, মাংস থেকে শুরু করে পছন্দের জিনিস৷‌ থলে হাতে লাইন ধরে বাজারগুলোতে ভিড় ছিল ক্রেতাদের৷‌ একই অবস্হা ছিল মিষ্টির দোকানেও৷‌ বিকেল হতেই আবার বেরিয়ে পড়লেন উৎসবের আনন্দে৷‌ গাঁটছড়া বাঁধন খুলে একটা দিন মুক্তমনে ঘুরে বেড়ানোর এই আনন্দ হাতছড়া করার কোনও অবকাশ ছিল না৷‌ কিছু লোক ভিড় করলেন সংস্কৃতি অঙ্গনে৷‌ আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটা, বড়শি গেঁথে ঘোরানো ইত্যাদি ছিল মেলায়৷‌ ভিড়ে-ঠাসা মেলায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি৷‌ পুলিস ছিল তৎপর৷‌ এছাড়া সন্ধের আগেই জনতা দখল নেয় শহরের রাজপথে৷‌ লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি থেকে শুরু করে জগন্নাথ মন্দির এবং জ্যাকশন গেটে ছিল উপচে-পড়া ভিড়৷‌ ট্রাফিক এবং আরক্ষা কর্মীরা ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো৷‌ ঘুরিয়ে দেওয়া হয় যান-চলাচল৷‌ মেলা থেকে মাটির তৈরি সঞ্চয় ব্যাঙ্ক নিয়ে বাড়ি ফিরছে ৫ বছরের সিদ্ধার্থ৷‌ জানাল এতে আমি টাকা রাখব৷‌ এই টাকা দিয়ে স্কুলের খরচ মেটাব৷‌ দাদুর হাত ধরে সিদ্ধার্থ এসেছিল মেলায়৷‌ অনেকেরই হাতে ছিল এই ধরনের সঞ্চয় ব্যাঙ্ক৷‌ দেখতে আপেল, আম বা কাঁঠালের মতো৷‌ আবার কিছু কিছু আছে মুদ্রার ছাপ৷‌ পথে দেখা এক ক্রেতা বলছিলেন, চিটফান্ডের প্রবণতা ঠেকাতেই মানুষ এখন নিজস্ব সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকছেন৷‌ নিঃসন্দেহে কথাটার গভীরতা অনেক অর্থবহ৷‌ শহরের তুলসীবতী স্কুলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঠায় বসে রইলেন গভীর রাত পর্যম্ত৷‌ মিশ্র সংস্কৃিতর এই রাজ্যে নানান কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটালেন অনুষ্ঠানমঞ্চে৷‌ দারুণ এক পরিবেশে মানুষ উপভোগ করলেন কাব্যলোকের এই বর্ণময় অনুষ্ঠান৷‌ এদিকে, শ্রীপল্লীর পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল ঊষাবাজার ভারতরত্ন সঙেঘ৷‌ আধুনিক ও লোকগানের এক বর্ণময় ডালি সাজিয়ে তারা দর্শক ও শ্রোতাদের মন ভরিয়ে দিল৷‌ শহর ও শহরতলি জুড়েই উৎসবের রঙ লেগেছিল৷‌ আর তার অপূর্ব বর্ণচ্ছটায় মেতে উঠলেন এ রাজ্যের শাম্তিপ্রিয় মানুষ৷‌ এ তো গেল নবর্ষের প্রথম দিন৷‌ তার আগেও চৈত্রের শেষ বেলায় গভীর রাত পর্যম্ত মানুষ উৎসব উপভোগ করেছেন অন্যভাবে৷‌ কেনাকাটায় মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন৷‌ জুতো, শাড়ি, কাপড়-সহ নানা সামগ্রী কম দামে কেনার আশায় রাত জেগেছিলেন দোকানিরা৷‌ বছরের শেষ হিসেব-নিকেশ মিলিয়ে আবার সাতসকালে বেরিয়ে পড়েছেন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে৷‌ এটাই ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির উৎসব৷‌

রাজনগর থেকে আজকাল প্রতিনিধি: কোলাকুলি, প্রণাম, মিষ্টিমুখ আর এদিক-ওদিক বেড়ানো– এসবের মধ্য দিয়েই রাজনগরেও নববর্ষের দিনটি কাটল আনন্দে৷‌ মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজনগর, বড়পাথরি, রাধানগর-সহ সমস্ত বাজারে ব্যবসায়ীরা হালখাতা পুজো করে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন৷‌ মাছ-মাংসের বাজারে সব অংশের মানুষের ভিড়ে থিকথিক ছিল৷‌ এলাকার বিধায়ক সুধন দাসকে সকালেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে৷‌ দুপুরে একপ্রস্হ ফেসবুক ঘাটাঘাটিও সারলেন বন্ধুদের সঙ্গে৷‌ রাজনগর-সহ নানা জায়গায় বাড়ির মহিলারা বিভিন্ন মন্দির আর গাছতলায় দেবতার জন্য ভোগ দিয়েছেন৷‌ ডিমাতলিতে প্রতিবারের মতো এবারও একদিনের বৈশাখী মেলা বসেছে৷‌ সীমাম্ত-ঘেঁষা মেলাস্হলে ভালই কেটেছে বলে রাঙামুড়া ফাঁড়ির ওসি সঞ্জীব শর্মা জানিয়েছেন৷‌ এদিকে, সোমবার রাতে চোত্তাখলায় চড়ক গাছ পড়ে আহত দু’জনের একজন দেবব্রত দেবনাথ আজ বাড়ি ফিরেছে৷‌ উদয়পুর হাসপাতালে অন্য আহত ছাত্রটিও ভাল আছে জানা গেছে৷‌ ফলে স্তম্ভিত চোত্তাখলার মানুষ৷‌ এদিকে, প্রত্যাশামতোই নববর্ষের দিন বিভিন্ন জায়গায় ঝগড়া হয়েছে মদপ্রেমীদের৷‌ বড়পাথরিতে মদের ক্রেতা-বিক্রেতার ঝগড়ার জেরে লক্ষ্মীপুর থেকে পুলিস দু’জনকে ধরে এনেছে৷‌ অন্যদিকে, রাধানগরে এদিন একদল মাতালের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাতে-মাথায় দায়ের কোপ লেগে আহত হয়েছেন সুধীর দে নামে এক ব্যক্তি৷‌ আহতদের পুলিস রাজনগর হাসপাতালে পাঠিয়েছে৷‌ এসব ছাড়া প্রায় নির্বিঘ্নেই নববর্ষ অতিবাহিত হয়েছে বলে জানালেন পি আর বাড়ি থানার ওসি আশিসকুমার দেব৷‌ প্রসঙ্গত, পলিব্যাগ ব্যবহার নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ পর্যম্ত প্রায় চালু হয়নি রাজ্যের বেশিরভাগ জায়গায়৷‌ রাজনগর-সহ সর্বত্রই পলিব্যাগের রমরমা৷‌ সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনে নিযুক্ত সকলেই বাজার থেকে হাতে পলিথিনের ব্যাগ ঝুলিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন৷‌ বাড়ছে পরিবেশ দূষণ৷‌ সচেতন একাংশ মানুষের কথায়– মানুষ নিজেরা এই নববর্ষ থেকে কি শপথ নিতে পারে না পলিথিন বর্জনের? আর প্রশাসনও কেন নির্বিকার?






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited