Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৩ কার্তিক ১৪২১ মঙ্গলবার ২১ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বিষ্ণুপুরে সারদার ১৫০০ বিঘে জমি--গৌতম চক্রবর্তী ।। শব্দবাজির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তৃণমূলি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ।। তৃণমূল ছাত্রপরিষদের ইউনিয়ন নিয়ে পর্যালোচনা--দীপঙ্কর নন্দী ।। যাদবপুর: আবার বিক্ষোভের মুখে অভিজিৎ--গৌতম চক্রবর্তী ।। হাতে পাওয়ার, চাপে শিবসেনা --বি জে পি ঝুলিয়ে রেখেছে ।। ২৭ অক্টোবর সুদীপ্ত ও দেবযানী ওড়িশা আদালতে--বরেন্দ্রকৃষ্ণ ধল, ভুবনেশ্বর ।। মাদ্রাসায় টাকা ঢালত কে ? তদম্তে ই ডি ।। রেলে চাকরির নামে বহু কোটির প্রতারণা! ধৃত বি জে পি নেতা ।। কলকাতা পুরসভা ও কে এম ডি এ-র সমন্বয়ে এক জানলা নীতি ।। জয়ললিতাকে রজনীকাম্তের শুভেচ্ছায় বি জে পি হতাশ? ।। বি জে পি-র নজরে এবার বাংলা-বিহার ।। কড়াকড়িতে বাজার কেড়েছে শব্দবাজিই
আজকাল-ত্রিপুরা

হুরিজলা উৎসব: জলাশয় বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা

বিশালগড়ে সি পি এমের বিশাল জমায়েতে অর্থমন্ত্রী: দোষী হলে নেতারও রেহাই নেই

বিশিষ্টদের স্মৃতিচারণে উঠে এল প্রয়াত দিলীপ সরকারের গুণাবলি

রেগা সঙ্কোচনের বিরুদ্ধে ৩০০ টাকা

চন্দ্রপুরের সোমা-কাণ্ড

এন সি সি থানার বাড়ি উদ্বোধন

রাজ্যপাল: মন্দিরকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক, সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করুন

কাল পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান শিবির

সংবর্ধিত কোচ বিশ্বেশ্বর, অর্জুন মন্টু দেবনাথও

হুরিজলা উৎসব: জলাশয় বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দীপক লোধ

শেষ হল হুরিজলা উৎসব৷‌ হুরিজলা একটি প্রাকৃতিক জলাশয়৷‌ যে জলাশয়গুলোই আজ মানুষের আক্রমণের নিশানা৷‌ অথচ মানুষেরই প্রতিদিনের প্রয়োজন ও জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই জলাশয়গুলো৷‌ কৃষি, মাছ চাষ, জল, পর্যটন ফি বছরের রুটি-রুজির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা, এমনই একটি জলাশয় হুরিজলা৷‌ কাকড়াবনের উত্তর-পূর্ব দিকে দুধ পুষ্করিণী৷‌ দরগাপাড়ার চাইন্দ্যামুড়া, গঙ্গাছড়া-ইচাছড়া ও অবশ্যই হুরিজলা প্রভৃতি গ্রামের সঙ্গে সোহাগের কোলাকুলি এই জলাভূমির৷‌ এখানেই বর্ষায় জলের ঢেউয়ের ওপর বিস্তারে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নীরব প্রেম জমে ওঠে৷‌ হাসি ফোটে চারদিকের মানুষের মুখে রোজগারের আশায়৷‌ এই জলাশয় আজ যদিও কালের কষাঘাতে অনেকটাই রুগ‍্ণ৷‌ অনুপম রূপ-মাধুর্যের এই জলাশয় ঘিরে চার বছর ধরে হচ্ছে হুরিজলা উৎসব৷‌ ১৭ অক্টোবর বিকেলে স্হানীয় ইচাছড়ার বিদ্যালয় মাঠে এই ব্যতিক্রমী উৎসবের সূচনা করেন পর্যটনমন্ত্রী রতন ভৌমিক৷‌ ছিলেন গোমতী জেলারসভাধিপতি সুনীতি সাহা, বিধায়ক মাধব সাহা, জেলাশাসক সোনাল গোয়েল ও মহকুমাশাসক অজিত দেবনাথ৷‌ জৈব-বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, পাশাপাশি কৃষি ও পর্যটনের গুরুত্ব উল্লেখ করে উদ্বোধক রতন ভৌমিক বললেন, হুরিজলা শুধু কেন, রাজ্যের সমস্ত প্রাকৃতিক জলাশয়গুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷‌ মাঠ জুড়ে দোকানপাট৷‌ ছিল সরকারি প্রদর্শনী মণ্ডপ৷‌ তিনদিনব্যাপী উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও এখানে উপস্হিত ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী রতন ভৌমিক৷‌ ১৯ অক্টোবর পর্যম্ত অনুষ্ঠানেও অতিথিদের বক্তব্যে উল্লেখ ছিল প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোকে মানুষের স্বার্থে বাঁচিয়ে রাখতে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আবেদন৷‌ তিনদিনের উৎসবের পরিস্হিতিই ছিল স্হানীয় মানুষের নজরকাড়া ভিড়৷‌

হুরিজলা উৎসব প্রসঙ্গেই উল্লেখ্য, জলাশয় বাঁচিয়ে রাখা তথা জল সংরক্ষণ এ সময় দেশব্যাপী মানুষের একটি নাগরিক দায়িত্ব হওয়া উচিত৷‌ এক অর্থে হুরিজলা উৎসব মানে জলাভূমি ও জলের উৎস বাঁচিয়ে রাখার একটি প্রতিজ্ঞা৷‌ এখানে প্রসঙ্গত, আর একটি বিষয় জল সচেতনতা দিবস পালন করা আজ রাজ্যের শুধু একটি ক্যালেন্ডার কর্মসূচি নয়৷‌ বছরব্যাপী গ্রামীণ স্তরে এবং বিদ্যালয় স্তরেও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এখানে জল সচেতনতা কর্মসূচি সংগঠিত হয়৷‌ হুরিজলা উৎসব সে অর্থে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি৷‌ কারণ, এ সময় মানুষ মাত্রেই সমধিক অবহিত যে, বিশ্ব উদ্বেগের অন্যতম বিষয় জল ও জলদূষণ! জলাভূমির ক্রমিক সঙ্কোচন ঘটছে, একটু পেছনে ফিরে তাকালে আঁতকে উঠতে হয়৷‌ এই ভারতেরই প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১ মিলিয়ন = ১০ লক্ষ)৷‌ শিশুদের জন্য নিরাপদ জল নেই! দেখা গেছে, এখনও জনসমষ্টির ৩৩ শতাংশ আজও বিপজ্জনক চিরাচরিত প্রথায় শৌচকর্ম সম্পন্ন করছে৷‌ ২১ শতাংশ রোগই এই সময় জলবাহিত৷‌ প্রতিদিন ১৫০০ মানুষ এখানে মারা যাচ্ছেন জলবাহিত রোগে৷‌ বিশ্বের ৭৮৩ মিলিয়ন মানুষের জন্য আজও বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্হা সুনিশ্চিত হয়নি৷‌ অথচ কী বিপুল জলরাশির এই নীলগ্রহ৷‌ সাধের পৃথিবী! যার মোট আয়তনের ৭৩ ভাগের ওপরেই জল! কিন্তু সুবিশাল জলরাশির মাত্র ২.৫ শতাংশই ব্যবহারযোগ্য! বাকি ৯৭.৫ শতাংশ মানুষের ব্যবহারের অযোগ্য৷‌ আবার আড়াই শতাংশ ব্যবহারযোগ্য জল মানেই তো তা নিরাপদ বা বিশুদ্ধ নয়৷‌ ব্যবহারযোগ্য জলকে নিরাপদ তথা বিশুদ্ধ পানীয় জল হিসেবে পেতে কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহারের উপযোগী করতে বিরাট ব্যয়ভার বইতে হয়৷‌

আর একটি হিসেব বলছে, পৃথিবীর যে জল মানুষের প্রয়োজনে (শিল্প কৃষি সব মিলিয়ে) লাগছে সে জল উত্তোলন কিংবা মোট উৎপাদিত শক্তির ৮ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে! অথচ মানুষ সব ভুলেই অঢেল অপচয় করছে৷‌ শিক্ষিত, অশিক্ষিত সকলেই! সচেতন ও অসচেতন দুভাবেই চলছে অপচয়৷‌ একই সঙ্গে চলছে মানুষের দ্বারাই উদ্বেগজনক দূষণের কর্মকাণ্ড. কল-কারখানায় বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ন্যূনতম পরিশোধিত না হয়ে মিশছে জলে৷‌ নদী সমুদ্র কিংবা হ্রদের জলে৷‌ এভাবে বেড়ে চলেছে দূষণ৷‌ সভ্যতার অগ্রগতির পিছু পিছু কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি বা জলদূষণের আর একটি কারণ৷‌ দূষণে দায়ী সামুদ্রিক জলাশয়ও৷‌ এভাবে বিপুল জলরাশি আজ বিষাক্ত৷‌ কৃষি, শিক্ষা ও বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের চাহিদা পূরণে টান পড়েছে ভূ-নিম্নস্হ জল ভাণ্ডারে৷‌ বে-হিসেবি জলে উত্তোলনের ফলে ভূ-নিম্নস্হ জলতল (ওয়াটার টেবিল) নামছে৷‌ বাড়ছে উদ্বেগ৷‌ যদিও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্হা হিসেবে আজ এই জলতল বাড়ানোর কারিগরি উদ্বেগ নেওয়া হচ্ছে৷‌ যাকে বিজ্ঞান প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় রিচার্জিং অফ গ্রাউন্ড ওয়াটার৷‌ আজকাল তাই ভূমির উপরিতলের জলের (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহারের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে৷‌ যত্রতত্র ভূনিম্নস্হ জল উত্তোলনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে৷‌ ‘হুরিজলা’ একটি প্রাকৃতিক জলাশয়৷‌ নিচু জমিতে জমা হওয়া প্রাণের আধার স্বরূপ৷‌ এই জলই তো প্রয়োজনে স্হানীয় মানুষের জীবন৷‌ প্রতিদিনের বাঁচা-মরা৷‌ হুরিজলার জল কাকড়াবন এলাকায় এই জলাশয় ঘিরে বসবাস করা দরিদ্র জুমিয়া কৃষক পরিবারের মানুষদের শেষ অবলম্বন-ই নয়, এ যে তাঁদের প্রাণের বন্ধু৷‌ তাই হুরিজলা উৎসব আজ নিছক একটি আনন্দ উৎসব নয়৷‌ অমূল্য জলের উৎসব৷‌ সেচতনতার উৎসব৷‌ জলাভূমি বাঁচিয়ে রাখার উৎসব৷‌ রাজ্যের জলাশয়গুলোকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উৎসব৷‌ জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার নামই হুরিজলা উৎসব৷‌ পর্যটন শিল্পের সঙ্গেও জুড়ে যেতে পারে এই হুরিজলার নাম৷‌ একদিন পর্যটকদের কাছেও বেড়ানোর স্হান হিসেবে এই জলাভূমি হবে হয়ত অন্যতম পছন্দের৷‌ নিঃসন্দেহেই জলের উৎসবের অপরিসীম গুরুত্ব বর্তমান সময়ে৷‌ বিজ্ঞানীদের অনুমান, ২০৩০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের ওপরই তীব্র জলসঙ্কটের কবলে পড়বে৷‌ এখনই তো বিশ্বব্যাপী প্রতি ৯ জনের একজনের জন্য নিরাপদ জল নেই৷‌ প্রতি বছর ৪৪৩ মিলিয়ন ছাত্রছাত্রীর বিদ্যালয়-দিবস নষ্ট হচ্ছে জলবাহিত রোগাক্রমণেই! দেখা গেছে, ৫ বছরে জনপ্রতি ৫টি বিশ্ব শিশুর একজনের মৃত্যু ঘটছে জলবাহিত রোগে৷‌ জীবনের পরশমণি জল তাই কখনও হয়ে পড়ছে মানুষেরই মৃত্যুদূত৷‌ জলই জীবন৷‌ অমূল্য সম্পদ৷‌ সভ্যতার এই মহার্ঘ্য সম্পদ নিজেদের স্বার্থেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷‌ জল ছিল বলেই তো পালাটানার সুপার থার্মাল স্টেশন পেয়েছে রাজ্য৷‌ দীর্ঘ জলপথ পাড়ি দিয়েই দৈত্যাকার টারবাইন সুদূর আমেরিকা থেকে এসেছে৷‌ আর এই পালাটনা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক ১.৫ মিলিয়ন ঘন মিটার জল লাগবে প্রতিদিন৷‌ যা মিলবে হুরিজলার অদূরে বয়ে চলা গোমতীর ধারা থেকে৷‌ জলধারাই তো সভ্যতার শোণিত ধারা৷‌ সভ্যতার গতিময়তা৷‌ ছন্দ৷‌ একে বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷‌ এই ধারা থমকে গেলে সভ্যতার অগ্রগতির ধারা ব্যাহত হবে৷‌ এই ধারাতেই লুকিয়ে আছে রাজ্যবাসীর স্বার্থ৷‌ হুরিজলা উৎসব এই রাজ্যের মানুষের পরিবেশ-ভাবনার দিকে স্বতন্ত্র রূপ৷‌ রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য পৌঁছে দেওয়া দরকার৷‌ জলসম্পদের সংরক্ষণের অমূল্য চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করতে৷‌ তবেই তো বৃক্ষের ন্যায় জলও দেবতা হিসেবে শ্রদ্ধা আদায় করবে৷‌ এই জলের মহিমা কীর্তনই তো ছিল প্রাচীন আকার গ্রম্হ ঋগ্বেদেও৷‌

–‘ইশানা বার্ষানাং ক্ষরম্তীশর্স নীনাম৷‌ অপোযাচমিভেষজম‍্৷‌’

যা কিছু মহার্ঘ্য অভিলাষিত জলই তাদের অধীশ্বর৷‌ যা কিছু প্রাণময় গতিসমৃদ্ধ, জলই তাদের ধাত্রী৷‌ সে জলের কাছে আমি ঔষধি প্রার্থনা করি৷‌ হুরি উৎসব তাই জলেরই মহিমা প্রচারের উৎসব৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited