Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৫ ভাদ্র ১৪২১ সোমবার ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
সেরা খাবড়া, দ্বিতীয় দীপক--অহেতুক ফাতাই-নির্ভরতা ।। হ্যাটট্রিক নিয়ে ভাবেননি, দাবি রন্টির--অগ্নি পান্ডে ।। সুভাষ: ওটা ধনচন্দ্রর বুট বাঁধার সময়?--নজরুল ইসলাম ।। কোচ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হারলেই চলে যাবেন--মেহতাব হোসেন ।। তৃণমূলের সঙ্গে কোনও কথা নয়, দেখা হবে ময়দানেই: বুদ্ধদেব ।। সারদা-কাণ্ডের তদম্ত দ্রুত শেষ করুক সি বি আই: অসীম ।। সূর্যকাম্ত: মমতার সঙ্গে জোটের প্রশ্নই ওঠে না! ।। হিমঘর তৈরির নামে ৩০০ কোটি হাতান সুদীপ্ত সেন ।। ৩ দিনের ধর্মঘট থেকে পিছু হটলেন আলু ব্যবসায়ীরা ।। প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা আরও বাড়াতে রাজি মোদি, অ্যাবে ।। আজ ১৫ বাম দলের মহামিছিল ।। বাগনানে তৃণমূলের গোষ্ঠীসঙঘর্ষ, জখম ১৪
আজকাল-ত্রিপুরা

দুইখান কথা

পৃথক রাজ্যের উসকানি সন্ত্রাসবাদীদের স্বার্থে জিজ্ঞাসা মুখ্যমন্ত্রীর: মিজোরাম, নাগাল্যান্ডের উপজাতিরা ত্রিপুরার চেয়ে পিছিয়ে কেন?

শহিদ-স্মরণ, সব পথ যেন বাগানবাজারে

ডিমাতলিতে গ্রাম্য সালিশি সভায় মারের চোটে অম্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪, কঠোর সি পি এম

মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিবের বই কেনার মনগড়া নির্দেশ দেওয়ায় সাসপেন্ড উপ-অধিকর্তা

কাঞ্চনপুরে সমবায়মন্ত্রী: সুদিন আসছে, কোথায় সুদিন?

রবিবার শহরে দুই শিবিরে রক্ত দিলেন ৭১ জন

ভেস্তে গেল সব উস্কানি

বিদ্যালয়-শিক্ষা নিয়ে বৈঠক

কৈলাসহর বিমানবন্দর সম্প্রসারণ: রাজ্য সরকারের কাছে প্রোজে’ রিপোর্ট পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন

দুইখান কথা

শাম্তিমিছিল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

চিম্তা শীল

– কই হে চিম্তা৷‌ দাড়িটা, আর পারি না৷‌ একটু ক্ষুর টানিয়া দাও৷‌ কাল তো আবার ১ সেপ্টেম্বর৷‌ সারা রাজ্যেই নাকি যুদ্ধবিরোধী শাম্তিমিছিল৷‌ বিপুল তোড়জোড় রাজধানীতেও৷‌ তোমার সেলুন বাপু খোলা থাকিবে কি না কে জানে! তাই আজ রবিবারেই...৷‌ বলিতে বলিতে দাস-দা সেলুনে ঢুকিয়া বসিলেন৷‌

চিম্তা কিছু বলিবার আগেই খেঁকাইয়া উঠিলেন ছিনাথবাবু৷‌ পাড়ার সদ্য হস্ত-ত্যাগী পদ্ম-নেতা৷‌ কহিলেন, শাম্তিমিছিল না ঘোড়ার ডিম! আর কাম নাই৷‌ শুনো চিম্তা, তোমার জন্য অন্ন চিম্তাই চমৎকার! ওই সব শাম্তি-ফাম্তির পিছনে ছুটিও না৷‌ রাজ্যে এত সমস্যা, বধূ নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, ম্যালেরিয়া, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি, চাকরি-কেলেঙ্কারি– এই সব লইয়া কোনও কথা নাই! কোথায় কোন গাজায় যুদ্ধ, তাহার বিরুদ্ধে ত্রিপুরায় শাম্তিমিছিল৷‌ গাঁজাখুরি কাণ্ড আর কাহাকে বলে!

সকলে চুপ৷‌ ছিনাথবাবুর মুখে যুদ্ধজয়ের খুশি৷‌ কিন্তু উহা স্হায়ী হইল না৷‌ পত্রিকার আড়াল সরাইয়া ব্যানার্জিবাবুর চশমা-চেহারা মিটিমিটি হাসিতেছিল৷‌ কহিলেন, বাক্যগুলি কোথা হইতে ধার করিলেন ছিনাথবাবু? রাজ্যের সমস্যাবলি লইয়া আপনার মন যে এত উচাটন, জানা ছিল না৷‌ তা বেশ বেশ! সমস্যা খুবই সত্য৷‌ কেবল আপনার ওই ‘কোনও কথা নাই’ কথাগুলি অসত্য৷‌ বধূ নির্যাতন, ধর্ষণ, বধূহত্যার বিরুদ্ধে যাঁহারা পথেঘাটে, থানায় বিক্ষোভ ডেপুটেশনে প্রতিদিন সরব, তাঁহারাই তো সোমবার শাম্তিমিছিলেও সরব হইবেন৷‌ ম্যালেরিয়া মোকাবিলা যাঁহারা করিলেন, দুর্গত অঞ্চলে ওষুধ, মশারি, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাইলেন, তাঁহারাই তো যুদ্ধের বিরুদ্ধে পথে হাঁটিবেন৷‌ মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদেও তো তাঁহারাই৷‌ আর চাকরি-কেলেঙ্কারি? হাইকোর্টের রায়েও শিক্ষকদের চাকুরিতে কোনও দুর্নীতি বা কেলেঙ্কারি হইয়াছে– এই কথা একবারও বলা নাই! হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের নিডি-সিনিয়রিটিভিত্তিক এত কালের নিয়োগ নীতি এবং ১০,৩২৩টি শিক্ষকের চাকুরি বাতিলের আদেশ দিয়াছেন সত্য৷‌ সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হইয়াছে৷‌ ১২ সেপ্টেম্বর শুনানি৷‌ ‘কেলেঙ্কারি’ কোথায় পাইলেন? ত্রিপুরার মতন কম দুর্নীতির রাজ্য দেশে আর কোথায় আছে দাদা? এমনকী মুখ্যমন্ত্রী আর মুখ্য সচিবের লেখা বই কিনিবার একটি অননুমোদিত আদেশ পত্রপাঠ বাতিল করিয়া আদেশদাত্রী ডেপুটি ডিরেক্টরকে পর্যম্ত সাসপেন্ড করা হইয়াছে! বিশালগড়ের গ্রামে মিড-ডে মিলের বিষক্রিয়ায় কিছু শিশুর অসুস্হ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করিতেও দেরি হয় নাই! এমন দৃষ্টাম্ত বোধকরি দেশে বেশি নাই৷‌

ছিনাথবাবু, রাজ্যের এবং দেশের এই সব সমস্যা লইয়া আপনারা, বাম-বিরোধীরা কী করিতেছেন? হঠাৎ কিছু লম্ফঝম্প করিয়া অরাজকতা-অশাম্তি সৃষ্টির পর ফুস করিয়া ফুরাইয়া যাওয়াই আপনাদের প্র্যাকটিস! সারা দেশেই নারী নির্যাতন, বধূহত্যা, ধর্ষণ কেন বাড়িতেছে, সমস্যার শিকড় কোথায়– এই বিষয়ে আপনারা যে বড়ই নীরব! কেননা, আত্মস্বার্থপর লোভবাদ আর ভোগসর্বস্ব জীবনধারণের স্রষ্টা পুঁজিবাদের বীভৎস চেহারা আপনারা সযতনে আড়াল করিতে চান৷‌ সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের আর্থিক প্রবঞ্চনা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের সুচতুর আয়োজনকে কিছু উচ্ছিষ্টের লোভে আপনারা প্রবলভাবে উৎসাহ দিতে চান!

ছিনাথবাবু বড় উসখুস করিতেছিলেন৷‌ কহিলেন, কিন্তু গাজাতে যুদ্ধ আর ত্রিপুরায় শাম্তিমিছিল, ইহা কি হাস্যকর নহে? মস্কোতে বৃষ্টি হইলে আগরতলায় ছাতা মেলিবার পুরানো অভ্যাস বামেরা ছাড়িতে পারে নাই! হেঁ হেঁ হেঁ! ব্যানার্জিবাবু ততোধিক শাম্ত স্বরে কহিলেন, হ্যাঁ ছিনাথবাবু, ইহাই তো দুর্ভাগ্য৷‌ এখনও আপনার মতো অনেকেই কুয়ার বাহিরে আসিতে পারেন না৷‌ কুয়ার ওপরের খণ্ডিত আকাশের বাহিরে কিছু দেখেন না৷‌ আন্ধার রাতে ওই খণ্ডিত আকাশে দৃশ্যমান গুটিকয় তারা গুনিয়াই ক্ষাম্ত থাকেন৷‌ অসীম মহাবিশ্ব চিনিবার দায় আপনাদের নাই৷‌ কিন্তু দাদা, দেশে দেশে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের চক্ষু-রাঙানো দাদাগিরি, রাষ্ট্রসঙঘকে কাঁচকলা দেখাইয়া একের পর এক রাষ্ট্রে সামরিক আগ্রাসন, হাজারে হাজারে নারী শিশু বৃদ্ধ-সহ নির্বিচারে নিরীহ মানুষ হত্যা, মার্কিন স্বার্থের বিশ্বস্ত রক্ষক না হইলেই জননির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানদের গায়ের জোরে উৎখাত এবং হত্যা করা– এই বর্বরতা তো পৃথিবীর শাম্তিকামী মানুষ চিরদিন মানিতে পারেন না৷‌ তাই দেশে দেশে জাত ধর্ম বর্ণ দলমত নির্বিশেষে মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে পথে নামিতেছেন৷‌ ফিলিস্তিনি গাজা ভূখণ্ডে ইজরায়েলের বকলমে আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদই যে গণহত্যা চালাইতেছে ইহা সকলেই জানে৷‌ ইশ‍্কুল, হাসপাতাল, গির্জা, শিশু-আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম বোমায় মাটিতে মিশাইয়া দিতেছে৷‌ দুনিয়ার বুকে মানুষ পরিচয়ে বাঁচিয়া থাকিব, আর এই অমানবিক নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করিব না?

ছিনাথবাবু শেষ রক্ষার চেষ্টায় কহিলেন, বুঝিলাম৷‌ কিন্তু নারী ধর্ষণ, বধূহত্যার...! ব্যানার্জিবাবু কহিলেন, দাদা, কুয়া হইতে একবার উঠিয়া আসেন৷‌ এই নারী ধর্ষণ, বধূহত্যা, নারীকে বেচাকেনার পণ্য জ্ঞান করা, এই মূল্যবৃদ্ধি, বেকারদের কর্মহীনতা, দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার– এই সমস্ত পাপাচারের পিছনেও রহিয়াছে সুপরিকল্পিত ইন্ধন৷‌ কেবল একটি রাজ্যে নয়, একটি দেশে নয়– এই সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের জাল ছড়ানো বিশ্ব জুড়িয়া৷‌ দাদা, সাম্রাজ্যবাদী সামরিক-আর্থিক-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আগ্রাসন একই সূত্রে বাঁধা, দুনিয়া লুন্ঠনের একই লক্ষ্যে পরিচালিত৷‌ তাই যুদ্ধের বিরুদ্ধে শাম্তির মিছিল, বিভেদ-সাম্প্রদায়িকতা আর দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, বেসরকারীকরণ, ছাঁটাই, নারীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে মিছিল– আসলে একই অভিমুখে মানুষের একতাবদ্ধ সচেতন অভিযাত্রা৷‌

ছিনাথবাবু, আপনার দোষ নাই৷‌ সুশীল বুদ্ধিজীবীদের একাংশের গায়েও ‘সাম্রাজ্যবাদ’ শব্দটি শুনিতেই ফোসকা পড়ে৷‌ ঠোঁটে বক্র হাসি খেলিয়া যায়...৷‌ ব্যানার্জিবাবু আরও কী কী কহিতেছিলেন, কানে আসিল না৷‌ চিম্তা-র মনে পড়িল বাল্যকালে দেখা একটি দৃশ্য৷‌ খেতের ফসল খাইতেছে গরু৷‌ খেতের মালিক চিৎকার করিতেছেন– গরু কাহার? গরু কাহার? কোনও সাড়া নাই! এক বৃদ্ধ চাষী কহিলেন, বাপ তুলিয়া গালি দাও৷‌ গরু-মালিকের গায়ে ফোসকা পড়িবে! চিনা যাইবে! হেথায়ও কি তাই? ...ভাবিতে ভাবিতে দাস-দা’র দাড়ি কাটিতে লাগিলাম৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited