Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৩ কার্তিক ১৪২১ শুক্রবার ৩১ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
গঙ্গাসাগরকে ঘিরে শিল্প ও পর্যটনকেন্দ্র--তারিক হাসান, গঙ্গাসাগর ।। ৫০০ কোটির সম্পত্তির নথি, দুই ক্লাবের সাড়ে ৬ কোটি--সব্যসাচী সরকার ।। যাদবপুরে গণভোট , সুর নামল উপাচার্যের ।। মিডিয়াকে অভিষেক, বাজে কথা বললেই দল থেকে বহিষ্কার ।। ক্ষমা চেয়ে চিঠি মমতাকে, মিছিল আরাবুল পম্হীদের--গৌতম চক্রবর্তী ।। সদিচ্ছা থাকলে সর্বদল বৈঠক ডাকুক রাজ্য--কেন্দ্র-রাজ্য দুই শাসকই দায়িত্বজ্ঞানহীন: সূর্য ।। না, কোনও কংগ্রেসি কালো টাকার লিস্টে নেই! ।। সুদীপ্তর কটকে ৫০ লাখের বাংলো! ।। বি জে পি সংসদীয় দলের সঙ্গে পুলিসের ধস্তাধস্তি, গ্রেপ্তার ।। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জরিপে যেতেই তুমুল বিক্ষোভ ।। আজ মহাষ্টমীতে চন্দননগরে মমতা ।। দেবেন্দ্রর শপথ আজ
আজকাল-ত্রিপুরা

ভারতের মঙ্গলযানের পাঠানো ছবিই বলছে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল বা আছে: ড. দোয়ারি

৪ কোটি শিশুশ্রমিক: বছরে ১ কোটি মরছে অসুখে!

বিজয় মার্চেন্ট: বাবুলের দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিং

মীনাক্ষী, হরিভূষণ, অজয় স্মরণ অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ বিশিষ্টদের

অনূর্ধ্ব ১৯: আশঙ্কা নিলোফার নিয়ে সৌরাষ্ট্রে পৌঁছে অনুশীলনে নেমে পড়ল ত্রিপুরা

কসবার ‘কুমিল্লা ভিউ’ লজের আয় এখন অর্ধেক: টাকা জমা পড়ছে না?

রাজ্য জুডো শুরু কাল উদ্বোধন করবেন ক্রীড়ামন্ত্রী

বিদ্যুৎ বর্ধন প্রয়াত: শোক

জম্পুইয়ে বেহাল রাস্তা: নির্মাণ সংস্হার বিরুদ্ধে যুব বিক্ষোভ

প্রতিবন্ধী সাঁতারুদের হাতে জার্সি তুলে দেন ক্রীড়ামন্ত্রী

ভারতের মঙ্গলযানের পাঠানো ছবিই বলছে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল বা আছে: ড. দোয়ারি

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আজকালের প্রতিবেদন: ভারতের মঙ্গলগ্রহ অভিযান গোটা বিশ্বের মহাকাশ গবেষণার জগতেই একটি বিস্ময়৷‌ এত কম সময়ে, এত কম খরচে প্রথম অভিযানেই সফল, ভারতের মতো বিশ্বের কোনও দেশই তা পারেনি৷‌ অথচ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০১২ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন ড. মনমোহন সিং যখন প্রথম ঘোষণা করলেন, ভারত মঙ্গলগ্রহে যান পাঠাবে৷‌ ইসরোর বিজ্ঞানীরা তখনও কিছু করে উঠতে পারেননি৷‌ মাত্র দেড় বছরের প্রচেষ্টায় ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলের কক্ষপথে মঙ্গলযানকে সফলভাবে প্রতিস্হাপন করে ভারত গোটা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শুধু নয়, এই সাফল্য ভারতকে সমস্ত ভেদাভেদ, রাজনীতির দলাদলি থেকে অম্তত ওই দিন আমাদের এক সূত্রে বেঁধে দিয়েছে৷‌ ভারতবাসী হিসাবে প্রত্যেকের এই সাফল্যের জন্য গর্ব করা উচিত৷‌ বলছিলেন ড. দেবীপ্রসাদ দোয়ারি৷‌ জনপ্রিয় বিজ্ঞান-বিষয়ক আলোচক৷‌ কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের মহাকাশ পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান ও অধিকর্তা, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার সঙ্গে যুক্ত ও বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. দোয়ারি বৃহস্পতিবার আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে ভারতের মঙ্গল অভিযানের ওপর এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন৷‌ রাজ্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি পরিবেশ পরিষদ আয়োজিত এই আলোচনাসভায় শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্হিত ছিল৷‌ জায়ান্ট স্ক্রিনে ভিডিও প্রোজেকশনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ড. দোয়ারি৷‌ প্রায় দেড় ঘণ্টার এই আলোচনায় হল-ভর্তি সবাই কান পেতে সব শোনেন৷‌ গড়গড় করে বলে যাচ্ছিলেন ড. দোয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরদিন চীনের সরকারি সংবাদসংস্হা জিন হুয়ায় ভারতের মঙ্গল অভিযান নিয়ে খবর বেরুল, ভারত মহাকাশ গবেষণাকে জোকারির মতো ভাবছে৷‌ দেড় বছরেই নাকি মঙ্গলে যান পাঠাবে, তা-ও কম খরচে৷‌ চ্যালেঞ্জ ছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের কাছে৷‌ কারণ, বিশ্বের (আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন) যে ক’টি দেশ এই মঙ্গলে অভিযান চালিয়েছে, তারা কেউ এমন পদ্ধতি নেয়নি৷‌ যা ইসরো নিয়েছে৷‌ অর্থাৎ, অনেকটা সুতোর মাথায় ঢিল বেঁধে আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে ছুঁড়ে ফেলার মতো৷‌ সেই ঢিলটা যেমন ঘুরতে ঘুরতে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে, ঠিক তেমনি মঙ্গলযানকে প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথে পাক খাইয়ে মঙ্গলের কক্ষপথে ছুঁড়ে ফেলার মতো৷‌ ‘ফ্লিংসট এফে’’৷‌ জ্বালানির প্রয়োজন খুব কম৷‌ মূলত সূর্যের অভিকর্ষ থেকে শক্তি নিয়েই ছুটে চলবে মঙ্গলযান মঙ্গলের দিকে৷‌ কোটি কোটি মাইল পাড়ি দেবে৷‌ এত দূর, যেখান থেকে রেডিও সিগনাল পৃথিবীতে পৌঁছতেই সময় নেয় ২০ মিনিট৷‌ পৃথিবী থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণ করাও অতি কঠিন কাজ৷‌ জটিল গণিত ও অসম্ভব মেধাশক্তিই এই অভিযানকে সফল করে তুলেছে৷‌ ২০১৩-র ৫ নভেম্বর শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস ফাউন্ডেশন থেকে ভারতের তৈরি পি এস এল ভি চড়ে পাড়ি দিল মঙ্গলযান৷‌ পরদিন জিন হুয়া লিখল, ভারত আম্তর্মহাদেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণে সফল, তাই সাবধান! ওই বছরই ১ ডিসেম্বর মঙ্গলযান পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে পাড়ি দিল মঙ্গলের কক্ষপথের দিকে৷‌ ৩০০ দিন পর মঙ্গলের কক্ষপথে ২৪ সেপ্টেম্বর সফলভাবে প্রতিস্হাপিত হল মঙ্গলযান৷‌ শুধু কঠিন নয়, খুব জটিল এই যাত্রাপথ৷‌ প্রতি মুহূর্তে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা৷‌ পদে পদে বাধা, সৌর বিকিরণের আঘাতের ভয়ই শুধু নয়, মঙ্গলের কক্ষপথ ছোঁয়ার জন্য পৃথিবী, সূর্য ও মঙ্গল যখন খুব কাছে আসে, সেই সময়টা আসে মাত্র দু’বছরে একবার৷‌ তাই সামান্য ভুলচুক হলে নিকটের সেই কক্ষপথ ছোঁয়াও সম্ভব হত না৷‌ ইসরোর বিজ্ঞানীরা তাই হিসাবনিকেশ করেই যাত্রাপথের সময়সূচি ঠিক করে নিয়েছিলেন৷‌ তা না হলে ২ বছর অপেক্ষা করতে হত৷‌ যা-ই হোক, ভারতের এই সফলতার পর জিন হুয়া পরদিন লিখল, মহাকাশ গবেষণায় চিন ভারতের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী৷‌ ভারতের মতো একটি গরিব দেশ, যে দেশে ৩২ কোটি লোক এখনও দু’বেলা পেট পুরে খেতে পায় না, সেখানে এই অভিযান কেন? মঙ্গল অভিযানের পরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বক্তৃতা দিয়ে বেড়িয়েছেন ড. দোয়ারি৷‌ বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে এই প্রশ্ন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে৷‌ নিজেই বললেন, ভারতের মহাকাশ নিয়ে গবেষণা, আগ্রহ এবং বিশ্বে ভারতের মর্যাদা স্হাপন ছিল অন্যতম লক্ষ্য৷‌ কারণ, ভারতের চন্দ্র অভিযানের পরেও একই প্রশ্ন উঁকি দিয়েছিল৷‌ নীল আর্মস্ট্রং, কলিনসদের চন্দ্রবিজয়ের প্রায় ৫০ বছর পর চন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ভারত, চন্দ্রপৃষ্ঠের যে স্হান পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, সেখানে প্রচুর জল থাকার প্রমাণ আবিষ্কার করল৷‌ মঙ্গলগ্রহ থেকে পাঠানো ছবি থেকেও এবং অন্যান্য উপাদন থেকে পাওয়া তথ্য বলে দিচ্ছে, মঙ্গলেও জলের অস্তিত্ব ছিল বা আছে৷‌ আর জল মানেই জীবন৷‌ জল থাকা মানেও জীবনেরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা৷‌ ড. দোয়ারি এ প্রসঙ্গে মঙ্গলের কিছু দুষ্প্রাপ্য ও গোপন ছবি দেখিয়ে বলেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে জলধারা বয়ে যাওয়ার প্রমাণ দেখা যাচ্ছে৷‌ গরমের সময় সেই জমির আকার কেমন এবং ঠান্ডার সময় সেই একই জমির আকৃতি, রঙ কীরকম, তার একটি তফাতও বোঝানোর চেষ্টা করেন ড. দোয়ারি৷‌ মঙ্গলে পাওয়া সামান্য মিথেন গ্যাসের উপস্হিতিও জানান দেয়, পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও প্রাণ ছিল বা সূক্ষ্মদেহী প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে৷‌ শুধু কি তাই– ১৯৬৮ সালে অ্যান্টার্কটিকায় বরফের চাদরের ওপর পাওয়া প্রস্তরখণ্ড পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, এই প্রস্তরখণ্ড মঙ্গল থেকে ছিটকে আসা৷‌ এই প্রস্তরখণ্ড পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, প্রাণের প্রথম উপাদান, অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রচুর নমুনা রয়েছে এতে৷‌ পৃথিবীতে ২০ রকম অ্যামাইনো অ্যাসিডের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে৷‌ কিন্তু মঙ্গলের ওই প্রস্তরখণ্ডে ৯৭ রকম অ্যামাইনো অ্যাসিড! আশ্চর্য৷‌ ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এ সব তথ্যই জানতে চান, বিশ্ববাসীকে জানাতে চান৷‌ জানতে চান, প্রায় যমজ গ্রহ পৃথিবী ও মঙ্গল৷‌ পৃথিবী এখনও সুজলা, সুফলা৷‌ মঙ্গলের এমন অবস্হা কেন? পৃথিবীর এই সুজলা-সুফলার অন্যতম কারণ, নিজ কক্ষপথে পৃথিবীর সাড়ে ২৩ ডিগ্রি হেলে থাকা৷‌ যার জন্য আবহাওয়ার এত পরিবর্তন৷‌ সমুদ্র তলদেশে জলস্রোত৷‌ তার প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে বাহ প্রবাহ৷‌ প্রাণের বিকাশ৷‌ মঙ্গলও নিজ কক্ষপথে ২৪ ডিগ্রির মতো হেলে৷‌ সেখানে ধূলিঝড় আছে, বিশাল আগ্নেয়গিরি আছে, গভীর খাদ রয়েছে, প্রাণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? এ সব প্রশ্নই এখন বিজ্ঞানীরা জানতে চান৷‌ ড. দোয়ারি বলেন, বিজ্ঞানচর্চার জন্য মহাকাশই হল এখন গবেষণাক্ষেত্র৷‌ মহাকাশ নিয়েই সব চর্চা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে৷‌ সূর্যই সব শক্তির উৎস৷‌ তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সূর্য, চাঁদ, গ্রহ ইত্যাদি নিয়ে তাদের আগ্রহ বাড়াক৷‌ শুধু মোবাইল, ইন্টারনেট, সিনেমা, এস এম এস, এম এম এস বা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে সময় কাটালেই হবে না, রাতের আকাশটাকেও একটু দেখুক৷‌ ড. দেবীপ্রসাদ দোয়ারি নতুন একটি তথ্য জানান, যাতে রাশিচক্র নিয়ে জ্যোতিষীদের জারিজুরি ম্লান হবে বলেই মনে হয়৷‌ ড. দোয়ারি জানালেন, প্রাচীনকাল থেকে আমরা জানি বছরে রাশিচক্র ১২টি৷‌ যেমন, বৃষ রাশি, কর্কট রাশি, মিথুন রাশি, বৃশ্চিক রাশি ইত্যাদি৷‌ কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নতুন একটি রাশি আবিষ্কার করেছেন৷‌ বছরে ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে এই রাশির অবস্হান৷‌ যার নাম দেওয়া হয়েছে সর্পধারী রাশি, গ্রিক ভাষায় অথিউকাস৷‌ তার মানে রাশি ১২টি নয় ১৩টি! ডিসেম্বরের ১ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে যাদের জন্ম, তাদের ওই সর্পধারী বা অথিউকাস রাশি হওয়ার কথা৷‌ জ্যোতিষশাস্ত্রে তার কী কোনও উল্লেখ আছে? প্রশ্ন ড. দোয়ারির৷‌ বলেন, এই রাশিচক্র রাতের অন্ধকারে দিক নির্ণয়ে যুগ যুগ ধরে নাবিক, পথভ্রষ্টদের সাহায্য করে আসছে৷‌ তাই রাশিচক্র জেনে রাখা ভাল৷‌ ছাত্র-ছাত্রী তোমরাও জেনে রাখবে৷‌ প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে ক’দিনের জন্য আমাকে বেঙ্গালুরু যেতে হয় ভারতীয় সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যে-সব তরুণ নতুন যোগ দেন তাঁদের ওই রাশিচক্র সম্বন্ধে ক্লাস নিতে৷‌ ভিডিও প্রোজেকশনে ইসরোর কিছু গোপন ও দুর্লভ ছবিও দেখান ড. দোয়ারি৷‌ আলোচনা শেষে বিজ্ঞান প্রযুক্তি পর্ষদের পক্ষ থেকে পুরপরিষদের ডেপুটি মেয়র সমর চক্রবর্তী ড. দোয়ারির হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited