Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৭ মাঘ ১৪২১ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  রবিবাসর   আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
জেলে গেলে ভাল, লেখালেখি করতে পারব: মমতা--দীপঙ্কর নন্দী ।। সারদা-কাণ্ডে এবার গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাতঙ্গ--সোমনাথ মণ্ডল ।। দল ছাড়ছি না, সোমবার দিল্লি যাব: মুকুল ।। সারদা-কাণ্ডে মুকুল হবেন রাজসাক্ষী: রাহুল ।। চোরদের বেতন দিয়ে, বাড়িতে রেখে চুরির ভাগ দিত মুকেশ ।। জলপথে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে তৈরি উপকূলরক্ষী বাহিনী ।। ভেলোরে চামড়া কারখানায় বর্জ্যের ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে মৃত্যু মেদিনীপুরের ৯ শ্রমিকের ।। বারবেলায় পড়ুয়ার ঢেউ--সমীরকুমার ঘোষ ।। বন্ধ চিটফান্ড অফিসে বি জে পি কার্যালয়, ধর্না-বিক্ষোভে তৃণমূল ।। তৃণমূল গাড্ডায়, তাই বি জে পি-র বাড়বাড়ম্ত: গৌতম ।। আজ ঘিসিংয়ের শেষকৃত্য ।। অন্ধকারে খালেদা
আজকাল-ত্রিপুরা

হারাবার নির্ভয়ে থাকি

সি পি এমের গোমতী জেলা সম্মেলন শুরু

ঊনকোটির স্বচ্ছতায় সংখ্যালঘু ৩৬ ছাত্রী

দক্ষিণ সফরে গিয়ে দলীয় বয়কটের মুখে বীরজিৎ

অসুখে কুসংস্কার নয়, আধুনিক চিকিৎসার সাহায্য দরকার

শতরানের সঙ্গে প্রথম ব্যক্তিগত ৫০০ পার

রনজি ট্রফি: বিশালের শতরান, ঋষির ৭ উইকেট

চার্জশিট দুর্বল: বর্ধমান ফার্মা প্রসঙ্গে ফের সরব কংগ্রেস

সি পি এমের প্রথম খোয়াই জেলা সম্মেলন শুরু আজ, ব্যাপক প্রস্তুতি

ত্রাণ সাহায্য পাঠানোয় তপনের সঙ্গে দেখা করে ত্রিপুরাকে কৃতজ্ঞতা উত্তরাখণ্ড শিক্ষামন্ত্রীর

হারাবার নির্ভয়ে থাকি

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

(১ ফেব্রুয়ারি কবি বুধুদাস পানিকার প্রয়াণ দিবস৷‌ এই উপলক্ষে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নিবন্ধ লিখেছেন দিলীপ দাস.)

জীবনের উজ্জ্বল অভিজ্ঞতা একদিন একজন মানুষকে কবি করে তুলেছিল৷‌ এক সর্বহারা মানুষ একদিন উচ্চারণ করেছিলেন এমন এক পঙ‍্ক্তি, যা এ যুগের যুগাম্তকারী অনুভবকে অবলীলায় ধারণ করেছিল৷‌ ১৮৪৮ সালে কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোতে মার্কস-এঙ্গেলস লিখেছিলেন, ‘সর্বহারার শৃঙ্খল ছাড়া হারাবার কিছু নাই৷‌’ এর প্রায় দেড়শো বছর পর এক দিনমজুর কবি পুনরায় উচ্চারণ করলেন সেই অনন্য পঙ‍্ক্তি– ‘অন্ন বস্ত্র ছাড়া আমি সর্বহারা৷‌হারাবার নির্ভয়ে থাকি৷‌’ ব্যক্তিগত অনুভবকে জারিত করে এই কবি ১৮৪৮ সালের উক্তিকে আরও এগিয়ে দিয়ে লিখলেন– ‘হারাবার নির্ভয়ে থাকি’৷‌ অর্থাৎ কোনও কিছুই হারাবার জন্য আমি পিছপা নই৷‌ কারণ জয় করার জন্য রয়েছে সারা পৃথিবী৷‌

শোষণ-বঞ্চনা এবং বৈষম্যে যে মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তার তো কোনও কিছুতেই আর ভয় নেই! রবীন্দ্রনাথ বলতে পারেন– ‘জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণা ধারায় এসো৷‌’ এই কবির তো সেই সাম্ত্বনাও নেই৷‌ তাঁর জন্য কে নিয়ে আসবে সেই করুণাধারা? বিবেকানন্দের মতো তিনিও তো বিশ্বাস করেন, ‘যে ঈশ্বরের ভাত দেবার ক্ষমতা নেই, সেই ঈশ্বরের কাছে নতজানু হয়ে কী লাভ!’ তাই সাহসী কবি ভয়হীনতাকেই জীবনের সঙ্গী করে নিয়েছেন৷‌

নিজের চেষ্টায় সামান্য লেখাপড়া শিখে এই কবি বুধুদাস পানিকা, জীবনের অভিজ্ঞতায় কী দুর্ধর্ষ পঙ‍্ক্তি রচনা করেছেন, তা হয়ত তিনিও জানেন না৷‌ অথবা জানলেও হয়ত একে পোস্টার করার মতো বাণিজ্যবুদ্ধি তিনি অবলম্বন করেননি৷‌ অথবা, করতে ঘৃণাবোধ করতেন৷‌

বুধুদাস পানিকার সেই গান যা আমাদের চমকিত করেছিল, ‘আর কত সইব জ্বালা সয় না লো ঝিঙ্গাফুল’– এই একটি গীতিকবিতাই তো তাঁর জাত চিনিয়ে দেয়৷‌ সর্বহারা মানুষের কথা লিখছেন, কিন্তু কী কাব্যগুণে মহিমান্বিত! চা-বাগানের এক কুলি-কামিন তার দুঃখ ও ফরিয়াদ কাকে জানাচ্ছে? না, একটি জিঙ্গাফুলকে৷‌ এই জিঙ্গাফুল তার ‘সই’ হতে পারে, অথবা বিকেলের হলুদ ফুলটিও হতে পারে৷‌ এখানে আমাদের চমকিত করে গানটির কাব্যগুণ৷‌ এক দরিদ্র ও দুখী মানুষের মনঃকষ্ট ও বঞ্চনাকেও যে কত দরদি অক্ষরে প্রকাশ করা যায়, এই গানই সে-কথা বারবার মনে করায়৷‌

স্বাধীনতা নিয়ে বাংলাভাষায় কবিতা তো কম লেখা হয়নি৷‌ এখনই মনে পড়ছে ননীগোপাল চক্রবর্তীর ‘স্বাধীনতা কিতা’, জয়া গোয়ালার ‘বকোয়াস’, বুধুদাসও লিখেছেন স্বাধীনতা নিয়ে৷‌ স্বাধীনতাকে তিনি প্রশ্ন করছেন–

‘মুখ খুলে কেউ পারে না বলিতে

নিজের মনের ব্যথা

মানুষেরা আজ হয় নিপীড়িত

পশুদের উঁচু মাথা৷‌

এই কি স্বাধীনতা?’

১৯৮৮ সালের ১৫ আগস্ট লেখা এই কবিতা গোটা ভারতের চিত্র যেমন আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে, তেমনই সেই সময়ের ত্রিপুরার কথাও আমাদের পুনরায় মনে করিয়ে দেয়৷‌

বলা হয়, সেই কবিতাই উৎকৃষ্ট কবিতা, যা সমকালীনতাকে ধারণ করেও চিরকালীনতার দাবিদার হতে পারে৷‌ সহজ-সরল ভাষায় এক দিনমজুর-কবি একদিন বোধি ও প্রজ্ঞার সম্মিলনে যে পঙ‍্ক্তি রচনা করেছিলেন, আগামী দিনের মানুষও নিশ্চয় সেই কবিতার প্রতিবাদী উচ্চারণ ও সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হবেন৷‌

বুধুদাস পানিকা আমাদের রাজ্যে খুব পরিচিত কবি নন৷‌ চা-বাগানের মানুষজনের কাছে তিনি যতটা জনপ্রিয় ও গর্বের ধন, অন্যত্র ততটা নন৷‌ হয়ত মধ্যবিত্ত ধূর্ত-সুখে লালিত নন বলে তিনি গোল গোল করে মিষ্টি কথা বলতে পারেননি৷‌ শিক্ষার উচ্চ ডিগ্রি নেই বলে তিনি ভাষার কারিকুরি দেখাতে পারেননি৷‌ কিন্তু তাঁর জীবন-অভিজ্ঞতা তাঁকে দিয়ে যে জীবন-সত্যের উচ্চারণ করিয়ে নিয়েছে নিখাদ সততায়, এটা অন্যদের কাছে পাওয়া যাবে না৷‌ দরিদ্র-দুখী ও বঞ্চিত মানুষদের জীবন-সত্যের কথা জানতে হলে আমি কবি বুধুদাস পানিকার কাছেই যাব৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
sunday || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited