Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ বৈশাখ ১৪২১ শনিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
রাতভর হোটেলে জেগে কাটালেন মমতা ।। আমাকে মেরে ফেলার চক্রাম্ত করা হয়েছিল: মমতা ।। মুখ্যমন্ত্রীর সভার কাছেই জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হল! ।। বি জে পি-র অঙ্ক: পদ্ম ফুটবে বাংলা থেকে ।। সততার প্রতীক এখন সারদার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: বুদ্ধদেব ।। টাকা লেনদেনের দুই চিঠি পেল ই ডি, নজরে বহু ব্যবসায়ী ।। মোদি ঢেউ নেই যে যোশিকে কে জেতাবে!--দেবারুণ রায়, কানপুর ।। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিরোধেই জোর--নিজেও তদম্তের ঊধের্ব নই: মোদি ।। গার্সিয়া মার্কেস: অত্যাশ্চর্য জীবনের ইতি ।। এবার ইট-পাটকেল ধেয়ে এল কেজরিওয়ালের দিকে! ।। সারদার ১২৮০ কোটি টাকার খোঁজে ই ডি ।। সি বি আই চাইলেন বিমান
আজকাল-ত্রিপুরা

বিষ-টাকা!

বৌদির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জের?

উদয়পুরে দুরম্ত টিভির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান

তপন স্মৃতি ক্রিকেট: রাজীবের অর্ধশতরান

৪০ লাখ টাকা প্রতারণার দায়ে নৈহাটি থেকে নামী রেডিওলজিস্টকে গ্রেপ্তার করে আনল রাজ্য পুলিস

বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসায় ডাক্তার: প্রস্তাব যাচ্ছে দিল্লিতে

তপন স্মৃতি: সুজিতের ৫ উইকেট

কৌশলের শতরান, তিমিরের ৭৩, সম্রাটের ৬৯

বিষ-টাকা!

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দীপক লোধ

মহাবিপদ! নোটেই অদৃশ্য মারণ-বিষ! এই বিষ টাকাই আজ বহু সংক্রামক ব্যাধির কারণ৷‌ হাতে হাতে বিপদ৷‌ পকেটে পকেটে৷‌ ব্যাগেও৷‌ গুপ্ত জীবাণু শত্রু সবার অলক্ষ্যে ঢুকে যাচ্ছে শরীরে৷‌ আর এই অর্থই অনর্থ ডেকে আনছে৷‌ মাছ-মাংস-শুকনো মাছের ব্যবসায়ী-সবজিওয়ালা, রাস্তার পাশের ফুচকাওয়ালা, সবার হাতে হাতে ঘুরছে টাকা৷‌ দিনে দিনেই ঘুরে ঘুরে রাজ্যাম্তরিত হয়৷‌ বিষ স্হানাম্তর হচ্ছে৷‌ দেশাম্তরিত হচ্ছে৷‌ এভাবে অনায়াসে জীবাণু সরাসরি মুখে ঢুকে যাচ্ছে কখনও৷‌ বহু শিক্ষিত মানুষও গুণতে গুণতে জিভের দল শুকিয়ে ফেলছেন! বার বার তর্জনী ঘষে আনছেন জিভে৷‌ সুযোগে মারণ-রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে৷‌

ঘোর বিপদ টাকায়৷‌ টাকায় বশ পৃথিবী৷‌ জীবনের অন্যতম লক্ষ্য৷‌ চাই টাকা৷‌ আরও টাকা! সিংহভাগ মনুষ্যজাতির অমোঘ ভালবাসার বস্তু টাকা৷‌ আর সে ‘টাকায় বিপদ’–খুঁজে দেখার অবসর কোথায়! কারিগরি বিষয়ে জাল টাকা ঠেকানোই কঠিন৷‌ যাবতীয় নিরাপত্তার সঙ্কেত তুড়ি মেরে নোট জাল হয়৷‌ সে ‘বড়’ টাকার জাল নোট বিচারে যতটা তৎপর এবং উদ্বিগ্ন মানুষ, এরসিকিভাগ দুর্ভাবনা নেই বিষ-টাকা নিয়ে! শতচ্ছিন্ন-জীর্ণ পাঁচ টাকার বাজারি নোট৷‌ নিরুপায় মানুষ৷‌ কুৎসিত ও অতি বিষাক্ত সে নোট টাকার ব্যাগেই পুরে রাখছেন! এই পাঁচ টাকাই এখানকার বাজারে সবচেয়ে আদরের৷‌

পৃথিবীব্যাপী বিষ-টাকার ওপর বহু গবেষণা চলছে৷‌ অনুসন্ধান ল্যাবে খোঁজাখুঁজিতে উদ্বেগজনক বিপদের খোঁজ মিলেছে৷‌ কলেরা, যক্ষা, জন্ডিস (হেপাটাইটিস বি, সি) আরও মারাত্মক রোগের জীবাণু উদ্বেগজনক পরিমাণে মিলেছে নোটগুলোতে!

মাছ, মাংস-ব্যাপারীরা ব্যস্ততায় ও স্বভাবতই রক্তাক্ত হাতেই সুনির্দিষ্ট মূল্য বুঝে নিয়ে খদ্দেরের বাকি টাকা ফেরত দিচ্ছেন৷‌ ফাস্ট ফুডের দোকানে সে টাকাই আবার কাউন্টারে ঢুকছে৷‌ টাকার বিষ যাচ্ছে লোভনীয় যাবতীয় খাবারে৷‌ এভাবে মানুষে হাত ধরে চেইন তথা ‘শিকল-শৃঙ্খলায়’ জীবাণু সংক্রমণ ঘটছে সুস্হ শরীরে৷‌ আর যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, কিংবা যাঁরা এইচ-আই-ভি কিংবা হেপাটাইটিস বি, সি-এর বাহক, তাদের ক্ষেত্রে এই টাকার গুপ্ত জীবাণু যে মহাবিপদের! বাজারের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে ‘কারেন্সি নোট’ নিয়ে বিশ্বময় যেখানেই গবেষণা তথা পরীক্ষা করা হয়েছে, দেখা গেছে– প্রায় একশত শতাংশেই কমবেশি জীবাণুর সন্ধান মিলেছে৷‌ যেখানে ৮০ শতাংশের ওপরই মারাত্মক জীবাণু! প্রচলিত কাগজ যেমন সংক্রমণের তথা জীবণুর অত্যধিক অস্তিত্বের জন্য দায়ী, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত বিধিনিষেধে একই নোট বাজারে থাকাও বিপদের৷‌

আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাই কাগজের নোটের বদলে প্লাস্টিকের নোট চালু হচ্ছে৷‌ দেখা গেছে, টাইফয়েড, আমাশয় এবং বিভিন্ন চর্মরোগের জন্যও দায়ী এই জীবাণুÿু-বাহক নোট৷‌ এ সময় বিশ্বের নানা প্রাম্তে আজ দাবি উঠেছে, বিশেষ উপাদানের নোটের কাগজ চালু করার৷‌ ব্যাঙ্কগুলোতে আজ নানা দেশেই বসেছে বিশেষ যন্ত্র, মোটা টাকার বান্ডিলকে জীবাণুমুক্ত করছে নিমেষেই৷‌ বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সবজি, মাছ-মাংস দোকান হয়ে আসা টাকার ১০০ শতাংশই বিষাক্ত৷‌ দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাঙ্ক থেকে (১৯৯৭ সালে) সরবরাহ করা সব টাকার ৯০ শতাংশই বিষাক্ত ছিল৷‌ (সূত্র: বাসেন অ্যান্ড স্ট্যান রিসার্চ)৷‌ আমেরিকান ডলারের ৯২ শতাংশই বিষাক্ত৷‌ যে নোটে অস্তিত্ব পাওয়া যায় নিষিদ্ধ কোকেন, হেরোইন, ৬-অ্যাসিটাইলোহারফিন (৬)এ, টম- মরফিন, কোডাইন, ম্যামামফেটাইন, অ্যামফেটামাইনের মতো ড্রাগের! (সূত্র: ফরেন্সিক সায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ)৷‌ প্রতি বছর আমেরিকায় ‘ফ্লু’-তে মারা যায় ৩৬,০০০ জন৷‌ এদের ১০ শতাংশের সংক্রমণের জন্য দায়ী বিষ-টাকা৷‌ অর্থাৎ টাকার বিষ– মারণ-জীবাণু৷‌ বিভিন্ন প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া৷‌ (সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট)৷‌ দেখা গেছে, এ ধরনের জীবাণু বিপজ্জনক মাত্রায় থাকে বিভিন্ন দেশের কারেন্সি নোটে! টি বি (যক্ষ্মা), মেনিনজাইটিস, টিনসিলাইটিস, পেপটিক আলসার, গলার নানাবিধ সংক্রমণ, যৌন ও মূত্রযন্ত্রের নানান জটিল সংক্রমণ (কিডনির ‘ঘা’, ইউ টি আই) ইত্যাদি বহু জটিল রোগব্যাধির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার উপস্হিতির প্রমাণ মিলেছে অন্যান্য নানা দেশের টাকার নোটের মতো সব ভারতীয় নোটেও৷‌ (সূত্র: রিজিওনাল সফিসটিকেটেড ইনসট্রুমেন্টেশন সেন্টার (আর)এস-এল, সি- রিসার্চ-

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে ভেলোর শহরের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বাজার থেকে পাঁচ টাকা ও দশ টাকার নোট সংগ্রহ করা হয়৷‌ মাছ ব্যবসায়ী, পরিবহণ ব্যবসায়ী (বাস কন্ডা’র), সবজি ব্যবসায়ী এই তিনটি সে’র থেকে নোট সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হল৷‌ পাওয়া গেল ৮টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া৷‌ ই-কোলি, ডিব্রি, কোমা, সালমোনেলা, ব্যাসিলাস, সিওডোমোনাস, ক্ল্যারাসলা প্রভৃতি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার উজ্জ্বল উপস্হিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে নোটগুলোর সব কয়টিতেই৷‌

আমেরিকার একদল গবেষক একটি বনেদি স্কুলের সামনে থাকা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেকআউট পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৬৮টি নোটের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় দেখতে পেলেন, ৮৭ শতাংশ (৫৯টিতে) মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার উপস্হিতি (সূত্র: রাইট পিটারসন মেডিক্যাল সেন্টার, ডায়টন, ওহিও)৷‌

অ্যাডভান্স বায়োলজিক্যাল রিসার্চ-এর গবেষকরা (বাংলাদেশ) কাগজের নোটের ১০০টির নমুনা পরীক্ষায় খুঁজে পেয়েছেন সাতটি মারাত্মক রোগ সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়া! যেগুলো অনায়াসে কলেরা, ডায়েরিয়া, চামড়ার সাধারণ থেকে জটিল সংক্রমণের জন্য দায়ী হতে পারে৷‌ এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জন্য আক্রাম্ত ব্যক্তি ক্রমশ হয়ে পড়তে পারেন অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট৷‌ অর্থাৎ প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকে তার সংক্রমণ সারবে না!

টাকা গুণছেন বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়ীরা৷‌ যাঁদের শরীরের নিম্নাঙ্গ (যৌনাঙ্গ, পায়ু) শরীরের ঘা কাটা-ছেঁড়ার সঙ্গে হাতের মাধ্যমেই টাকার নোটে জীবাণু সংক্রমণ ঘটছে৷‌ টাকা গুণতে গিয়ে মুখের লালা এসে মিশছে নোটে৷‌ ঘটছে জীবাণুর সঙ্গে বিষাক্ত চুম্বন মাখামাখি৷‌ এই টাকার (নোট) মানুষের শরীরের উত্তাপ পাচ্ছে৷‌ আবার কখনও শরীরের জল (ঘাম)জলীয় বাষ্প- টেনেও নিচ্ছে৷‌ যা কিনা ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধির অনুকূল৷‌

এ সময় মানুষ মাত্রেরই উচিত সুযোগ থাকে তো টাকা গোনার পরই হাত ভালভাবে ধুয়ে নেওয়া৷‌ বাজার, হাট থেকে এসে ‘টাকা’-র বিষ তাড়াতেও অবশ্যই ভাল করে হাত পরিষ্কার করা উচিত সাবান দিয়ে৷‌ সম্ভব হলে বাজারের (সবজি)মাছ-মাংস-বাজার- পোশাক বাড়ির অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে না রাখাই শ্রেয়৷‌ অর্থাৎ বাজারের পোশাক আলাদা থাকুক৷‌ ভিন্ন জায়গায় রাখাই সঠিক৷‌ বাজারের কেনাকাটার টাকার ব্যাগটিও আলাদা রাখা গেলেও ভাল হয়৷‌ টাকা গোনার ক্ষেত্রে কখনওই জিভে আঙুল লাগানো ঠিক নয়৷‌ যা অত্যম্ত বিপজ্জনক৷‌ নানাভাবেই জীবাণু-শত্রু চারদিক থেকেই মানুষকে ঘিরে রেখেছে৷‌ পরিবেশ আজ পূর্ণমাত্রায় বিষাক্ত৷‌ এ সময় টাকার গুপ্ত বিপদ থেকে বাঁচতে হলে ন্যূনতম সতর্কতাগুলো মেনে চলা যে খুব কঠিন নয়৷‌ আজকাল টাকার নোটের কাগজে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট (রাসায়নিক) ব্যবহার করা হচ্ছে– জীবাণুমুক্ত রাখতে৷‌ কিছু সুনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷‌ তাই ফ্লু-ডায়ারিয়া, রক্তআমাশয়, আলসার, ফুসফুস ও গলার সংক্রমণ, হৃদপিণ্ডের ভাল্বের নানান জটিল সমস্যার বেলায়ও টাকার নোটের যোগ থাকছে৷‌ বলা হচ্ছে তাই– ‘মনি ইজ দ্য মেজর ভেহিক্যালস ইট দ্য ট্রান্সমিশন অব ইলনেস!’ টাকার বিষ তথা বিষ-টাকা তাই আজ বিশ্ব বিজ্ঞানীদেরও দুশ্চিম্তার কারণ স্বরূপ৷‌






bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited