Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৪ বৈশাখ ১৪২২ শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
কলকাতায় ভোটের বোধন--সব্যসাচী সরকার, তারিক হাসান ও কাকলি মুখোপাধ্যায় ।। কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্কের পথ খোলা রাখছে সি পি এম--দেবারুণ রায় ।। তৃণমূলের নেতারা খোশমেজাজে রয়েছেন--দীপঙ্কর নন্দী ।। পড়ে গিয়ে কপাল ফাটল বিমান বসুর--ভোলানাথ ঘড়ই ।। প্রতিবন্ধী স্কুলে ইট, জখম কাম্তি ।। কাশীপুরে তুলকালাম, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ।। গ্রেটার-মামলায় বেকসুর বংশীবদন-সহ ৪৩! ।। বোঝাপড়া, তাই কেন্দ্র বাহিনী পাঠায়নি: অধীর ।। পার্টিকে আকর্ষণীয় করার ডাক প্রভাত পটনায়েকের--গৌতম রায় ।। রাহুলকে সামনে রেখেই কৃষকদের লড়াইয়ে কং ।। শালিমার কাণ্ড ।। আজ গোপন ক্যামেরায় সি পি এমের নজরদারি
আজকাল-ত্রিপুরা

চাঞ্চল্যকর কল্পনা দাস হত্যা মামলায় দুই ভাই, ভাগনে-সহ গ্রেপ্তার জিতেন দাস

বিচারবিভাগের পদস্হদের দেখতে হবে

প্রত্যয়ী রণজিৎ, রাধাচরণ

রেগার মজুরি বেড়ে ১৬৭ টাকা

সৌমেন্দ্র সূত্রধর স্মরণ

বেহাল বিলোনিয়া পোস্ট অফিস, গ্রাহক পরিষেবা লাটে, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

বিলোনিয়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ১০০ পড়ুয়ার দেহে হাম

ধনপুরে ফের বি এস এফের মারে আহত দুই মহিলা

চাঞ্চল্যকর কল্পনা দাস হত্যা মামলায় দুই ভাই, ভাগনে-সহ গ্রেপ্তার জিতেন দাস

তদম্তে সিট: বহিষ্কার করল সি পি এম

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আজকালের প্রতিবেদন: কল্পনা দাস হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন স্বামী জিতেন দাস-সহ চারজন৷‌ এদিকে, শুক্রবারই প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি জিতেন দাসকে দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেছে সি পি এমের সদর বিভাগীয় কমিটি৷‌ জিতেন সদর বিভাগীয় কমিটিরই সদস্য ছিলেন৷‌ মামলায় জিতেন দাস, তাঁর দুই ছোট ভাই অতীন্দ্র দাস এবং সতীন্দ্র দাস, ভাগনে সিদ্ধার্থ দাস ওরফে সাহেবকে এদিন বিকেল ৩টে ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস৷‌ শনিবার পুলিস রিমান্ড চেয়ে পশ্চিম জেলার সি জে এম আদালতে এঁদের হাজির করা হবে৷‌ বৃহস্পতিবার সকালে খয়েরপুরের বৃদ্ধিনগরে নিজের ঘরে ৬৩ বছরের কল্পনা দাসের গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়েছিল৷‌ নিঃসম্তান কল্পনাদেবী ছিলেন রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী৷‌ বৃহস্পতিবার সকালে দুই পায়ের নালি এবং গলার একদিক কাটা অবস্হায় নিজের শোয়ার ঘরে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়৷‌ প্রথমে আত্মহত্যার গল্প ছড়ানোর চেষ্টা হলেও, এটা যে পরিকল্পিত খুন বুঝতে অসুবিধে হয়নি পুলিসের৷‌ কংগ্রেস ছেড়ে সি পি এমে এসে পশ্চিম জেলা পরিষদের সভাপতি হন জিতেন দাস৷‌ গত বিধানসভা ভোটে পরাস্ত হন বড়জলা কেন্দ্রে৷‌ পুলিস খুনের ঘটনার পরই তদম্তে নেমে পড়ে৷‌ ছুটে যান পদস্হ অফিসারেরা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা৷‌ লাগানো হয় পুলিস কুকুর৷‌ তদম্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিস সুপারের নেতৃত্বে ৭ জনের বিশেষ টিম গঠন করা হয়৷‌ এই টিম দুপুর থেকেই কাজ শুরু করে দেয়৷‌ রাত ৩টে পর্যম্ত এই টিম দুই ভাগ হয়ে জিতেন দাসের বাড়িতে এবং রানীরবাজার থানায় জিজ্ঞাসাবাদের কাজ চালায়৷‌ রাত ৯টা নাগাদই জিতেন দাস-সহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়৷‌ চারজনকেই পৃথক ঘরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷‌ অন্য দিকে, জিতেন দাসের তিন ভাইয়ের স্ত্রী, মা-সহ বাড়ির এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলে বৃদ্ধিনগরেই৷‌ রাত ২টো নাগাদ জিতেন দাস-সহ ‘আটক’ চারজনকে বৃদ্ধিনগরে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিস৷‌ রাত ৩টে নাগাদ তদম্তকারী ৭ জনের টিম ওই বাড়ি থেকে সুকৌশলে বেরিয়ে যায়৷‌ তবে বাড়ির চারপাশে কড়া নজর রাখে পুলিস৷‌ সকাল ৬টা বাজতেই আবার জিতেন দাসের ঘরে ঢুকে পড়েন পুলিসের বেশ কিছু অফিসার৷‌ দুই অতিরিক্ত পুলিস সুপার আর এল মিনা এবং সরস্বতী ছাড়াও এস ডি পি ও তাপস দেব, চার ইনস্পেক্টর কমলেন্দু ভৌমিক, মানিক দেবনাথ, নিত্যানন্দ সরকার এবং সুরসেন ত্রিপুরা আবারও জিতেন দাস-সহ বাড়ির লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দেন৷‌ কয়েক ঘণ্টা পরই তিন ভাই– জিতেন দাস, অতীন্দ্র দাস, সতীন্দ্র দাস এবং তাঁদের ভাগনে সিদ্ধার্থ দাসকে রানীরবাজার থানায় নিয়ে যায় পুলিস৷‌ থানার ও সি দীপক দাসের দাবি, ‘নিরাপত্তার জন্যই এই ৪ জনকে থানায় নেওয়া হয়৷‌’ থানায় ৪ জনকে আবারও আলাদা ঘরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দেয় তদম্তকারী দলটি৷‌ তখন থানার বাইরে সংবাদমাধ্যম ও উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়৷‌ অন্য দিকে পুলিসের আরেকটি দল জিতেন দাসের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে দেয়৷‌ শুরু হয় জিতেনের মা রাধারানী দাস, মৃত ভাই রবীন্দ্র দাসের স্ত্রী শিবু দাস, অন্য দুই ভাইয়ের স্ত্রী-সহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ৷‌ বৃহস্পতিবার খালি গায়ে যে লুঙ্গিটি পরে ছিলেন জিতেন, সেটিও বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় পুলিস৷‌ একই সঙ্গে আলমারি, খাট-সহ সমস্ত ঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়৷‌ দফায় দফায় তল্লাশির পর বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস৷‌ তবে তদম্তের স্বার্থে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না৷‌ বিকেল ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ গ্রেপ্তার হন জিতেন-সহ চারজন৷‌ তাঁরা তখন থানাতেই ছিলেন৷‌ বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁদের রানীরবাজার স্বাস্হ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় পুলিস৷‌ সেখানে চারজনের স্বাস্হ্য পরীক্ষার পর আবার থানায় ফিরিয়ে আনা হয়৷‌ আবার শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ৷‌ টানা জেরা চলতে থাকে৷‌ তদম্তকারী বিশেষ টিমের এক অফিসার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জিতেন এখনও তাঁর একই বক্তব্যে অনড় আছেন৷‌ বৃহস্পতিবার যা বলেছিলেন, ভোরে প্রাতর্ভ্রমণের পর কিছুটা দূরে কৃষ্ণধন দাসের বাড়ি গিয়েছিলেন৷‌ ওই বাড়িতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ছিল৷‌ তাই খোঁজখবর নিতে যাওয়া৷‌ সেখানেই খবর পান তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন৷‌ তাঁর দাবি, কল্পনা আত্মহত্যা করেছেন৷‌ দীর্ঘদিন ধরেই স্নায়ুরোগে ভুগছিলেন তিনি৷‌ যে ঘরে থাকতেন কল্পনা, তার দুই দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল৷‌ কিন্তু জিতেনের দুই ভাই এবং ভাগনের কথা অন্যরকম৷‌ তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷‌ এদিকে বিশেষ সূত্রের খবর, কল্পনা দাসের ময়নাতদম্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ঘটনাকে খুন হিসেবেই ধরা হয়েছে৷‌ খুনের নির্দিষ্ট সময় না দিলেও ১২ ঘণ্টার মধ্যে কল্পনা দাস মারা গেছেন বলে ময়নাতদম্তকারী চিকিৎসকদের টিমের প্রাথমিক ধারণা৷‌ পুলিসও এই সূত্র ধরে তদম্তের গতি এগিয়ে নিয়ে চলেছে৷‌ মৃতার ভাই অজিত দাসের অভিযোগ ছিল, তাঁর বোনকে বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার করতেন জিতেন দাস-সহ শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকে৷‌ খুন করারই স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়৷‌ শুক্রবার সি জে এম আদালতে এফ আই আর-টি জমা করে খুনের মামলার তদম্তের অনুমতিও নেয় পুলিস৷‌ কেন কল্পনা দাসের হত্যা? পুলিস এক্ষেত্রে প্রাথমিক তদম্তের পর দুটি কারণের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে৷‌ এক, কল্পনা দাস দু’বছর আগে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ১০-১২ লাখের মতো টাকা পেয়েছেন৷‌ এই টাকা আত্মসাৎ করতে খুন৷‌ দুই, পুলিস কয়েকটি সূত্র ধরে তদম্তে জানতে পারে, জিতেন দাসের সঙ্গে তাঁর মৃত ছোট ভাই রবীন্দ্র দাসের স্ত্রী শিবু দাসের অবৈধ সম্পর্ক ছিল৷‌ শিবু এই বাড়িতেই থাকতেন৷‌ এই সম্পর্কের প্রতিবাদ করে খুন হন কল্পনা৷‌ কে খুনি? পুলিস প্রাথমিক তদম্তের পর এটা অনেকটাই নিশ্চিত, খুনে বাড়ির লোকজনও জড়িত৷‌ তবে যে কায়দায় গলা শ্বাসনালি এবং দু’পায়ের নালি কাটা হয়েছে, তা পেশাদার খুনি ছাড়া সম্ভব নয়৷‌ তাই খুনের জন্য পেশাদার খুনি ভাড়া করা হতে পারে৷‌ সবটাই তদম্তে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছে পুলিস৷‌ এদিকে, শুক্রবারই জিতেন দাসকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে সি পি এম৷‌ সি পি এমের সদর মহকুমা কমিটি এক বিবৃতি দিয়ে জানায়, নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে জিতেন দাস গ্রেপ্তার হওয়ায় এক জরুরি বৈঠক করা হয় বিকেলে৷‌ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে জিতেন দাসকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধাম্ত নেওয়া হয়৷‌ মহকুমা কমিটির সিদ্ধাম্ত পার্টির উচ্চতর কমিটি অনুমোদন করেছে৷‌ শোয়ার ঘরে অত্যম্ত নৃশংসভাবে খুন হন কল্পনা দাস৷‌ দুই পায়ের শিরা কাটার পর গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছিল৷‌ ঘটনার নৃশংসতা এবং গোটা বিষয়টি সামনে এনে শুক্রবারের আজকালে প্রকাশ হয়েছিল, কেন স্বামী জিতেন দাস গ্রেপ্তার হবেন না৷‌ তাঁকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে, সেটাও আভাস দেওয়া হয়েছিল৷‌ জিতেন দাস আত্মহত্যার যে গল্প বলেছিলেন, সেটা অবাস্তব এবং পুলিস কেন, কোনও স্কুলছাত্রও বিশ্বাস করবে না সেটা বোঝা গিয়েছিল৷‌ বিরল নৃশংস খুনের সময় কোথায় ছিলেন স্বামী জিতেন দাস? কেমন ছিল স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, সেটাও প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited