Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৬ ভাদ্র ১৪২১ শনিবার ২৩ আগস্ট ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বাংলায় বিনিয়োগের জন্য এবার চীন, জাপান, আমেরিকায় যাব: মমতা ।। পদস্হ পুলিসকর্তাদের সঙ্গে সুদীপ্ত-সখ্যতা কেন? দেখবে সি বি আই ।। মান্নান, শঙ্করের ছেলেরা যোগ দিলেন তৃণমূলে ।। সুনিয়া: একঘরে বধূর পরিবার, পাশে দাঁড়াল ৮ বুদ্ধিজীবী মঞ্চ ।। সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী মিছিল: প্রভাস ঘোষের সঙ্গে কথা বললেন বিমান বসু ।। নিউ টাউনে সিন্ডিকেট নিয়ে ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীসঙঘর্ষ, গুলিতে জখম পঞ্চায়েত সদস্য ।। বিরোধী দলনেতা: কেন্দ্রকে চাপে ফেলে দিল সুপ্রিম কোর্ট ।। দিল্লির গণধর্ষণ ‘ছোট ঘটনা’! জেটলির মম্তব্যে তুলকালাম ।। এইমসে দুর্নীতি: নেতা, আমলাদের তুলোধোনা করলেন অপসারিত কর্তা ।। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠক্রমের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে চায় রাজ্য শিক্ষা কমিশন ।। মুক্তির দু’দিন না পেরোতেই ফের গ্রেপ্তার শর্মিলা চানু! ।। কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে সব কেন্দ্রীয় দপ্তরে জারি হল ফরমান
আজকাল-ত্রিপুরা

‘গরম খবর’

রেলে মেগা ব্লকের আগেই নিত্যপণ্যের মজুত চান মুখ্যমন্ত্রী: উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

রেগা ছাঁটাইয়ে কেন্দ্রের চেষ্টা

পাচার সংক্রাম্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবক খুন সোনামুড়ার রহিমপুরে

অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রয়াস চলছে

বোধজংনগরে তার-ট্রান্সফর্মারের কারখানা উদ্বোধন

উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ যুব পুরস্কার প্রদান ঘিরে শহরে চাঁদের হাট, ৫ দিনের উৎসব শুরু আজ

প্রতিবন্ধী অধিকার মঞ্চের মিছিল অমরপুরে

ফটিকরায়ে জেলা কংগ্রেস নেতা সুব্রত দাস-সহ ১৪০ সি পি এমে

বিলোনিয়ায় ফুটবলে জয় পেল আমকলোনি, সোনাইছড়ি

‘গরম খবর’

ভেজাল-প্রেমেই মজে আছি!

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দীপক লোধ

‘গরম খবর’-এ সবাই জবর খুশি৷‌ খবর– ‘ইলিশ খেলে হার্ট ভাল থাকে৷‌’ কিন্তু তার আগেই খবর ছিল ইলিশে আজকাল নাকি মেশানো হচ্ছে মারাত্মক প্রাণঘাতী ‘ফরমালিন’৷‌ বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে সংরক্ষণের ভাল (ক্ক) উদ্দেশ্যে৷‌ চেনা এক রসায়নবিদকে প্রশ্ন করে জানা গেল ফরমালিন যে রয়েছে তা সাধারণ খদ্দের কীভাবে চিনবে? এ-ও বললেন, বিষয়টি খুব সহজে বোঝার উপায় নেই৷‌ প্রথম লক্ষণ নাকি ফরমালিন দেওয়া মাছের ওপর মাছিও বসবে না৷‌ এ প্রসঙ্গে বললেন ফলের রাজা আমেও মহাবিপদ৷‌ রসিকতা করে বললেন– ‘খাবেন যদি ফলের রাজাক্ট মিলবে যে মহা সাজা৷‌’ কারণ ওখানেও ওঁত পেতে রয়েছে গুপ্তঘাতক ‘ফরমালিন’! বললেন আজকাল ফলের দোকানে আমের ওপর মাছি বসছে না৷‌ এই দুটো বাজারি বিপদ মানুষকে বড চিম্তায় ফেলেছে৷‌ বিশেষত ভোজন রসিকদের., কারণ দুটো জিনিসই বড্ড লোভনীয়৷‌ ‘আমিষ-বাঙালি’ মাত্রেই ইলিশের নাম শুনে জিভে জল আসবে৷‌ লালা-ঝড় বইতে শুরু করে মুখ গহ্বরে৷‌ কিন্তু আকাশ ছোঁয়া দাম৷‌ ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে সাধারণ মানুষের৷‌ তার ওপর অঢেল মিলছে তা-ও নয়৷‌ এক সময় অবাধে ঢুকেছে বাংলা-র ইলিশ৷‌ আজ কাঁটাতার বসেছে৷‌ তো ব্র্যান্ডেড পদ্মার ইলিশ? বাজারে যেতেই দোকানি সহাস্যে হাঁক পাড়ছেন– ‘এইডা পদ্মার দাদা৷‌’ –এইডা ‘কাঁচা’ ইলিশ৷‌ কেউ বলছেন এইডাত‍্ ইতা ফরমালিন টরমালিনের ভেজাল নাই৷‌ তো বাজারে গিয়ে সীমিত বহরের টাকার ব্যাগওয়ালা খদ্দেরের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে৷‌ কাকে বিশ্বাস করবেন৷‌ আর অবিশ্বাস একবার বাসা বাঁধলে ঘাতক রাসায়নিক বহু শারীরিক জটিলতা ডেকে আনছে ধীরে ধীরে৷‌ এটুকু অনুধাবনের জন্য গভীর নিরীক্ষণের দরকার৷‌ সচেতনতা মেনে চলা প্রয়োজন৷‌

যেমন বাজারি সব সবজি এনেই প্রতিদিন একটি বড় জলের পাত্রে (গামলা, বালতি ইত্যাদি) রেখে দেওয়া দরকার৷‌ কম করে ত্রিশ মিনিট৷‌ এতে ওই সবজিতে কৃষক যে বিষাক্ত কীটনাশক (পড়ুন কখনও অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায়ও প্রয়োগ করা হয়) ব্যবহার করেছেন– তার অনেকটাই জলে মিশবে৷‌ সেটা দূর করা যে বড্ড কঠিন৷‌ বিষ-রাসায়নিকের তাজা খবরে বহু মানুষ শুকনো মাছ খাওয়া ছেড়েছেন৷‌ বাজারে চালানি প্রায় সিংহভাগ ফলেও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক প্রয়োগ করতেই হয়৷‌ এখন সে রাসায়নিক কতটা অনিষ্টকর নয়, সে খবর কিন্তু মানুষের কাছে নেই৷‌ যতটা খবর, দীর্ঘ (পরিবহণজনিত) যাত্রাপথ পার হওয়া–বাক্সবা পেটি বন্ধ হয়েও অবিকৃত রাখার উদ্দেশ্যে রাসায়নিক প্রয়োগ বাধ্যতামূলক৷‌ কিন্তু অবৈজ্ঞানিক প্রয়োগ এবং অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় প্রয়োগের কারণেই অজ্ঞাতেই মানুষের শরীরে ঢুকে যাচ্ছে মারণ-বিষ৷‌ কখনও কখনও নিষিদ্ধ প্রাণঘাতী রাসায়নিক৷‌ কিন্তু আশ্চর্য ঘটনা হল, ওই নিষিদ্ধ বিষ কিংবা বিপজ্জনক মাত্রায় লেগে থাকা রাসায়নিকের কারণেই মানুষ কিন্তু খাওয়ামাত্রই ধরাশায়ী হচ্ছেন না৷‌ তাই অতটা বিশ্বাস করছেন না৷‌ কিংবা উদাসীন এই বিষয়টিতে৷‌ কিন্তু এরই বিষক্রিয়ায় নীরব ঘাতক রাসায়নিক বহু শারীরিক জটিলতা ডেকে আনছে ধীরে ধীরে৷‌ এটুকু অনুধাবনের জন্য গভীর নিরীক্ষণের দরকার৷‌ সচেতনতা মেনে চলা প্রয়োজন৷‌

যেমন বাজারি সব সবজি এনে প্রতিদিন একটি বড় জলের পাত্রে (গামলা, বালতি ইত্যাদি) রেখে দেওয়া দরকার৷‌ কম করে ত্রিশ মিনিট৷‌ এতে ওই সবজিতে কৃষক যে বিষাক্ত কীটনাশক (পড়ুন কখনও অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায়ও প্রয়োগ করা হয়) ব্যবহার করেছেন–তার অনেকটাই জলে মিশবে৷‌ এবার জলের ধারায় ধুয়ে তবে রেখে দিন৷‌ জল সরে গেলে ফ্রিজ কিংবা যেখানে রাখার রাখা যাবে৷‌ এই সবজি কাটার পর আর অতটা ধোয়ার দরকারও নেই৷‌ হ্যাঁ, এটাই ঠিক, যেন একশো শতাংশ মারণ-বিষ এতে কিন্তু দূর হয়নি৷‌ এখানে একটা বিষয় খোলসা করে বলা দরকার যে, কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন শাক-সবজিতে যে-সব কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, এগুলোর প্রয়োগের পর ওষুধের বিষক্রিয়া কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর্যম্ত থেকে যায়৷‌ প্রয়োগ করা ওষুধের প্যাকেট কিংবা শিশির গায়ে ‘সবুজ’, ‘হলুদ’ ও ‘লাল’–এই তিন রঙের চিহ্নের বিষক্রিয়ার অস্তিত্ব কতদিন থাকবে তা বলা আছে৷‌ অর্থাৎ এই কীটনাশক ফসলে প্রয়োগ করার পর বিষক্রিয়া যতদিন থাকবে ততদিন কিন্তু ফসল তোলা নিষিদ্ধ৷‌ এটা বহু কৃষক অবগত নন৷‌ কিংবা দোকানদারও বলেন না৷‌ যদিও বিভিন্ন সময় কৃষিদপ্তর সচেতনতা শিবিরে এটা বলে থাকে৷‌ কিন্তু বাজার ধরতে–ভাল দাম পেতে আজই ওষুধ প্রয়োগ করে হয়ত পরের দিন কিংবা–ঝুঁকিপূর্ণ সময়েই সেটা বাজারজাত করা হয়! আর খদ্দেরের কি সেটা বুঝে ওঠার উপায় আছে? বাড়ছে বিপদ এভাবে৷‌

বিপদ প্রতিদিন৷‌ পদে পদে৷‌ বাজার ঝোলায় ঝুলে ঝুলে বিপদ আসছে ঘরে৷‌ অনিয়ন্ত্রিত দূষণ৷‌ বিভিন্ন আইনি বিধিনিষেধ কিংবা ঘোষিত নিয়ন্ত্রণবিধি থেকেও ভেজাল ছেয়ে গেছে সক্রিয়জাত খাদ্য ও সবজির বাজার৷‌ আর সে বিপদের খবর আছড়ে পড়েছে ইলিশে৷‌ আমে৷‌ আরও নানা কিছুতে৷‌ বাংলাদেশ সরকার লরি লরি আম ঢেলেছে সমুদ্রে, নদীতে, এমনই খবর শোনা গেল৷‌ কারণ, বিষাক্ত রাসায়নিক নাকি দেওয়া ছিল সে-আমে৷‌ সংরক্ষণের জন্য৷‌ সংরক্ষণের নামে৷‌ অবাক দেশে আজও একটি দৃষ্টাম্তমূলক ভেজাল প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ মানুষের মনে আশা জাগাতে পারেনি! লোলুপ চোখ, জিহ্বার স্বাদ ও সাধ্যের কাছে মানুষ হার মেনেছে প্রতিদিন৷‌ ফাস্ট ফুড, বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রী কিংবা ফল, মাছ, সব কিছুতেই বিপদের গন্ধবার্তা সর্বত্র৷‌

বছর কয়েক আগেও ইলিশ ও লাশের সহবাসের খবরে রাজ্যের মানুষ আঁতকে উঠেছিল৷‌ এবার মুরগির মাংস নিয়েও নানা কথা কাগজে-চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়েছে৷‌ বাজার গরম এই সব খবরেই৷‌ কোথায় যাবে অসহায় মানুষ৷‌ তো এ সময় নানা ভেজালে জর্জরিত অসহায় জনগোষ্ঠী প্রতিদিন বাজার থেকেই নিয়ে আসছে ভেজাল! সুকাম্তের অম্তর্দৃষ্টিতে ভেসে ওঠা ভেজালেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে মানুষের প্রতিদিনের বৈচিত্র্যময় যাপনের চালচিত্র৷‌ গরম খবরে চোখ রেখেও খেয়ে যাচ্ছেন অফুরম্ত! আর আরামকেদারায় শুয়ে শুয়ে কেউবা তার পরও আনন্দে গেয়ে চলেছেন– ‘আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান’!


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
sangskriti || ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited