Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৭ কার্তিক ১৪২১ শনিবার ২৫ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রাম্ত পুলিস--পাড়ুই থানার ও সি-র মাথা লক্ষ্য করে বোমা ।। খাগড়াগড়, বেলডাঙায় সরেজমিনে এন আই এ-র ডি জি--পলাতকদের ধরতে বিশেষ স্ট্র্যাটেজি ।। সীমাম্তে ১০০০ অননুমোদনহীন মাদ্রাসা ।। মাদ্রাসা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের দাবি ।। কালো টাকার মালিকদের আড়াল করছেন! জেটলিকে জেঠমালানি ।। সোমবার মহারাষ্ট্রে নেতা নির্বাচন করবে বি জে পি ।। সেন কমিশন কেন বন্ধ হল?--রাজ্যের রিপোর্ট চান বিমান ।। রাজ্যে গ্রেপ্তার ১০৭৯ জন--বেহালায় মার খেলেন কনস্টেবল ।। আজ রবীন্দ্র সদন চত্বরে শুরু বাংলাদেশ বইমেলা ।। ৩০ বছর পূর্তিতে বিশেষ সাফাই অভিযান মেট্রো রেলে ।। পার্থর নিন্দা ।। রাজ্যে সদলে নিরাপত্তা কর্তারা
আজকাল-ত্রিপুরা

‘জেলের ভেতর জেল’ রেখে চলে গেলেন মীনাক্ষী সেন

এইখানে, আমাদেরই মাঝে

এপারে জমির জন্য চাই ৩০২ কোটি

পূর্বাঞ্চলীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল: ম্যাচে ১২টি হলুদ কার্ড

সব প্রতিবাদ-সভা অসফল মনে হত তিনি না থাকলে

‘জেলের ভেতর জেল’ রেখে চলে গেলেন মীনাক্ষী সেন

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

মণীশ লোধ

২৪ অক্টোবর– বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, প্রাক্তন অধ্যাপিকা ও সমাজকর্মী মীনাক্ষী সেন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হলেন৷‌ বয়স হয়েছিল ৬০ বছর ৬ মাস৷‌ রেখে গেছেন এক ছেলে, মা ও পরিবার-পরিজন৷‌ শুক্রবার ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে আগরতলা আই এল এস হাসপাতালে মারা যান তিনি৷‌ দু’দিন আগেই তাঁর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়ে গিয়েছিল৷‌ যান্ত্রিকভাবে হৃদ‍্যন্ত্রের কাজ চালিয়ে রাখা হয়েছিল৷‌ শুক্রবার ভোরে ‘কার্ডিয়াক ডেথ’ ঘোষণা করা হয়৷‌ মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও গুণমুগ্ধদের মধ্যে৷‌ শোক জানান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও৷‌ তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ভানুলাল সাহা, সাংসদ শঙ্করপ্রসাদ দত্ত-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠন৷‌ সকাল সাড়ে ১০টায় মরদেহ নিয়ে আসা হয় তাঁর রবীন্দ্রপল্লীর আবাসনে৷‌ সেখান থেকে মরদেহ নজরুল কলাক্ষেত্র, সাহিত্য আকাদেমির অফিস হয়ে মহিলা মহাবিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভবনে নিয়ে আসা হয়৷‌ সেখান থেকে কবি, লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সঙ্গীতশিল্পী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পায়ে হেঁটে শেষযাত্রায় অংশ নেন৷‌ মহিলা কমিশন হয়ে মরদেহ নিয়ে আসা হয় বটতলা শ্শানে৷‌ সেখানেই তাঁর একমাত্র পুত্র সম্ভব বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷‌ উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর, সোমবার সকালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে বাথরুমেই লুটিয়ে পড়েন তিনি৷‌ নিয়ে আসা হয় আই এল এস হাসপাতালে৷‌ সেখানে আই সি ইউ-তে ৪ দিন সংজ্ঞাহীন থাকা পর তাঁর মৃত্যু হল৷‌ মীনাক্ষীদেবী সাহিত্য আকাদেমির নর্থ-ইস্ট অরাল লিটারেচার শাখার সাম্মানিক অধিকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৯ সাল থেকে৷‌ এ বছর মার্চ মাসে মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান হিসেবেই অবসর নেন তিনি৷‌ কলকাতার বোস ইনস্টিটিউট থেকে ওই বিভাগেই স্নাতকোত্তরে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন৷‌ এ ছাড়া ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশন গঠনের কিছু দিন পর ১৯৯৭ সালে তিনি কমিশনের সদস্য সচিব ছিলেন৷‌ লেখালেখি জগতে জীবনের শেষ দিন পর্যম্ত দক্ষতার ছাপ রেখে গেছেন৷‌ ১৯৮৬ সালে দিল্লির একটি সাহিত্য সংস্হা তাঁকে কথাসাহিত্য পুরস্কার দেয়৷‌ এ ছাড়া ‘কয়েকটি মেয়েলি গল্পে’ বইটির জন্য ২০০৮ সালে সলিলকৃষ্ণ সাহিত্য পুরস্কার পান৷‌ একশোর বেশি গল্প, উপন্যাস লিখে গেছেন তিনি৷‌ রবীন্দ্রপল্লী আবাসনের শারদ সাহিত্য পত্রিকা অঙ্কুরের সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘ ১০ বছর৷‌ এদিন সকালে মরদেহ রবীন্দ্রপল্লীর আবাসনে নিয়ে আসা হলে সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷‌ ছিলেন নারী নেত্রী রমা দাস, রূপা গাঙ্গুলি, মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন তপতী চক্রবর্তী, শিক্ষাবিদ মহাদেব চক্রবর্তী, প্রাক্তন মন্ত্রী গোপাল দাস, প্রাক্তন প্রধান সচিব নেপাল সিনহা, প্রাবন্ধিক ড. ব্রজগোপাল রায় প্রমুখ৷‌ সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নজরুল কলাক্ষেত্রে সাহিত্য আকাদেমির অফিসে৷‌ সেখানে সংস্হার কর্মকর্তারা ফুল-মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান৷‌ ছিলেন শ্রীমম্ত ভট্টাচার্য-সহ অনেকেই৷‌ এরপর মরদেহ নিয়ে আসা হয় মহিলা মহাবিদ্যালয়ে৷‌ কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং ছাত্রীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁকে৷‌ ছিলেন ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক মিহির দেব, সচিব স্বপন পোদ্দার-সহ বিশিষ্টরা৷‌ সেখান থেকে রবীন্দ্রভবনে৷‌ সেখানে ফুলমালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংসদ ঝর্না দাস বৈদ্য, সি পি এম মুখপাত্র গৌতম দাস, নারী নেত্রী কৃষ্ণা রক্ষিত-সহ লেখক, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সঙ্গীতশিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা৷‌ শিল্পীরা গান গাইলেন৷‌ পায়ে হেঁটে সবাই মিলে শেষযাত্রায় অংশ নিলেন বটতলা শ্শানঘাট পর্যম্ত৷‌ মাঝে মহিলা কমিশনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কমিশনের চেয়ারপার্সন-সহ অন্য সহকর্মীরা৷‌ এর পর বটতলা শ্শান৷‌ সেখানে ফুলমালা দিলেন সাংসদ শঙ্করপ্রসাদ দত্ত, যুবনেতা তাপস দত্ত-সহ অনেকেই৷‌ হাসপাতাল থেকে শ্শান পর্যম্ত সারাক্ষণই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সবধর্মিণী পাঞ্চালী ভট্টাচার্য৷‌ অধ্যাপক পিতা অমিতাভ সেনের চাকরির সুবাদেই তাঁর জন্ম হয়েছিল দিল্লিতে৷‌ সেখান থেকে ১৯৫৫-৭০ এই সময়কালে কলকাতার কাছে বেলঘরিয়ায় বসবাস ও স্কুলের পড়াশোনা৷‌ এর পর কিছুটা সময় নষ্ট হয় রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ায়৷‌ ১৯৭৩ থেকে ’৭৭ সাল প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দী ছিলেন৷‌ জেলের ভেতর লিখেছিলেন ‘জেলের ভেতর জেল’ বইটি৷‌ এ ছাড়া ‘পাগলাবাড়ির পর্ব’ বইটি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ৷‌ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ’৮১ সালে তাঁর বিয়ে হয় অধ্যাপক সত্যেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে৷‌ সম্ভবত বিয়ের পরের বছরই দু’জনেই চাকরি সূত্রে ত্রিপুরায় চলে আসেন৷‌ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি সত্যেনবাবুর প্রকাশিত ‘স্পন্দন’ পত্রিকায় লিখতেন মীনাক্ষীদেবী৷‌ তখন তিনি বিলোনিয়া কলেজে অধ্যাপনা করতেন৷‌ এর পর ’৮৬ সালে মহিলা মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন৷‌ সেখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন৷‌ ২০০১ সালে মারা যান স্বামী সত্যেন বন্দ্যোপাধ্যায়৷‌ এর পর থেকে ছেলে সম্ভব ও মা ইলাদেবীকে নিয়েই রবীন্দ্রপল্লীর আবাসনে কাটিয়ে গেছেন মৃত্যুর আগে পর্যম্ত৷‌ বিনয়ী, নম্র অথচ প্রতিবাদী এই মানুষটি জীবনের শেষ দিন পর্যম্ত নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সুবিচাবের জন্য লড়াই করে গেছেন৷‌ তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা৷‌ শোক প্রকাশ করে রাজ্যের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ড. ব্রজগোপাল রায় বলেন, অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মীনাক্ষীদেবী৷‌ সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি ছিলেন মানবতার পূজারি৷‌ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মহাদেব চক্রবর্তী বলেন, একজন প্রতিভাময়ী লেখিকা৷‌ সমাজ পরিবর্তনে তাঁর মৌলিক চিম্তাভাবনা লেখনীর মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছিল৷‌ কবি চন্দ্রকাম্ত মুড়াসিং বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যধারার লেখিকা ছিলেন তিনি৷‌ আদিবাসী সাহিত্যের রক্ষণাবেক্ষণ ও বিকাশে তাঁর অন্যতম ভূমিকা ছিল৷‌ সাহিত্যিক অধ্যাপক রামেশ্বর ভট্টাচার্য বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য লেখিকা৷‌ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে মহিলাদের অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন৷‌ মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ গীতা দেবনাথের কথায়, তাঁর মানবিক সম্পর্ক, প্রত্যেক বিষয়ে সচেতনতা, সত্যনিষ্ঠা অনুকরণীয়৷‌ মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন তপতী চক্রবর্তী বলেন, মেয়েদের প্রতি তাঁর দরদ ছিল খাঁটি৷‌ কৃত্রিমতা ছিল না৷‌ বিরল প্রতিভার অধিকারী৷‌ একজন পূর্ণ মানুষ৷‌ ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক মিহির দেবের কথায়, কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছিল৷‌ বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকারের লক্ষ্যে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন৷‌ কবি দিলীপ দাস বলেন, প্রতিবাদী মানুষ৷‌ বিপন্ন ও পিছিয়ে-পড়া মানুষের সহযাত্রী ছিলেন তিনি৷‌ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পূর্ণিমা রায় বলেন, ভাল মানুষ এবং একজন প্রকৃত সমাজসেবীকে হারালাম৷‌ কবি নকুল রায় বলেন, অসাধারণ প্রতিভার মহিলা৷‌ সাহিত্যেও তাঁর অসাধারণত্বের ছাপ রয়েছে৷‌ নারী নেত্রী রমা দাসের কথায়, সামাজিক ক্রিয়াকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য৷‌ সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও তিনি সারা জীবন প্রতিবাদ করে গেছেন৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
sangskriti || ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited