Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১১ শ্রাবণ ১৪২১ সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
জাহাজের মাল খালাস নিয়ে তৃণমূলের দুই নেতার সিন্ডিকেটের সঙঘর্ষ, ধৃত ১১ ।। এনসেফেলাইটিস নিয়ন্ত্রণে, দাবি গৌতমের--গিরিশ মজুমদার ।। ইদের আলো বাংলাজুড়ে--তারিক হাসান ।। গাডকারির শোবার ঘরে ‘মার্কিন’ আড়ি পাতার যন্ত্র!--তদম্ত দাবি মনমোহনের ।। এনসেফেলাইটিসে মৃত্যু: তথ্য গোপনের প্রশ্ন নেই, বললেন স্বাস্হ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ।। তৃণমূলের নির্দেশ: পুজোর সময় কাউন্সিলরদের জনসংযোগ বাড়াতে হবে ।। যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার ভঙ্গ, জ্বলছে গাজা, মৃত্যু হাজার ।। হাওড়া স্টেশনে পুলিস দেখে সম্বলপুর পালানো হয়নি, শহরেই গা-ঢাকা দেন পূজা ।। টাইটানিকের শহরে ভেসে উঠলেন কুক!--দেবাশিস দত্ত, সাউদাম্পটন ।। ডালমিয়াকে লজ্জায় ফেললেন দুই সুব্রত--সি এ বি সচিব সৌরভ ।। যাত্রী প্রত্যাখ্যান রুখতে শহরে ৫০ ‌ট্যাক্সি বুথ, নজরদারি পথেও ।। হালকা বৃষ্টি চলবে
আজকাল-ত্রিপুরা

দুইখান কথা

বিলোনিয়ার বরটিলা থেকে গরু চুরি

শহরে ৩ শিবিরে রক্ত দিলেন ১২২

ইদ উৎসব: খুশির জোয়ারে ভাসছে প্রতিটি মুসলিম অধ্যুষিত জনপদ

তৈদুতে তীর-জুয়া বন্ধ করতে থানায় গেল টি এস ইউ

তফসিলি জাতি সমন্বয়ের সম্মেলন আমবাসায়

কে সি এ: অভিমন্যু, সানির শতরান

অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিষেবা, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাতে নিগৃহীত বিদ্যুৎকর্মী আমবাসায়

স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে মারার অভিযোগে ধৃত স্বামী জেল হেফাজতে, নারী সমিতির ডেপুটেশন

আরও ৪৮ স্বাস্হ্য শিবির

১৯ বিচারক বদলি হলেন

দুইখান কথা

ধীরে দাদা, ধীরে!

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

চিম্তা শীল

ধারাশ্রী ঢালি৷‌ ৫ বছরের এই গ্রাম্য মেয়েটির নাম চিম্তা-রও মনে ছিল না৷‌ কিন্তু, সেলুনে ক্ষুর-এর সাবান সাফ করিতে গিয়া পুরানা পত্রিকার ছিঁড়া পাতায় চোখ পড়িতেই মনে পড়িয়া গেল৷‌ তারিখটা ছিল ১৮ এপ্রিল ২০১৪৷‌



আসামের বরপেটা জেলার বরোইয়ে জনসভায় যাইতেছিলেন সি পি এমের পলিটব্যুরো সদস্য, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷‌ চেঙ্গা বাজারের কাছে গ্রামের পথে হঠাৎ একছুটে কনভয়ের মাঝে ৫ বছরের সেই মেয়ে ! সতর্ক ড্রাইভার সময়মতো ব্রেক কষিলেন বলিয়াই বাঁচিয়া গেল ধারাশ্রী৷‌ সামান্য চোট হাতে আর কপালে৷‌ কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে কনভয় থামাইয়া নামিলেন৷‌ নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠাইয়া তবেই জনসভায় গেলেন৷‌ ফিরিবার পথে আবার সেই গ্রামে কনভয় থামিল৷‌ ধারাশ্রীদের বাড়ি খুঁজিয়া সেথায় হাজির মুখ্যমন্ত্রী৷‌ মেয়েটির বিস্মিত বাবা-মায়ের সহিত নিজে কথা বলিয়া মুখ্যমন্ত্রী জানিলেন, ধারাশ্রী ভাল আছে, তাহার কিছু হয় নাই৷‌



এই মুখ্যমন্ত্রীরই নির্বাচনী কেন্দ্র ধনপুরের দক্ষিন মহেশপুরে গত ২২ জুলাই ঘটিল আরেকটি দুর্ঘটনা৷‌ একইরকম, কিন্ত্র সম্পূর্ণ অন্যরকম ! স্হান কাল পাত্র আলাদা৷‌ পরিণতি-পরিচর্যাও আলাদা ৷‌ দক্ষিণ মহেশপুর গ্রামেই যাত্রাপুর থানার বাড়ি৷‌ সেদিন সি পি এমের পঞ্চায়েতী বিজয়-মিছিল সবে শেষ হইয়াছে৷‌ কালীকৃষ্ণনগরের রাস্তার মুখে মিছিলের মহিলা পুরুষেরা গাড়ির অপেক্ষায়৷‌ এই সময় বিজেপির-র রাজ্য সভাপতি সুধীন্দ্র দাশগুপ্ত সঙ্গীদের লইয়া একটি গাড়িতে আসিতেছিলেন৷‌ মূল রাস্তার একপাশ দিয়া দ্রুত গতিতে আসিবার সময় গাড়ি ধাক্কা দিয়া বসিল বিমল সূত্রধর নামে এক সি পি এম কর্মীকে৷‌ তিনি পায়ে আঘাত পাইয়া গিয়া পড়িলেন একটি বাঁশঝাড়ের উপর৷‌ বাঁশঝাড়টি না থাকিলে পড়িতেন ২০ হাত নিচে নদীতে! কিন্তু, সুধীন্দ্র থামিলেন না, নামিলেন না! বরং আরও বেগে গাড়ি চালাইতে নির্দেশ দিলেন৷‌ সত্যই, আসামের ধারাশ্রী আর ত্রিপুরার বিমলের অভিজ্ঞতা কত আলাদা!



কিন্তু, শেষ হইয়াও হইল না৷‌ ইহার পরে পাঁচশো মিটার দূরে যাত্রাপুর (কাঁঠালিয়া) থানার সামনে তখন প্রচুর পুলিস, টি এস আর৷‌ সি পি এমের মিছিলের ঘরমুখি মানুষ গাড়িতে উঠিতেছেন৷‌ একপাশে অন্য গাড়ির রাস্তা খোলা ৷‌ ডেসপারেট সভাপতির গাড়ি দ্রুত টানে চলিতে যাইয়া ধাক্কা মারিল সি পি এম নেতা কমল পাল-সহ আরও তিনজনকে৷‌ কমলবাবুর বুকে লাগিয়া গাড়ির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙিল৷‌ এইবার গ্রামীণ জনতা সামান্য ‘গ্রাম্য বিক্ষোভ’ দেখাইল বটে, সুধীন্দ্রবাবু কিন্তু গাড়িতেই বসিয়া রহিলেন৷‌ পরে অবশ্য পুলিস প্রহরায় নামিলেন এবং থানায় ঢুকিয়া ‘আক্রমণ’- এর কমপ্লেন লেখাইলেন৷‌ এমনকি টিভি ক্যামেরা ডাকিয়া আগরতলার ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনিতে ডেসপারেট রাস্তা-অবরোধও ঘটাইলেন!



কেন্দ্রে এখন বিজেপি-র মোদি-সরকার৷‌ ত্রিপুরাতে বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে (দুর্গে) হানা দিয়া ‘আক্রাম্ত’ রাজ্য বিজেপি সভাপতি! কত বড় খবর! ঘটনাস্হল আবার মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র বাংলাদেশের এক কিলোমিটারের মধ্যে! ওরে দাদা-রে! জীবনে সুযোগ বার বার আসে না৷‌ ভোটে ৫টি পঞ্চায়েত, ১৪১টি গ্রাম-আসন আসিয়াছে৷‌ তাহার উপর এই ‘ইস্যু’ ক্লিক করিলে আর দেখিতে হইবে না৷‌ সভাপতির চেয়ার কাড়িতে আসিবে কে! উল্টা – প্রমোশন, প্রমোশন! সুতরাং জোরে শোরে ফুলাও ‘আক্রমণ’-এর বেলুন৷‌ আলুওয়ালিয়াজি আসেন, দিল্লি-বাংলার নেতারা দেখিয়া যান – খেল‍্ কাহাকে বলে!



যেমন তেমন আক্রমণ ? সভাপতিকে খুন করিবার চেষ্টা! ‘৫০-৬০ জন সি পি এম গুন্ডা, সকলের হাতে বড় বড় লাঠি! একযোগে গাড়ি আক্রমণ করিল! এমনকি সভাপতির মাথায়ও লাঠির বাড়ি মারিল৷‌’ চিম্তা-গিন্নি শুনিয়া অত্যম্ত বেয়াদপের মতোই কহিলেন – এ যে দেখিতেছি বুড়া হাড়ের ভেল‍্কি ! বলি, সি পি এমের গুন্ডাদের হাতে কি শিমূল তুলার লাঠি ছিল? একটুও ফুলিল না, ফাটিল না, কাটিল না, একফোঁটা রক্তও ঝরিল না! কোথাও চিকিৎসাও করাইতে হইল না! কহিলাম , গিন্নি – চোপ রও! মাথা কিন্তু ফাটাইবার জন্য নহে, খাটাইবার জন্য৷‌ অনেক মাথা খাটাইয়াই মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে গিয়া ‘আক্রাম্ত’ হইতে হইয়াছে! এক্কেবারে জালিম লোশন! কাম না হইয়া যাইবে কোথা!



গিন্নি কহিলেন, ৫ পঞ্চায়েত আর ১৪১ গ্রাম-আসন, অগ্রগতি সন্দেহ নাই৷‌ কিন্তু, প্রায় সবই তো কংগ্রেসের ‘হাত’-এ পদ্মফুলের শোভা! কংগ্রেসের ভোটে বিজেপি ফোটে৷‌ কাঁঠালিয়া ব্লকে সব গ্রাম পঞ্চায়েত নাকি ভাগাভাগি করিয়া লড়িয়াছে কংগ্রেস, তৃণমূল আর বি জে পি৷‌ সি পি এমের বিরুদ্ধে এক গ্রামে শুধু কং প্রার্থী , পরের গ্রামে শুধু বিজেপি, ইহার পরের গ্রামে কেবল তৃণমূল! এই মিলিঝুলির মাটিতে কোন জাতের পদ্ম ফুটিবে! সভাপতিবাবুকে বলি, এত অধৈর্য্য হইতেছেন কেন! কী প্রমাণ করিতে চাহিতেছেন? সুদীপ-বীরজিৎরা ব্যর্থ? রতন-সুরজিতেও হইবে না? আপনি একাই একশো? নিজেকে আয়নায় দেখিয়া ‘ত্রিপুরার মোদি ’ ভাবিতেছেন? কিন্তু আপনার হাতে তো কোনও একটা ‘গুজরাট-দাঙ্গা’-র সার্টিফিকেট নাই! শিষ্যদের মধ্যে একজনও ‘অমিত শাহ‍্’ নাই৷‌ আপনাকে ‘ত্রিপুরার মোদি’ হইতে অনেক অ-নে-ক দূর যাইতে হইবে যে! ধীরে দাদা, ধীরে!


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited