Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ২০ ফাল্গুন ১৪২১ বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
দেশ জুড়ে ৪৩ জায়গায় তল্লাশি, খোঁজ নেই গৌতমের --সোমনাথ মণ্ডল, কলকতা প্ত তাপস দেব, আগরতলা ।। কলকাতায় অরাজনৈতিক প্রার্থী দিচ্ছে না তৃণমূল--দীপঙ্কর নন্দী ।। লোক ঠকানো মুদ্রা! গ্রেপ্তার জি টি এ-র চেয়ারম্যান--অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি ।। পুরভোটে আসন-সমঝোতা: এস ইউ সি-লিবারেশনের সঙ্গে কথা হবে বামফ্রন্টের ।। সি পি এমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকাম্ত?--অরুন্ধতী মুখার্জি ।। উন্নয়নের জন্য যাচ্ছি দিল্লি, রাজনীতির জন্য নয়, বললেন মমতা ।। বেঙ্কাইয়ার কাছে মুকুল ও স্বপন--রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি ।। রোজভ্যালিতে তল্লাশি, সি বি আইয়ের নজর পড়ল আই পি এলেও--সব্যসাচী সরকার ।। অশ্বিন শুরু করতে পারে--সুনীল গাভাসকার ।। গেইল সেঞ্চুরি পেলেও ভারত জিতবে: হোল্ডিং --দেবাশিস দত্ত ।। রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী দোলা ।। রেপো রেট কমল, সুদের হার কমল গৃহঋণেও
আজকাল-ত্রিপুরা

রাজ্যেও রোজভ্যালিতে সি বি আই হানা

হোলি, ফাগুয়া, দোলযাত্রা

হোলির রঙে আনহোলি বিপদ!

পূর্ণ সাক্ষরতার লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছে দক্ষিণ জেলা

অধিবেশন মুলতুবি

ককবরক শব্দ ভাণ্ডারের ওপর কর্মশালা শুরু খুমুলুঙে

সংসদে দাবি জিতেন্দ্রর

কণিকা খুনে ধৃত দেবর: রিমান্ড না হলেও ফের আবেদন করবে পুলিস

সি সি ক্যামেরা বিকল: সোনামুড়া স্টেট ব্যাঙ্কে বৃদ্ধের ৪০ হাজার হাপিশ

টি এম সি-তে নিয়মিত হলেন প্রায় ৪০০ কর্মী, টাকা দ্বিগুণ

রাজ্যেও রোজভ্যালিতে সি বি আই হানা

জিজ্ঞাসাবাদ, বাজেয়াপ্ত প্রচুর নথি, ডিরেক্টর আটক

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আজকালের প্রতিবেদন: দেশের নানা জায়গার সঙ্গে রাজ্যেও রোজভ্যালির বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক অভিযান চালাল সি বি আই৷‌ বুধবার কলকাতা, ভুবনেশ্বর, আগরতলা-সহ রোজভ্যালির বিভিন্ন অফিসে সি বি আইয়ের একযোগে এই অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷‌ আগরতলায় সংস্হার সদর দপ্তরে সকাল ৭টা থেকে সন্ধে পর্যম্ত প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা অভিযানে সি বি আই রোজভ্যালির বেশ কিছু নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নেয়৷‌ রোজভ্যালির ত্রিপুরা আঞ্চলিক অধিকর্তা বলে পরিচিত অশোকচন্দ্র সাহাকে জরুরি তলবে কলকাতা থেকে আনিয়ে, তাঁকেও সি বি আই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়৷‌ আগরতলা, উদয়পুর, মোহনপুর, রানীরবাজার-সহ অম্তত সাতটি জায়গায় সি বি আই একযোগে এই অভিযানে নামে বলে খবর৷‌ আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের দক্ষিণ পাশে রোজভ্যালির নবনির্মিত সদর দপ্তরে ডি এস পি পদমর্যাদার তিন আধিকারিক-সহ সি বি আইয়ের কম করেও ২৫ থেকে ৩০ জনের দল অভিযান চালায়৷‌ সি বি আইয়ের এই অভিযান সম্পর্কে আগেভাগে রাজ্য পুলিসকে কিছুই জানানো হয়নি বলে পশ্চিম জেলার পুলিস সুপার বিজয় নাগ জানিয়েছেন৷‌ তবে মঙ্গলবার সি বি আইয়ের তরফে পুলিসের সাতজন মহিলা পুলিস কনস্টেবল চেয়ে চিঠি দিয়েছিল৷‌ কেন, কোথায়, কখন তার বিস্তারিত কিছুই জানায়নি৷‌ তবে তাদের দাবিমতো মহিলা পুলিস কনস্টেবল দিয়ে দেওয়া হয়৷‌ সি বি আই দল এদিন যেখানেই গেছে, সঙ্গে ওই মহিলা কনস্টেবলদের নিয়ে গেছে৷‌ রাজ্য পুলিসকে যে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি তার আরেকটি উদাহরণ হতে পারে সি বি আই দলের ব্যবহূত গাড়ির নম্বর৷‌ বিভিন্ন ধরনের ৬-৭টি গাড়ি৷‌ তার মধ্যে একটি সম্ভবত দিল্লির রেজিস্ট্রেশন নম্বর৷‌ বাকিগুলো ত্রিপুরার রেজিস্ট্রেশন৷‌ যেগুলির গায়ে লেখা ছিল ও এন জি সি-নিপকো৷‌ কেন্দ্রীয় সংস্হার ব্যবহূত গাড়ি৷‌ সম্ভবত ও এন জি সি বা নিপকো জানত, সি বি আই আসছে বলে৷‌ সূত্রে জানা গেছে, গত ২-৩ দিন ধরে সি বি আইয়ের একটি বড় দল ধর্মনগরে গোপন অবস্হান নেয়৷‌ তার পর বুধবার আগরতলা, বিলোনিয়া, উদয়পুরে এই অভিযান৷‌ চিটফান্ড কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কেস নম্বর ৩৯ (এস) ২০১৪’ এই মামলা নিয়ে ত্রিপুরায় আসে সি বি আই দল৷‌ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের পাশে সুদৃশ্য বহুতল, রোজভ্যালি কার্যালয়ে অভিযান চালায় সি বি আই৷‌ সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিসের এস ডি পি ও (সদর) রাজেন্দ্র দত্ত৷‌ তিনি আজকালকে জানান, অম্তত ২০ জনের সি বি আই দল রোজভ্যালি কার্যালয়ে অভিযানে নামে৷‌ মাঝে অন্যান্য সি বি আই দলও অভিযানে আসে রোজভ্যালি দপ্তরে৷‌ আবার বেরিয়েও যায়৷‌ সকাল ৭টা নাগাদ অফিসে ঢোকে সি বি আই দল৷‌ সন্ধে সাড়ে ৫টার পর সি বি আই দল যখন বেরিয়ে যায়, সঙ্গে করে রোজভ্যালির বেশ কিছু নথিপত্রও ফাইলবন্দী করে সঙ্গে করে নিয়ে যায়৷‌ কলকাতা ও শিলং থেকেই আসে সি বি আই দল৷‌ দলে রয়েছেন সি বি আইয়ের ডি এস পি (কলকাতা) এম আর হাজুং এবং এল টি শালু, শিলং থেকে ডি এস পি টি আর নেওয়ার৷‌ সঙ্গে চারজন ইনস্পেক্টর৷‌ গুয়াহাটি থেকে আর এস বসু, শিলংয়ের বিশ্বজিৎ ঘোষ ও লালটিং রিয়াং৷‌ সি বি আইয়ের এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোজভ্যালি দপ্তরের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে কৌতূহলীদের৷‌ এঁদের মধ্যে অনেকে রোজভ্যালির এজেন্ট বা আমানতকারী৷‌ অনেকের চোখে-মুখেই উৎকন্ঠা৷‌ ভিড় জমে যায় সাংবাদিক, ফটোগ্রাফারদের৷‌ যতক্ষণ সি বি আই রোজভ্যালির ৬ তলার এই বাড়িতে ছিল, ততক্ষণ অফিসের বাইরে ঠায় দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা৷‌ সি বি আইয়ের কোনও অফিসার ভেতরে ঢুকতে গেলে বা বাইরে বেরিয়ে এলেই ছেঁকে ধরছেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা, টিভি ক্যামেরাম্যানরা৷‌ কিন্তু কেউ কোনও কথাই বলেননি৷‌ ভিড় সামলাতে পশ্চিম আগরতলা থানার ও সি মিলন দত্তের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী আসে৷‌ রোজভ্যালি দপ্তরের গেট আগলে দাঁড়িয়ে থাকে তারা৷‌ এর মধ্যে পুলিস সুপার বিজয় নাগও ঘুরে যান চত্বর৷‌ সকালেই সি বি আই দল বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে আগরতলা শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্হানে ছুটে যায়৷‌ পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন সূত্রে বুধবার রাত পর্যম্ত যা জানা যায়, সি বি আই ধলেশ্বরের বাসিন্দা সম্তোষ ভৌমিক ও নারায়ণ দাসের বাড়ি গিয়ে তাঁদেরও নিয়ে আসে রোজভ্যালি দপ্তরে৷‌ দু’জনেই রোজভ্যালির এজেন্ট৷‌ রানীরবাজার থেকে এজেন্ট সম্তোষ সাহা ও সম্তোষ দেবনাথ, চন্দন দেবনাথকেও নিয়ে আসে সি বি আই দল৷‌ তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে সি বি আই৷‌ রোজভ্যালির অন্যতম কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ রায়কেও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে জানা গেছে৷‌ এর মধ্যেই কলকাতায় অবস্হানরত রোজভ্যালির আঞ্চলিক অধিকর্তা অশোকচন্দ্র সাহাকে আগরতলায় আসার জরুরি তলব পাঠায় সি বি আই৷‌ তলব পেয়ে বিকেলের বিমানে আগরতলায় পৌঁছতেই বিমানবন্দর থেকেই অশোক সাহাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয় সি বি আই৷‌ তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে সি বি আই৷‌ সি বি আই অভিযান এখানেই শেষ না শুরু, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷‌ তবে অন্য সূত্রে জানা যায়, আগরতলার বোধজং চৌমুহনির কাছে ভুতুরিয়া এলাকায় রোজভ্যালির এজেন্ট অনিরুদ্ধ রায়ের তিনতলা বাড়িতে যায় সি বি আই দল৷‌ কিন্তু তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি৷‌ এদিকে সংস্হার আঞ্চলিক অধিকর্তা অশোক সাহাকেও সি বি আই হেফাজতে নেওয়ার খবরের সত্যতা জানা যায়নি৷‌ তাছাড়া এজেন্ট সম্তোষ ভৌমিক নাকি এখন কলকাতায়৷‌ ধলেশ্বরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় সি বি আই৷‌ অশোক সাহার মঠ চৌমুহনির বাড়িতেও যায় সি বি আই দল৷‌ বুধবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, সি বি আইয়ের অভিযান নিয়ে রাজ্য সরকার কিছু জানে না৷‌ বিধানসভায় এর মধ্যেই খবর ছড়ায়, সি বি আই নাকি রোজভ্যালি মামলায় ত্রিপুরার মন্ত্রী, বিধায়ক মিলে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়৷‌ এর জন্য বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে৷‌ এই প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ রমেন্দ্রচন্দ্র দেবনাথের কাছে জানতে চাওয়া হলে অধ্যক্ষ জানান, এ ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই৷‌ তাছাড়া বিধায়ক-মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার ইত্যাদির ব্যাপারে অধ্যক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয় না৷‌ শুধু জানিয়ে দিলেই হয়৷‌ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ত্রিপুরা সরকার রোজভ্যালি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন চিটফান্ড সংস্হার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা নেয় ২০১৩ সালের আগস্ট পর্যম্ত৷‌ সংস্হাগুলোর প্রায় সবই ত্রিপুরার বাইরের৷‌ তাই কেন্দ্রীয় সংস্হাই তদম্ত করতে পারে৷‌ মামলাগুলোর তদম্তভার সি বি আইয়ের হাতে নিতে অনুরোধ পাঠায় রাজ্য৷‌ এর মধ্যে ৫টি মামলা হাতে নিয়ে তদম্ত শুরু করে সি বি আই৷‌ সি বি আই যে-সব মামলা হাতে নিয়েছে সেগুলো হল– গুয়াহাটির ডেফোডিল অ্যাসোসিয়েটস, কৈলাসহরের প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রোজে’স অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেড, পশ্চিমবঙ্গের এম এ পি অ্যাগ্রো-অ্যানিমেলস প্রোজে’স লিমিটেড, আগরতলার রামনগরের কসমিক নেগোসিয়েটেড লিমিটেড এবং রানীরবাজারের সেলফ ট্রাস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড. ত্রিপুরায় রোজভ্যালি সংক্রাম্ত কোনও মামলা সি বি আই হাতে নেয়নি৷‌ পশ্চিমবঙ্গের মামলার সূত্র ধরেই ত্রিপুরায় এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে৷‌ তাছাড়া অন্যান্য চিটফান্ড সংস্হাও রয়েছে৷‌ রোজভ্যালির নিজেদেরই রয়েছে ১৩টি সংস্হা৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited