Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা 7 বৈশাখ ১৪২১ সোমবার ২১ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
ভোটের মুখে ই ডি-র সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অমিত, মুকুল ।। মমতা ডালুবাবুকে ছুটিয়ে ছেড়েছেন! ।। সারদা-কাণ্ড: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসারদের হাতে এল নতুন তথ্য ।। মোদি হাওয়া মুলায়মেই!--দেবারুণ রায়, মৈনপুরী ।। কোনও ম্যাচ ফিক্সিং করতে দেবেন না: মমতা ।। দুষ্কৃতীরা ভাবছে বাংলায় তাদের দলের সরকার চলছে: মানিক ।। সারদার কোটি কোটি টাকা কোথায় কার হাতে গেল তা প্রকাশ পাবেই: বুদ্ধ ।। রাজ্যে ফের পরিবর্তন চাইলেন নানা ঘটনায় আক্রাম্তরা ।। একই সুরে কারাত, মুলায়ম: কেন্দ্রে আসছে তৃতীয় মোর্চাই ।। নির্বাচন কমিশনের কাছে অবাধ, ভোটের দাবি বিশিষ্টদের ।। ছিটেফোঁটা বৃষ্টিতে স্বস্তি মিলল না ।। শাম্তিপূর্ণ ভোট চাইছে না শাসক দল: বিমান
ভারত

মোদি হাওয়া মুলায়মেই!

‘মোদি-বিরোধীরা পাকিস্তানে চলে যান’

দেশের মুড়ি আর মার্কসবাদ দুটিই অমিল হওয়ায় মুম্বইয়ে ভোটই দেন না সাড়ে চার লক্ষ স্বর্ণশিল্পী

একই সুরে কারাত, মুলায়ম: কেন্দ্রে আসছে তৃতীয় মোর্চাই

গিলানির কাছে মোদির দূত!

কংগ্রেসের প্রশ্ন: আদবানি, যোশি, লালু, মমতা, সবাইকে যেতে হবে পাকিস্তানে?

খুচরো খবর

মোদি হাওয়া মুলায়মেই!

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবারুণ রায়, মৈনপুরী

মুলায়ম সিং যাদবের পুত্রবধূ ও মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল মৈনপুরীবাসীর কাছে আপিল করেছেন, তাঁর শ্বশুরকে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী করা হোক৷‌ ডিম্পলের আবেদনে রীতিমতো সাড়া পড়ে গেছে এই জনপদে৷‌ সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমোর নামে এমন হাওয়া উঠেছে যে ভোটের আগেই যেন সবকিছুর নিষ্পত্তি হয়ে গেছে৷‌ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার কল্যাণে রাস্তার ঘাটে অবশ্য ব্যানার, পোস্টার, হোর্ডিং, ওয়ালিং কিছুই নেই৷‌ শুধু বাড়ির ছাদে ছাদে উড়ছে সমাজবাদী পার্টির ঝান্ডা৷‌ দল বলতে একটাই৷‌ বি জে পি-র ‘কমল কা নিশান’ একটাও চোখে পড়েনি৷‌ মোদির হাওয়া নেই, বরং হাওয়া হয়ে গেছেন মোদিই৷‌ মৈনপুরীতে হাওয়া এমন উল্টোমুখে বইছে যে বি জে পি-র প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এখানকার আকাশ ছুঁয়ে উড়ে গেলেও এ চত্বরে পদার্পণ করেননি৷‌ তিনি ইটাওয়ায় জনসভা করে গেছেন কিন্তু মৈনপুরী মুখো হননি৷‌ মোদির হয়ে মৈনপুরীতে ঝান্ডা তোলার লোকও নেই৷‌ বাজার ছাড়িয়ে শহরের একপ্রাম্তে রাজু যাদবের বাড়িতে সমাজবাদী পার্টির কার্যালয়৷‌ সেখানে গিয়ে দেখা হল দলের জেলা মহাসচিব সুখবীর সিং যাদবের সঙ্গে৷‌ মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আজ মৈনপুরীতে সভা করতে এসেছেন৷‌ তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্হা করতে আগাম পৌঁছেছেন পুলিস অফিসাররা৷‌ তাঁদের সঙ্গেই সুখবীর সিং কথা বলছিলেন৷‌ কথা শেষ করে তিনি বলেলন, এখানে ‘নেতাজির’ পক্ষে একতরফা ভোট৷‌ মুলায়মকে ঘনিষ্ঠ মহলে সবাই ‘নেতাজি’ বলেই ডাকেন৷‌ সুখবীরের কথায়: এখানে নেতাজির নামে সমস্ত জাত বেরাদরি এক হয়েছে৷‌ যে-কোনও গ্রামে যান, সবাই বলবেন, অন্য প্রার্থীদের কারও জামানত বাঁচবে না৷‌ অথচ কোথাও কোনও জোরজুলুম, ভয়, লোভ লালসার ব্যাপার নেই৷‌ জাটবরা সর্বত্র বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে৷‌ কিন্তু মৈনপুরীতে জাটবরাও আমাদের সঙ্গে৷‌ শাক্য জাতির অনগ্রসররাও চিরকাল বসপার সঙ্গে থেকেছেন৷‌ কিন্তু এবার শাক্যরাও জানিয়ে দিয়েছেন তারা নেতাজিকেই ভোট দেবেন৷‌ বি জে পি-র প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার এস এস চৌহান আগে সমাজবাদী পার্টিতেই ছিলেন৷‌ সম্প্রতি বি জে পি-তে যোগ দিয়েছেন৷‌ ব স পা-র নেতা স্বামীপ্রসাদ মৌর্যর মেয়ে সঙঘমিত্রা মৌর্য লড়ছেন ব স পা-র টিকিটে৷‌ তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হতে চান৷‌ এ জন্যই মায়াবতীকে খুশি করতে তাঁর মৈনপুরীতে দাঁড়ানো৷‌ ‘আপ’-এরও একজন প্রার্থী আছেন কেন্দ্রে৷‌ বাবা হরদেব সিং৷‌ এই তিনজনই লোকসভা ভোটে প্রথমবার লড়ছেন৷‌ কংগ্রেস মৈনপুরীতে মুলায়মের বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী দেয়নি৷‌ বলেছে, সৌজন্যের খাতিরেই৷‌ একই সৌজন্য স পা-ও দেখিয়েছে কংগ্রেসকে৷‌ রায়বেরিলি, আমেথিতে৷‌ এদিকে মুলায়ম মৈনপুরীতে নিশ্চিত জয় ধরে রেখে উত্তরপ্রদেশের আজমগড় থেকেও লড়ছেন৷‌ সুখবীর সিং যাদবের মতে, স পা-র পূর্বাঞ্চলের লোকেরা দাবি জানিয়েছিলেন তাই নেতাজি জানান দিতে চান যে তিনি পূর্বাঞ্চলেও আছেন৷‌ এতে কর্মীদের মনোবল বেড়েছে৷‌ বি জে পি দুটি আসনে মোদিকে দাঁড় করিয়ে, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে মোদিকে এনে যে বার্তা দিতে চায় তার পাল্টা বার্তা দিয়েছেন মুলায়ম৷‌ এদিকে মৈনপুরীতে তাঁর দুর্গের মূল পরিচালনভার মুলায়মের সম্পর্কিত নাতি তেজপ্রতাপ সিং যাদবের হাতে৷‌ এ ছাড়া লোকসভা ভোটের প্রভারি করা হয়েছে এম এল সি নরেশ উত্তমকে৷‌ তাঁরা বলছেন, নেতাজি নিজে বেশি সময় দিতে পারছেন না মৈনপুরীতে৷‌ গোটা লোকসভা কেন্দ্রে তিনি মাত্র দুটি জনসভা করেছেন৷‌ বাকি দায়দায়িত্ব সবই আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন৷‌ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করার দায়িত্ব মৈনপুরীর৷‌ দু’বার তিনি হতে হতে হননি৷‌ এবার হবেনই৷‌ মৈনপুরী লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র পড়ে৷‌ এগুলি হল মৈনপুরী, ভোগাঁও, কিসনি, করহল ও যশবম্তনগর৷‌ যশবম্তনগরের মধ্যেই পড়ে মুলায়মের নিজের গ্রাম সৈফই৷‌ গোটা লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে যশবম্তনগরই সবচেয়ে বেশি লিড দেয় ভোটে৷‌ লিডের দিক থেকে যশবম্তনগরের পরেই হল করহল৷‌ তবে মুলায়মকে এ আসনে নিরাপত্তা দিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যা’র৷‌ ফ্যা’র হল পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রই সমাজবাদী পার্টির বিধায়কদের দখলে৷‌ সুতরাং মৈনপুরীতে মুলায়মের প্রাধান্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই৷‌ এর পেছনে ভূমিপুত্র হওয়াটা একটা মস্তবড় কারণ৷‌ তাঁর নামেই এখানে ভোট হয়৷‌ তাঁর নামে প্রচারই এখানে পাঁচ বিধায়ককে জিতিয়েছে৷‌ তাঁরা দলের জবরদস্ত সংগঠনকে ধরে রেখেছেন ও তার বিস্তার ঘটিয়েছেন৷‌ সেই সঙ্গে উন্নয়নের কাজেও ঢিল দেননি মুলায়ম৷‌ মৈনপুরীতে সড়ক যোগাযোগ যথেষ্টই উন্নত৷‌ রেল যোগাযোগের দিক থেকে অবশ্য অনেকটাই পিছিয়ে আছে মৈনপুরী৷‌ অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেও এ নিয়ে কিছু করে উঠতে পারেননি সমাজবাদীদের নেতাজি৷‌ এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের কড়া দাওয়াই যথেষ্ট পরিমাণেই জুটছে উত্তরপ্রদেশের বরাতে৷‌ খোদ মৈনপুরীর জেলাশাসককেই সরিয়ে দিয়েছে কমিশন৷‌ সেই সঙ্গে ২৫ জন এস পি-কেও বদলি করা হয়েছে৷‌ কিন্তু মুলায়ম বলে দিয়েছেন, কমিশন যাই করুক, কমিশনের সঙ্গে ঝগড়া করা চলবে না৷‌ তাদের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে৷‌ মৈনপুরী জেলার স পা মহাসচিব বলেন, বাংলার মমতা ব্যানার্জি সরকারের মতো আমরা কমিশনের সঙ্গে কোনও ব্যাপারে বিরোধে যাইনি৷‌ নেতাজির নির্দেশে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ নির্বাচন কমিশনের কথামতোই কাজ করেছেন ও করছেন৷‌ কারণ, আমরাও চাই ভোট শাম্তিতে পড়ুক৷‌ কমিশন যা চাইছে তাতে সব মত ও পথের, গণতন্ত্রের স্বার্থরক্ষা হবে৷‌ অন্য দিকে মুলায়মের ভোটে জেতার সূত্র হল যাদব-মুসলিম ঐক্য৷‌ বি জে পি বলতে চাইছে, মুজফ‍্ফরনগরের দাঙ্গার পর মুসলমানদের মুলায়মের প্রতি আস্হায় চিড় ধরেছে৷‌ কিন্তু স পা-র দপ্তরে বসেই স্হানীয় প্রবীণ শাহিদ সিদ্দিকী বললেন, দাঙ্গাপীড়িতদের যেভাবে আগলে রেখেছে এই সরকার, তা একটা দৃষ্টাম্ত৷‌ ত্রাণ সাহায্যও দেওয়া হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ৷‌ তা ছাড়া মুসলমান মুলায়মকে ছেড়ে এখানে যাবে কোথায়? ঐতিহ্যপূর্ণ মৈনপুরী গোড়া থেকেই কংগ্রেস ও সঙঘ বিরোধী সমাজবাদীদের ঘাঁটি৷‌ স পা-র জন্মের আগে থেকে৷‌ মুলায়ম সেই ধারাবাহিকতাই সঙ্গে নিয়ে চলছেন৷‌ স পা দপ্তর থেকে বেরিয়ে আসার সময় দেখা হল দৈনিক জাগরণের সাংবাদিক রাকেশ রাগির সঙ্গে৷‌ তিনি বললেন, ধরে নিন এখানে ভোট হয়ে গেছে৷‌ এখানে মুলায়ম ছাড়া কোনও চমক নেই৷‌






bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited