Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ চৈত্র ১৪২১ রবিবার ২৯ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর   আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--গোঁফে তেল, ডাহা ফেল ।। দেবজিতের মাইলস্টোন--সুরজিৎ সেনগুপ্ত ।। ক্লার্কের শেষ ওয়ান ডে ।। ইতিহাস গড়ে ফাইনালে ।। হুমকি, হামলা, মারধর, ভয়, মনোনয়ন তুলল বিরোধীরা ।। প্রহসনের ভোট শুরু হয়ে গেল, অভিযোগ সমস্ত বিরোধীর ।। রোজভ্যালির কোর কমিটির সদস্যদের জেরা ।। ভোটের আগেই ৩ পুরসভা তৃণমূলের দখলে ।। যোগেন্দ্র, প্রশাম্তকে তাড়িয়ে ছাড়লেন কেজরিওয়াল ।। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ: উদ্বেগ জানালেন রাজ্যপাল, সিদ্ধার্থনাথ ।। খাগড়াগড়-কাণ্ডে ঢাকায় ধৃত ১ ।। আরেকটি উপগ্রহ
ভারত

যোগেন্দ্র, প্রশাম্তকে তাড়িয়ে ছাড়লেন কেজরিওয়াল

সরলা বিড়লার জীবনাবসান

রাজ্যসভা স্হগিত, আসছে আবার জমি অর্ডিন্যান্স

আরেকটি উপগ্রহ

খুচরো খবর

যোগেন্দ্র, প্রশাম্তকে তাড়িয়ে ছাড়লেন কেজরিওয়াল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



দেবারুণ রায়: দিল্লি, ২৮ মার্চ– আম আদমি পার্টির ওপরতলার অম্তর্কলহ চরম চেহারাই নিল৷‌ আপ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম প্রশাম্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদবকে দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য জাতীয় কর্মসমিতি থেকে অপসারিত করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর অনুগামীরা৷‌ বলাই বাহুল্য, এরপর তাঁদের দলে থাকাই দায় হয়ে উঠবে৷‌ অপসারিত দুই নেতা বললেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হল৷‌ রীতিমতো গুন্ডামি চলেছে৷‌ আদালতে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা৷‌ তাঁদের দুই অনুগামী আনন্দ কুমার এবং অজিত ঝা-কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷‌ দিল্লির উপকন্ঠে কাপাসহেরার এক রিসর্টে আজ আপের জাতীয় পরিষদের বৈঠক ঝাঁজালো হয়ে ওঠে এই তিক্ত নাটকের৷‌ এর প্রতিক্রিয়ায় আপের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী মেধা পাটেকর৷‌ মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, যোগেন্দ্র বা প্রশাম্ত দলবিরোধী কাজকর্ম করেছেন, এটা আমার জানা নেই৷‌ ওঁদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, আমি তার নিন্দা করছি৷‌ যা হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক৷‌ সোস্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে আপ সমর্থকদের ঝগড়া, হতাশা৷‌ আর গ্যালারি থেকে কেজরিওয়ালদের দিকে প্রাণের সুখে বাক্যবাণ ছুঁড়ে যাচ্ছে বি জে পি, কংগ্রেস৷‌ এদিন আপের জাতীয় পরিষদের বৈঠকে প্রচণ্ড হট্টগোল ও চরম নাটকীয় পরিস্হিতির মধ্যে যোগেন্দ্রদের বহিষ্কার করার প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়৷‌ ২৪৭ জন সদস্য এই প্রস্তাব সমর্থন করেন৷‌ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন ১০ জন সদস্য৷‌ ভোটদানে অংশ নেননি ৫৪ জন৷‌ তথ্যটি জানান আপের জাতীয় সম্পাদক পঙ্কজ গুপ্তা৷‌ ভোটাভুটির ঠিক আগেই জ্বালাময়ী ভাষণে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লি ভোটের সময় প্রশাম্ত ভূষণ, তাঁর বাবা শাম্তি ভূষণ এবং যোগেন্দ্র যাদব যথাসাধ্য চেষ্টা করেন দলকে হারানোর জন্য৷‌ কেজরিওয়ালের সাফ কথা, হয় আমি থাকব, না হয় এঁরা৷‌ ভাষণ দিয়েই কেজরিওয়াল সভা থেকে বেরিয়ে যান৷‌ এর পর যা হওয়ার তাই হল৷‌ মণীশ শিশোদিয়া চটজলদি প্রস্তাব আনলেন যোগেন্দ্রদের জাতীয় কর্মসমিতি থেকে সরতে হবে৷‌ তুমুল হইচইয়ের মধ্যে ভোটাভুটি এবং প্রস্তাব পাস৷‌ কেজরিওয়ালের অনুপস্হিতিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দিল্লির পরিবহণ মন্ত্রী গোপাল রাই৷‌ বৈঠকের পর যাদব ও ভূষণ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন৷‌ বলেন, বৈঠকে অবৈধ উপায় অবলম্বন করা হয়েছে৷‌ গুন্ডা নিয়ে আসা হয়েছে৷‌ যাঁরা প্রস্তাবের বিরোধী বেশ কয়েকজন জাতীয় পরিষদ সদস্যকে মারধর করেছে৷‌ গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে৷‌ আগে থেকে তৈরি করা চিত্রনাট্যের ভিত্তিতে সব কিছু হয়েছে৷‌ কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রস্তাব উত্থাপন ও পাস হয়ে যায়৷‌ নিয়মকানুন সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে এটা করা হয়েছে৷‌ এভাবেই অভিযোগ করেন যাদব৷‌ ভূষণ বলেন, কেজরিওয়াল সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে এসেছিলেন আমাদের লাথি মেরে দল থেকে বের করে দিতে৷‌ বেশ কয়েকজন জাতীয় পরিষদ সদস্য বিরোধিতা করতে গিয়ে হেনস্হা হয়েছেন৷‌ তাঁদের ও যাবদকে আহত হতে হয়েছে৷‌ কেজরিওয়াল গতকাল স্ট্রিং অপারেশনের সময় যা যা বলেছিলেন, আজকের বৈঠকে তাই তাই করা হয়েছে৷‌ কোনও আলোচনা হয়নি৷‌ কোনও গোপন ভোটও হয়নি৷‌ কেজরিওয়ালের আচরণ স্বৈরতান্ত্রিক৷‌ বিক্ষোভের কন্ঠস্বর তিনি বরদাস্ত করতে পারেন না৷‌ কেজরিওয়ালের অনুগত আশুতোষ অভিযোগ করেন, জাতীয় পরিষদ সদস্যরা বৈঠকে নিগৃহীত হয়েছেন বলে যোগেন্দ্র যাদব মিথ্যা প্রচার করছেন৷‌ কোনও ধাক্কাধাক্কি বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি৷‌ সহানুভূতি পাওয়ার জন্য এ সব বানানো কথা প্রচার করা হচ্ছে৷‌ তিনি বলেন, জনা বারো সদস্য বহিষ্কারের প্রস্তাবে আপত্তি করেন৷‌ বিপুল সদস্যের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়৷‌ আপের অভ্যম্তরীণ লোকপাল রামদাসকে বলা হয় বৈঠকে যোগ না দিতে৷‌ সঙঘাত এড়ানোর জন্যই তাঁকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়৷‌ বিদ্রোহী নেতারা এ ঘটনার সমালোচনা করেন৷‌ প্রশাম্ত ভূষণ বলেছেন, লোকপালকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি৷‌ এটা পূর্বপরিকল্পিত৷‌ ওরা আজ যা করেছে তা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে৷‌ অরবিন্দ ও তাঁর গোষ্ঠীর লোকেদের মানসিকতা কী, আজকের ঘটনা তারই প্রমাণ৷‌ এদিকে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে রামদাসের লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন যোগেন্দ্র যাদব৷‌ দলীয় নেতৃত্বকে লেখা এই চিঠিতে প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান রামদাস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, কেন সঙঘাত এড়াতে তাঁকে এই বৈঠক থেকে দূরে থাকতে বলা হল সেটাই বিস্ময়কর৷‌ চিঠিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ গুপ্তার এস এম এস উল্লেখ করে বলেন, তাঁকে বৈঠকে যোগ না দেওয়ার জন্য অনেক কারণ দেখানো হয়েছিল৷‌ বৈঠকের আগে যাদব বৈঠকস্হলের বাইরে ধর্নায় বসেন মিনিট কুড়ির জন্য৷‌ অভিযোগ করেন, কেজরিওয়াল বিরোধী শিবিরের কিছু জাতীয় পরিষদ সদস্যকে বৈঠকে যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছে না৷‌ যাদব ও ভূষণ আজ বলেছেন, তাঁদের বহিষ্কারের ঘটনা অসাংবিধানিক ও বেআইনি৷‌ সুবিচারের জন্য তাঁরা আদালতে যেতে পারেন৷‌ ভূষণ বলেন, তাঁদের সামনে সমস্ত সম্ভাবনার দরজাই এখন খোলা৷‌ তাঁরা আদালতে ও নির্বাচন কমিশনে যেতে পারেন৷‌ নতুন করে জাতীয় পরিষদের বৈঠকও ডাকতে পারেন৷‌ দুই নেতা বলেন, বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে কেজরিওয়াল সবাইকে উস্কানি দিয়েছেন৷‌ যখন কিছু সদস্যকে হেনস্হা করা হচ্ছে, তখন তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি৷‌ বরং বক্তৃতায় বলেছেন, আমাদের বের করে দেওয়া না হলে তিনি ইস্তফা দেবেন৷‌ তিনি এক ঘণ্টার নাটকীয় বক্তৃতা দেন৷‌ গোটা বক্তৃতাটাই ছিল আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে ঠাসা৷‌ তারপর দশজন লোক, যাঁদের মধ্যে ছিলেন কপিল মিশ্রর মতো এম এল এ, উঠে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন৷‌ আমাদের বলা হয় বিশ্বাসঘাতক৷‌ এই নাটক চলে ৫-৭ মিনিট৷‌ কেজরিওয়াল নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন৷‌ এবং বক্তৃতার পরই তিনি চলে যান৷‌ এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া যাদব ও ভূষণকে বহিষ্কারের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন৷‌ শিশোদিয়া বলেন, ১৬৭ জন সদস্য প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন৷‌ তার ওপর ভোট নেওয়া শুরু হয়ে যায় প্রস্তাবগুলিকে সমর্থনের পর্ব সমাধা হওয়ার আগেই৷‌ শিশোদিয়া বলেন, আমরা রাইকে বলি বিতর্ক শুরু করুন, তারপর গোপন ভোটের প্রস্তুতি নিন৷‌ কিন্তু তিনি কোনও সাড়া দেননি৷‌ ভূষণ ও যাদব যখন বৈঠকস্হল থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন কেজরিওয়ালের সমর্থকরা স্লোগান দিতে দিতে তাঁদের দিকে এগিয়ে যান৷‌ পুলিস গিয়ে ভূষণ ও যাদবকে ঘিরে ফেলে৷‌ বিধানসভার ভোটে কেজরিওয়ালদের কাছে পর্যুদস্ত বি জে পি আপের অশাম্তি লুফে নিয়েছে৷‌ দলের মুখপাত্র নলিনী কোহলি আজ বলেন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে আপের ভেতর৷‌ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই কেজরিওয়ালদের৷‌ কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক সিংভি বলেন, চরম ক্ষমতা চরম অনৈতিকতায় পৌঁছে দিয়েছে আপ-কে৷‌ সি পি এম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি এদিন জম্মুতে সাংবাদিকদের বলেন, দিল্লির মানুষ অনেক ভালবাসায় আপ-কে ক্ষমতায় বসিয়েছে৷‌ আপের উচিত প্রতিশ্রুতি পালনে মন দেওয়া৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || nepathya bhasan || khela ||
sunday || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited