Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ বৈশাখ ১৪২১ শনিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
রাতভর হোটেলে জেগে কাটালেন মমতা ।। আমাকে মেরে ফেলার চক্রাম্ত করা হয়েছিল: মমতা ।। মুখ্যমন্ত্রীর সভার কাছেই জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হল! ।। বি জে পি-র অঙ্ক: পদ্ম ফুটবে বাংলা থেকে ।। সততার প্রতীক এখন সারদার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: বুদ্ধদেব ।। টাকা লেনদেনের দুই চিঠি পেল ই ডি, নজরে বহু ব্যবসায়ী ।। মোদি ঢেউ নেই যে যোশিকে কে জেতাবে!--দেবারুণ রায়, কানপুর ।। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিরোধেই জোর--নিজেও তদম্তের ঊধের্ব নই: মোদি ।। গার্সিয়া মার্কেস: অত্যাশ্চর্য জীবনের ইতি ।। এবার ইট-পাটকেল ধেয়ে এল কেজরিওয়ালের দিকে! ।। সারদার ১২৮০ কোটি টাকার খোঁজে ই ডি ।। সি বি আই চাইলেন বিমান
ভারত

মোদি ঢেউ নেই যে যোশিকে কে জেতাবে!

এবার ইট-পাটকেল ধেয়ে এল কেজরিওয়ালের দিকে!

নিষেধাজ্ঞা তুলে অমিত শাহকে ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ দিল কমিশন

ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিরোধেই জোর

গ্রামে ভাইপোর হুমকি জল বন্ধের

প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন ‘দলিত কি বেটি’র

বারুর বইয়ের জবাব দিল প্রধানমন্ত্রীর গর্বিত দপ্তর

খুচরো খবর

মোদি ঢেউ নেই যে যোশিকে কে জেতাবে!

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবারুণ রায়, কানপুর

মুরলীমনোহর যোশি যথেষ্ট সঙ্গত কারণে বারাণসীর মোটামুটি নিশ্চিত আশ্রয় ছেড়ে কানপুরে আসতে চাননি৷‌ কানপুরে আসার আগেই স্হানীয় দলের নেতাদের কাছ থেকে তিনি সব খবর পেয়েছিলেন৷‌ প্রথমত, মোদি-লহর বলে কিছুই নেই কানপুরে৷‌ এবং এখানে ইউ পি এ সরকারের কয়লামন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়াল লাগাতার তিনবার লোকসভায় জিতে চতুর্থবারের জন্য দাঁড়িয়েছেন৷‌ এলাকায় তিনি জনপ্রিয়৷‌ সামাজিক অনুষ্ঠানে নির্বাচনী কেন্দ্রের কেউ নিমন্ত্রণ করলে সমস্ত কাজ ফেলে জয়সওয়াল উপস্হিত থাকেন৷‌ তিনি কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকাকালীনও এই আচরণের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি৷‌ তবু কংগ্রেসিরা বলেছেন, মোদি-লহর বলে যদি কোথাও কিছু থেকেও থাকে, কানপুরে তা নেই৷‌ প্রাচীন এই শিল্পনগরীর প্রত্যম্ত প্রাম্তে কয়লানগর৷‌ সেখানেই শুক্রবার নরেন্দ্র মোদি জনসভা করে গেলেন৷‌ ময়দানে গিয়ে দেখা গেল সুবিশাল কয়লানগর ময়দানের একচিলতে অংশে শুধু কিছুটা লোক৷‌ তা-ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে৷‌ চতুর্দিকে বি জে পি-র সৌজন্যে যখন নরেন্দ্র মোদির জনসভার ভিড় দেখাচ্ছে মিডিয়া, তখন এই কানপুরের দৃশ্য নিশ্চয়ই সবাইকে অবাক করে দেবে৷‌ বি জে পি-র ঝান্ডা হাতে বা ইতিউতি মোদির মুখোশ পরা বি জে পি ক্যাডারদেরই দেখা গেল শুধু৷‌ কিন্তু মাঠ ভরা তো দূরের কথা, তেমন লোকসমাগমের কোনও সম্ভাবনাই দেখা গেল না৷‌ এই জনসভায় দাঁড়িয়ে কানপুরের বি জে পি প্রার্থী মুরলীমনোহর যোশি বললেন, কেন্দ্রের এই ইউ পি এ সরকারটাকে শিগগিরই আমরা বিদায় করব৷‌ সেই জায়গায় দিল্লিতে গঠিত হবে মোদির নেতৃত্বে নতুন সরকার৷‌ কিন্তু যোশির আশা যদি পূর্ণও হয়, তা হলেও সেই সরকারে কি তিনি শেষ পর্যম্ত থাকতে পারবেন? এ শহরের ব্যবসায়ী উত্তমকুমার গুপ্তা বললেন, যোশিজিকে কে জেতাবে? ওঁর দলের লোকেরাই তো ওঁর হারার ব্যবস্হা করে রাখছেন৷‌ এই জায়গায় শ্যামবিহার মিশ্র (প্রাক্তন সাংসদ) দাঁড়ালেও হয়ত জিততে পারতেন৷‌ স্হানীয় দলের সম্পূর্ণ অসহযোগিতায় যোশি জিতবেন কী করে? উত্তম গুপ্তার কথায় বোঝা গেল এ শহরের প্রথম সারির ব্যবসায়ীরা কংগ্রেসের শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়ালের জন্যই প্রাণপণ কাজ করছেন৷‌ জাতপাতের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, কানপুরের বিপুল সংখ্যক বানিয়া ভোট কিন্তু বি জে পি-তে যাচ্ছে না৷‌ কংগ্রেস এবারও এই ভোটের মূল দাবিদার৷‌ বিশিষ্ট নাগরিক অশোক গুপ্তা রোজই শ্রীপ্রকাশের সমর্থনে পাড়ায় পাড়ায় ঘরোয়া সভা, বৈঠক সংগঠিত করছেন৷‌ তিনি বললেন, বি জে পি-র ভুল হয়ে গেছে৷‌ মুরলীমনোহর যোশির মতো একজন হেভিওয়েট নেতাকে এখানে দাঁড় করানো উচিত হয়নি৷‌ প্রথমত, তিনি বাইরের লোক৷‌ এলাহাবাদ ও বারাণসী ঘুরে শেষ পর্যম্ত কানপুরে এসেছেন৷‌ দ্বিতীয়ত, তিনি মোদিকেই পাত্তা দেন না৷‌ বি জে পি-র স্হানীয় নেতারাও তাঁর সঙ্গে একাসনে বসতে পারেন না৷‌ তিনি জিততে পারলে এলাকার মানুষ কি তাঁর কাছে পাত্তা পাবেন? তা ছাড়া তাঁর বয়স ৮২৷‌ কানপুরে জয়সওয়ালের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিতে হলে জয়সওয়ালের থেকে কমবয়সী একজনকে প্রার্থী করা উচিত ছিল বি জে পি-র৷‌ তবে ভোটের শতাংশ নিয়ে একটা ভয় রয়েই গেছে কংগ্রেসের৷‌ গতবার, অর্থাৎ ২০০৯ সালে কানপুরে মোট ভোট পড়েছিল ৩৮ শতাংশ৷‌ এবারও যদি সেইরকমই ভোট পড়ে, তা হলে জয়সওয়াল অনেকটা নিশ্চিম্ত৷‌ কিন্তু ভোটের দিনে বি জে পি-র পক্ষে যদি সত্যিই কোনও লহর কাজ করে এবং ভোটের শতাংশ হয় বিপুল, তা হলে সব সমীকরণকে তুচ্ছ করে মুরলীমনোহর যোশিই জিতে যাবেন৷‌ এদিকে তাকিয়ে বি জে পি প্রার্থীর তরফ থেকে ভোট শতাংশ বাড়ানোর ওপর বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে৷‌ আসরে কংগ্রেস এবং বি জে পি-র পাশাপাশি আছেন বহুজন সমাজ পার্টি, সমাজবাদী পার্টি ও আপ-এর প্রার্থীরা৷‌ কংগ্রেসের পক্ষে স্বস্তির, তাদের নিয়ামক ভোট বলতে যে বানিয়া অংশের সমর্থন, তাতে কোনও ফাটল ধরেনি৷‌ কংগ্রেসের থেকে এই ভোটে কেউ ভাগ বসাতে পারবে বলে মনে করছেন না খোদ প্রার্থী জয়সওয়াল৷‌ শেষ বাজারে কানপুরে হাওয়া গরম করতে বি জে পি চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি৷‌ গতকাল রাত দেড়টা পর্যম্ত মোদির সভা নিয়ে বি জে পি-র গোপন বৈঠক চলে কানপুরে৷‌ কিন্তু যে সভার জন্য এত সাজ সাজ রব, সেই সভাই আজ নেতাদের আশা পূরণ করতে পারেনি৷‌ কথা ছিল সকাল সাড়ে ১১টায় কয়লানগর ময়দানের জনসভায় মোদি এসে পৌঁছবেন৷‌ কিন্তু বেলা ১টাতেও মোদি কানপুরে পৌঁছতেই পারেননি৷‌ উদ্যোক্তারা বারবার জানান, মোদিজি ইটাওয়ায় সভা করছেন৷‌ সেখানকার সভায় আটকে গেছেন৷‌ আপনারা আর একটু ধৈর্য ধরুন৷‌ কিন্তু তা বললে কি আর চিঁড়ে ভেজে? লোকজন একটু দাঁড়িয়েই হাঁটা দিচ্ছেন৷‌ এদিকে মোদির সভামণ্ডপ রক্ষা করাই বি জে পি-র কাছে হয়ে দাঁড়ায় কঠিন৷‌ গতরাতে এখানে আঁধি তুফানে কানপুর ও সন্নিহিত এলাকায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷‌ মণ্ডপের অনেকটাই উড়ে যায়৷‌ আজ সকালে ফের জোড়াতালি লাগিয়ে কিছুটা সামাল দেওয়া হয়৷‌ ক্ষমতায় থেকেও আজও কানপুরে তেমন ফ্যা’র হয়ে উঠতে পারেনি সমাজবাদী পার্টি৷‌ আজ শহরের রেসকোর্স মাঠে ছিল মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশের জনসভা৷‌ প্রার্থী সুরেন্দ্রমোহন আগরওয়ালের সমর্থনে সভা করে যান অখিলেশ৷‌ সাম্প্রদায়িকতার বিপদের কথা বলেন৷‌ ওদিকে, মোদির সভায় মুরলীমনোহর যোশি বলেন, স পা, ব স পা মিলে গেছে কংগ্রেসের সঙ্গে৷‌ স্বভাবতই কংগ্রেসের সঙ্গে এই দুই দলকে মিলিয়ে দিয়ে তাদের কোণঠাসা করতে চায় বি জে পি৷‌ কানপুরে বন্ধ কলকারখানাগুলির এতই দুর্দশা যে, এখন কলকারখানার কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও আর কেউ ভোটের ময়দানে তেমনভাবে নেই৷‌ একসময় কানপুর থেকে জিতেছিলেন সুভাষিণী আলি৷‌ সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী অনেকের সমর্থন ছিল তাঁর প্রতি৷‌ সে সময় তাঁর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘কানপুর কি বেটি’৷‌ বন্ধ কলকারখানা এ নির্বাচনে কোনও ইস্যু নয়৷‌ যারা কংগ্রেসের কুশাসনের কথা বলে মানুষের ভোট চেয়েছে, সেই বি জে পি-ও বন্ধ কলকারখানার কথা উচ্চারণ করেনি৷‌






bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited