Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৩ েবশাখ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ১৭ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
উত্তরবঙ্গের ৪ কেন্দ্রের ৭৪৪৩ বুথে ভোট আজ ।। রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুধীরকুমার রাকেশ ।। এবার জিতিয়ে দেখুন, দিল্লিতে কী করি: মমতা--অভিজিৎ চৌধুরি ও পবিত্র মোহাম্ত ।। অস্ত্র আইনে মামলা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে থানায় হাজির হতে হবে বাবুলকে ।। দেহ পুঁতে বিশ্বজিতের শরণাপন্ন হয় সিকান্দর ।। খুনের মামলায় অধীর চৌধুরির আগাম জামিন ।। জনস্রোতে ভেসে দুই কন্যা-সহ মুনমুন সেনের মনোনয়ন পেশ ।। সারদায় সি বি আই? রাজ্যের বক্তব্য শেষ, সিদ্ধাম্ত ২৩শে? ।। জাতীয় পুরস্কারে বাঙালির জয়জয়কার ।। অধীর: মমতাই দেশের সবচেয়ে বড় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ।। সুদীপ্ত সেনের স্ত্রী, ছেলে গ্রেপ্তার ।। কং অভিযোগ: ৫০০০ কোটি মোদির প্রচারে
ভারত

সারদায় সি বি আই? রাজ্যের বক্তব্য শেষ, সিদ্ধাম্ত ২৩শে?

১২১ আজ, উপকূল থেকে গোবলয়ে ‘পরীক্ষা’

দাঙ্গার জন্য ক্ষমা চাইতে নারাজ মোদি

উনি নাকি সর্বশক্তিমান! মোদিকে ঠেস প্রিয়াঙ্কার

মোদিকে রাহুল: দেশকে বোকা বানাবেন না

মোদি? দু ভাগ বলিউড

কং অভিযোগ: ৫০০০ কোটি মোদির প্রচারে

কয়লা কেলেঙ্কারি: জেরার মুখে প্রাক্তন কয়লা সচিব পারখ

সাহারাশ্রীর জামিন: ছাড় দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট

মোদির বিয়ে: মামলা হল

রামবিলাসের প্রথম স্ত্রীর নাম কই?

খুচরো খবর

সারদায় সি বি আই? রাজ্যের বক্তব্য শেষ, সিদ্ধাম্ত ২৩শে?

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি

১৬ এপ্রিল– সারদা-কাণ্ডে সি বি আই তদম্তের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শেষ হল পশ্চিমবঙ্গের শুনানি৷‌ সারদা-সহ আরও কয়েকটি চিটফান্ড-সংক্রাম্ত মামলায় ইতিমধ্যেই সি বি আই তদম্ত চেয়েছে দুই রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরা৷‌ ২৩ এপ্রিল ওড়িশার ৪৩টি আর্থিক সংস্হার বিরুদ্ধে মামলার শুনানি হবে৷‌ তার মধ্যে সারদাও রয়েছে৷‌ সেই মামলার শুনানির পরই সারদা-সংক্রাম্ত এই মামলার চূড়াম্ত রায় দেবে সর্বোচ্চ আদালত৷‌ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তিরথ সিং ঠাকুর ও চোক্কালিঙ্গম নাগাপ্পনের বেঞ্চে সারদা-মামলার দীর্ঘ শুনানির সময় প্রথমে বিচারপতি ঠাকুর বলেন, ‘এই মামলার শুনানি আর দীর্ঘায়িত করতে চাইছি না৷‌ আজই রায় দিয়ে দেব৷‌’ পরে গ্রেপ্তার-হওয়া সারদা-কর্মী কুণাল ঘোষ, সুব্রত দত্ত, রাজ্য সরকার, সেবি, সি বি আই এবং আবেদনকারীদের কৌঁসুলিদের প্রত্যেকের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানিয়ে দেয়, ‘২৩ তারিখ ওড়িশার শুনানি আছে৷‌ তার পরেই চূড়াম্ত রায় দেওয়া হবে৷‌’ এদিন সারদা-মামলায় তদম্তের অগ্রগতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট পেশ করে রাজ্য সরকার৷‌ রিপোর্ট দেখার পর আদালত প্রশ্ন করে, একটা রাজ্যে এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটে গেল, নিয়ন্ত্রক সংস্হাগুলি কী করছিল? এর পর সারদার মতো সংস্হার আসল নিয়ন্ত্রক সংস্হা ঠিক কে বা কারা, তা নিয়ে সেবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে৷‌ সেবির কৌঁসুলি বলেন, লগ্নি সংস্হা সম্পর্কিত বিষয় আমাদের দেখার বিষয় নয়৷‌ অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে৷‌ সেবি-কে আদালত বলে, কোথাও দুর্নীতি ঘটলে আপনারা ঘুমিয়ে থাকতে পারেন না৷‌ সেটা আপনাদের কাজ নয়৷‌ অভিযোগ পেলে তদম্ত হবে, এটা এ-ক্ষেত্রে খাটে না৷‌ আগে থেকেই সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল৷‌ আদালত প্রশ্ন করে, এই ঘটনা ঠেকাতে রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ-এর ভূমিকাই বা কী ছিল? বিচারপতিরা রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, আপনাদের রিপোর্ট অনুযায়ী যাঁরা নিয়ন্ত্রক সংস্হা, সেই সেবি ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতো কেন্দ্রীয় সংস্হাকে সারদা ৪ বছর ধরে প্রতি মাসে ৭০ লাখ টাকা দিত৷‌ তবে তাদের কি জেরা করা হয়েছে? রাজ্যের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন বলেন, কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে৷‌ কাউকে জেরা করা হয়নি৷‌ আদালত বলে, সেটাই তো সবার আগে করা দরকার ছিল! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌঁসুলিকে বিচারপতিরা বলেন, আপনাদের কর্তব্য হল এই ধরনের ঠগ সংস্হার ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়া৷‌ আপনারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন৷‌ এর পর কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিক্রমজিৎ ব্যানার্জি তাঁর মক্কেলকে ১৬৪ ধারায় বিচারপতির সামনে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করতে না দেওয়ার অভিযোগ করেন৷‌ একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ও পরে কুণাল ঘোষের কিছু বক্তব্যের সিডি-র উল্লেখ করেন৷‌ এবং সেই সিডি সম্পর্কে তদম্তকারী সংস্হার অনীহার কথা বলেন৷‌ আদালত তাঁকে জানায়, ১৬৪ ধারাতেই বক্তব্য জানাতে হবে এমন তো কোথাও বলা নেই! তাঁরা যা বলার হলফনামা দিয়ে বলতেই পারেন৷‌ কুণালের মায়ের একটি হলফনামার বিষয় তুলে ধরে কয়েকটি আইনগত ত্রুটির উল্লেখ করেন রাজ্যের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন৷‌ এর পর কুণালের আইনজীবীকে রীতিমতো ধমক দেন বিচারপতি টি এস ঠাকুর৷‌ তাঁকে প্রশ্ন করেন, আপনার মক্কেল সারদা থেকে কত টাকা মাইনে পেতেন? আইনজীবী একাধিক বার ঠেকে উত্তর দেন ১৫ লাখ৷‌ আদালত আবার প্রশ্ন করে, তিনি আগে যেখানে চাকরি করতেন সেখানে কত মাইনে পেতেন? উত্তর: ১ লাখ৷‌ বিচারপতি বলেন, চাকরি বদলাতেই ১৪ লাখ টাকা বেশি মাইনে!

অন্য দিকে, সারদায় সি বি আই তদম্তের পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য৷‌ মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, আদালত জানতে চাওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার একাধিক বার যে-হলফনামা দিয়েছে, তাতে নির্দিষ্ট বেশ কিছু প্রশ্নের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি৷‌ সারদা-কাণ্ডে কারা আসল লাভবান তার উল্লেখ নেই৷‌ সরকার বলছে, বেশির ভাগ টাকা কুণাল মারফত আদানপ্রদান হয়েছে৷‌ কুণাল অবশ্যই দোষী৷‌ কিন্তু তাঁর কাছ থেকে কারা কারা টাকা নিয়েছেন? এই কেলেঙ্কারি যখন চলছে তখন কুণাল ঘোষ সাংসদ ছিলেন না, পরে তাঁকে সাংসদ মনোনীত করা হয়েছে৷‌ কুণালের নেতৃত্বে একাধিক টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল৷‌ সে-কারণেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল৷‌ সেই সব চ্যানেল ও সংবাদপত্র এখনও চলছে৷‌ সুদীপ্ত সেন জেলবন্দী, অথচ চ্যানেলগুলি চলছে কীভাবে? টাকা আসছে কোথা থেকে? তা ছাড়া কুণাল ছাড়াও এই সব সংবাদমাধ্যমের আরও কয়েকজনকে সাংসদ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে৷‌ রাজ্যে এখনও বহু চিটফান্ড মানুষকে লুট করছে৷‌ সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেন জেলের ভেতর থেকে বলছেন, রাজ্যের তদম্তের ওপরেই তিনি ভরসা রাখছেন৷‌ তিনি সব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা মিটিয়ে দেবেন৷‌ কিন্তু টাকা কোথায়, সম্পত্তিই বা কোথায়? সারদা মোট ২৪৬০ কোটি টাকা তুলেছে৷‌ এখন রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী বড় জোর ৩০০-৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি পড়ে আছে৷‌ তবে বাকি টাকা কোথায় গেল? সেই টাকা কারা নিয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর চান ১৮ লাখ আমানতকারী পরিবারের ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ৷‌ যাঁদের বেশির ভাগই গরিব কৃষক, খেতমজুর৷‌ এ-পর্যম্ত ৪০ জন আমানতকারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন৷‌ রাজ্য সরকার যে নেতা-মন্ত্রীদের নামের তালিকা দিয়েছে তা মুখবন্ধ খামে কেন, সবাইকে জানানো সরকারের কর্তব্য৷‌ এতগুলো প্রশ্নের উত্তর জানাতেই সি বি আই তদম্তের প্রয়োজন৷‌ রাজ্য সরকার সি বি আই তদম্তের বিরোধিতা করে৷‌ তারা বলে, কোনও রাজনীতি দেখে তদম্ত চলছে না৷‌ ৯০ শতাংশ তদম্ত শেষ৷‌ সাংসদকে জেলে পাঠানো হয়েছে৷‌ আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন৷‌ এই অবস্হায় শুধু রাজনৈতিক স্বার্থের কথা ভেবেই সি বি আই তদম্ত চেয়ে এই জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে৷‌ তা ছাড়া প্রতিটি শুনানির পর সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হচ্ছে তা মোটেই ঠিক নয়৷‌ রাজ্যের আইনজীবীকে বিচারপতিরা বলেন, আদালতের খবর সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করার এক্তিয়ার আছে৷‌ তা ছাড়া সংবাদমাধ্যম যে দায়িত্বশশীল, সে-ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস আছে৷‌ সি বি আই তদম্তের জন্য সওয়াল করেন অন্য আবেদনকারীর আইনজীবীরা৷‌ ২৩ এপ্রিল ওড়িশার মামলার শুনানির পর সারদার পশ্চিমবঙ্গ-সম্পর্কিত এই জনস্বার্থ মামলার চূড়াম্ত রায়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা৷‌






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited