Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১১ মাঘ ১৪২১ সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বারাক! ডাক দিলেন নমো ।। ধর্মাম্তর, অর্ডিন্যান্সের সমালোচনা প্রণবের ।। পুরভোটে রিগিং হলে প্রতিরোধ হবে: নিরঞ্জন--গৌতম রায় ।। শোভন চ্যাটার্জির শ্যালকের রহস্যজনক মৃত্যু--গৌতম চক্রবর্তী ।। দল অনেক শুনেছে এবার তৃণমূল বলবে--দীপঙ্কর নন্দী ।। বাবুল বললেন, পুলিস নয়, দোষী প্রশাসনই! ।। ছাত্রীর আত্মহত্যা: স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলা রুজু ।। কুলতলিতে মহিলাকে বিবস্ত্র করে গাছে বেঁধে মারধর তৃণমূলি নেতার! ।। ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মান আদবানি, অমিতাভ বচ্চন, দিলীপকুমার... ।। সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার পদক-সম্মান ।। সাধারণতন্ত্র দিবসে কড়া নিরাপত্তা রাজ্যে ।। মমতার বাড়িতে কীর্তি আজাদ
ভারত

বারাক! ডাক দিলেন নমো

‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মান আদবানি, অমিতাভ বচ্চন, দিলীপকুমার...

বিভুর বিভায়

ধর্মাম্তর, অর্ডিন্যান্সের সমালোচনা প্রণবের

‘অ্যান অফিসার অ্যান্ড এ উওম্যান’

জাঁকজমকহীন বিয়ে সোহা-কুণালের

খুচরো খবর

বারাক! ডাক দিলেন নমো

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



আজকালের প্রতিবেদন: দিল্লি, ২৫ জানুয়ারি– নেতাদের সম্পর্কের ‘ব্যক্তিগত রসায়ন’৷‌ ব্যাপারটাকে এভাবেই দেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷‌ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে শেষ প্রশ্নের জবাবে বলা কথাটার মধ্যে মোদির নিজের সাফল্যের ব্যাখ্যা যতটা ছিল, ততটাই ছিল যেন বিজ্ঞাপন৷‌ কীসের সাফল্য? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে সাধারণতন্ত্র দিবসের অতিথি করে নিয়ে আসার চমক৷‌ ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে উৎসাহের তুঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার সাফল্য৷‌ কিন্তু হায়দরাবাদ হাউসে দু’পক্ষের তিন ঘণ্টার ভোজ-বৈঠকে আজ আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোনও সাফল্য কি মিলল? কিছু-বেশি ছ’বছর আগে স্বাক্ষর হয়ে যাওয়া সেই পরমাণু চুক্তি কার্যকর করার পথে দুটি বড় বাধা সরানো হল আজ৷‌ দুটি বড় ইস্যুতে জটমোচন হয়েছে, জানিয়েছেন ওবামা৷‌ মোদিও জানান, এবার আমরা বাণিজ্যিকভাবে এই চুক্তি কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছি৷‌ আমেরিকার কোম্পানিগুলির কাছে এটি বড় খবর৷‌ ভারতের চুক্তি-বিরোধী মহলের ক্ষোভ অবশ্য আরও বাড়তেই পারে৷‌ এ ছাড়াও দশ বছর আগেকার প্রতিরক্ষা চুক্তির নবীকরণ, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতার বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে বোঝাপড়া ছিল আলোচনার বড় সাফল্য৷‌ আলোচনার অন্য বিষয়গুলির মধ্যে ছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক, পরিবেশ পরিবর্তন নিয়ে আম্তর্জাতিক চুক্তির জট খোলা ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে ভারতে মার্কিন সহযোগিতা৷‌ মোদির ‘স্মার্ট সিটি’ গড়ার প্রকল্পে অংশীদার হচ্ছে আমেরিকা– বিশাখাপত্তনম, আজমেঢ় এবং এলাহাবাদে৷‌ ওবামা আগেও জানিয়েছেন, এবার দ্বিতীয়বারের সফরে এসেও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্হায়ী সদস্যপদের দাবিকে আমেরিকা সমর্থন করে৷‌ সন্দেহ নেই, ওবামার এই সফর (কর্তব্যরত একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় বার সফর, যা নজিরহীন) এবং তার ‘সাফল্যের’ পেছনে ছিল নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ৷‌ প্রথা ভেঙে আজ অতিথি প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাতে নিজে বিমানবন্দরে চলে যাওয়া, হায়দরাবাদ হাউসে মধ্যাহ্নভোজ-বৈঠকের পর বারাক ওবামার সঙ্গে বাগানে পায়চারি, তারপর শামিয়ানার নিচে বসে একাম্তে চা পান (‘চায় পে চর্চা’), নিজে চা ঢেলে দেওয়া– এ সবের মধ্যেই ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ৷‌ আগ্রহ৷‌ সেটা আরও প্রকট হয়ে ওঠে, যখন তিনি জানান, ‘বারাক’ এবং তাঁর কথাবার্তার জন্য এবার হট লাইন সংযোগ চালু হচ্ছে৷‌ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রথম নামে উল্লেখ করলেন শেষ প্রশ্নের জবাবটিতেও৷‌ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের এই আভাস থেকে কি কিছুটা গরিমাও অর্জন করতে চাইলেন মোদি? তাঁর বাচন, অঙ্গভঙ্গি, করমর্দন, কোলাকুলি– সবেতেই ছিল আমন্ত্রণকর্তার গদগদ-ভঙ্গি৷‌ তুলনায় ওবামার মধ্যে কি কূটনীতির সংযম একটু বেশি ছিল? মোদি জানিয়েছেন, অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন, দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতাদের ব্যক্তিগত রসায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷‌ ওবামা এর সূত্র ধরে যোগ করেন, দু’দেশের মানুষের আকাঙ্খাই প্রতিফলিত হয় নেতাদের ব্যক্তিগত রসায়নে৷‌ মোদি জানান, অনেক কথাই হয় ওবামার সঙ্গে৷‌ সেসব পর্দার আড়ালেই থাক, হালকা স্বরে বলেন প্রধানমন্ত্রী৷‌ মোদির আবেগ, ভঙ্গিতে কিছু সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টও৷‌ ঘরোয়া ভঙ্গিতে জানান, যেসব কথাবার্তা হয়, তা থেকে একটি কথা তিনি জানতে পেরেছেন, ‘মোদি আমার চেয়ে কম ঘুমোন’! হ্যাঁ, এই একবার অম্তত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্রেফ ‘মোদি’ বলে উল্লেখ করেছেন ওবামা৷‌ এর আগে আরও কিছু হালকা, প্রসন্ন মুহূর্ত তৈরি করেছেন হিন্দি বলার চেষ্টা করে৷‌ বক্তব্যের শুরুতে ‘প্যার ভরা নমস্কার’, মাঝে ‘চায়ে পে চর্চা’র জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানানো, শেষে ‘চলে সাথ সাথ’৷‌ গত সেপ্টেম্বরে মোদি যখন আমেরিকায় যান, তখন বলিউড তারকাদের মতো খাতির পেয়েছেন তিনি, ওবামার এই উল্লেখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে সাংবাদিকদের মধ্যে, মোদির মুখেও৷‌

অতিথি রাষ্ট্রনেতাকে বিমানবন্দরে আপ্যায়ন করার জন্য কোনও মন্ত্রীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়, এটাই প্রথা৷‌ কিন্তু সেই কূটনৈতিক প্রথা শিকেয় তুলে এদিন সকালে বিমানবন্দরে চলে যান প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে৷‌ এর ভেতর দুটো বার্তা থাকতে পারে৷‌ এক, উষ্ণ বন্ধুত্ব৷‌ দুই, অসম বন্ধুত্ব৷‌ এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নেমে ওবামা ভি ভি আই পি টার্মিনালে আসার পর দুই নেতার আলিঙ্গন-করমর্দনে থেকে থেকেই যেন ধরা পড়ে এই দুই বার্তার দোলা৷‌ ওবামাই প্রথম দু’হাত বাড়িয়ে দেন৷‌ মোদিকে কাছে টেনে নেন৷‌ কোলাকুলির মধুর ছবি৷‌ কিন্তু চোখ এড়ায় না, মোদির পিঠে ওবামার হাত৷‌ দাদার মতো পিঠ চাপড়ে দেওয়ার ভঙ্গি৷‌ মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি বুঝিয়ে দিতে চান, বন্ধুত্বেও নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্হানে আছে আমেরিকাই? অবশ্য এর পরে দেখা যায়, মোদিও মৃদুভাবে পিঠ চাপড়ে দেন ওবামার৷‌ এর পর ওবামা যেভাবে মোদির হাত ধরে তাঁকে সামনে নিয়ে যান, কাঁধে হাত রেখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, তাতেও ছিল যেন দাদার ভঙ্গিটি৷‌ ওবামা এবং স্ত্রী মিশেল দু’জনকেই দু’হাতে জড়িয়ে ধরার ভঙ্গিতে আপ্যায়ন করেন মোদি৷‌ এই সব অঙ্গভঙ্গির মধ্যে কি ফুটে উঠছে দু’দেশের সম্পর্ক বা লেনদেনের মেজাজটিই? দুই নেতাই আজ জানিয়েছেন, বিশ্বরাজনীতিতে এই দুই গণতন্ত্রের অংশীদারিটাই স্বাভাবিক৷‌ এর সম্ভাবনাও বিরাট৷‌ তবে, কূটনৈতিক মিত্রতার গোড়ার শর্তই হল স্বদেশের স্বার্থ৷‌ ওবামার এই সফরেও রয়েছে প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের দায়৷‌ বিশেষ করে পরমাণু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলির স্বার্থ দেখা৷‌ মোদির সেপ্টেম্বরের সফরেই ঠিক হয়েছিল, ২০০৮-এর চুক্তির জট এবার মেটাতে হবে৷‌ তার জন্য তৈরি হয় দু’দেশের একটি কনট্যা’ গ্রুপ৷‌ পরমাণু প্রকল্পে কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় রপ্তানিকারী সংস্হা এড়াতে পারবে না, এই নিয়ে ছিল একটি জট৷‌ তা ছাড়া, পরমাণু বিদ্যুতের রসদের ওপর সরবরাহকারী দেশের নজরদারি নিয়ে ছিল ভারতের আপত্তি৷‌ বিদেশ সচিব সুজাতা সিং দাবি করেন, ভারতের আইন এবং কাজের যে ধরন তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই অচলাবস্হা ঘোচানো হয়েছে৷‌ হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, আমেরিকার সমস্যার জায়গাগুলি দূর হয়েছে৷‌ অর্থাৎ ভারতের পরমাণু বিদ্যুতে ঢুকছে এবার মার্কিন কোম্পানিগুলি৷‌ এর পাশাপাশি এশিয়া-প্রশাম্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে চায় আমেরিকা৷‌ সেই কাজ আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷‌ ওবামা বলেছেন, এই অঞ্চলের জন্য এক দিশার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি৷‌ প্রতিরক্ষা-সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে, জানিয়েছেন ওবামা৷‌ অন্যদিকে মোদি জানিয়েছেন, শুধু তাঁর সঙ্গে ওবামারই নয়, হটলাইন বসবে দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যেও৷‌ সন্ত্রাসের মতো বিষয়গুলিতে এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ৷‌ এদিন দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনার জানানো হয় অতিথি প্রেসিডেন্টকে৷‌ রাতে তাঁর সম্মানে ছিল রাষ্ট্রপতির নৈশভোজ৷‌ কাল সকালে সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্হিত থাকবেন ওবামা৷‌ আজ বলেন, আমি শুনেছি সাধারণতন্ত্র দিবস ভারতে মহাসমারোহে পালিত হয়৷‌ আমি গভীর আগ্রহে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছি৷‌ এটা আমার কাছে বিরাট সম্মান৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited