Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৬ ফাল্গুন ১৪২১ রবিবার ১ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর    পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--সি পি এম ‘শেষ’? ।। বড়লোকের পৌষমাস--দেবারুণ রায়, দিল্লি ।। ছিন্নমূল মুকুল--দীপঙ্কর নন্দী ।। পুরভোটের আগেই চূড়াম্ত সিদ্ধাম্ত মুকুলের?--রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি ।। মানুষের খরচ বাড়ল: অসীম ।। কেন্দ্রীয় বাজেটকে স্বাগত রাজ্যের শিল্পমহলের ।। বাংলাকে আর্থিক প্যাকেজ, পক্ষাম্তরে বুজরুকি: তৃণমূল ।। প্যাকেজ আসলে ‘ভেলকি’: অমিত ।। কমল না কর, চাকুরেদের মাথায় হাত! ।। হাসতে হাসতে আরও ২ পয়েন্ট ।। ডিজেল, পেট্রলের দাম চড়ল ।। বুদ্ধদেব ৭১
ভারত

বড়লোকের পৌষমাস

পুরভোটের আগেই চূড়াম্ত সিদ্ধাম্ত মুকুলের?

কমল না কর, চাকুরেদের মাথায় হাত!

বাংলাকে আর্থিক প্যাকেজ, পক্ষাম্তরে বুজরুকি: তৃণমূল

‘পুরনো ফুল’ কংগ্রেসকে হুল ফোটালেন জেটলি

কয়লায় সেস দ্বিগুণ, বৃদ্ধি বিদুতের দামে

দেশীয় মোবাইল ফোনে শুল্ক সুবিধা জেটলির

সোনা আমদানি কমাতে জেটলির ৩ দাওয়াই

ত্রিপুরায় ৩ স্লোগান সি পি এমের

পকেটমারি!

বিদেশে কালো টাকা? এবার ১০ বছর জেল

ডিজেল, পেট্রলের দাম চড়ল

ইচ্ছানিধি

সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রাম্ত সোনম

বড়লোকের পৌষমাস

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবারুণ রায়, দিল্লি




২৮ ফেব্রুয়ারি– বড়লোকের ‘অচ্ছে দিন’ এল৷‌ গরিবের সুদিন রয়ে গেল অধরাই৷‌ অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আজ তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে গিয়ে ঘোষণা করেন, কর্পোরেট কর আগামী চার বছরে কমানো হবে ৫ শতাংশ৷‌ ৩০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনা হবে ২৫ শতাংশে৷‌ তিনি তুলে দিলেন সম্পদ কর৷‌ তার বদলে অতিরিক্ত মাত্র ২ শতাংশ সারচার্জ বসালেন অত্যম্ত ধনী ব্যক্তিদের ওপর– কোটি আকার ওপর আয়ের ক্ষেত্রে৷‌ বাড়ালেন পরিষেবা কর৷‌ ফলে বিভিন্ন পরিষেবার খরচ বাড়বে৷‌ বাড়বে বিমান ও রেল টিকিটের দাম৷‌ বাড়বে হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ৷‌ রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম৷‌ সামনে কোনও ভোট নেই৷‌ তাই গরিব ও মধ্যবিত্তের বোঝা বাড়ল৷‌ ২০১৫-১৬-য় ব্যক্তিগত আয়করের হারে কোনও পরিবর্তন করলেন না অর্থমন্ত্রী৷‌ স্বাস্হ্যবিমার প্রিমিয়ামে ছাড়ের সীমা বাড়িয়ে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করলেন৷‌ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই সীমা ২০ হাজার থেকে বেড়ে হবে ৩০ হাজার টাকা৷‌ এবং ৮০ বছরের বেশি বয়স্ক যাঁদের স্বাস্হ্যবিমার সুযোগ নেই, তাঁদের জন্য চিকিৎসার খরচ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হবে৷‌ সব মিলিয়ে বাড়তি ছাড় দেওয়া হবে দেড় লাখ টাকার৷‌ পরিবহণ ভাতা বাবদ ছাড়ের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে হয়েছে ১৬০০ টাকা৷‌ অত্যম্ত ধনী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, যাঁদের আয় ১ কোটি টাকার ওপরে, মোট সারচার্জ দাঁড়াচ্ছে ১২ শতাংশ৷‌ এখন আছে ১০ শতাংশ৷‌ দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে, যাদের আয় ১ থেকে ১০ কোটির মধ্যে, তারা দেবে ৭ শতাংশ হারে৷‌ ১০ কোটির বেশি আয় যাদের, সেই সব কোম্পানি দেবে ১২ শতাংশ৷‌ বাজেট পেশ করে জেটলি বলেন, কালো টাকা উদ্ধারে নানা ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে৷‌ এর মধ্যে আছে একটি সুসংহত আইন৷‌ যে-আইনে আয় ও বিদেশে সম্পত্তি গোপন করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হবে৷‌ বিদেশে সম্পত্তি ও কালো টাকা গোপন করা হলে দোষীদের গোপন-করা আয় ও সম্পত্তির ওপর ৩০০ শতাংশ কর দিতে হবে জরিমানা হিসেবে৷‌ কোনও ছাড় পাওয়া যাবে না৷‌ এটিকে একটি জোরালো অপরাধ বলে গণ্য করা হবে৷‌ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে জেটলি বিতর্কিত ‘গার’ (জেনারেল অ্যান্টি)অ্যাভয়ডেন্স রুল‍্স--এর রূপায়ণ পিছিয়ে দেন দু’বছরের জন্য৷‌ বাজেটে বাড়তি ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে পরিকাঠামোর জন্য৷‌ ১০০ দিনের কাজের মতো সামাজিক ক্ষেত্রের প্রকল্পের জন্যও বেশি বরাদ্দ হয়েছে৷‌ করহীন ‘ইনফ্রা বন্ড’ ফের ইস্যু করার সিদ্ধাম্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেটলি৷‌ তিনি বলেন, সোনা কেনার বিকল্প হিসেবে সার্বভৌম গোল্ড বন্ড চালু করা হচ্ছে৷‌ এই বন্ডে বাঁধা হারে সুদ থাকবে৷‌ গরিব ও সুযোগ-সুবিধাহীনদের জন্য সামাজিক ক্ষেত্রের খরচ ধরা হয়েছে নানা খাতে৷‌ শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য বরাদ্দ ৬৮,৯৬৮ কোটি, স্বাস্হ্যের জন্য ৩৩,১৫২ কোটি, ১০০ দিনের কাজ-সহ গ্রামোন্নয়নের জন্য ৭৭,৫২৬ কোটি এবং আবাসন ও নগরোন্নয়নের জন্য ২২,৪০৭ কোটি টাকা৷‌ প্রতিরক্ষা খরচ ধরা হয়েছে ২,৪৬,৭২৭ কোটি টাকা ২০১৫-১৬ বছরের জন্য৷‌ এটা চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি৷‌ উল্লেখ্য, আগে ছিল ২,২২,৩৭০ কোটি টাকা৷‌ এবার বাজেট হিসেব ২০১৫-১৬ বছরের জন্য৷‌ যোজনা-বহির্ভূত খরচ ধরা হয়েছে ১৩,১২,২০০ কোটি টাকা৷‌ যোজনা খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৪,৬৫,২৭৭ কোটি টাকা৷‌ মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৭,৭৭,৪৭৭ কোটি টাকা৷‌ মোট কর আমদানি ধরা হয়েছে ১৪,৪৯,৪৯০ কোটি টাকা৷‌ কেন্দ্রীয় কর বাবদ রাজ্যগুলি পাবে ৫,২৩,৯৫৮ কোটি টাকা৷‌ এবং রাজ্যগুলি পাবে ৯,১৯,৮৪২ কোটি টাকা৷‌ কর-বহির্ভূত রাজস্ব ধরা হয়েছে ২,২১,৭৩৩ কোটি টাকা৷‌ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আর্থিক ঘাটতি ধরা হয়েছে জি ডি পি-র ৩.৯ শতাংশ৷‌ চলতি আর্থিক বছরে ছিল ৪.১ শতাংশ৷‌ রাজস্ব ঘাটতিকে রাখা হয়েছে জি ডি পি-র ২.৮ শতাংশ৷‌ অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী দু’বছরে আর্থিক ঘাটতি ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে৷‌ অপ্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে বাজেট কাঁচামালের ওপর মূল অম্তঃশুল্ক কমিয়ে দিয়েছে৷‌ চামড়ার জুতোয় উৎপাদন শুল্কও কমানো হয়েছে৷‌ অন্য দিকে, সিগারেটে উৎপাদন শুল্ক বাড়ানো হয়েছে৷‌ ৬৫ মিমির থেকে বেশি লম্বা সিগারেটের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ৷‌ বৈদ্যুতিন ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের জিনিসের ওপর উৎপাদন শুল্ক কমানো হয়েছে৷‌ স্মার্ট কার্ডে ব্যবহূত আই সি, মোবাইল ফোন এবং এল ই ডি ড্রাইভার ও এল ই ডি লাইটে ব্যবহূত জিনিসপত্র এর মধ্যে পড়ে৷‌ ‘স্বচ্ছ ভারত’ ও ‘ক্লিন গঙ্গা’ তহবিলে অনুদান ১০০ শতাংশ ছাড় পাবে৷‌ অর্থমন্ত্রী জানান, প্রত্যক্ষ কর প্রস্তাব থেকে ৮,৩১৫ কোটি টাকার রাজস্ব আমদানি হবে৷‌ অপ্রত্যক্ষ কর থেকে হবে ২৩,৩৮৩ কোটি টাকা৷‌ সব মিলিয়ে কর খাতে ১৫,০৬৮ কোটি টাকার রাজস্ব লাভ হবে৷‌ তিনি জানান, সব করদাতার জন্য শিক্ষা সেস ২ শতাংশ ও উচ্চশিক্ষা সেস ১ শতাংশ পরের বছরও চলবে৷‌ জেটলি বলেন, গত ৯ মাসে ভারতীয় অর্থনীতি নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷‌ জি ডি পি-র অগ্রগতি ৭.৪ শতাংশ হওয়ার কথা৷‌ ফলে ভারত সারা বিশ্বে দ্রুত অগ্রগতির দিকে ধাবমান বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে৷‌ পরের আর্থিক বছরে অগ্রগতির হার ৮ থেকে ৮.৫ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷‌ দুই অঙ্কের অগ্রগতির হারে আমরা খুব শিগগিরই পৌঁছতে পারব৷‌ ভারত দুটি বড়সড় সংস্কারের পথে পা বাড়িয়েছে৷‌ জি এস টি এবং জ্যাপ ট্রিনিটি– জন-ধন, আধার ও মোবাইল-সুবিধা সরাসরি হস্তাম্তরের জন্য৷‌ জেটলি বলেন, একটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে একটি চুক্তির কাঠামো চূড়াম্ত হয়েছে মুদ্রাস্ফীতিকে ৬ শতাংশের নিচে রাখার জন্য৷‌ ভারতীয় অর্থনীতির পাঁচটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন জেটলি৷‌ ভতর্ুকি কম করার ওপর জোর দেন তিনি৷‌ তিনি বলেন, এটিকে কার্যকর করতে হলে ভতর্ুকিকে যুক্তিসঙ্গত করতে হবে৷‌ অর্থমন্ত্রী গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিলকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেন৷‌ এ ছাড়া ১৫,০০০ কোটি দীর্ঘকালীন গ্রামীণ ঋণ তহবিলকে, ৪৫,০০০ কোটি স্বল্পকালীন সমবায় গ্রামীণ ঋণ পুনর্বিনিয়োগ তহবিলকে এবং ১৫,০০০ কোটি স্বল্পকালীন আর আর বি পুনর্বিনিয়োগ তহবিলে দেওয়ার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী৷‌ তিনি বলেন, সরকার উচ্চাশাপূর্ণ একটি লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে৷‌ ৮.৫ লাখ কোটি টাকার কৃষিঋণ দেওয়ার কথা স্হির হয়েছে৷‌ ‘মুদ্রা ব্যাঙ্ক’ নামে একটি সংস্হা স্হাপন করা হচ্ছে৷‌ এতে ২০ হাজার কোটি টাকার কর্পাস থাকবে৷‌ ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’র মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হবে৷‌ নতুন বিমা প্রকল্প চালু করার কথা বলেন৷‌ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা’ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷‌ ২ লাখ টাকার বিমা৷‌ বছরে ১২ টাকা প্রিমিয়াম৷‌ এছাড়া ‘অটল পেনশন যোজনা’ দেবে পেনশন৷‌ এটি হবে জমা-নির্ভর৷‌ ‘প্রধানমন্ত্রী জীবনজ্যোতি বিমা যোজনা’ প্রযোজ্য হবে স্বাভাবিক এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে৷‌ এখানেও ২ লাখ টাকার বিমা৷‌ বছরে প্রিমিয়াম ৩৩০ টাকা৷‌ ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়স্কদের জন্য৷‌ কর্পোরেটদের ছাড় দিয়ে সরকার যে ঋণ শোধ করছে সে-কথা বলেন সি পি এম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি৷‌ উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় কর্পোরেটদের দেয় সুবিধার অঙ্ক এবার ৮ শতাংশ বেড়ে গেছে৷‌ গতবার ছিল ৫৭,৭৯৩ কোটি টাকা৷‌ এবার তা হল ৬২,৩৯৮ কোটি টাকা৷‌ এদিকে অরুণ জেটলি পি পি এফ এবং ই পি এফের দাবি না-করা জমার কথা উল্লেখ করেন৷‌ তিনি বলেন, পি পি এফে ৩ হাজার কোটি এবং ই পি এফে ৬ হাজার কোটি দাবি না-করা টাকা পড়ে আছে৷‌ এই টাকা একটি কর্পাসকে দেওয়া হবে৷‌ যা ব্যবহার করা হবে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রিমিয়ামে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য৷‌ পরিকাঠামোয় সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও রেলে যথাক্রমে ১৪,০৩১ কোটি টাকা ও ১০,০৫০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে৷‌ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্হাগুলি ২০১৫-১৬-য় ৮০,৮৪৪ কোটি টাকা বেশি খরচ করবে৷‌ তিনি প্রস্তাব করেন, জাতীয় বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামো তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হবে৷‌ বার্ষিক বিনিয়োগ হবে ২০ হাজার কোটি টাকা৷‌ জেটলি বলেন, তিনি করহীন পরিকাঠামো বন্ড জারি করতে চান রেল, সড়ক ও সেচ ক্ষেত্রের প্রকল্পের জন্য৷‌ ঘোষণা করেন, পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পি পি পি মোড পুনর্বিবেচনা করা হবে৷‌ সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার পাঁচটি অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির প্রস্তাব করেছে৷‌ প্রত্যেক প্রকল্প ৪ হাজার মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে৷‌ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রী একটি পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি তৈরির কথা বলেন৷‌ যে সংস্হা ভারতের বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যম্তরীণ ঋণকে এক ছাদের তলায় আনবে৷‌ জেটলি স্বর্ণমুদ্রা তৈরি করার কথা বলেন৷‌ মুদ্রার ওপর থাকবে অশোকচক্র৷‌ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে বিনিয়োগ আনার জন্য একটি প্রকল্প উন্নয়ন কোম্পানি উৎপাদন হাব তৈরি করবে কম্বোডিয়া, মায়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে৷‌ দেশের ভেতর কালো টাকার নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন ও আরও সুসংহত বেনামি লেনদেন (নিরোধক) বিল আনা হবে সংসদের চলতি অধিবেশনে৷‌ তিনি বলেন, ১ লাখ টাকার বেশি দামের কোনও জিনিস কেনাবেচার ক্ষেত্রে ‘প্যান’ উদ্ধৃত করা বাধ্যতামূলক বলে ধরা হচ্ছে৷‌ মন্ত্রী বলেন, ২২টি জিনিসের ওপর অম্তঃশুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে৷‌ তিনি জানান, অত্যম্ত ধনীদের ওপর ২ শতাংশ সারচার্জ বাড়িয়ে ৯ হাজার কোটি টাকা আমদানি হচ্ছে৷‌ অথচ সম্পদ কর তুলে দিয়ে ক্ষতি হচ্ছে ১,০০৮ কোটি টাকা৷‌ এদিকে আরও ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে নির্ভয়া তহবিলে৷‌ এইমস, আই আই টি, আই আই এম তৈরি করা হচ্ছে দেশের নানা জায়গায়৷‌ পরের বছর থেকে জি এম টি রূপায়ণের জন্য তৎপরতা চলছে বলে তিনি জানান৷‌

বাজেট বত্তৃ্কতা শুরু করেন অরুণ জেটলি সকাল ১১টায়৷‌ শেষ করেন ১২টা ৩৫ মিনিটে৷‌ বাজেট বত্তৃ্কতার শেষে তিনি বলেন, ম্যাডাম স্পিকার, এই বাজেট নিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্খা অনেক৷‌ যাঁরা আমাদের বিগ ব্যাং সংস্কার চালু করতে বলেছিলেন, তাঁরা এ কথাও বলেছিলেন যে, ভারতীয় অর্থনীতি একটা হাতির মতো৷‌ ম্যাডাম, হাতি সবসময় ধীরে চলে, কিন্তু সুনিশ্চিত থাকে তার পদক্ষেপ৷‌ আমাদের সবচেয়ে কঠিন সমালোচকেরাও স্বীকার করবেন, আমরা দ্রুত এগিয়েছি৷‌ এই বত্তৃ্কতায় আমি এখনকার কর্মসূচির পাশাপাশি ভবিষ্যতে পথ চলার মানচিত্রও সন্নিবেশিত করেছি৷‌ আমরা নিশ্চয়ই বৌদ্ধিক সততা দাবি করতে পারি৷‌ আমাদের কথায়-কাজে কোনও ফারাক হয়নি৷‌ আমরা দায়বদ্ধ৷‌ যে জন্য আমরা সরকারে এসেছি, সে কাজ আমরা মনেপ্রাণে করছি৷‌ পরিবর্তন, উন্নয়ন, কর্মসংস্হান এবং গরিবের প্রকৃত উত্তরণই আমাদের লক্ষ্য৷‌ ‘দরিদ্রনারায়ণ’-এর কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট৷‌ একইভাবে আমরা সংবিধানের নীতি, সবার জন্য সাম্য ও ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে দায়বদ্ধ৷‌ এখানে জাতপাত, ধর্মের কোনও কথা নেই৷‌ জেটলির বত্তৃ্কতায় অবশ্য খুশি হতে পারেননি বিরোধীরা৷‌ জেটলি বলেন, সারা বিশ্ব বলছে ভারত এবার আকাশপথে উড়বে৷‌ সি পি এমের সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, উড়ছে উড়ুক৷‌ কিন্তু মন্ত্রীমশাই খেয়াল রাখুন, ভুলভাবে উড়তে গিয়ে যেন ভেঙে না পড়ে৷‌





bangla || bharat || editorial || nepathya bhasan || khela || sunday || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited