Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১০ বৈশাখ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
কমিশনকে ফের তোপ মমতার ।। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার লোকসভা নির্বাচন আজ ।। সি বি আইয়ে আপত্তি, সিটেই আস্হা রাজ্যের--সারদা: চূড়াম্ত রায় দু-এক দিনেই? ।। আজ কপ্টারে মোদি, কটাক্ষ কেজরিওয়ালের--বারাণসীতে মনোনয়ন পেশ ।। ভবানীপুর: মেয়ের বিয়ের আগেই শ্বাসরোধ করে খুন বৃদ্ধা মাকে! ।। বারাবনি-কাণ্ড: এস আইয়ের ওপর কড়া নজর কমিশনের ।। সৌগত রায়ের সমর্থনে বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীরা ।। মুকুল: আমার দুর্নীতি প্রমাণ হলে রাজনীতিই ছেড়ে দেব ।। আজ ভোট ১১৭ আসনে, সংখ্যালঘুদের দিকে নজর ।। অসহ ৪১! মৃত ২ ।। প্রেসিডেন্সি: শীর্ষে এবার অনুরাধা ।। ঔরঙ্গজেবের যেমন দাক্ষিণাত্য, অনুব্রতবাবুর তেমনই নানুর
ভারত

পেশোয়া পাওয়ারের দুর্গ যায় যায় মওলা শিবাজি সৈন্যদের হাতে

সি বি আইয়ে আপত্তি, সিটেই আস্হা রাজ্যের

আজ ভোট ১১৭ আসনে সংখ্যালঘুদের দিকে নজর

ফের অমিত শাহ: মোদি রুখবেন পাক অনুপ্রবেশকারী

মোদিকে কাঠগড়ায় তুলতে যথেষ্ট প্রমাণ, বলেছেন আদালত-বান্ধব

আজ কপ্টারে মোদি, কটাক্ষ কেজরিওয়ালের

ওড়িশায় ২ চিটফান্ডের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে

শাজিয়া নিন্দায় একসুর কংগ্রেস, বি জে পি-র

আড়িপাতা, একনায়ক!

ভোটে কালো টাকা রুখে দেবে জনতা!

হাওয়া বুঝে সরলেন সাধু

পেশোয়া পাওয়ারের দুর্গ যায় যায় মওলা শিবাজি সৈন্যদের হাতে

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

গৌতম রায়, পুনে

মুম্বই থেকে নাগেরকয়েলগামী যে ট্রেনে আপনি পুনে যাচ্ছেন নামতে ভুলে ঘণ্টা দুই ঘুমিয়ে পড়লে বুঝতেই পারবেন না আপনি ফিল্ম সিটি পুনে নয় পশ্চিম মহারাষ্ট্রের এক বহুখ্যাত খেতকারি টাউনের বারামতীর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন৷‌ টাউনই বটে, নইলে আর এসি ছাড়া হোটেলে ঘর পাওয়া যায় না! আসলে হোটেলের এ ঘরগুলো ভাড়া নেয় আখ আর চিনির কো-অপারেটররা৷‌ আর হরেক কিসিমের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের দালালরা৷‌ কাজেই খেতি-লাগোয়া এই শহরের মাটি আর মাঠের চরিত্র অনেকটাই বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো আপাত রুখা শুখা হলেও তফাত যা তা হল, এখানে পুরুলিয়ার অনাহারক্লিষ্ট কবির গান– কেনে আইলিরে পুরুল্যা, কেউ গায় না৷‌ তার বদলে মোটেলগুলোর পাশ দিয়ে যেতে যেতে তপ্ত পাথুরে গরমের দুপুরে চিল্ড বিয়ার পাব থেকে ডিস্কো থেকের রিমি‘ ভেসে আসে৷‌ মাঠের মধ্যেই শোভা পাচ্ছে হোটেলের আর দেদার মদের কোম্পানির বিজ্ঞাপন৷‌ তবে ব্যাপারটা শুধু এ নয় যে, বাপু হে আখের সমবায় থেকে বেশ দু পয়সা যখন কামিয়েছ দু পেগ পান করে একটু জমিয়ে জিরিয়ে যাও৷‌ আসলে দেশের সিংহভাগ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি পুনেতে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরাসার জোগান আসে এই বারামতী থেকেই৷‌ এ হল আসলে, মারাঠা বীর শিবাজির ভূমিতে আর এক মারাঠা বীর শারদ পাওয়ারের গত অর্ধ শতকের জয়যাত্রার কাহিনী৷‌ স্বাধীনতার আগে এক লোটা পানির অভাবে যে অঞ্চলের অবস্হা ছিল পুরুলিয়ার চেয়েও অবর্ণনীয়, সেখানে রাজনীতির প্রভাবে পাশের মারাঠাওয়াড়াকে জল থেকে বঞ্চিত করে মোগল আমলের ব্যাঙ্কার টাকার কুমির পটেল আর জমির মালিক মারাঠা জাঠদের আখচাষী সমবায়ে জড়িয়ে নিয়ে, শিবাজির হিন্দু পাদ‍্ পাদশাহি, চৌথ-কর জোগাড়ে বাংলার অত্যাচারী বর্গি পেশোয়া নায়কেরা যা পারেননি পাওয়ারদের এই পাওয়ার-ভূমিতে সেটাই করে দিয়েছেন শারদ পাওয়ার৷‌ বাংলার মার্কসবাদী তত্ত্ববিদ নেতারা যেখানে তিন দশক ধরে ভারতে কৃষিতে পুঁজিবাদ কতটা ডালপালা ছড়িয়েছে তা নিয়ে গবেষণা করে সময় কাটিয়েছেন, শারদ পাওয়ার সে সময়ে তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন৷‌ আর পেশোয়াদের মারদাঙ্গা করে আদায় করা চৌথের থেকেও কর আদায় বেশি হয়েছে তো কম নয়৷‌ সাতবার টানা নিজে জিতেছেন বারামতী থেকে৷‌ পাওয়ার গুষ্টির মানি আর পলি পাওয়ার মিথ হয়ে গেছে৷‌ আদরের দুলারি (ষাটোধর্ব) সুপ্রিয়া সুলে আই পি এল টিম থেকে মুম্বইয়ের বাজারে যা মেলে তাই কেনার জন্য জেদ ধরেন৷‌ গতবারই এই বারামতী থেকে এম পি বানিয়ে দিয়েছেন৷‌ মুখের সামনে ধরে দিয়েছেন দেশের বৃহত্তম পশ্চিম মহারাষ্ট্রের পুনে-বারামতীর সুগার বোল৷‌ এর জন্য হরেকৃষ্ণ কোঙার বা আবদুল্লা রসুলদের নেতৃত্বে জমি দখল আন্দোলন করতে হয়নি৷‌ বিনয় চৌধুরিদের মতো কৃষক অম্তঃপ্রাণ মানুষকে মন্ত্রী করে আইনি ভূমি সংস্কারও করতে হয়নি৷‌ আখ সমবায়ীরা বৃহৎ থেকে মধ্য জমির মালিক৷‌ এঁরাই এন সি পি-র শ্বেতকারী সংগঠনের সদস্য৷‌ এঁদের অফিসই এন সি পি ইলেকশন অফিস৷‌ ক্ষুদ্র বা প্রাম্তিক চাষীর অস্তিত্ব এখানে নেই৷‌ আখ পাছড়ানো থেকে শালি দেওয়ার কাজ করেন ভূমিহীন খেতমজুররা৷‌ স্হানীয় ভাষায় এঁদের বলা হয় কাটিংম্যান৷‌ এঁরা দক্ষ শ্রমিক৷‌ কৃষি খামারে বছরে অম্তত আট মাস দিনে ছয় থেকে সাতশো টাকা মজুরি আয় করেন হেসে খেলে৷‌ খেতমজুরদের কোনও সংগঠনকে এখানে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হয় না৷‌ সমবায় এজেন্সি দ্বারা খেতমজুররা নিয়োজিত৷‌ খামার-ঘেঁষা হাইওয়ের ধারে ধারে হোর্ডিং– হাসছি মোরা হাসছি দেখো চার জনেতে আহ্লাদী– গম্ভীর, মোচওয়ালা খেতকারী জমিদার হাসছেন, স্মিত হাসছেন কৃষকনেতা শারদ পাওয়ার ও প্রার্থী কন্যা সুপ্রিয়া সুলে আর পাগড়ি মাথায় বেদনার হাসি হাসছেন খেতমজুর৷‌ বামপম্হা খায় না মাথায় দেয় এখানে কেউই তা জানেন না৷‌ তা সত্ত্বেও অম্তত একজন, এ ছবি যে মিথ্যে মিথ্যে হ্যাপি ক্যাপিটালিজমের প্রচার করছে তা বলছেন, বলে চলেছেন৷‌ অসম সাহসী তিনি হলেন আপ প্রার্থী দুঁদে আই পি এস অফিসার সুরেশ খোপাড়ে৷‌ – এটা মোটেও ফ্রি বাজারের ক্যাপিটালিজম নয়, ক্রোনি ফিউডালিজমের থেকেও খারাপ, খেতকারি থেকে কাটিংম্যান– সবাই পাওয়ারদের খামার বাড়ির বন্ডেড লেবার৷‌ ওদের টাকা আর ভোট না দিলে সমবায় মাল কেনে না– আখচাষীর আত্মহত্যার কারণও তাই৷‌ কোনও লেবার অ্যা’ এখানে লাগু হয় না৷‌ এ ছাড়াও তিনি বলে চলেছেন– জল নিয়ে যে স্ক্যাম এঁরা করে চলেছেন আপ পাওয়ারে এলে পাওয়ারদের দুশো বছর জেল খাটাব৷‌

এঁর ভোট পাওয়া তো দূর অস্ত‍্, পুলিস ইউনিফর্ম ছেড়ে মারাঠি সাহিত্যসভার সেবক, এঁর কথা নিয়ে স্হানীয় সাংবাদিকরা পর্যম্ত কেউ ভয়ে কথা বলতে চায় না৷‌ অন্যরা ভয় পেলেও রাজ ঠাকরেকে কেউ ভয় পাওয়াতে পারবে না, তাঁর ধমনী দিয়ে বাল ঠাকরের রক্ত বইছে৷‌ তিনি এখানে এসে আখচাষী যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন তাঁদের আত্মার উদ্দেশে অনুযোগ করে বলেছেন– শারদ পাওয়ারের গুষ্টির লোকেদের খুন করে তবে যদি মরতে পারতেন একটা কাজের মতো কাজ হত৷‌ এ শুনে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল যদি ইলেকশন কমিশনকে জিজ্ঞেস করে বসেন– এর তুলনায় আমি আর এমন কী বলেছি, কমিশনের কী উত্তর হবে কে জানে!

নবাগত আপের প্রার্থীর কথা হয়ত এ যাত্রা কেউ শুনছেন না৷‌ কিন্তু, পাওয়ারদের চিনির রসে পিঁপড়ে পড়েছে৷‌ এ পিঁপড়ে মারাঠি ভাষার মিঠে রসখোর মক্ষী নয়, কামড়ুকি কাঠপিঁপড়ে৷‌ এক আধজন নয় দুজন৷‌ স্বাভিমানী শ্বেতকারী সংগঠনের রাজু শেট্টি আর রাষ্ট্রীয় সমাজ পক্ষের মহাদেব জাখর৷‌ বি জে পি-র আশ্চর্য নতুন বন্ধু আর পি আইয়ের মতো দলিত অধ্যুষিত এই দুই সংগঠনও বি জে পি-র নতুন বন্ধু৷‌ পাওয়ারদের খামার বাড়ির যে দলিত কোল, ভিল, মওলা খেতমজুররা যুগ যুগাম্তরে তাঁদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহূত হন– এঁরা তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করেন৷‌ আর এস এসের চক্ষুশূল গাডকারি নন, তাঁদের বিশ্বাসভাজন গোপীনাথ মুন্ডে এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন৷‌ পাওয়ার জোটের বিরুদ্ধে যেভাবে হিন্দুত্ব এবং পুনের মিথিক্যাল হিরো শিবাজি মহারাজ বা তাঁর দলিত হিন্দুত্বকে এনে ফেলা হচ্ছে তাতে পরিষ্কার এর পেছনে পুনের আর এস এস-চালিত বিবেকানন্দ কেন্দ্রের মাথা রয়েছে৷‌ তাই এঁদের প্রচারে আসছে মোগলদের দাসানুদাস উচ্চ বর্ণের মারাঠিদের বিরুদ্ধে মওলা উপজাতীয় নেতা শিবাজির আদিবাসী ভিল সৈন্যদের নিয়ে অভ্যুত্থান৷‌ তাই সুপ্রিয়া সুলে গত দ্বিতীয় দফার ১৯ তারিখের ভোটে জিততে পারেনই কিন্তু তাতেই কী পাওয়ার দুর্গ রক্ষা হয়? – ব্রেন স্ট্রোকেও অ-ধরাশায়ী, অশীতিপর শারদ পাওয়ার পেশোয়া নায়ক বাজিরাওয়ের মতোই মাথায় পেশোয়া টোপি চড়িয়ে কংগ্রেস-এন সি পি জোটের মহানায়ক হয়ে এবারও ছুটছেন তাঁর বারামতী, পুনে, মাভাল, শিরপুর, সাতারা আর শিবন-সিয়াদরির গিরিখাদের সেই সব দুর্গে যেখানে এক সময় মওলা সৈন্য নিয়ে মোগলদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন শিবাজি৷‌ কিন্তু আর এস এসের চাতুর্যপূর্ণ ইন্ধনে সেই সৈন্যরা যে এবারে গেরুয়া রঙের পোশাক পরে অন্য ঘোড়ার সওয়ার হয়ে গেছেন তার খবর শারদ পাওয়ার বিলক্ষণ রাখেন৷‌






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited