Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ২ েবশাখ ১৪২১ বুধবার ১৬ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
‘দুবাই শেখর’ চন্দ্রর কাঁটা পরিবারতন্ত্র!--সব্যসাচী সরকার, হায়দরাবাদ ।। কাঁটায় ভরা আজ্জুর পথ--রাজীব চক্রবর্তী, সওয়াই মাধোপুর ।। বুখারির ভোট-ফতোয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া রেজ্জাকের ।। জলপাইগুড়িতে এবারও তৃণমূল পেরে উঠবে না ।। স্লোগান নয়, কটূক্তি নয় শুধু হেসে, হাত নেড়ে... ।। গোর্খাল্যান্ড পেতেই মোদিকে সমর্থন: গুরুং ।। তৃণমূল গরিব পার্টি? কোথা থেকে আসছে প্রচারের এত টাকা? বিমান ।। মালদায় আজ থেকে দ্বিতীয় দফার প্রচার শুরু মমতার ।। হালখাতা, খুঁটিপুজোয় মুখরিত বাঙালি--ঝড়ের প্রত্যাশা নিয়ে শুরু নতুন বছর ।। থাকছেন মহম্তর বাড়ি, গেলেন কাজির কাছে--বারাণসীতে কেজরিওয়াল ।। বৃহন্নলারা তৃতীয় লিঙ্গ ।। লড়াইয়ে সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কাও
ভারত

কাঁটায় ভরা আজ্জুর পথ

লড়াইয়ে সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কাও

‘দুবাই শেখর’ চন্দ্রর কাঁটা পরিবারতন্ত্র!

সীমান্ধ্র গোছাতে আসরে জগনের মা, মামা, ভাই, মেসোমশাই!

ভোটের পর মোদির বিকল্প?

থাকছেন মহম্তর বাড়ি, গেলেন কাজির কাছে

ভোটের আগে বারুর বই কেন?

বৃহন্নলারা তৃতীয় লিঙ্গ

গোপালকৃষ্ণ: রিলায়েন্স এক সমাম্তরাল রাষ্ট্র

ফিরে এল ‘মহানগর’

রাহুলের শিশুসুলভ প্রবণতা এখনও কাটেনি: মোদি

দাঙ্গা প্রসঙ্গ এড়ালেন মোদি

খুচরো খবর

কাঁটায় ভরা আজ্জুর পথ

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

রাজীব চক্রবর্তী, সওয়াই মাধোপুর

আড়াইশো বছর আগে জয়পুরের হিজ হাইনেস সওয়াই মাধো সিং পূর্ব-রাজস্হানে এক জনবসতি স্হাপন করেছিলেন৷‌ রাজার নামেই এলাকার নাম হয়েছে সওয়াই মাধোপুর৷‌ সওয়াই উপাধি৷‌ অর্থ, অন্যদের থেকে বেশি শক্তিশালী৷‌ মাধো সিংয়ের উত্তরসূরি মান সিং এবং ভবানী সিংদের দাপট এই এলাকায় বরাবর ছিল৷‌ ভবানী সিংয়ের কোনও ছেলে ছিল না৷‌ তাঁর একমাত্র মেয়ে দিয়া কুমারীর দুই ছেলে৷‌ দিয়া কুমারীর প্রভাব আজও আছে৷‌ তাঁর বড়ছেলে পদ্মনাভ এখন কিশোর৷‌ সম্প্রতি রাজতিলক হয়েছে তার৷‌ টঁক-সওয়াই মাধোপুর লোকসভায় এবার ২২ জন প্রার্থী৷‌ গত নভে ম্বরে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে একবার তাকিয়ে নেওয়া যাক৷‌ এই কেন্দ্রের ৮টি বিধানসভা আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বি জে পি৷‌ সওয়াই মাধোপুরের বিধায়ক দিয়া কুমারী৷‌

রাজনীতির এমনই এক প্রতিকূল পিচে ছক্কা মারতেতে হাজির প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন৷‌ তাঁকে ক্লিন বোল্ড করার পরিকল্পনা আঁটছে বিরোধীপক্ষ৷‌ এই কেন্দ্রের বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ নমোনারায়ণ মিনা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী৷‌ ২০০৯-এর নির্বাচনে মাত্র ৩১৭ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি৷‌ বি জে পি-র কিরোড়ি সিং বৈঁসলা পেয়েছিলেন ৩,৭৫,২৫৫টি ভোট৷‌ নমোনারায়ণ পেয়েছিলেন ৩,৭৫,৫৭২টি ভোট৷‌ এই কেন্দ্রের টঁক, খণ্ডহার, গঙ্গাপুর, সওয়াই মাধোপুর, দেউলি উনিয়ারা, নিবাই, বামনবাস এবং মানপুরা বিধানসভা এখন বি জে পি-র দখলে৷‌

টঁক বাসস্ট্যান্ডের পাশে কংগ্রেসের নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে আজহারের ব্যক্তিগত সচিব মুজিব খান-সহ কয়েকজন৷‌ মাথার ওপরে ব্যানার৷‌ তাতে লেখা– ‘যুবা দিলোঁকি ধড়কন মহম্মদ আজহারউদ্দিন কো ভোট দো৷‌ কংগ্রেস কো ভারী বহুমত সে সমর্থন দো৷‌’ জাতপাতের প্রশ্ন করায় মুজিব বললেন, ‘আপনারা জানেন দাদা (আজহার) বাংলা থেকে লড়তে চেয়েছিলেন৷‌ দল এখানে টিকিট দিয়েছে৷‌ আমরা এখানে যখন শুরু করেছিলাম তখন শূন্য ছিল৷‌ এখন অম্তত ১০ পার করেছি৷‌ দেখুন, ভারতীয় ক্রিকেট টিমে ভিনরাজ্যের কত ভিনজাতের খেলোয়াড়কে নিয়ে ভারতকে জিতিয়েছেন দাদা৷‌ তাঁর চোখে সবাই সমান৷‌’ মঙ্গলবার টঁক এলাকায় দু-ভাগে ভাগ হয়ে প্রচার করলেন আজহারউদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী প্রাক্তন ভারতসুন্দরী সঙ্গীতা বিজলানি৷‌ ওদিকে বাবার সঙ্গে সবসময় রয়েছেন ছেলে মহম্মদ আসাদউদ্দিন৷‌ গড়ে ৩০-৪০টি সভা করছেন৷‌ এলাকার বহু প্রতীক্ষিত টঁক-সওয়াই মাধোপুর রেলপথের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন পাড়ায় পাড়ায়৷‌

২৪ এপ্রিল ভোট৷‌ ততদিন এখানেই থাকবেন ওঁরা৷‌ এখানে আম আদমি পার্টির মুকেশ তাহরিয়ার তেমন প্রচার বা প্রভাব চোখে পড়ল না৷‌ বি জে পি প্রার্থী সুখবীর সিং জৌনপুরিয়া পেশায় বিল্ডার৷‌ হরিয়ানার বাসিন্দা৷‌ টাকার অভাব নেই.‘টঁক-সওয়াই মাধপুর কে লোকসভা ছেত্র মাহি সগড়ি সিটা ভাজপাকে ওয়াস্তে আপ সব লোগ জৌনপুরিয়াজিকো বোট দের জিতাও৷‌’ তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা, গনগনে রোদ৷‌ সওয়াই মাধোপুরের গৌতম আশ্রম মোড়ে খাটিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে বি জে পি প্রার্থী জৌনপুরিয়ার জন্য প্রচার করছিলেন বি জে পি-র প্রাক্তন জেলামন্ত্রী (জেলা সম্পাদক) প্রভাশঙ্কর আর্য৷‌ খাটিয়ায় বসে খাতা-কলমে টাকাকড়ির হিসেব কষছিলেন সুখবীর সিং জৌনপুরিয়ার ব্যক্তিগত সচিব ড. সুরেন্দ্র৷‌

টঁক-সওয়াই মাধোপুর লোকসভা এলাকার ৩০ শতাংশ মিনা জাতির বাস, ২৫ শতাংশ বাসিন্দা মুসলমান৷‌ বাকিদের মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণ (পুজোপাঠ)সহ অন্যান্য কাজ-, রাজপুত (খেতিবাড়ি), বৈশ্য (দিনমজুরি), গুজ্জর (পশুপালন), মালি (বাগান পরিচর্যা), জাঠ (খেতিবাড়ি), বেরওয়া (চর্মকার), রেগর (চর্ম শোধনকারী) ও খটি (কসাই) জাতি৷‌ যাঁদের হাতে খেতিবাড়ি আছে তাঁরা তুলনামূলক ধনী ব্যক্তি৷‌ তাঁদের খেতিবাড়িতে দিনমজুরি করে জীবনযাপন করেন বেশিরভাগ অন্যান্য জাতিভুক্ত মানুষ৷‌ কংগ্রেসের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও রয়েছে মিনা জাতির ভোট৷‌ একই সঙ্গে কংগ্রেসের পকেটে রয়েছে তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ভুক্ত ৫০ শতাংশ ভোট৷‌ অন্যদিকে, বি জে পি-র হাতে আছে ব্রাহ্মণ ও রাজপুতের মতো সাধারণ জাতি ছাড়াও তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ভুক্ত জাতির ৫০ শতাংশ ভোট৷‌ ইতিহাস অনুযায়ী, আলাউদ্দিন খিলজি ৪ বছর পূর্ব-রাজস্হানে এসে ছিলেন৷‌ তাঁর প্রভাবেই মিনা সম্প্রদায়ের বহু মানুষ মুসলিম ধর্মে ধর্মাম্তরিত হয়েছিলেন৷‌

মুসলিম ভোট যে নিজেদের দিকে ঝুঁকবে না তা ধরে নিয়েই অন্যদিকে নজর দিয়েছে বি জে পি৷‌ তফসিলি জাতি, উপজাতি ও মিনা ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর তাদের৷‌ রাজস্হান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা তথা বি জে পি-র যুব নেতা কুলদীপ সিং বৈঁসলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল৷‌ জানালেন, তফসিলি জাতি, উপজাতি এলাকায় ভাল করে বোঝানো হচ্ছে৷‌ একটু-আধটু হুমকিও দিতে হচ্ছে৷‌ বোঝানো হচ্ছে, গত নভেম্বরের ভোটে রাজ্যে ক্ষমতা বদলেছে৷‌ বি জে পি ক্ষমতায় এসেছে৷‌ এলাকার উন্নয়নের জন্য আধা পরিবর্তন এনে কী লাভ, কংগ্রেস সাংসদ হলে আগামী ৫ বছর এলাকার যে কোনও উন্নয়ন রাজ্য সরকার আটকে দিতে পারে৷‌ তাই রাজ্যের মতো কেন্দ্রেও বি জে পি-কে পাঠাতে হবে৷‌ তবে, এবার ভোটে বি জে পি-র গলার কাঁটা ২০০৪-এর বি জে পি সাংসদ কিরোড়িলাল মিনা৷‌ মিনা ও গুর্জরদের জাতিগত সংরক্ষণের ইস্যুতে মতাম্তরের কারণে ২০০৯-এ তিনি নতুন দল ‘রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি’ গড়েছেন৷‌ রাজস্হান বিধানসভায় তাঁর ৪টি আসন আছে৷‌ তার মধ্যে কিরোড়িলাল নিজে ও তাঁর স্ত্রী গোলমা রয়েছেন৷‌ মিনা ভোটব্যাঙ্কের কিছুটা অংশ এখনও কিরোড়িলালের হাতে৷‌ কিরোড়িলাল মিনার ভাই জগমোহন মিনা রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টির প্রার্থী৷‌ তাঁর মতোই নির্দল প্রার্থী নবীন পিলানিয়া বি জে পি-কে চাপে রেখেছেন৷‌ অন্যদিকে, এই কেন্দ্রের আর এক বিশেষত্ব হল ভোটদানে অনীহা৷‌ ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ৷‌ তফসিলি জাতি, উপজাতির সম্প্রদায় ভোটে অংশ নিলেও সাধারণ জাতির লোকজন খুব একটা ভোট দিতে যায় না৷‌ বোধহয় সেই কারণেই মোড়ে মোড়ে মাইক প্রচারের মাধ্যমে ভোটদানের আবেদন জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷‌ সরকারি বাসে ভোটদানের আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে৷‌ প্রতিটি ব্লকের বি এল ও-দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভোটার স্লিপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য৷‌

সোমবার রাজস্হান ট্রান্সপোর্ট অথরিটির বাসে টঁক ঢোকার আগে খটখটে শুকনো এক নদী পার হতে হয়েছিল৷‌ শুকনো বালিময় এই নদীর নাম বানাস৷‌ উদয়পুর রাউলি পাহাড়ের বাঁদিক থেকে নেমেছে চম্বল নদী৷‌ ডানদিক থেকে বানাস৷‌ দুই নদীর মিলন হয়েছে চম্বলে৷‌ এমনিতে সারা বছর শুকনো থাকলেও বর্ষায় বন্যা ডেকে আনে বানাস৷‌ নদীর কথা উঠতেই টঁকের প্রবীণ বাসিন্দা ধরমবীর মিনা সমঝে দিলেন, ‘এই নদীকে কখনওই শুকনো ভেবে ভুল করবেন না, এর নিচ দিয়ে জল বইছে৷‌ বালি সরালেই জল মিলবে৷‌’






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited