Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ শ্রাবণ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ৩১ জুলাই ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
সোনিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেননি রাহুলই ।। ফেসবুক বন্ধুর হাতে খুন কেষ্টপুরের গৃহবধূ ।। তাপস পাল-কাণ্ড: আজ সকালে ফের শুনানি ।। এনসেফেলাইটিসে কলকাতায় মৃত্যু আড়াই বছরের শিশুর ।। কলকাতার ‘বান্টি বাবলি’ কাছে কোটি টাকা মিলল পুরীর সৈকতে ।। ২৪ বছর পর নীতীশ-লালু এক মঞ্চে, ঘোষিত হল জোট ।। এনসেফেলাইটিসে মৃত্যু আরও ৫ জনের ।। স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যে ফ্রন্টের সম্প্রীতি-বন্ধন ।। এবার স্কুলে শরণার্থী শিবিরেও ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের গোলা, হত ২০ ।। রাজ্যে এনসেফেলাইটিস নিয়ন্ত্রণে জনস্বার্থ মামলা ।। গাডকারির বাড়িতে আড়ি: রাজ্যসভায় তুমুল হইচই ।। ভক্তবালা: এফ আই আর করতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ভারত

সোনিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেননি রাহুলই

গাডকারির বাড়িতে আড়ি: রাজ্যসভায় তুমুল হইচই

২৪ বছর পর নীতীশ-লালু এক মঞ্চে, ঘোষিত হল জোট

কাল থেকেই খুলে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবনের জাদুঘর

খুচরো খবর

সোনিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেননি রাহুলই

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



আজকালের প্রতিবেদন: দিল্লি, ৩০ জুলাই– ২০০৪ সালের সেই সরকার গঠনের অবিস্মরণীয় প্রাক-মুহূর্ত৷‌ দেশে তখনও রয়েছে সোনিয়া গান্ধীকে ঘিরে ‘বিদেশিনী’ ইস্যুটি৷‌ বিজয়ী কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন নিয়ে গোটা দেশে কৌতূহল৷‌ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী উঠে দাঁড়িয়ে মনমোহন সিংয়ের কাছে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন, মনমোহন সিংই দেশের প্রধানমন্ত্রী৷‌ কিন্তু বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে নটবর সিং আজ দাবি করলেন, সেটা সোনিয়ার হৃদয়ের কথা ছিল না৷‌ নটবর বললেন, নিজের ইচ্ছেয় সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেননি৷‌ ছেলে রাহুল গান্ধী তাঁকে প্রবলভাবে বাধা দিয়েছিলেন, যাতে সোনিয়া প্রধানমন্ত্রী না হন৷‌ নটবর বললেন, রাহুলের বয়স তখন ৩৪৷‌ সে সময় রাহুলের ভয় ছিল তাঁর মা যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তা হলে বাবা রাজীব গান্ধী ও ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর মতো তাঁর মা-কেও খুন হতে হবে৷‌ এই ভীতিতেই রাহুল তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীকে বারবার বারণ করেছিলেন, তিনি যেন প্রধানমন্ত্রী না হন৷‌ নেহরু-গান্ধী পরিবারের একদা অতিঘনিষ্ঠ, কেন্দ্রের বহুকালের মন্ত্রী, ৮৩ বছর বয়সী নটবর সিং আজ এ কথা বললেন হেডলাইনস টু-ডে চ্যানেলে করণ থাপারের নেওয়া সাক্ষাৎকারে৷‌ ইউ পি এ-১ সরকারের বিদেশমন্ত্রী নটবর সিংকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল বেশ হেনস্হায়৷‌ ইরাকে ‘খাদ্যের বদলে তেল’ কর্মসূচির কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হয়ে, ২০০৫ সালে৷‌ এর পর বছর তিনেক কার্যত আড়ালে থেকে ২০০৮-এ নটবর সিং কংগ্রেসের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন৷‌ গত কয়েকদিন ধরে আবার তিনি সংবাদে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছেন৷‌ বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে তাঁর প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী ‘ওয়ান লাইফ ইজ নট এনাফ: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ ঘিরে৷‌ বইটি কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে৷‌ নটবরের এই আত্মজীবনী বের হচ্ছে, এমন খবরে বেশ সাড়া পড়ে গেছে৷‌ কারণ, লোকসভা ভোটের ঠিক আগেই প্রকাশিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মিডিয়া-উপদেষ্টা সঞ্জয় বারুর বই৷‌ যে বইয়ে সঞ্জয় ফাঁস করে দিয়েছিলেন যে, ইউ পি এ ১ ও ২ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইলই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সোনিয়া গান্ধীকে দেখিয়ে আনা হয়৷‌ লোকসভা ভোটের প্রচারে এ নিয়ে মনমোহন সিংয়ের সমালোচনায় মুখর হয় বি জে পি৷‌ কংগ্রেস অবশ্য সঞ্জয় বারুর এই দাবি ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছিল৷‌ নটবর সিংয়ের প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী নিয়েও অস্বস্তির আশঙ্কা জেগে উঠেছে কংগ্রেসের উঁচুতলায়, খোদ দলের সভানেত্রীর বাসভবনেও৷‌ খবর রটেছিল, সোনিয়া গান্ধী নিজে নটবর সিংয়ের বাসভবনে গিয়ে বর্ষীয়ান নটবরকে তাঁর বইয়ে এসব অস্বস্তিকর বিষয় বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন৷‌ আজ করণ থাপারের প্রশ্নের জবাবে নটবর স্বীকার করেছেন, ৭ মে সোনিয়া গান্ধী মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন৷‌ নটবর এটাও স্বীকার করেছেন সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কা তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়টি-সহ বেশ কিছু বিষয় আত্মজীবনী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য৷‌ নটবর রাজি হননি৷‌ নটবর তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন যা সত্যি, তা-ই তিনি লিখেছেন৷‌ বাদ দেবেন কেন? আজকের সাক্ষাৎকারে নটবর বলেছেন, রাহুল যা করেছেন, তা নিজের মায়ের জন্য উদ্বেগ৷‌ ছেলে হিসেবে রাহুল সঠিক কর্তব্য করেছেন৷‌ নটবর জানিয়েছেন, ২০০৪ সালের ১৮ মে মনমোহন সিংয়ের কাছে তিনি, প্রিয়াঙ্কা, সোনিয়ার পরিবারের আরেক বন্ধু সুমন দুবে তিনজনে গিয়েছিলেন৷‌ মনমোহনকে তাঁরা বলেছিলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রী হবেন৷‌ নটবর জানিয়েছেন, ৭ মে সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কা যেদিন তাঁর বাসভবনে আসেন, তাঁদের কাছে তিনি তাঁর বেদনার কথা জানিয়েছিলেন৷‌ বলেছিলেন কত অসম্মান করে তাঁকে ইউ পি এ মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করানো হয়েছে৷‌ সোনিয়া নাকি বলেন, সরি! আমি এসব জানতাম না৷‌ নটবর জানিয়েছেন, সোনিয়াকে তিনি বলেছেন, ‘আপনি এসব জানেন না, তা হতে পারে না৷‌ কারণ আপনার সম্মতি ছাড়া, আপনার অনুমোদন ছাড়া এটা হতে পারে না৷‌’ নটবর বলেছেন, এর পরও সোনিয়া দুঃখপ্রকাশ করেছেন৷‌ সঞ্জয় বারু তাঁর বইয়ে দাবি করেছেন যে, ইউ পি এ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সোনিয়া গান্ধীকে দেখানো হত৷‌ নটবর বলেছেন, হতই তো, পি এম ও-র পুলক চ্যাটার্জি ফাইল নিয়ে যেতেন সোনিয়া গান্ধীর কাছে৷‌ এ নিয়ে কোথাও কারও আপত্তি জাগত না, কারণ সোনিয়া গান্ধীই তো সর্বোচ্চ নেত্রী৷‌ ১৯৯১ সালে সোনিয়া গান্ধী চেয়েছিলেন শঙ্করদয়াল শর্মাকে প্রধানমন্ত্রী করতে, করণ থাপারের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নটবর৷‌ নটবর বলেছেন, শঙ্করদয়াল তাঁর স্বাস্হ্যের কারণে সে সময় প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি হননি৷‌ পরে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হয়৷‌ নটবর জানিয়েছেন, শঙ্করদয়াল প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি না হওয়ায় পি ভি নরসিংহ রাওকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসান সোনিয়া, যদিও সোনিয়া তখন পি ভি-কে ভালভাবে চিনতেন না৷‌ পরেও দু’জনের খুব একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়নি৷‌ নটবর সিংয়ের ছেলে এখন রাজস্হানে বি জে পি বিধায়ক৷‌ বিদেশমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁকে যেভাবে তাড়ানো হয়েছে, সেসবের ক্ষোভে কী এই আত্মজীবনীতে বদলা নিতে চাইছেন? করণ থাপারের এ প্রশ্নে নটবর বলেছেন, ‘মোটেই না৷‌ এই বয়সে কী আর বলব৷‌ যা সত্যি তাই লিখেছি৷‌’ এদিকে, কংগ্রেস নটবরের এই মম্তব্যে বিরুদ্ধে দলীয় অবস্হান স্পষ্ট করেছে৷‌ দলের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, নটবরের মম্তব্য একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷‌ ২০০৪ সালে ‘তেলের বদলে খাদ্য’ কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগে ভোলকার কমিটির রিপোর্টের সুবাদে নটবরকে অসম্মানজনকভাবে ইউ পি এ মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল৷‌ এখন নিজের বইয়ের বিক্রি বাড়ানোর ব্যাপারে বাজার গরম করার মতো কথা তিনি বলে যাচ্ছেন৷‌ কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক অজয় মাকেন নটবরের দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন৷‌ মাকেন বলেছেন, এই মম্তব্য একেবারেই হাস্যকর৷‌ নিজের বই বিক্রি বাড়ানোর জন্য বাজার গরম করা কথাবার্তা বলা এখন একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷‌ এতে বিনা পয়সায় প্রচারও হয়ে যায়৷‌ নটবরও তেমন কাজই করেছেন৷‌ এ নিয়ে কোনও কথা বলা অর্থহীন৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited