Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ২ পৌষ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
পাশে ইমরান, জঙ্গি দমনে শরিফ ।। গুড তালিবান, ব্যাড তালিবান! ।। কলকাতা পুরভোটে সি পি এম-কে দ্বিতীয় শক্তি ধরছে তৃণমূল কংগ্রেস ।। মদনের কন্ঠস্বর রেকর্ড করার অনুমতি পেতে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে সি বি আই ।। বন্ধ পাটকাপাড়া চা-বাগানে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু ।। যাদবপুরে সমাবর্তনে সবাইকেই ডাকলেন উপাচার্য ।। সফির স্মরণসভায় আদবানি: রাজনীতিতে অস্পৃশ্যতা অনুচিত ।। সাগর মেলা: নামখানা-বেণুবন ফেরি সার্ভিসে জোর প্রশাসনের ।। কড়া বার্তা, ভারত ট!র নিতে তৈরি--সুনীল গাভাসকার ।। বিরক্তিকর ট্যাকটিক্যাল ফুটবল, জয় টাইব্রেকারে--গৌতম সরকার ।। পেশোয়ারের পর এবার নিশানা দিল্লি? ।। শীতের কামড় বাড়বে এবার
বিদেশ

গুড তালিবান, ব্যাড তালিবান!

পাশে ইমরান, জঙ্গি দমনে শরিফ

শুধু বেদনা নয়, লজ্জা আর রাগও

মাথা লক্ষ্য করেই তালিবানি গুলি!

তেহরিক-ই-তালিবানকে খোলা চিঠি

তালিবান হামলা হেলমান্দে

গুড তালিবান, ব্যাড তালিবান!

এই ছকই পাকিস্তানের কাল হল?

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



ইসলামাবাদ, ১৭ ডিসেম্বর (সংবাদ সংস্হা)– এই সেদিনের ঘটনা৷‌ অসলোর মঞ্চে উজ্জ্বল মালালা ইউসুফজাই৷‌ তালিবান হামলাকে পেছনে ফেলে, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জেদকে সম্বল করা পাকিস্তানের মেয়ের শাম্তিতে নোবেল প্রাপ্তি৷‌ সপ্তাহ ঘুরতে নাঘুরতেই সেই মালালারই দেশে আক্রাম্ত শিক্ষাঙ্গন৷‌ ঘাতক সেই তালিবান৷‌ ১৩২টি শিশুর রক্তে ভেসে যাওয়া পাকিস্তানে এখন একটা প্রশ্ন বড় করে দেখা দিচ্ছে৷‌ তালিবান, আল কায়দা ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন প্রসঙ্গে পাক সেনার নীতিই শেষমেশ ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এল না তো? আফগানিস্তানে, কাশ্মীরে নিজেদের জমি পেতে বারবার এই ঘাতক বাহিনীকে প্রকারাম্তরে মদত জুগিয়েছে পাক সেনা বাহিনী এবং তাদের গোয়েন্দা সংগঠন আই এস আই৷‌ সেই তালিবান, সেই আল কায়দাকেই আবার নিয়ন্ত্রণে আনতে বারবার মাশুলও দিয়েছে পাকিস্তান৷‌ দেশটায় কোনও না কোনও অঞ্চলে জঙ্গি হামলা বা জঙ্গিদের সঙ্গে সেনা-পুলিসের সঙঘর্ষ প্রায় রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷‌ তবে গতকাল পেশোয়ারের সেনা স্কুলে যে হাড়হিম করা ঘটনা ঘটাল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান তা নজিরবিহীন৷‌ ১৩২টি শিশুসহ ১৪১ জনকে নৃশংস হত্যার পর এক বিবৃতিতে তেহরিক-ই-তালিবানের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, সেনাকে শিক্ষা দিতেই ওদের ‘অভিযান’৷‌ আজ তালিবানদের আরেকটি গোষ্ঠীও কালকের হামলার কৃতিত্ব দাবি করেছে৷‌ এটি হল মোল্লা ফজলুল্লার গোষ্ঠী৷‌ মালালার ওপর হামলা নাকি এরাই চালিয়েছিল৷‌ একটি সূত্রের বক্তব্য, পাক গোয়েন্দাদের কাছে খবর আছে, পেশোয়ারের হামলার নেতৃত্বে ছিলেন ওমর খোরাসানি৷‌ তেহরিক-ই-তালিবানের অঙ্গ সংগঠন ‘মহম্মদ’ শাখার এক সময়ের ভারপ্রাপ্ত বর্তমানে ‘জামাত-উল-আহরার’-এর শীর্ষনেতা খোরাসানি পাকিস্তানে সবথেকে মারত্মক জঙ্গি৷‌ সরকারের সঙ্গে কোনও অবস্হাতেই কোনওরকম সমঝোতায় আসতে নারাজ খোরাসানি বারবার মারণ হামলার ‘প্রয়োজনীয়তা’ প্রচার করেছে৷‌ সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো দরো এই জঙ্গি নেতা প্রায়ই টুইটারে নিজের নৃশংসতার বর্ণনা দেয়৷‌ মুণ্ডচ্ছেদে কুখ্যাত আই এস-এর নেতা বাগদাদির চেয়ে কোনও অংশে কম নয় সে৷‌ ঠিক কতজন খোরাসানির সঙ্গে আছে, তা স্পষ্ট নয়৷‌ তবে তালিবানের প্রথম সারির কয়েকজন কমান্ডারকে সঙ্গে নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘জামাত উল-আহরার’ এটুকু জানা গেছে৷‌ আবার, পাকিস্তানের ‘ডন’ কাগজ একটি সূত্রে উদ্ধৃত করে বলছে, গোটা ঘটনার মাথা আফগানিস্তানের তালিবান কমান্ডার উমর নারায়৷‌ আফগানিস্তান থেকেই নির্দেশ এসেছে জঙ্গিদের উদ্দেশে৷‌ সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিম সেলিম বাজওয়ার মম্তব্য, জবর্া কোথা থেকে এসেছিল, কাদের সঙ্গে কথা বলছিল, কাদের হাতে ছিল লাগাম, সব আমরা বের করেছি৷‌ দু’চারদিনের মধ্যেই হয়ত আপনাদের বলতে পারব৷‌

গত বছর ভোটে দেশ শাসনের রায় পেয়েছে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ৷‌ শরিফ শপথগ্রহণের পরেই তালিবানদের বাড়বাড়ম্ত দশায় রাশ টানা কথা ঘোষণা করেছিলেন৷‌ কিন্তু পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই৷‌ চলতি বছরেই আরও দুবার বড় রকমের জঙ্গি হানা ঘটেছে পাকিস্তানে৷‌ গত চার বছরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বারবার৷‌ দেশ জুড়ে তালিবান তাদের ‘অস্তিত্ব’ বোঝালেও, আফগানিস্তান সীমাম্ত ঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া, উত্তর ওয়াজিরিস্তানেই ওদের প্রভাব, প্রতিপত্তি বেশি৷‌ পেশোয়ার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী৷‌ ঘটনা হল, এই অঞ্চল প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা, অধুনা রাজনীতিবিদ ইমরান খানের ‘তেহরিক-ই-ইনসাফ’-এর শক্ত ঘাঁটি৷‌ খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তাদেরই সরকার৷‌ পাকিস্তান তালিবানের প্রতি কোনও অজ্ঞাত কারণে ইমরান নাকি নরম মনোভাব পোষণ করেন৷‌ এতটাই যে, তাঁকে নিন্দুকেরা তাঁর নাম দিয়েছেন ‘তালিবান খান’৷‌ বস্তুত, গতকাল পেশোয়ারের নারকীয় ঘটনার পর সেখানে রওনা দিলেও, একবার জন্য তালিবানের নাম পর্যম্ত নেননি ইমরান খান৷‌ এ বছর জুনে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিলেন নওয়াজ শরিফ৷‌ তবে তাঁকে সমর্থন তো দূর অস্ত‍্, তীব্র বিরোধিতার পথেই নামেন ইমরান৷‌ মৌলবাদী নেতা ড. তাহিরুল কাদরির সাহায্যে শরিফ সরকারকে পরাস্ত করার অভিযানও শুরু করেন৷‌ ওই অবস্হায়ে গদি বাঁচাতে তালিবান বিরোধী অভিযান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন শরিফ৷‌ এরপর দ্বিগুণ চাঙ্গা হওয়া তেহরিক-ই-তালিবান ২ নভেম্বর ওয়াঘা সীমাম্তে একটি জমায়েত মারণ হামলা চালিয়ে ৫৫ জনকে হত্যা করে৷‌ গতকালের ঘটনা সেনাবাহিনীর অপদার্থতার দিকেও আঙুল তুলছে৷‌ পেশোয়ারের সেনা স্কুল ছিল সেনা ছাউনি এলাকাতেই৷‌ পাশেই রাজ্যপালের বাসভবন৷‌ আর পাঁচটা সাধারণ স্কুলের থেকে সেখানে নিরাপত্তা বেশি৷‌ তা সত্ত্বেও মাত্র ৬-৭ জনকে জঙ্গিকে কেন রোখা গেল না? জানতে চাইছে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান৷‌ ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারে তালিবান হানা হতে পারে, আগেই খবর পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা৷‌ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন সেই কথা৷‌ এরপরেও প্রশাসনের গা ছাড়াভাবে এত শিশু মৃত্যুতে ক্ষোভ বাড়ছে আরও৷‌ ২৫৬ ধারা চালুর করার পক্ষে সওয়াল উঠছে৷‌ পাকিস্তানি সংবিধানের ওই ধারা অনুযায়ী, পাক সেনা ছাড়া আর কোনও সশস্ত্র সংগঠন দেশের মাটিতে অভিযান চালাতে পারবে না৷‌ তবে সন্ত্রাসবাদের বিষে কলুষিত পাকিস্তানে তা কতটা কাজে আসবে, বড় প্রশ্ন তাই নিয়েও৷‌ অভিযোগ, আফগান তালিবানের বড় নেতা মোল্লা ওমরকে আফ-পাক সীমাম্তে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে তো পাকিস্তান সেনাই৷‌ আফগান তালিবানের মদতে গড়ে ওঠা তেহরিক-ই-তালিবান সৌদি আরবের কিছু দাতাদের আর্থিক আনুকুল্যে গত কয়েক বছরে পাখতুন অধ্যুষিত এলাকায় একের পর এক মাদ্রাসা গড়েছে৷‌ তাদের মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে সেখানে৷‌ চমকপ্রদ ঘটনা হলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে উজবেক জঙ্গি সংগঠন আই এম ইউ৷‌ উজবেকিস্তান ছেড়ে এই ভিনদেশে পাকিস্তানি জঙ্গিদের ‘জেহাদ’-এ শরিক হয়ে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে চাইছে আই এম ইউ৷‌ যে কোনও জেহাদের পাশে দাঁড়ানোকে তাদের নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করছে ওরা৷‌ অম্তত তাই মনে করছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা৷‌ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ‘গুড তালিবান, ব্যাড তালিবান’ খুব চালু কথা৷‌ ‘ভাল’ তালিবান কারা? না যাদের কাঁধে ভর করে পড়শি দেশ, স্পষ্ট করে বলতে গেলে ভারতকে বিপাকে ফেলা যায়৷‌ কাশ্মীরে, মুম্বই, আমেদাবাদ, হায়দরাবাদে এইসব ‘গুড তালিবান’ অর্থাৎ হাক্কানি, লস্কর-ই-তৈবা, আফগান তালিবানকে কাজে লাগিয়েছে আই এস আই৷‌ ‘মন্দ’ তালিবান তারাই, যারা আফগানিস্তানে পাকিস্তানি প্রভাবে বাদ সাধে, আই এস আইয়ের নিয়ন্ত্রণ মানে না৷‌ এই ‘ব্যাড তালিবান’-দের আঘাত যে এতটা নিদারুণ হয়ে উঠবে, তা পাকিস্তান দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি৷‌ পেশোয়ারের হানার পরে পাকিস্তান নড়েচড়ে বসবে? ‘গুড তালিবান’, ‘ব্যাড তালিবান’-এর ভেদ ভুলবে? বিশেষজ্ঞরা অনেকেই ভারতের দিকে তাকিয়ে৷‌ উপ মহাদেশের বড় ক্ষমতাক্ষেত্র ভারতের সঙ্গে সুস্হ সম্পর্ক গড়ে উঠলে তবেই আফগান তালিবানরা পাকিস্তান ছেড়ে পালাবে, বলতে শুরু করেছেন তাঁরা৷‌ দ্য নেশন কাগজের সম্পাদকীয়তে আজ সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের উদ্দেশে জোরালো ভাষায় বলা হয়েছে, জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে সাহসী জওয়ানরা প্রাণ দিচ্ছে, ব্যাড তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়ছে তারা, কিন্তু এসব সত্ত্বেও সমস্ত তাবৎ রাষ্ট্রহীন সন্ত্রাসীদের বিরোধিতা করার ঢালাও কোনও নীতি আপনারা নিচ্ছেন না৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited