Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ বৈশাখ ১৪২১ শনিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
রাতভর হোটেলে জেগে কাটালেন মমতা ।। আমাকে মেরে ফেলার চক্রাম্ত করা হয়েছিল: মমতা ।। মুখ্যমন্ত্রীর সভার কাছেই জিলেটিন স্টিক উদ্ধার হল! ।। বি জে পি-র অঙ্ক: পদ্ম ফুটবে বাংলা থেকে ।। সততার প্রতীক এখন সারদার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: বুদ্ধদেব ।। টাকা লেনদেনের দুই চিঠি পেল ই ডি, নজরে বহু ব্যবসায়ী ।। মোদি ঢেউ নেই যে যোশিকে কে জেতাবে!--দেবারুণ রায়, কানপুর ।। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিরোধেই জোর--নিজেও তদম্তের ঊধের্ব নই: মোদি ।। গার্সিয়া মার্কেস: অত্যাশ্চর্য জীবনের ইতি ।। এবার ইট-পাটকেল ধেয়ে এল কেজরিওয়ালের দিকে! ।। সারদার ১২৮০ কোটি টাকার খোঁজে ই ডি ।। সি বি আই চাইলেন বিমান
বিদেশ

গার্সিয়া মার্কেস: অত্যাশ্চর্য জীবনের ইতি

গার্সিয়া মার্কেস: অত্যাশ্চর্য জীবনের ইতি

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



মেক্সিকো সিটি, ১৮ এপ্রিল (সংবাদ সংস্হা)– থেমে গেল গত শতাব্দীর বিশ্বসাহিত্যের বিস্ময়কর কলমটি৷‌ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস৷‌ ৮৭ বছর বয়সে গত রাতে মেক্সিকো সিটির বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়৷‌ নিজের ছোটগল্প এবং উপন্যাসে লাতিন আমেরিকার জীবনকে, সেই জীবনের আবেগ, সংস্কার, হিংসা, সামাজিক অসাম্য, স্বৈরতন্ত্রকে যিনি সারা বিশ্বের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিলেন, নোবেলজয়ী সেই মার্কেস ছিলেন সার্ভেম্তেসের পর স্প্যানিশ ভাষায় পৃথিবীর জনপ্রিয়তম লেখক৷‌ মার্ক টোয়েন এবং চার্লস ডিকেন্সের সঙ্গে একই মর্যাদায় তাঁর নাম উচ্চারিত ও তাঁর লেখা পঠিত হয় সাহিত্যপ্রেমী মহলে৷‌ উচ্ছ্বাসে এবং বিষাদে ভরা তাঁর আখ্যানগুলির মধ্যে রয়েছে ‘ক্রনিকল অফ এ ডেথ ফোরটোল্ড’, ‘লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা’৷‌ তাঁর আরও একটি উল্লেখযোগ্য আখ্যান ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না’৷‌ কিন্তু জনপ্রিয়তায় এবং সৃষ্টিধর্মিতায় এই সব আখ্যানকে ছাপিয়ে যায় ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আখ্যান ‘একশো বছরের নিঃসঙ্গতা’৷‌ পৃথিবীর ২৫টি ভাষায় অনূদিত এই আখ্যান বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি কপি৷‌ মার্কেসের লেখার বৈশিষ্ট্যই ছিল জাদু-বাস্তবতা৷‌ দৈনন্দিনের যন্ত্রণাজীর্ণ জীবনের সঙ্গে কল্পনার জগৎকে এক অদ্ভুত রসায়নে মিলিয়ে দিতে পারাটাই ছিল তাঁর কলমের প্রধানতম শক্তি৷‌ অলৌকিক এবং অতি-প্রাকৃতিক ঘটনাবলির সঙ্গে তিনি শুধু দৈনন্দিন জীবনকেই মেলাতেন না, লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও অত্যম্ত কৌশলে মিশিয়ে দিতেন তার সঙ্গে৷‌ মেক্সিকো সরকার গত রাতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রচার করে৷‌ মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাঁদে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন৷‌ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও এই অসামান্য সাহিত্যিকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন৷‌ ১৯২৭ সালের ৬ মার্চ মার্কেসের জন্ম হয় কলম্বিয়ায় ক্যারাবিয়ান সাগরের তীরে আরকাটাকা গ্রামে৷‌ মার্কেসের জন্মের কিছু দিন পরেই তাঁর বাবা-মা দু’জনেই জীবিকার সূত্রে চলে যান অন্যত্র৷‌ মার্কেস বড় হতে থাকেন তাঁর দাদু-দিদার কাছে৷‌ তাঁর দাদু, কলম্বিয়ার ১০০০ দিনের যুদ্ধের এক প্রবীণ সৈনিক, মার্কেসকে দিয়েছিলেন রাজনীতির প্রাথমিক পাঠ৷‌ দিদিমার কাছে মার্কেস শুনতেন সে দেশের লোককাহিনী এবং নানা কুসংস্কারের বৃত্তাম্ত৷‌ শুনতেন ভূত ও প্রেতাত্মার বৃত্তাম্ত৷‌ প্রয়াত পূর্বপুরুষরাও উঠে আসতেন সেই কাহিনীতে৷‌ সেই শ্রবণ নিশ্চিতভাবেই গড়ে দিয়েছিল মার্কেসের অনবদ্য সাহিত্যিক সত্তার মানসভূমি৷‌ মার্কেস নিজে বলেছেন, ‘কল্পনার ও অলৌকিকের সব কাহিনী আমার দিদা আমাকে শোনাতেন ভীষণরকম স্বাভাবিকতায়৷‌ আমার লেখার ধরন সেই শ্রুতি থেকেই উঠে এসেছে৷‌’ আইন পড়ার জন্য মার্কেস ভর্তি হয়েছিলেন কলেজে৷‌ কিন্তু সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে তিনি সাংবাদিকতায় যোগ দেন৷‌ ১৯৫৪ সালে সেই সাংবাদিকতার সূত্রেই চলে যান রোমে৷‌ তার পর থেকেই তিনি কখনও প্যারিস, কখনও জেনেভা, কখনও বা ভেনেজুয়েলায় এবং শেষ পর্যম্ত মেক্সিকো সিটিতে৷‌ সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বজোড়া পরিচিতির মধ্যেও সাংবাদিকতা তিনি কখনও ছাড়েননি৷‌ এক দারিদ্র্য-পীড়িত, হিংসামুখর কলম্বিয়ায় বেড়ে উঠেছিলেন মার্কেস, যেখানে গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না৷‌ আস্তিকতার দিক থেকে বরাবর বামপম্হী মার্কেস কলম্বিয়া সরকারের সমালোচনা করতে কখনও ছাড়েননি৷‌ জীবনের একটা বড় সময় সে কারণেই তাঁকে কাটাতে হয়েছিল নির্বাসনে৷‌ ফিদেল কাস্ত্রোর বিশেষ বন্ধু ছিলেন গাবরিয়েল৷‌ কাস্ত্রো সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে গাবরিয়েল বলেছিলেন, ‘ফিদেল অত্যম্ত সংস্কৃতিমান মানুষ৷‌ যখনই আমরা কথা বলতে বসি, সাহিত্য নিয়েই আমাদের কথা হয়৷‌’ কিউবার বিপ্লবের পর মার্কেসের সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর এমনই সখ্য গড়ে ওঠে যে, মার্কেস কাস্ত্রোকে তাঁর আখ্যানের পাণ্ডুলিপিও পাঠাতে শুরু করেন৷‌ মার্কেস সম্পর্কে কাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘শিশুর উদ্যম নিয়ে মার্কেস হলেন এক অবিশ্বাস্য প্রতিভা৷‌ এক ভবিষ্যতের মানুষ৷‌ মার্কেসের সাহিত্যকর্ম তাঁর সংবেদনশীলতারই প্রকাশ৷‌ কখনও তিনি তাঁর উৎস-চেতনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি৷‌ লাতিন আমেরিকার প্রণোদনা এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরে আসেননি৷‌’ ১৯৫৮ সালে মার্কেস বিয়ে করেন মার্সিডিজকে৷‌ ১৯৬৫ সালে একদিন গাড়ি চালাতে চালাতে তাঁর মাথায় আসে ‘একশো বছরের নিঃসঙ্গতা’ লেখার কথা৷‌ গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি ফেরেন বাড়িতে৷‌ দিনে ৬ প্যাকেট সিগারেটের বরাদ্দ নিয়ে ঘরবন্দী করেন নিজেকে৷‌ ১৮ মাস পরে যখন তাঁর হাতে ১৩০০ পাতার পাণ্ডুলিপি, তখন তাঁর পরিবারের মাথায় বিশাল অঙ্কের দেনা, বাড়িভাড়া বাকি পড়ে গেছে বহু মাসের৷‌ আখ্যানটি প্রকাশিত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়৷‌ ১৯৮২-তে তিনি পান সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার৷‌ অথচ উইলিয়ম ফকনারের লেখার বিশেষ অনুরাগী মার্কেস ২৩ বছর বয়সে লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের প্রকাশক পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন ৭ বছর৷‌ মার্কেসের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বিল ক্লিন্টন বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষের হর্ষ-বেদনার বাস্তব জাদু-বাস্তবে ফুটে উঠত তাঁর কলমে৷‌ ২০ বছর তিনি আমার বন্ধু ছিলেন৷‌ আমি গর্বিত৷‌’ কয়েক দিন আগেই নিউমোনিয়া থেকে ভাল হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন মার্কেস৷‌ তাঁর মৃত্যুতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জোহান স্যান্টোস সারা দেশে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন৷‌ মৃত্যুর সময় স্ত্রী মার্সিডিজ এবং দুই ছেলে উপস্হিত ছিলেন মার্কেসের শয্যাপাশে৷‌ আগামী সোমবার মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে এই অসামান্য সাহিত্যিককে৷‌ তার পর হবে তাঁর শেষকৃত্য৷‌






bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited