Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৩ পৌষ ১৪২১ শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
জোর করে পণ্য পরিষেবা কর চাপাচ্ছে কেন্দ্র, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী ।। অপারেশন সফল, তাঁর খবর মিলে যাচ্ছে--অরুন্ধতী মুখার্জি ।। শরিফের শপথই সার, মুক্ত মুম্বই হামলার চক্রী লকভি ।। সুদীপ্তর ‘ফেরারি’ ভারতে এসেও কীভাবে উধাও! জাল গোটাচ্ছে ই ডি ।। ৩ দিনে ৩ সংগঠনকে ৩ জায়গায় সভার অনুমোদন দেবে পুরসভা ।। ঘুরে দাঁড়াতে উত্তর ২৪ পরগনাকে মডেল করতে চায় সি পি এম ।। লগ্নি করলে আম্তরিক সাহায্য ত্রিপুরায়: জিতেন্দ্র ।। ধর্মাম্তর: রাজ্যসভা অচল চতুর্থ দিনেও ।। ভারতকে এগিয়ে রাখলেন অশ্বিন ।। কাল ফাইনালে কিন্তু সমানে সমানে লড়াই ।। আচার্যের হুঁশিয়ারি! ।। ইরাকে ১৫০ বন্দী মহিলার শিরশ্ছেদ!
বিদেশ

শরিফের শপথই সার, মুক্ত মুম্বই হামলার চক্রী লকভি

জঙ্গিদের বিয়ে করতে নারাজ

শরিফের শপথই সার, মুক্ত মুম্বই হামলার চক্রী লকভি

রায় ফেরাতে বলল ভারত

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share



ইসলামাবাদ ও দিল্লি, ১৮ ডিসেম্বর (পি টি আই)– পেশোয়ারে মর্মাম্তিক শিশুহত্যার পর সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে পাকিস্তান, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কথায় তেমনটিই মনে হয়েছিল৷‌ গতকাল সর্বদলীয় বৈঠক শেষে সেই দায়বদ্ধতার কথাই জানিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷‌ পাকিস্তানে প্রচলিত ‘ভাল তালিবান’, ‘মন্দ তালিবান’-এর ভেদাভেদ না করার অঙ্গীকারও করেছিলেন৷‌ কিন্তু দেশে মহাশোকের রেশ না কাটতেই আজ বোঝা গেল, পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই৷‌ জামিনে মুক্তি দিল কুখ্যাত জঙ্গিনেতা জাকিউর রহমান লকভিকে৷‌ ২৬৷‌১১-র মুম্বই হামলার সাত চক্রীর অন্যতম এই লকভি৷‌ রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে গতকাল জামিনের আবেদন করে লকভি এবং তার ছয় সাকরেদ আবদুল ওয়াহিদ, মাজার ইকবাল, হামাদ আমিন সাদিক, শাহিদ জামিল রিয়াজ, জামিল আহমেদ ও ইউনিস আঞ্জুম্ব পেশোয়ারের ঘটনায় পাকিস্তানের তামাম আইনজীবীর শোকপালনের সময়েই৷‌ রাওয়ালপিন্ডির জেলে লকভিদের জামিনের শুনানির আবেদন শুরু হতেই তার বিরোধিতা করেন ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) আইনজীবী৷‌ কিন্তু লকভির আইনজীবী রিজওয়ান আব্বাসের যুক্তি মেনে জামিন দেয় আদালত৷‌ গতকাল, শুধু পাকিস্তানই নয়, উপমহাদেশ থেকেই সন্ত্রাসবাদ উৎখাত করতে সাত দিনের মধ্যে ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ ঘোষণার কথা বলেছিলেন শরিফ৷‌ তা যে স্রেফ কথার কথা এবং প্রতিবেশী ভারতের ক্ষেত্রে তা খাটে না, তা প্রমাণ হয়ে গেল লকভির জামিনে৷‌ মুম্বই হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রী, রাষ্ট্রপু? ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী লকভির জামিনের তীব্র নিন্দা করল ভারত৷‌ পাকিস্তানকে অনুরোধ করল, রায় ফিরিয়ে নিতে৷‌ পরিষ্কার জানাল, সন্ত্রাসবাদ দমনে কোনও বাছাবাছি চলতে পারে না৷‌ লকভির জামিনে জঘন্য অপরাধকারী সন্ত্রাসবাদীরা উৎসাহ পাবে৷‌ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলেছেন৷‌ তাঁর আশা, পাকিস্তান সরকার নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে, যাতে লকভির জামিন খারিজ হয়৷‌ তড়িঘড়ি ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজনাথ বলেন, পাকিস্তানের তরফ থেকে কোনও খামতি থাকতে পারে বা অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে৷‌ প্রসঙ্গত তিনি মুম্বইয়ে হামলাকারী আজমল কাসভের কথা তোলেন৷‌ জানান, ভারত সরকার সুনির্দিষ্টভাবে ও দ্রুত মামলা চালিয়ে নিষ্পত্তি করেছে৷‌ ন্যায় বিচারে কাসভের ফাঁসি হয়েছে৷‌ পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যম্ত লড়াই চলবে বলে কথা দিয়েছিলেন৷‌ তাই রাজনাথের আশা, উনি লকভির জামিন বাতিলে উদ্যোগী হবেন৷‌ বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র সইদ আকবরউদ্দিন জানিয়েছেন, দু দিন আগেই জঙ্গিদের নৃশংস হানায় পেশোয়ারে ১৩০ জনের বেশি স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে৷‌ তারপরেই লকভির জামিনে ছাড়া পাওয়া জঙ্গিদের কাছে আশ্বাস-বার্তা পাঠাবে৷‌ লকভির ষড়যন্ত্রের তেমন কোনও প্রমাণ নেই, পাকিস্তান সরকারের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে আকবরউদ্দিন বললেন, পাকিস্তানের কাছে ৯৯ শতাংশ প্রমাণ রয়েছে৷‌ কারণ এটা ভুললে চলবে না, মুম্বই হামলার ছক তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানেই৷‌ আর যারা হামলা চালিয়েছিল, তারা এসেছিল পাকিস্তান থেকেই৷‌ এমনকি তাদের প্রশিক্ষণও হয়েছিল ওই দেশে৷‌ তাই পাকিস্তান সরকারের কাছে কোনও প্রমাণ নেই, কথাটা একেবারেই খাটে না৷‌ এদিকে রাজ্যসভায় সরকার জানাল, পাকিস্তান সমানে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভারতবিরোধী প্রচার করে চলেছে৷‌ বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, সিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণায় দুটো দেশ পারস্পরিক দায়বদ্ধতা থেকে শাম্তি বজায় রাখায় উদ্যোগী হওয়া এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে৷‌ তা সত্ত্বেও পাকিস্তান জঙ্গিদের মদত দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে৷‌

তালিবান উপদ্রুত খাইবার পখতুনওয়াতে আজ অবশ্য জঙ্গি নিধনে বড়রকমের সাফল্য পেয়েছে পাক সেনা৷‌ গতকাল থেকেই চলছিল অভিযান৷‌ সাফল্য এসেছে ২০টি বোমারু বিমানহানায়৷‌ খতম হয়েছে ৫৭ জন তালিবানি৷‌ এরা সবাই খাইবার অঞ্চলের প্রত্যম্ত এলাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল, বলে পাক সেনা সূত্রের খবর৷‌ আগামী কয়েকদিনে লাগাতার সেনা অভিযান চলবে৷‌ ১৬৷‌১২-র মর্মাম্তিক ঘটনার ছক এ মাসের গোড়ার দিকেই তৈরি করেছিল তালিবানরা৷‌ ১৬ জন কুখ্যাত কমান্ডার এর নেপথ্যে৷‌ প্রধান চাঁই মোল্লা ফজলুল্লাহ৷‌ সঙ্গে ছিল ডানহাত শেখ খালিদ হাক্কানিসহ হাফিজ দৌলত, কৈরি সঈফুল্লা এবং আরও কয়েকজন৷‌ তা-ই বলছে প্রাথমিক তদম্ত৷‌ এদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে৷‌ জানা গেছে এদের ডেরার খবর৷‌ ওই নারকীয় হত্যালীলা চালানোর সময়ে আফগান তালিবানের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ করে গেছে ওই ছয় জঙ্গি৷‌ প্রতিনিয়ত পরামর্শও নিয়েছে৷‌

পেশোয়ার হত্যাকাণ্ডে তালিবান-প্রধান মোল্লা ফজলুল্লাহ ও তার ডানহাত খালিদ হাক্কানি ও ১৪ শীর্ষস্হানীয় কমান্ডারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হল মাচনি গেট থানায়৷‌ তদম্তকারীরা আজ ঘটনাস্হলে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছেন৷‌ বেঁচে-যাওয়া কয়েকজনের বক্তব্যও রেকর্ড করেছেন৷‌ তেহরিক-ই তালিবানের অন্য যে কমান্ডারদের নামে এফআইআর করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হাফিজ গুলবাহাদুর, সইফুল্লা, মঙ্গল বাঘ, হাফিজ দৌলত, সরোয়ার শাহ, মৌলভি ফকির, আবদুল ওয়ালি, কোয়ারি শাকিল, আসলাম ফারুকি আওরঙ্গজেব ও জন ওয়ালির নাম৷‌ সন্ত্রাসদমন বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাত আত্মঘাতী জঙ্গি আবুজার, উমর, ইমরান, ইউসুফ, উজাইর, কোয়ারি ও চামনে ওরফে চামটুর নামেও এফআইআর করা হয়েছে৷‌ জানা গিয়েছে, বারার শিন দ্রাং মার্কাজ থেকে তালিম নিয়েই জঙ্গিরা পেশোয়ারে গিয়েছিল৷‌ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমাম্তে বিভিন্ন জঙ্গি দল এক বৈঠকে বসে হামলার সিদ্ধাম্ত নেয়৷‌ যে গাড়িতে চেপে জঙ্গিরা গিয়েছিল, তার মালিককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷‌ গাড়িটা ইসলামাবাদ থেকে চুরি করা হয়েছিল৷‌

নিরাপত্তাকর্মীদের বয়ান উদ্ধৃত করে ডন পত্রিকা হামলার দিনে জঙ্গিদের শেষ কথাবার্তার কথা প্রকাশ করেছে৷‌ কমান্ডো হানার আগেই জঙ্গি আবুজারের সঙ্গে, তার নিয়ন্ত্রক কমান্ডার উমরের কথাবার্তা হয়েছিল এরকম– ‘হলঘরের সব বাচ্চাগুলোকেই মেরে ফেলেছি, এবার কী করব? উত্তর আসে, সৈন্যদের আসার জন্য অপেক্ষা করো৷‌ নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার আগে ওদের হত্যা কোরো৷‌’ ডন আরও জানিয়েছেন, জঙ্গিরা মইয়ের সাহায্যে পিছনের দিকের দেওয়াল টপকায়৷‌ তারপরেই ঢুকে পড়ে মূল হলঘরে, সেখানে একজন উঁচু ক্লাসের ছাত্র অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেখাচ্ছিল৷‌ হলঘরে যে এভাবে সবাই জমায়েত থাকবে, এই খবরটা কি জঙ্গিদের কাছে ছিল? নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এটাই বড় প্রশ্ন৷‌ নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা ছোটদের বিভাগে চলে গেলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ত৷‌ কমান্ডোরা কোণঠাসা করে ফেললে প্রশাসনিক ভবনের সামনে চারজন নিজেদের উড়িয়ে দেয়৷‌ একজন নিজেকে ওড়ায় প্রধানশিক্ষিকা তাহিরা কাজির ঘরে৷‌ ওখানে দুজন ছাত্র ও তিনজন স্কুলকর্মীও মারা যান৷‌ দুজন জঙ্গি প্রবেশপথের কাছে থাকা কমান্ডোদের দিকে এগিয়ে যায়৷‌ সেখানে প্রথমে একজন নিজেকে ওড়ায়, দ্বিতীয়জন কয়েকজন কমান্ডোকে আহত করে আত্মহত্যা করে৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited