Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ আশ্বিন ১৪২১ বুধবার ১ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
আনন্দ প্রহর তুঙ্গে...--সব্যসাচী সরকার ।। ইস্টবেঙ্গলের পর এবার মোহনবাগানের অ্যাকাউন্ট সিল--অগ্নি পান্ডে ।। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও পুজো ভাসবে না বলছে আবহাওয়া দপ্তর--সুরজিৎ ঘোষ ।। মিরিটির বাড়ির পুজোয় অংশ নিয়েই দেশবাসীকে শারদ শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি--চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।। আজ ফের শুনানি, জামিন পেলেন না জয়ললিতা ।। কেন্দ্রে শিবসেনা থাকবে কি না মোদি ফিরলে কথা: উদ্ধব ।। তাপস পালের অশালীন মম্তব্য: তদম্তে নামল সি আই ডি ।। কয়লা কেলেঙ্কারি, অফিসারদের ক্লিনচিট ।। ‘কেম ছো?’ হোয়াইট হাউসে মোদিকে ওবামার আপ্যায়ন ।। বঙ্গের শারদোৎসবে কলিঙ্গ, কম্বোডিয়া, নাগাল্যান্ডের কারুবাসনা ।। পেট্রল কমছে লিটারে ৬৮ পয়সা ।। কলকাতাশ্রী ঘোষণা করলেন মহানাগরিক
উত্তর সম্পাদকীয়

অনেকদিন পর পুজোয় ‘এইচ এম ভি’ সুপারহিট

অনেকদিন পর পুজোয় ‘এইচ এম ভি’ সুপারহিট

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অরুণাভ ঘোষ

পুজো একেবারে দরজায়৷‌ বাঙালি ফুরফুরে-দিনের প্রস্তুতিতে মগ্ন৷‌ ছেলেবেলা থেকেই দেখেছি, পুজোর দুই অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হল বিভিন্ন পত্রপত্রিকার পুজো সংখ্যা এবং পুজোর গান৷‌ এদের ছাড়া পুজোর আয়োজনই যেন অসম্পূর্ণ ছিল৷‌ এখনকার শারদীয়ায় পুজো সংখ্যার ম্যাগাজিন নিয়ে যদি-বা কিছুটা মাতামাতি দেখা যায়, পুজোর গান আর তেমনভাবে দাগ কাটে না৷‌ অনেকগুলো বছর পর এবার দেখছি পুজোর গান ফের জমজমাট৷‌ এইচ এম ভি থেকে প্রকাশিত ‘ভালুকের গান’ এবার পুজোয় সুপারহিট!

এটুকু পড়েই নিশ্চয়ই এই প্রতিবেদনের পাঠককুল বলতে শুরু করেছেন, ‘এইচ এম ভি তো কবেই উঠে গিয়েছে৷‌ তার আবার পুজোর গান?’ হ্যাঁ, এইচ এম ভি-রই গান৷‌ সেখানেই তো চমক! আর সেই চমকটা ক্রমশ প্রকাশ্য৷‌

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমকে ঘিরে যে সব ছাত্রছাত্রী কলকাতার রাজপথে হুলস্হূল কাণ্ড বাধিয়েছেন, তাঁরা যে ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকারের সমর্থক নন, তা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ও কলকাতার পুলিস কমিশনার এতদিনে বুঝে গিয়েছেন৷‌ মুখ্যমন্ত্রীর মতে এ ধরনের ঘটনা তুচ্ছ হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর চিম্তাধারার বিরুদ্ধে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও পুলিস কমিশনার যেভাবে মাওবাদী চক্রাম্ত জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য মাথা ঘামাচ্ছেন, তা বাংলার গণতন্ত্রে এক মহান নজির হয়ে থাকবে৷‌ খারাপ লাগছে যে এই মহান নজিরে নিন্দুকরা সন্তুষ্ট তো হলেনই না, উল্টে পুলিস দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সংবেদনশীলভাবে মারধর করার মহান উদ্যোক্তা নগরপালের নামেও নানারকম মিথ্যা দোষারোপ শুরু করলেন৷‌ পুলিস কমিশনারকে ধন্যবাদ৷‌ তিনি রাতারাতি এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, সেদিন রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পুলিসের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই৷‌ বরং, পড়ুয়ারা বহিরাগতদের সাহায্যে উপাচার্যকে মেরে ফেলার চক্রাম্ত করেছিলেন৷‌ পুলিস ঠিক সময়ে না পৌঁছলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্যের মৃতদেহ বাইরে আসত৷‌ তাই উপাচার্য খুন হয়ে যাওয়ার আগেই খুব সংবেদনশীল ঢঙে সস্নেহ ঘুসি মেরে ছাত্রছাত্রীদের কবল থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে হয়৷‌

পুলিস কমিশনারের ওই রকম প্রামাণ্য একখানা বিবৃতির পর বঙ্গবাসীর আর কীসের ক্ষোভ? বিশেষ করে মা-মাটি-মানুষ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী যেখানে পুলিস কমিশনারের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রকাশ্যে, তখন তো আর হইচই জুড়ে দেওয়া সমীচীন নয়৷‌

ঈশ্বরের সৃষ্টিতে প্রভুভক্তি অপেক্ষা উত্তম গুণ আর কীই বা রয়েছে? কিন্তু, মানুষ সেই গুণে সর্বাপেক্ষা গুণধর এতদিন হয়ে উঠতে পারেনি৷‌ এ পর্যম্ত ‘প্রভুভক্ত’ বিশেষণটির প্রতি কুকুরদেরই একচেটিয়া অধিকার ছিল৷‌ এতে মানবকুলের আক্ষেপের সীমা ছিল না৷‌ অবশেষে এবার পুজোর ঠিক আগে সেই আক্ষেপ মিটে গেল৷‌ মা-মাটি-মানুষের সরকারের প্রতি পুলিস কমিশনারের ভক্তি প্রমাণ করেছে, প্রভুভক্তিতে তাঁর আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই৷‌

তবে, এখনও এমন অনেক অবিবেচক রয়েছেন, যাঁরা গুণের কদর করতে জানেন না৷‌ তাই তাঁরা যাদবপুরে পুলিসের এমন অতুলনীয় গৌরবময় ভূমিকাকেও কালিমালিপ্ত করছেন৷‌ এই সব নিন্দুকের অপপ্রচারের গুণে সাধারণ মানুষের মনে হতে পারে, পুলিস নির্বিচারে পড়ুয়াদের ঘুসি মেরেছে ও লাঠিপেটা করেছে৷‌ সেদিন ঘটনাস্হলে যাঁরা হাজির ছিলেন, তাঁরা সবাই বলেছেন, মমতা ব্যানার্জির পুলিস বুদ্ধবাবুর পুলিসের মতো নির্মম ছিল না৷‌ বরং, বিশুদ্ধ অহিংসায় ভর করে পুলিস উপাচার্যের খোঁজে মাইকে বলছিল, ‘অভিজিৎ, অভিজিৎ– কোথায় আছ? এদিকে এস৷‌’ পুলিসের অহিংস দক্ষতায় শেষে উপাচার্য উদ্ধার পান৷‌ উদ্ধার হওয়ার পর উপাচার্য সল্টলেকের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে যান৷‌ ভর্তি হওয়ার আগে উপাচার্য মহাশয় পুলিস কমিশনারের কানে মুখ দিয়ে নাকি বলেন, ‘এ ফ্রেন্ড ইন নিড, ইজ এ ফ্রেন্ড ইনডিড.’

বিগত আমলে পুলিসকে এরকম সমাজসেবীর ভূমিকায় কে দেখেছেন? ঘটনার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্যের অরবিন্দ ভবনের সামনে পুলিসের ‘সংবেদনশীল অভিযান’-এর পর ছাত্রীদের ছেঁড়া বস্ত্রে ছোটাছুটি করতে দেখা গিয়েছে৷‌ কিন্তু, ইজ্জতদার পুলিস কমিশনার মেয়েদের ইজ্জত রক্ষার্থে খুবই ‘সংবেদনশীল’৷‌ তাই টেলিভিশন সেটে সেই দৃশ্য দেখানোর সময় তিনি চোখ বুজে ফেললেন৷‌ এর মাধ্যমে কলকাতার পুলিস কমিশনার যে ‘বিরল শালীনতাবোধের’ পরিচয় দিয়েছেন, তা আমাদের সবাইকে মানতেই হবে৷‌ এমন আদর্শ পুলিস কমিশনার ভূ-ভারতে কোথাও পাওয়া যাবে কি? ওঁর জন্য আমরা বাঙালিরা গর্বিত৷‌ জয়, কলকাতার পুলিস কমিশনারের জয়৷‌

পরিশেষে বলে রাখা দরকার, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলি যে কী পরিমাণ ‘মিথ্যা’ সংবাদ পরিবেশন করে, তা আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিবৃতিতে স্পষ্ট৷‌ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর কলকাতা পুলিস হামলা করেছে বলে যে সংবাদ রটনা করা হয়েছে, তা যে একেবারেই অপপ্রচার, সত্যের সঙ্গে তার যে কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না, তা মাননীয় ‘ডক্টরেট’ শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ‘পবিত্র’ বিবৃতির মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন৷‌ প্রকৃত সত্য যদি জানতে চান, তাহলে মা-মাটি-মানুষের কাগজ ‘জাগো বাংলা’ পড়তে হবে৷‌ তবে একথা স্বীকার করতেই হবে যে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর চালচলন-বিবৃতি-মতামত ঘটনাভেদে প্রচণ্ড দ্রুতসঞ্চরমান ও পরিবর্তনশীল এবং তা স্হান-কাল-পাত্র ভেদে সাবজেক্টিভ ও অবজেক্টিভ শর্ত অনুযায়ী চালিত হয়৷‌ ভালুক যেমন মনিবের লাঠির ইঙ্গিতে খেলা দেখায়, আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীও তেমন নেত্রীর অঙ্গুলিহেলনে নাচানাচি করেন৷‌ তবে এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক দক্ষতা ভালুকদেরও হার মানিয়ে দিয়েছে৷‌ আনুগত্যের প্রতিযোগিতায় বাংলার শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হেরে ভালুকরা কলকাতাছাড়া হয়ে গিয়েছে৷‌ আনুগত্যের শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ড অ্যামবাসাডর এখন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী৷‌ তাই যাদবপুর-কাণ্ডে তাঁর বক্তব্য দেখে-শুনে জনসাধারণ যেন ভেবে না নেন, যে এটা ওঁর কথা৷‌ আসলে এটা হল ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ (এইচ এম ভি)৷‌ বোঝা গেল, এবার পুজোয় এইচ এম ভি আবার কীভাবে বাজার কাঁপাচ্ছে?


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited