Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ শ্রাবণ ১৪২১ মঙ্গলবার ২২ জুলাই ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
দলকে বার্তা, লবি করে নেতা হওয়া যায় না--দীপঙ্কর নন্দী ।। ২ নয়, ২২ হবে: মীনাক্ষী--৩০ নভেম্বর বি জে পি-র পাল্টা সভা ।। শালিমার পেন্টস: প্রশাসনের কাছে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন কর্তৃপক্ষের ।। সাধারণ মানুষের জন্য তৃণমূলের সদস্য হওয়ার দরজা খুলে দেওয়া হল ।। ‘৩৮ বিধায়ককে নিয়ে সদর্থক বিরোধিতা এবার ।। আবার দিল্লি! প্রাণ দিল এবার মণিপুরের যুবক ।। ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের, অভিযোগ রাশিয়ার ।। যুদ্ধ বিরতির ডাক দিল নিরাপত্তা পরিষদ ।। মিসাইলে ধ্বংস!--দেবাশিস দত্ত, লন্ডন ।। উইকেটগুলো ক্যাপ্টেনের: ইশাম্ত ।। বইমেলায় থিম ব্রিটেন ।। জানুয়ারিতে ফের ব্রিগেডে সভা মমতার
উত্তর সম্পাদকীয়

ম্যাজিক রিয়েলিটির বদলে ‘মেসিক রিয়েলিটি’

ম্যাজিক রিয়েলিটির বদলে ‘মেসিক রিয়েলিটি’

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অসিত দাস

এবারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর মনে হচ্ছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিশ্বখ্যাত ফুটবলাররা সত্যিই কি ফুটবলে ‘লাথি’ মারতে ভুলে গেল! পরিবর্তে ‘লাথালাথি’তে সত্যিই দড় হয়ে উঠেছে তারা৷‌ লাতিন আমেরিকার ফুটবলে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ম্যাজিক রিয়েলিটি বা জাদুবাস্তব দেখার জন্য যারা মুখিয়ে ছিলাম, তারা যেন গালে বিরাশি সিক্কার থাপ্পড় খেলাম৷‌ ফাইনালে আর্জেন্টিনার ম্যাজিক রিয়েলিটি বদলে গেল অসহনীয় ‘মেসিক রিয়েলিটি’তে৷‌ শুধু দিয়েগো মারাদোনাই নন, আমরা গড়পড়তা দর্শকরাও যখন মেসির কাছ থেকে একটা জাদু-মুহূর্ত আশা করছিলাম, তখন লিওনেল মেসি বুঝিয়ে ছাড়লেন তিনিও রক্তমাংসের মানুষ৷‌ যে ‘ব্যানানা’ ফ্রি-কিক দিয়ে ইরানি দেওয়াল বা পারস্য প্রাচীর ভেদ করেছিলেন, সেই ফ্রি-কিক ফাইনালের অম্তিম মুহূর্তে স্টেডিয়াম-ভর্তি আর্জেন্টিনীয় দর্শক ও সারা বিশ্বের অগণিত মেসিভক্তকে সত্যি সত্যিই ‘কলা’ দেখিয়ে গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে উড়ে গেল৷‌ ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক এখন বসম্ত’ বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করা ছাড়া এখন কিছুই করার নেই বিশ্বের অগণিত মেসিভক্তের৷‌ ‘বার্সা-ভরসা’ লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে নিজেকে পুরোটা উজাড় করে দিলেন কিনা, সেটা নিয়েও রয়ে গেল প্রশ্নচিহ্ন৷‌ আর্জেন্টিনার কোচ সাবেয়া কোনও কোনও মাধ্যমে ‘সাবেল্লা’ হলেও কোচ হিসেবে সাবালক হননি৷‌ অথচ প্রথম দিকের খেলাগুলোয় নিজের জাত চেনাতে বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি এই আর্জেন্টিনীয় সুপার তারকার৷‌ অধম ক্রীড়াপ্রেমী লেখক হিসেবে আমার মনে হয় প্রথম রাউন্ডেই স্পেনের বিদায় মেসিকে একটু নিস্পৃহ করে তুলেছিল৷‌ জন্মগতভাবে আর্জেন্টিনীয় হলেও মেসি যে স্পেনেরও নাগরিক, খেলেনও স্পেনের বিশ্বখ্যাত বার্সিলোনা ক্লাবে৷‌ স্পেনের অকাল বিদায় মেসির ওপর কোনও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল কিনা, তা দেবা ন জানম্তি কুত মনুষ্যা৷‌ নকআউট পর্বের খেলাগুলিতে মেসির গোল না-পাওয়া হয়ত স্পেন-বিদায়ের রক্তক্ষরণেরই পরিণতি৷‌ আর্জেন্টিনাকে মস্তিষ্কে স্হান দিলেও মেসির হৃদয়ে হয়ত স্পেনের লাল গোলাপের সুগন্ধ৷‌ এই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বা হৃদয়ের টানাপোড়েনই কি মেসিকে শেষের খেলাগুলিতে জ্বলে উঠতে দিল না? না হলে ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা জার্মানির মারিয়া গোৎজে কী অকারণ ঔদ্ধত্যে বলে উঠতে পারেন, ‘আমি জার্মান মেসি নই, আমি জার্মান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো৷‌’

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! রাত জেগে খেলা দেখতে দেখতে বাঙালি যখন ক্লাম্ত, ফুটবল-অপ্রেমী গৃহিণীরা যখন বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ, তখন অম্বল-বুকজ্বালা, সকালে ঢুলুনি নিয়ে বাঙালি অফিসকাছারি করেছে, ডাক্তাররা রক্তবর্ণ চোখ নিয়ে চেম্বারে বসেছে৷‌ ভাইরাল ফিভারের নিদান লিখতে ২ মিনিটের জায়গায় ৫ মিনিট লাগিয়েছে৷‌ মাথা কী কাজ করে আর! ওদিকে ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মনে বিরাট উৎকন্ঠা৷‌ নেইমারের উন্মুক্ত অম্তর্বাস আরও উন্মুক্ত হয়ে ব্রাজিল ফুটবলকেই যেন উলঙ্গ করে ছাড়ল৷‌ কলম্বিয়ার জুনিগাকে নেইমার নিজে ক্ষমা করে দিলে কী হয়, আমরা তাঁকে ক্ষমা করতে পারব না৷‌ পিছন থেকে যে হিংস্রতায় সে নেইমারের ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ও হাঁটু দিয়ে নেইমারের কোমরের লাম্বার রিজিয়নে আঘাত করে, তাতে তাঁকে ‘স্যাডিস্ট মনোরোগী’ বলেই মনে হচ্ছে একজন চিকিৎসক হিসেবে৷‌ সারা বিশ্বের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা ছিঃ ছিঃ করে উঠলেও ফিফা কিন্তু জুনিগাকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে৷‌ ফুটবল কা চোলি কা পিছে ক্যায়া হ্যায়, তা আমরা বুঝতে পারছি না৷‌ অথচ উরুগুয়ের সুয়ারেজকে এই ফিফাই নির্বাসনে পাঠাল ইতালির চেলিয়ানিকে কামড়ানোর অপরাধে৷‌ এ কেমন বিচার যাতে কোমরের হাড় ভেঙে দিয়ে আসামি পার পেয়ে যায়, অথচ কাঁধ কামড়ানোর অপরাধে ফুটবলারের প্রায়-যাবজ্জীবন নির্বাসন হয়ে যায়! মেসিকে সোনার বল দেওয়ার মধ্যেও ফেরেববাজ ফিফার বোধহীন খামখেয়াল! সোনার বল, সোনার বুট, সোনার গ্লাভস– এ সব পার্থিব ব্যাপারে মেসি থাকতে যাবেনই বা কেন? মারাদোনা যদি আর্জেন্টিনা ফুটবলের ‘বড়দা’ হন, মেসি সবসময় সেজ, ন বা ফুলদা৷‌ মেসি কখনও একার নেতৃত্বে দলকে টানতে পারেননি, পারেন না৷‌ সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে বাঁকা আঙুলে ওঠানোর মতো দার্শনিক জ্ঞানগম্যিও লিওনেল মেসির নেই৷‌ মারাদোনা ছিয়াশিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম গোলটি ‘হ্যান্ডস অফ গড’ বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন৷‌ যেনতেন প্রকারেণ যুদ্ধ জেতার মরিয়া ভাবটা ছিল দিয়েগো মারাদোনার মধ্যে, মেসির মধ্যে সেই উদগ্র আকাঙ্খাটাই নেই৷‌ ক্লাব ফুটবলের রোবট রাজাকে দেশের জার্সিতে মুড়ে দেশের ক্যাপ্টেন করে ছেড়ে দিলেই হয় না, তার মধ্যে জারিত করতে হয় দেশের জন্য তীব্র অনুরাগ, জেতার এক তীব্র আকুতি৷‌ মারাদোনার মধ্যে এই সুতীব্র আকুতিটা ছিল, তাই তিনি ছিয়াশির ‘হ্যান্ডস অফ গড’ গোলের পর দ্বিতীয় গোলটি করেন ৫ জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে একার প্রচেষ্টায়, যেটা নিঃসন্দেহে ‘লেগস অফ গড’-এর অবদান৷‌ তীব্র দেশভক্তি না থাকলে শেষ জয়টা হাসিল হয় না৷‌ জার্মানদের জয়ী করল অন্ধ দেশাত্মবোধ, তীব্র জাত্যভিমান৷‌ লিওনেল মেসির নায়ক হওয়ার জন্য জার্মানির মতো একটা দেশে জন্মানোর প্রয়োজন ছিল৷‌

৭৮ সাল থেকে টিভিতে বিশ্বকাপ দেখছি৷‌ মনে পড়ছে মেডিক্যাল কলেজ মেন হস্টেলের সাদা-কালো টিভিতে ফাইনালে হল্যান্ড-আর্জেন্টিনার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটার কথা৷‌ লিওপোল্ড লুকে, মারিও কেম্পেস, ড্যানিয়েল পাসারেলা, বার্তোনি, গোলে উবালদো ফিলোল– আর্জেন্টিনা দলটা সত্যিই ভাল ফর্মে ছিল৷‌ ওদিকে হল্যান্ডের নিসকেন্স, আরিহান টপ ফর্মে৷‌ লুকে-কেম্পেস-বার্তোনির ত্রিফলা আক্রমণের সামনে হল্যান্ড আত্মসমর্পণ করেছিল৷‌ মারিও কেম্পেস করেছিলেন জয়সূচক গোল৷‌ কোনওরকমভাবেই আর্জেন্টিনার ৭৮-এর বিশ্বকাপ জয়কে ‘ফ্লুকে’ জেতা বলা যায় না৷‌ কোচ অঁরি মিশেল ডাচ ফুটবলে যে পরিবর্তন এনেছিলেন, তার ফলে ফুটবল বিশ্ব লাভ করেছিল ‘টোটাল ফুটবল’-এর ধারণা৷‌ জোহান ত্রু্কয়েফ ছিলেন না আটাত্তরে, তাঁর সমমানের ফুটবলার পাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়৷‌ হল্যান্ড তাই চুয়াত্তরের মতো আটাত্তরেও হেরেছিল ফাইনালে৷‌ দুবার দ্বিতীয়, ব্রাজিলকে হারিয়ে এবার তৃতীয়৷‌ আজকালে সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিচক্ষণ নেতা আর্জেন্টিনার ৭৮-এর জয়কে ‘আধখানা’ ধরলেন কেন, বোধগম্য হল না৷‌ ‘পুরো’ তবে কোনটা?


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited