Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২১ রবিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর   আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--ডাক্তার যদি না-ও হতেন ।। মোদিকে বার্তা মমতার, আমাকে আঘাত করেছেন, প্রত্যাঘাত পেতে হবে ।। সৃঞ্জয়কে ২৬ নভেম্বর পর্যম্ত সি বি আই হেফাজতের নির্দেশ--অগ্নি পান্ডে ।। অসীম: স্বাধীনতার পর এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি আর হয়নি--উদয় বসু ।। কাশ্মীরে দুই পরিবারকে হটানোর ডাক মোদির ।। সি বি আই জেরায় এবার খোদ নবীনের ডান হাত ।। বহরমপুর কলেজে কং, তৃণমূল ছাত্রদের ব্যাপক সঙঘর্ষ, জখম ৬ ।। সোমেন: সি বি আইয়ের আমাকে ডাকা ভাগ্যের পরিহাস ।। শ্রমিকদের হাতে খুন চা-বাগানের মালিক ।। সার্ক রেলপথে জুড়বে লাহোর-দিল্লি-কলকাতা-ঢাকা? ।। শ্বাসকষ্ট আছে মদনের ।। কলকাতা পুরভোটের প্রচার শুরু বামফ্রন্টের
উত্তর সম্পাদকীয়

মহাবৃক্ষের আড়াল চাই

মহাবৃক্ষের আড়াল চাই

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

মিহির সেনগুপ্ত

কমিউনিস্ট তথা বামেদের বর্তমানে বড় দুঃসময়৷‌ সবজাম্তা মিডিয়ার, বিশেষ করে বৈদ্যুতিন বিভাগের সঞ্চালক ও বিশ্লেষকগণ ভাবেন, ‘কমিউনিজম’ শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকেই নয়, গোটা পৃথিবী থেকেই উবে গেছে৷‌ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ক্ষমতা লাভের পর তো এ রাজ্যে তাদের কোনও চিহ্নই রইল না৷‌ ভবিষ্যতে কোনও দিন তারা আর ঘুরে দাঁড়াবে, এরকম স্বপ্ন কমিউনিস্টরা নাকি নিজেরাও দেখে না৷‌ বাম শাসনকে উৎখাত করার জন্য ২০১১-র নির্বাচনে মিডিয়ার বৃহদংশ তৃণমূলের সপক্ষে পার্টিজান ভূমিকা পালন করেছিল, যদিও আজকের ভিন্ন পরিস্হিতিতে তাদের পার্টিজানশিপ অক্ষ বদল করতে কালবিলম্ব করছে না৷‌ কিন্তু সে সব ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা, আমার আজকের বিষয় তা নয়৷‌ আমি আজ বিশ্বের ব্যক্তিগত কিছু বিচার নিয়ে দু-চারটি কথা বলব৷‌ তাদের কথা ‘অমৃতং বালভাষিতম‍্’ বোধে মেনে নিলাম৷‌

আমি কোনও কালে কমিউনিস্ট আখ্যাধারী কোনও দলের সভ্য ছিলাম না৷‌ সমর্থক অবশ্য ছিলাম৷‌ খুব বেশি ব্যাপকতায় না হলেও কমিউনিস্ট পার্টির দর্শন এবং ইতিহাস বিষয়ে কিছু পড়াশোনা করেছি৷‌ পার্টির উত্থান-পতন এবং পুনরুত্থানের জোয়ার-ভাটা ১৯৬৪ সাল থেকে এ রাজ্যে চাক্ষুষ করেছি৷‌ তার আগের অবিভক্ত অবস্হার বিবরণ নানান আলাপ আলোচনায় শুনেছি এবং জেনেছি৷‌ যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্ট ইত্যাদির গঠন এবং তাদের শাসনকালও আনুপূর্ব দেখেছি৷‌ প্রসঙ্গত কংগ্রেসি, নব কংগ্রেসি শাসনকাল এবং তাঁদের তথাকথিত অহিংস এবং অতিবাস্তব সহিংস বর্বরকালও দেখেছি৷‌ অবশেষে ১৯৭৭ থেকে একটানা বামফ্রন্টের শাসনকালের অবসানে এই তৃণমূল যুগ দেখছি৷‌ অর্থাৎ এই সমগ্র কালের ইতিহাস পর্যবেক্ষণে ত্রুটি করিনি৷‌ ফলে, আর কিছু না হোক, এই সময়কালের ইতিহাস বিষয়ে একটা তুল্যমূল্য ধারণা হয়েছে৷‌ কমিউনিস্ট আদর্শ অবলম্বীদের সঙ্গে অন্য দলগুলির পার্থক্যটা কী, সে বিষয়ে অনবহিত নই৷‌ অবাক হই, এই পণ্ডিতস্মন্য বৈদ্যুতিন-মিডিয়া মাতব্বরদের ইতিহাসকে ঘোলাটে করার প্রকৌশল দেখে৷‌ ভাবি, এঁদের কি বিশেষ কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত করে বাজারে ছাড়া হয়? অথবা এঁরা প্রকৃতই ইতিহাসের ঘটনার বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণে অক্ষম বা উদাসীন? নচেৎ স্বাভাবিকক্রমে ঝকঝকে, তরতাজা, ডিগ্রিওলা, উচ্চশিক্ষিত যুবকেরা কীভাবে এরকম ইতিহাস ধারণা ব্যতিরেকী বিচার বিশ্লেষণ তথা আন্বীক্ষিকীতে বুক ফুলিয়ে বিতর্ক চালান? কমিউনিজম সমর্থন করা, অসমর্থন করাটা ভিন্ন কথা৷‌ সব মানুষকে কমিউনিজম মতাদর্শী হতেই হবে, সেরকম কোনও শর্ত কমিউনিস্টরা দেননি৷‌ কিন্তু বিতর্ক সঞ্চালকের ভূমিকায় পণ্ডিতি কূট-কাটব্য করতে হলে তো অবশ্যই একটা পার্টির গঠনতন্ত্র, কর্মসূচি, প্রয়োগপদ্ধতি ইত্যাদির বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে, না কী? শুধু বিদ্বেষপূর্ণ কুৎসা, সত্য মিথ্যা লোকশ্রুতি এবং মানুষকে বিভ্রাম্ত করার মতো গল্প বানালেই চলবে? উদাহরণ দিতে গেলে পরিসরে কুলোবে না৷‌ পাঠক, আপনারা স্বয়ংই আমার কথার যাথার্থ্য পর্যবেক্ষণে জেনেবুঝে নিন৷‌ আপাতত আমি এঁদেরই একটা বৃহদংশের নন্দীগ্রাম সম্পর্কীয় পূর্বাপর উদ্দেশ্যমূলক পর্যালোচনা এবং পরবর্তী কালে সি বি আইয়ের রিপোর্টের শুধুমাত্র উল্লেখ করে এই মিডিয়া তথ্যনিষ্ঠার ইতি সমাপ্তি করছি৷‌ নন্দীগ্রাম কাণ্ডটা কী পর্যম্ত ষড়যন্ত্রমূলক ছিল সে বিষয়ে কিন্তু আমরা একটা কথাও তাঁদের বয়ানে পাইনি৷‌ অথচ, ওই ব্যাপারের যদি প্রকৃত ইতিহাস পর্যালোচনা করা হয়, দেখা যাবে সেটা আদ্যম্ত ষড়যন্ত্রই ছিল এবং অনেকগুলি মিডিয়াই তখন নির্লজ্জ চাটুকারের মতো তৃণমূলের পার্টিজান হিসেবে কাজ করেছে৷‌ যা হোক, এ প্রসঙ্গ এখানেই শেষ৷‌ কারণ এঁড়ে তর্কে আমার আগ্রহ নেই৷‌ তা বিতর্কে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপক এঁড়ে বাছুরেরাই করুন৷‌

এবার আমার নিজস্ব বিচারবুদ্ধিতে পার্টির বিষয় কিছু বলি৷‌ আমি এখানে পক্ষপাতহীন নই৷‌ বামপম্হার বিকল্প হিসেবে অন্য কোনও পম্হার কথা আমি ভাবতে পারি না৷‌ কারণটা দর্শনগত৷‌ পার্টিকে আমি তার দোষগুণ-সহই সমর্থন করি৷‌ আমি জানি, ক্ষমতায় দীর্ঘদিন থেকে বা তার আগেও বহু সময় পার্টি তার নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, পরে আবার সংশোধিত করেছে নিজেকে৷‌ কিন্তু এই পার্টিকে, জ্ঞান হওয়ার পর থেকে, বা যখন থেকে আমি একে বোঝার চেষ্টা করেছি, আমার মনে হয়েছে এ একটা মহাবৃক্ষ৷‌ সে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে সেই উদ্বাস্তু সমস্যার যুগ থেকে, কৃষক আন্দোলনের যুগ থেকে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়ে এবং আরও নানান সমস্যার সময়ে সঠিক পথ প্রদর্শন করে চালিয়ে নিয়ে এসেছে৷‌ দীর্ঘ চৌত্রিশ৷‌পঁয়তিরিশ বছর শাসন ক্ষমতায় থেকে অশ্যই একটা পর্যায়ে পার্টির কিছু অবিমৃষ্যকারিতা ঘটেছিল৷‌ ফলে দক্ষিণপম্হীরা ছিদ্রপথ পেয়ে যায় এবং সত্য মিথ্যা নানান প্রচারের সাহায্যে তথা হিংসাশ্রয়ী আলোড়ন তুলে বিগত নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করে৷‌ তখনকার শাসনটা কমিউনিস্ট নয়, সংসদীয় পম্হায় বাম জোটের শাসন ছিল৷‌

সংসদীয় রাজনীতিতে সরকার বদল কিছু অভিনব পরিবর্তনের ব্যাপার নয়৷‌ কিন্তু এ রাজ্যের একদল উচ্চাকাঙ্খী, লোভী এবং মতলববাজ বুদ্ধিজীবী আখ্যাধারী ব্যক্তি প্রাগুক্ত তৃণমূলি পার্টিজান মিডিয়ার সহায়তায় এমন শোরগোল তুলল তখন যে মনে হল পশ্চিমবঙ্গে একটা বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেছে৷‌ তাদের মধ্যে একজন কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারল তারা ভুল করেছে৷‌ কিন্তু তখন যা হওয়ার হয়ে গেছে৷‌ আরেক দল পরিপূর্ণভাবে নতুন শাসকদলের ছত্রছায়ায় দশলাখি, বিশলাখি পদে পদস্হ হয়ে নির্বিকারভাবে জনসাধারণের সম্পদ লুট করতে শুরু করল৷‌ তাদের অনেকেই এখন হয় জেলে, নচেৎ জেলে যাওয়ার মুখে৷‌

বাম শাসকেরা অবশ্যই ভুল করেছিল৷‌ পার্টি ক্ষমতায় থাকলে বেনোজল ঢুকবেই৷‌ সেদিকে সতর্কতা ছিল না৷‌ এক শ্রেণীর নেতার মধ্যে লোভ আশ্রয় করেছিল৷‌ লোভ সংগ্রাম এবং আন্দোলনের পরিপম্হী৷‌ পার্টি একটা সময় সংগ্রামবিমুখ হল৷‌ সংগ্রামহীনতা ভেতর থেকে পার্টিকে দুর্বল করে৷‌ কিন্তু আমি জানি এই দুর্বলতা অচিরে কাটবে৷‌ পার্টি ভোটের ক্ষমতার জোরে বাঁচে না, আন্দোলনের ক্ষমতার জোরে বাঁচে, এটা সে নিশ্চয় জানে৷‌ অতীতে যত সঙ্কট তীব্র হয়েছে, পার্টি ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে শুধুমাত্র আন্দোলনের জোরেই৷‌ এখনও পার্টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরে৷‌ মানুষই পার্টিকে বাঁচিয়ে রাখবে নিজের বাঁচার স্বার্থে৷‌ আমি আমার জীবৎকালের অভিজ্ঞতায় পার্টির এই মাহাত্ম্য প্রত্যক্ষ করেছি৷‌ সেটাই প্রকৃত ইতিহাস৷‌ সেই ইতিহাসকে যে বা যারা যতই অস্বীকার করুক বা বিবৃত করুক, সে তার পথ কেটে এগোবেই৷‌ আমাদের মতো দেশে বামপম্হার বিকল্প কিছু হয় না৷‌ উদার গণতন্ত্রীও কেউ এখন আর নেই৷‌ সেজন্যই বলছিলাম, পার্টির তথা বামেদের এখন বড় দুঃসময়৷‌ তৃণমূলের লেজুড় ধরে এবং কংগ্রেসিদের দীর্ঘকালীন অপদার্থতায় চূড়াম্ত দক্ষিণপম্হা আজ শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে প্রায় হিটলার- গোয়েবলোচিত ক্ষিপ্রতায়৷‌ সাম্প্রদায়িকতা আজ অন্যতর প্রধান সমস্যা৷‌ বামেদের অতিদ্রুত ব্যাপকতার সঙ্গে সঙঘবদ্ধ হতে হবে৷‌

পার্টি এক মহাবৃক্ষস্বরূপ ছিল৷‌ বহুকাল তার আড়ালে মানুষ নিঃশঙ্ক ছিল, অনেকটাই শাম্তিতে ছিল৷‌ আজকে তার অবস্হা দেখে একাদশ শতকের বৌদ্ধ-বাঙালি পণ্ডিত বিদ্যকরের সুভাষিত রত্নকোষের একটি কবিতার কিছু পঙ‍্ক্তি মনে পড়ে৷‌ কবিতাটি শিবুদারকৃত (শিবনারায়ণ রায়) অনুবাদ তাঁর কাছেই শুনেছিলাম, অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গে৷‌ পার্টির বর্তমান অবস্হা প্রসঙ্গে পঙ‍্ক্তি ক’টি উদ্ধৃতিতে জানাচ্ছিজ্ঞ–

‘সসম্মানে শিরের পরে দিয়েছিল সে বাসা,

কোথায় সেই পাখিরা গেল উড়ে৷‌

মৃগযূথের ক্লাম্তি হরে নিয়েছে তার ছায়া

তারাও আজ মিলিয়ে গেছে দূরে৷‌

বানর দল ভরেছে পেট রসালো তার ফলে,

এখন তারা সকলে পলাতক৷‌

দাবানলের আক্রমণে প্রজ্বলম্ত তরু

পরিত্যক্ত একা৷‌’’

পাঠক, পলাতক বানর দলকে চিনতে নিশ্চয়ই আপনাদের ভুল হবে না? নতুন প্রজন্ম এগিয়ে এসে এই মহাবৃক্ষকে অগ্নিমুক্ত করে সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করুন৷‌ আমরা আমাদের পরিচিত মহাবৃক্ষটির নিরাপদ আড়াল চাই৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || nepathya bhasan ||
khela || sunday || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited