Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১০ বৈশাখ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
কমিশনকে ফের তোপ মমতার ।। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার লোকসভা নির্বাচন আজ ।। সি বি আইয়ে আপত্তি, সিটেই আস্হা রাজ্যের--সারদা: চূড়াম্ত রায় দু-এক দিনেই? ।। আজ কপ্টারে মোদি, কটাক্ষ কেজরিওয়ালের--বারাণসীতে মনোনয়ন পেশ ।। ভবানীপুর: মেয়ের বিয়ের আগেই শ্বাসরোধ করে খুন বৃদ্ধা মাকে! ।। বারাবনি-কাণ্ড: এস আইয়ের ওপর কড়া নজর কমিশনের ।। সৌগত রায়ের সমর্থনে বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীরা ।। মুকুল: আমার দুর্নীতি প্রমাণ হলে রাজনীতিই ছেড়ে দেব ।। আজ ভোট ১১৭ আসনে, সংখ্যালঘুদের দিকে নজর ।। অসহ ৪১! মৃত ২ ।। প্রেসিডেন্সি: শীর্ষে এবার অনুরাধা ।। ঔরঙ্গজেবের যেমন দাক্ষিণাত্য, অনুব্রতবাবুর তেমনই নানুর
উত্তর সম্পাদকীয়

মহাজাগতিক জগ ও জগাই মাধাই

মহাজাগতিক জগ ও জগাই মাধাই

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অসিত দাস

কে যেন বলে গেছেন সংসদ হল শুয়োরের খোঁয়াড়৷‌ লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের ভাষণে-বক্তৃতায়, টুইটে-বাইটে, আড্ডায়-মজলিশে যে ভাষার প্রয়োগ লক্ষ্য করছি তাতে মনুষ্যেতর প্রাণীদের উল্লেখ রীতিমতো অবাক করে দেয়৷‌ বস্তুত ইঁদুর-ভেড়া-বেড়াল-রাতের পেঁচা-বসম্তের কোকিল ইত্যাদি আমাদের কর্ণকুহরে অহরহ প্রবেশ করছে৷‌ এর সঙ্গে আরশোলা, ফড়িং, পা-চাটা কুত্তা, বিষধর সাপ ইত্যাদি প্রাগুক্ত ও প্রাচীন জীবের কথা যোগ করলে ঈশপ ফেবলসের একটা সংস্করণই হয়ে যায়৷‌ ক্রিকেট ভাষ্যকার নভজ্যোৎ সিং সিধু এবারের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর অমৃতসরের আসন বি জে পি-র হেভিওয়েট নেতা অরুণ জেটলিকে ছেড়ে দিয়েছেন৷‌ ক্রিকেটার সিধু ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে লং অফ-লং অনের ওপর দিয়ে বড় বড় ছয় মারতে অভ্যস্ত ছিলেন৷‌ ভাষ্যকার হিসেবে তিনি জীবজগতের বহু মনুষ্যেতর প্রাণীর উপমা টেনে আনতেন৷‌ ‘সিধুইজম’ বা ‘সিডোইজম’ এক সময় বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল৷‌ রাজনৈতিক নেতাদের ভাষা প্রয়োগে পশুপক্ষীর উল্লেখকে ‘পলিটিক্যাল অ্যানিমেশন’ বা ‘অ্যানিমেটেড পলিটি‘’ বলে অভিহিত করতে পারি৷‌ বিশেষত জর্জ অরওয়েলের ‘পশুখামার’– খ্যাত পরিচালকও এবারের লোকসভা নির্বাচনে যখন সশরীরে হাজির৷‌

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অতীতের রাজারাজড়া, সম্রাট বাদশারাও এবারের লোকসভা নির্বাচনের প্রধান নেতা-অভিনেতাদের মুখ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না৷‌ বি জে পি-র প্রধানমন্ত্রী-মুখ নরেন্দ্র মোদি তো কথায় কথায় কংগ্রেসের প্রধান নেতা রাহুল গান্ধীকে ‘শাহাজাদা’ বলে ডাকছেন৷‌ মণিশঙ্কর আয়ার ২০১২-র গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে এই নরেন্দ্র মোদিকেই রাবণ তথা ‘লোহুপুরুষ’ বলে ডেকেছিলেন৷‌ ২০১৪-র এই হাড্ডাহাড্ডি লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি সেই ‘লোহুপুরুষ’ ছেড়ে মোদিকে ‘চা-ওয়ালা’ বলছেন! কংগ্রেসের থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘লোহুপুরুষ’ বা রক্তখেকো ড্রাকুলা বিশেষণটা ফিরিয়ে আনছে না তো বটেই, ‘চৌকিদার’ নিয়েও যেন আসর জমাতে পারছেন না৷‌ মোদি যখন নিজেকে দেশের চৌকিদার বলে দাবি করছেন, তখন ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গার মহানায়কের ‘চাকুদার’ হওয়ার কথাটা স্মরণে আনা যেতে পারত৷‌ কিন্তু জয়রাম রমেশ ও দিগ্বিজয় সিংহদের ‘উর্বর’ মস্তিষ্কে ‘চাকুদার’ শব্দটা খেলছে না কেন সেটাই আশ্চর্য৷‌ মণীশ তিওয়ারির মতো ‘ইনোভেটিভ’ মুখপাত্রের হৃদরোগ ও হাসপাতালবাস আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কং-প্রচারের পক্ষে বেশ লোকসানের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল৷‌ নরেন্দ্র মোদির জীবনীকাররা তো বটেই টিভি মিডিয়াও মোদিমাহাত্ম্য প্রচারে অক্লাম্ত৷‌ চা-বিক্রেতার প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়াটা যেন অলৌকিক দৈব মাহাত্ম্য! ছেলেবেলায় স্টেশনে চা বিক্রি করার দৃশ্য যে মুনশিয়ানার সঙ্গে লেন্সবন্দী করা হয়েছে তা যেন রিচার্ড অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’ ছবিটির রেপ্লিকা! মোদি যে কত নিচুতলা থেকে দিল্লির তখতে আসীন হতে চলেছেন তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার ব্যবস্হা! এমনকী তাঁর জীবনীকার এও জানাতে ভোলেননি ছেলেবেলায় নদীতে নেমে এক কুমারী-কুমিরের সঙ্গে মরণপণ লড়াইয়ে মোদিরই জয় হয়েছিল! জলটা অবশ্য ততটা লাল হয়নি৷‌ মোদির ক্ষয়ক্ষতি সামান্য হয়েছিল বলেই বাঁচোয়া৷‌ না হলে তো আমরা এই পরিণত ‘লোহুপুরুষ’কে চাক্ষুষই করতে পারতুম না!

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম অবশ্য বেশি রক্তারক্তির মধ্যে যেতে চান না! তিনি এক দিদিমণির দিকে মহাজাগতিক জগ ছুঁড়ে মারলে কী হয়, তাতে উক্ত শিক্ষিকার থুতনির নিচে একটু কালশিটে পড়া ছাড়া কিছুই হয়নি৷‌ অতিসক্রিয় চ্যানেলগুলোও রক্ত ঝরার দৃশ্য দেখাতে পারেনি৷‌ রক্তটা জগ-স্হ জলে তৎক্ষণাৎ ধুয়ে গিয়েছিল কিনা সেটা অবশ্য আলাদা কথা৷‌ তারপর ‘আ-রবি-ল’ আরাবুল শিক্ষাকেন্দ্রে আর এক কাণ্ড ঘটালেন৷‌ সেন্টার-ইনচার্জের বিনা অনুমতিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে ইনভিজিলেটরদের নির্দেশ দিলেন ‘একটু আধটু’ উত্তর বলে টলে দিতে৷‌ কেন্দ্র আধিকারিক তাঁর বিরুদ্ধে ঊধর্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করলেন বটে, তবে তাতে বিশেষ লাভ হল না৷‌ উল্টে তিনি নিজেই পর্ষদ সভাপতির কাছে তিরস্কৃত হলেন কেন্দ্রদ্বার রক্ষায় অবহেলার দায়ে৷‌ এ হেন আরাবুল যখন রেজ্জাক মোল্লা নিগ্রহের দায়ে কারাবাস করছিলেন তখন বুদ্ধিজীবীদের তাঁর পাশে দেখা যায়নি৷‌ এখন সুগত বসুর মতো বুদ্ধিজীবী যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী হয়ে যখন আরাবুলকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, তখন আরাবুল ইসলামের পাশে তাঁকে দেখা যায়নি কেন? যাদবপুরে দাঁড়িয়ে নেতাজির বংশধর প্রেসিডেন্সির মেন্টর কমিটির প্রধান থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন৷‌ ছাত্রছাত্রীদের গণভোটে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত সুগত বসু কমিটি থেকে পদত্যাগ তো করলেনই না, উল্টে আরাবুল ইসলামকে ‘লড়াই’-এর জন্য বাহবা দিলেন৷‌ আরাবুলের বামফ্রন্ট-বিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাস সুগতবাবুর সুপারিশে সিলেবাসের অম্তর্ভুক্ত হবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না, তবে তিনি আরাবুলের ওপর যে বিশেষভাবে নির্ভর করছেন লোকসভা বৈতরণী পার হওয়ার জন্য, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে৷‌ যদিও ভাঙড়ে কর্মিসভার পদযাত্রায় আরাবুল অনুপস্হিত ছিলেন, তাঁর সাগরেদরা কাইজারপম্হীদের সঙ্গে প্রকাশ্য বচসায় জড়িয়ে পড়েছিল, তবু সুগত বসুর এই আরাবুল নির্ভরতা অবাক করার মতো৷‌ কর্মিসভার পদযাত্রায় কাইজারের সঙ্গে হেঁটে ও পরের প্রচার অনুষ্ঠানে আরাবুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পোজ দিয়ে সুগত বসু ব্যালান্স করার চেষ্টা করলেন না তো? অধমণিবন্ধকারের অবশ্য সুগত বসুর পিতৃব্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি বাণী মনে পড়ে যাচ্ছে– ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব৷‌’






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited