Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ মাঘ ১৪২১ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
এখনও বলছি কোনও অনৈতিক কাজ করিনি: মুকুল--দীপঙ্কর নন্দী ।। মুখ্যমন্ত্রী: রাজ্যে শিল্প হচ্ছে,আর চিম্তা নেই--আবির রায় ।। নিগ্রহের কথা বলে আক্রাম্ত শিক্ষক ।। রামপুরহাটে ১০০ আদিবাসীকে ধর্মাম্তরকরণ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ।। কিরণকে তুলে ধরে বি জে পি-তে ভাটার টান? ।। পদক পেয়ে পরের দিনই কাশ্মীরে শহিদ তরুণ কর্নেল ।। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট হয়েছ শাম্তিপূর্ণ, ফল আজ দুপুরে ।। খানাকুলে তরুণীকে পণের দাবিতে চুল কেটে ছ্যাঁকা ।। সারাদিন দুর্ভোগ, বিকেলে উঠল ‌ট্যাক্সি ধর্মঘট ।। এস এস সি দপ্তরে চাকরিপ্রার্থীদের অনশন দ্বিতীয় দিনে পড়ল ।। বইমেলা শুরু, চলছে তুলির শেষ টান ।। সুন্দরবন বাঁচাতে বিশ্বব্যাঙ্ক
উত্তর সম্পাদকীয়

তৈল নিয়ে ঘনায়ে উঠিছে জটিলতার খেলা

তৈল নিয়ে ঘনায়ে উঠিছে জটিলতার খেলা

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দীপঙ্কর দাশগুপ্ত

ব্যাপারখানা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে৷‌ উপরন্তু নিজের অজাম্তেই অর্থনীতিবিদ তকমাখানা গায়ে সেঁটে যাওয়ায় এই লেখকের বর্তমান অবস্হা মর্মাম্তিক৷‌ আর সব কিছুর মূলে রয়েছে ওই আম্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের অধোগমন৷‌ অর্থনীতিবিদ তকমাধারী তাই প্রশ্নবাণে জর্জরিত৷‌ কেন তেলের দাম কমল? আর যদি বা কমল তবে তার ভারতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কটা কী? এটা ভাল না মন্দ? যদি ভাল হয় তবে সেটা কেন? যদি মন্দ হয় তবে সেটাই বা কেন? কিছু পরিষ্কার করে বলবে কী না? এবং যদি না বল তবে মাথা মুড়িয়ে এই মুহূর্তে দেশত্যাগ করবে কী না?

আর আমি ভাবি, হায় রে কপাল! কাশীধামে বৃষ্টি হচ্ছে দেখে খড়দহে পঙ্গপালে ধান খেয়ে উধাও৷‌ আম্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অকস্মাৎ পড়ে গেল কেন বুঝতে হলে তো আমাদের ওই কাশীধামের চেয়েও অনেক বেশি দূরে যেতে হবে৷‌ কাশীধামকে যদি আমরা সৌদি আরব বলে মনে করার মতো ভয়ানক অধর্ম করি, তবে খড়দহের পঙ্গপাল হয়ত বা আমেরিকা৷‌ পশ্চিমি দুনিয়ায় যখন মন্দার ছায়া দোদুল্যমান, তখন চীন আর ভারতের মতো তথাকথিত উদয়োন্মুখ অর্থনীতিরা (emerging economies) পড়ল মহা সমস্যায়৷‌ সাহেবরা আর তেমন করে আমাদের রপ্তানির দিকে চেয়ে দেখছে না৷‌ রপ্তানির বাজার খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমাদের শিল্পজাত উৎপাদনও মার খেতে শুরু করল৷‌ অতএব শিল্প উৎপাদনের জন্য আমরা যে তেল আমদানি করতাম, সেখানেও দেখা দিল ঘাটতি৷‌ কাজেই বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা কমে গিয়ে তেলের দামের ওপরে সৃষ্টি হল নিম্নচাপ৷‌ এই পর্যম্ত ব্যাপারটা সহজবোধ্য ছিল৷‌ কেলাস ফোরের ছেলেও বোঝে৷‌

কেবল গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ ডলার থেকে কমে ৭০ ডলারেরও নিচে কেন পৌঁছে গেল, সেটা বুঝতে গেলে বোধহয় আরেকটু উঁচু কেলাসে উঠতে হয়৷‌ অথবা অনেক পাস দিলেও হয়ত বা পুরোপুরি বুদ্ধিগ্রাহ্য হয় না৷‌ ব্যাপার সত্যিই রহস্যময়৷‌ ইতিপূর্বে, তেলের চাহিদা কমলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের তেলের উৎপাদনের ওপর লাগাম টেনে ধরত৷‌ জোগান কমিয়ে তেলের দাম আবার বাড়িয়ে তোলার প্রত্যাশায়৷‌ কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, ঘটনাটা অন্য পথে চলেছে৷‌ ওপেক (OPEC) রাষ্ট্রদের মধ্যে অন্যতম সৌদি আরব তেলের দাম কমছে দেখেও জোগান যেমন ছিল তেমনই রেখে দিল৷‌ চাহিদা কমে চলেছে, জোগান যথাপূর্বং, কাজেই তেলের দাম কমছে তো কমছেই৷‌ কিন্তু সৌদি আরব এমন কর্ম করতে প্রবৃত্ত হল কেন? এর সবটুকু জবাব হুট করে দেওয়া যাবে না৷‌ তবে দু-একটা তথ্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে৷‌

প্রথমেই আমাদের খড়দহের পঙ্গপাল কী করছে তার খোঁজ নিতে হয়৷‌ অর্থাৎ আমেরিকায় গিয়ে উঁকিঝুঁকি মারাটা হয়ত বা অপ্রাসঙ্গিক হবে না৷‌ সেখানে শেল গ্যাস নামক এক নতুন পদার্থর সন্ধান মিলেছে৷‌ প্রচুর খরচা করে পাথর খুঁড়ে তাকে খুঁজে তুলে আনতে লেগেছে একদল নতুন প্রজন্মের তেল ব্যবসায়ী৷‌ কাজটা এগিয়েছেও ভালই৷‌ দিনে এখন তারা ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে বিপুল উৎসাহে৷‌ সৌদি আরবও তাদের দৈনিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলের উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে৷‌ এর বাইরেও অন্যত্র তেলের উৎপাদন হয়ে চলেছে৷‌ তাই দাম কমছে তো কমছেই৷‌

তা সৌদি আরব জোগান কমাচ্ছে না কেন? একটা কারণ এমন হতেই পারে৷‌ তারা যদি উৎপাদন কমিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়, তবে যারা দাম বাড়াবে না, তাদের তুলনায় তেলের বাজারে সৌদি আরবের অংশে কমে যাবে৷‌ কিন্তু যারা দাম বাড়াবে না তারা কারা? তারা হল আমেরিকার শেল গ্যাসওয়ালারা৷‌ এই তেলের রপ্তানি যে খুব একটা বেশি হচ্ছে তা হয়ত নয়৷‌ কিন্তু ওপেক দেশরা অশ্ীভূত জ্বালানির (Fossil fuel) দাম বাড়ালেই তুলনামূলকভাবে অল্প দামে শেল গ্যাস থেকে আহরণ করা তেলের রপ্তানি শুরু হতে পারে এমন একটা চিম্তা সৌদি আরবের মাথায় থাকলেও থাকতে পারে৷‌ আর তেমন হলে সৌদি আরবের বাজার পড়বে৷‌ তাই তারা এখন দাম কমিয়েই রাখছে কারণ তারা জানে যে শেল গ্যাসের উৎপাদন-খরচা অতিরিক্ত বেশি৷‌ তাদের দেশে মার্কিন ডলার জমা আছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন৷‌ তাই আপাতত আয় কমে যাওয়াকে তারা হয়ত খুব একটা ডরায় না৷‌ তাছাড়া শেল গ্যাসকে ফ্র্যাকিং পদ্ধতিতে তেলে রূপাম্তরিত করে অল্প দামে বাজারে ছাড়লে লাভের অঙ্ক হবে খুবই কম৷‌ তাই ব্যাপারটা বেশিদিন চালানো সম্ভব হবে না৷‌ তারা যেই উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে, ঠিক তখনই সৌদি আরব তার নিজের উৎপাদনেও হ্রাস টানবে৷‌ অর্থাৎ কারও কারও মতে, তেলের দাম বিপুল গতিতে কমতে থাকলেও, ব্যাপারটা স্হায়ী নাও হতে পারে৷‌ আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যেই আম্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে৷‌

অবশ্য অন্য অভিমতও শোনা যায়৷‌ শেল গ্যাস তৈরির প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে উৎপাদনের খরচা কমছে৷‌ তাই বাজারে তেলের দাম কম থাকলেও, তাদের লাভ বাড়বে ক্রমে ক্রমে৷‌ যদি তাই হয়, তবে সৌদি আরব উৎপাদন কমাতে সাহসী হবে বলা কঠিন৷‌ এর পাশাপাশি আর একটি খেলাও চলছে৷‌ সৌর ও বায়ুশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তিও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে৷‌ এমনকি ভারতেও সৌরশক্তিকে জাতীয় গ্রিডের সাহায্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এমন ভাবনাও শুরু হয়েছে৷‌ ফলে সারা পৃথিবীতেই হয়ত তেলের ব্যবহার কমে যাবে সময়ের সঙ্গে৷‌ এসব কোনও কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না৷‌ কিন্তু ব্যাপারটা হল এই যে অদূর ভবিষ্যতে তেলের মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা কম বলেই সন্দেহ হয়৷‌

যদি এই অনুমান সত্যি হয়, তবে আমাদের দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার কমের দিকেই থাকবে৷‌ এখনও পর্যম্ত উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ডিজেল৷‌ কাজেই তেলের দাম কমলে, অম্তত কাগজে- কলমে পাইকারি ও খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার কম হবে৷‌ অন্যদিকে, তেলের দাম এখন যেহেতু আর সরকার-নিয়ন্ত্রিত নয়, ভারতীয় তেলের কোম্পানিরা অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠা-নামার সঙ্গে পেট্রল, ডিজেলের দামও ওঠাবে-নামাবে৷‌ এই মুহূর্তে সেটা নামতেই দেখা যাচ্ছে৷‌ এই নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সুবিধা কোথায়? কৃত্রিম উপায়ে বাজারে তেলের দাম কমিয়ে তেল কোম্পানিদের ঘাটতি মেটানোর ভার আর অর্থ মন্ত্রকের ওপর বর্তায় না৷‌ কাজেই রাজকোষ ঘাটতি নামক দানবটি আর সরকারকে ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে না৷‌ বরঞ্চ এমন সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে যে প্রতিশ্রুতি মতো ১৪-১৫ সালের রাজকোষ ঘাটতিকে সরকার জাতীয় উৎপাদনের ৪.১ শতাংশেই ধরে রাখতে পারবে৷‌ কাজেই বিশ্বজোড়া কাশীধাম বনাম খড়দহের লড়াইয়ের কল্যাণে, এই বিশ্বায়নের যুগে ভারতের বোধহয় লাভই হল৷‌

কতটা লাভ? ব্যাপারখানা বেশ মজার৷‌ তেলের দাম কমলেও এই নিয়ে নয়া সরকার বার তিনেক তেলের ওপর উৎপাদন শুল্ক বাড়াল৷‌ কিন্তু অপরিশোধিত তেলের দাম এতই কমেছে, যে এই উৎপাদন শুল্ক বাড়ার পরেও তেল কোম্পানির পরিশোধিত তেলের মূল্য কমাতে সক্ষম হয়েছে৷‌ কাজেই একদিকে মূল্যবৃদ্ধির হার কমার কথা শোনা যাচ্ছে, যদিও গৃহস্হ মানুষ সেটা দেখতে পাচ্ছে কিনা এখনও জানা নেই৷‌ অন্যদিকে নিশ্চিম্তে উৎপাদন শুল্ক বাড়িয়ে সরকার তার কোষাগার স্ফীত করতে সক্ষম হচ্ছে৷‌ রাজকোষ ঘাটতি কমা সত্ত্বেও রাজকোষে জমা বাড়ানোর কী প্রয়োজন সেটাও হয়ত বা রহস্য বিশেষ৷‌ তবে এমন হতেই পারে যে রাজকোষ ঘাটতি কমানো ছাড়াও সরকারের অন্য অনেক দায় রয়েছে৷‌ চতুর্দশ আয় কমিশন তার রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে গত মাসেই৷‌ একটা বিপুল খরচার ধাক্কা সরকারের সামনে রয়েছে৷‌ সেই খরচা সামলাতেও রাজকোষ ঘাটতি আবার বৃদ্ধি পেতে পারে৷‌ এ ছাড়া পণ্য পরিষেবা কর চালু হলে রাজ্যদের বকেয়া মেটানোর কাজও সরকারকেই করতে হবে৷‌ সেই টাকারও হয়ত আগাম ব্যবস্হা করা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে৷‌

আর একটা খবরও মনে রাখতে হবে৷‌ সেটা হল অবশেষে বাণিজ্য মহলকে খুশি করে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট কমিয়ে দিয়েছে৷‌ এতদিন অবধি ব্যাঙ্কের গভর্নর ইতস্তত করছিলেন৷‌ কিন্তু আমাদের বিশ্লেষণ যদি ভুল না হয়ে থাকে, তবে এবার রেপো রেট

কমিয়ে তিনি শাম্তিতেই আছেন৷‌ কারণ আগামী বেশ কয়েক বছর তেলের দাম বাড়বার সম্ভাবনা বিশেষ নেই৷‌ কাজেই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্করা তাদের সুদের হার কমিয়ে দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ঘটালেও পণ্যমূল্য মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে বলে আশা করা যায়৷‌ তবে ওই যা বললাম, পণ্যমূল্য বাড়ছে কী কমছে সেটা সরকারি তথ্যে দেখতে পাওয়া গেলেও, কার্যত কী হল তা মাছ-তরকারি কিনতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না বলে অভিযোগ করে থাকেন৷‌ অবশ্য এই মুহূর্তে সরকার যাই করুক না কেন, এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ কর নাকি কমানো হবে বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য৷‌ সরকারের উদ্দেশ্য আগামী বাজেটেই বোঝা যাবে৷‌ আর উদ্দেশ্য সাধিত হল কী না বোঝা যাবে আরও পরে৷‌

কাহিনী অবশ্য এখানেই শেষ না, কারণ বিশ্বায়িত পৃথিবীতে অনেক দেশের কর্মকাণ্ডের ওপরেই আমাদের নজর রাখতে হবে৷‌ তার মধ্যে রাশিয়া, ইরান– এরাও আছে৷‌ এদেরকে বাদ দিয়ে কী হতে চলেছে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা সমীচীন নয়৷‌ এই ভাবনাটুকু ভাবার জন্য সম্পাদক মশাইয়ের কাছে একটু সময় চেয়ে নিয়ে কাহিনীর বর্তমান অধ্যায়টুকু আপাতত শেষ করা যাক৷‌

তৈল নিয়ে জটিলতার খেলা সহজে থামবার নয়৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited