Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৩০ ভাদ্র ১৪২১ মঙ্গলবার ১6 সেপ্টেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
চিটফান্ড নিয়ে রাস্তায় বামেরা, এরপর জবাব চাইতে নবান্নে? ।। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তিন কর্তাকে জেরা ।। সারদার জালিয়াতি: তদম্ত শেষ করল এস এফ আই ও ।। আজ দুই উপনির্বাচনের ফল দুপুরের মধ্যে ।। প্রয়াত বিনয় কোঙারকে চোখের জলে বিদায় দিলেন বর্ধমানবাসী ।। আজ মেমারিতে শেষকৃত্য সইফুদ্দিন চৌধুরির ।। কাঁচরাপাড়ায় বামপম্হীদের রেল অবরোধ--দফায় দফায় তৃণমূলি হামলা, বোমা, গুলি ।। ব্যবধান কমলেও জিতব: তৃণমূল --দীপঙ্কর নন্দী ।। রুষ্ট হবে চীন? প্রণবের সফরে ভিয়েতনামের সঙ্গে সমুদ্র চুক্তি ।। এবার শাসন ক্ষমতায় এলে ৫০ বছর থাকব: গৌতম ।। ভূস্বর্গে ত্রাতা ভাগলপুরের সৌরভ ।। হলদিয়া পেট্রোকেম: বিশেষ: দল পূর্ণেন্দুর
উত্তর সম্পাদকীয়

দেশবন্ধুর দৌহিত্র নায়ক থেকে খলনায়ক হয়েছিলেন ছাত্র রাজনীতির দৌলতে

দেশবন্ধুর দৌহিত্র নায়ক থেকে খলনায়ক হয়েছিলেন ছাত্র রাজনীতির দৌলতে

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

তাপস গঙ্গোপাধ্যায়

সত্তর দশকের গোড়ায় (১৯৭২ থেকে) সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় যখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আশুতোষ কলেজের সকালের বিভাগ, যোগমায়াদেবী কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী৷‌ কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন, ছাত্র পরিষদের নেতা হিসেবে নির্বাচনে এস ইউ সি আইয়ের ছাত্র সংগঠন ডি এস ও-কে ভোটে এবং পেশীশক্তিতে হারিয়ে দিয়ে তিনি ইউনিয়ন দখল করেন৷‌ মনে আছে, সেই সময় মমতার সঙ্গে কোনও দিক থেকে এঁটে উঠতে না পেরে, ডি এস ও-র নেতানেত্রীরা কলেজের অদূরে বকুলবাগানে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝুড়ি নামিয়েছিলেন৷‌

মমতা জানেন, যে ক’টি কারণে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় এবং তাঁর দল কংগ্রেস চিরকালের মতো পশ্চিমবঙ্গে ব্রাত্য হয়ে গেছে, তার অন্যতম হল ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্র পরিষদ রাজনীতি৷‌ পশ্চিমবঙ্গের জন্ম ১৯৪৭-এ৷‌ তার আগে ছিল অবিভক্ত বঙ্গ৷‌ ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম কুড়ি বছর কংগ্রেস বামপম্হীদের হাজার বিরোধিতা সত্ত্বেও ক্ষমতায় ছিল জাঁকিয়ে৷‌ ১৯৬৭-তে প্রথম এল যুক্তফ্রন্ট, যার আয়ু ছিল ৯ মাস৷‌ ১৯৬৯-এ এল দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট, এবার আয়ু বেড়ে হল ১৩ মাস৷‌ ১৯৭১-এ এল ৩ মাসের জন্য অজয় (মুখার্জি)-বিজয় (সিং নাহার) বা বাংলা কংগ্রেস ও কংগ্রেস যৌথ মন্ত্রিসভা৷‌ তারপর ১৯৭২-এ ৫ বছরের জন্য কংগ্রেসি মন্ত্রিসভা, যার ঋত্বিক ছিলেন মমতার প্রিয় নেতা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়৷‌

সিদ্ধার্থবাবু যে ৫ বছর (১৯৭২)৭৭- ক্ষমতায় ছিলেন, তখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা প্রকৃত অর্থেই লাটে উঠেছিল৷‌ আর তার মূলে ছিল ছাত্র পরিষদ রাজনীতি৷‌ ছাত্র পরিষদ ছিল স্বাধীনতা-উত্তর পর্বের কংগ্রেসি চাণক্য অতুল্য ঘোষের সৃষ্টি৷‌ ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্বে অতুল্যবাবু টের পান, বিপক্ষ বামেরা ছাত্র রাজনীতির নাম করে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে অনেকটা জমি দখল করে বসেছে৷‌ তখনই তিনি তৈরি করেন ছাত্র পরিষদ৷‌ প্রথম পর্বের দুই প্রধান নেতা ছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি ও সুব্রত মুখার্জি৷‌ সত্তর দশকের শুরুতে প্রিয়রঞ্জন যখন কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য এবং সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি, তখন ছাত্র পরিষদের রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের ব্যাটন চলে আসে সুব্রতর হাতে৷‌ কিন্তু ১৯৭২-এ ভোটে জিতে সিদ্ধার্থবাবু যে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন সুব্রত মুখার্জি৷‌ ফলে স্বাভাবিক কারণেই সুব্রতবাবু ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন, তাঁর জায়গায় ছাত্র পরিষদের সভাপতি হন কুমুদ ভট্টাচার্য৷‌

দেশবন্ধুর দৌহিত্র হলেও সিদ্ধার্থবাবু কখনই পারিবারিক কৌলীন্য, ব্যারিস্টারি আভিজাত্য ও ক্লাব কালচার ছেড়ে মাঠেঘাটে ঘুরে কংগ্রেস করেননি৷‌ তাঁকে প্রথম দলীয় স্তরে মর্যাদা দিয়ে মন্ত্রী করেছিলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, ১৯৫৭ সালে৷‌ কিন্তু সিদ্ধার্থবাবু ওই মন্ত্রিসভায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি৷‌ প্রফুল্ল সেন-অতুল্য ঘোষদের গালাগালি করে কংগ্রেস ছেড়ে, বামেদের সাহায্যে কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে বিধানসভায় আবার যান৷‌ কিন্তু বামেরা কোনও দিনও তাঁকে বিশ্বাস করেননি৷‌ তাই ১৯৭২-এ ভোটে জিতে নিজে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দেখলেন যাঁদের নিয়ে তাঁর মন্ত্রিসভা ও দল সেখানে অসংখ্য ভুঁইয়ার আধিপত্য৷‌ ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২– দুই যুক্তফ্রন্ট ও রাজ্যপাল শাসনপর্বে ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেস করে একদল তরুণ নেতা কংগ্রেসের ওপর মহলে উঠে আসে৷‌ তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রিয়রঞ্জন, সুব্রত, লক্ষ্মীকাম্ত বসু, বারিদবরন দাস, পঙ্কজ ব্যানার্জি, সুদীপ ব্যানার্জি, সৌগত রায় প্রমুখ৷‌ এই তরুণ তুর্কিদের তাঁবে রাখতে হলে সবার আগে দরকার ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ৷‌ সিদ্ধার্থবাবু খুব ভালভাবে জানতেন, ১৯৭২-এ তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন কংগ্রেসের ওই দুটি শাখা সংস্হার নেতাদের সাহায্যে৷‌ আর জানতেন বলেই সত্তর দশকের পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসি মেকিয়াভেলি সিদ্ধার্থশঙ্কর প্রথমেই নজর দিলেন ছাত্র পরিষদের ওপর৷‌ শাখা সংগঠন হয়েও ছাত্র পরিষদের রমরমা তখন মূল সংস্হা কংগ্রেসের চেয়ে বেশি৷‌ কুমুদ ভট্টাচার্যকে কংগ্রেসি অধিকাংশ মন্ত্রীই তখন খাতির করবেন৷‌ সিদ্ধার্থবাবু কুমুদ ভট্টাচার্যের মৌরসি পাট্টা ভাঙার জন্য পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে আরেকটি ছাত্র পরিষদ তৈরি করে দিলেন, যার সভাপতি হলেন নির্মলেন্দু ভট্টাচার্য৷‌ বাম দলগুলি ১৯৭২-এ নির্বাচনে হেরে এমনিতেই তখন ন্যাকড়া-জোবড়া৷‌ তাদের ছাত্র সংগঠনগুলিও তখন অস্তিত্বের সঙ্কটে৷‌ তখন কলেজে কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাঠালাঠি শুরু হল দুই ভটচাজ বামুনের৷‌ ক্ষমতা দখলের, ইউনিয়ন দখলের লড়াই আর সেই লড়াইকে কেন্দ্র করে বোমা, গুলি, ছুরি চলল অবাধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে৷‌ যে বাঙালি ভোটাররা পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে খাদ্য আন্দোলন, ট্রামের ভাড়া আন্দোলন ইত্যাদি বিভিন্ন আন্দোলনে বাম ছাত্রদের ভূমিকায় অতিষ্ঠ ও বিরক্ত হয়ে ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তাঁরাই সত্তরের দশকে দুই বামুনের লড়াই দেখে ঘেন্নায় কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন৷‌ সিদ্ধার্থবাবু ক্ষমতায় থেকে বুঝতে পারেননি, বাঙালির চূড়াম্ত দুর্বলতা কোথায়৷‌ ব্যবসা ও ঝুঁকিবিমুখ বাঙালি চাকরি-নির্ভর৷‌ আর চাকরির জন্য তার একমাত্র পুঁজি শিক্ষা৷‌ তাই শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য বাঙালি ঊনবিংশ শতাব্দীর তিরিশ দশকের পর কখনও সহ্য করেনি৷‌

আমি তৃণমূল নেতাদের অনুরোধ করব, সত্তর দশকের খবরের কাগজগুলিতে একবার চোখ বোলাতে৷‌ আনন্দবাজার, যুগাম্তর, সত্যযুগ, বসুমতী, দ্য স্টেটসম্যান, অমৃতবাজার বা হিন্দুস্হান স্ট্যান্ডার্ড. তখন সরকারি টিভি গুটি গুটি পা ফেলতে শুরু করেছে৷‌ বেসরকারি কোনও চ্যানেলের প্রশ্নই ওঠে না৷‌ সরকারি দূরদর্শন বা আকাশবাণী শাসক বা বিপক্ষ কোনও রাজনৈতিক দলের সমালোচনা তখনও যেমন করত না, আজও করে না৷‌ কিন্তু খবরের কাগজগুলো সবই বেসরকারি হওয়ায় ছিল এক অর্থে স্বাধীন৷‌ তারা কেউ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় বা জ্যোতি বসুদের কেনা গোলাম ছিল না৷‌ ভাগ্যিস ছিল না৷‌ তাই ওই পাঁচ বছরের শিক্ষাক্ষেত্রে কী ধরনের নৈরাজ্য জাঁকিয়ে বসেছিল, তার একটি ধারাবাহিক বিবরণ ওই কাগজগুলির প্রথম পাতাতেই পাওয়া যাবে৷‌

তাই মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কলেজে কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং ওই পরিষদের সুপ্রিমো শঙ্কুদেব পন্ডার হস্তক্ষেপ, ফতোয়া জারি, শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিগ্রহ, বিপক্ষীয় ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলার খবর গোটা রাজ্য জেনেছে খবরের কাগজ ও টিভির দৌলতে৷‌ এখন নেতারা অস্বীকার করেও পার পান না, কারণ ক্যামেরা অকুতোভয়৷‌ ওই পরিষদ এবং এবং পন্ডার ওপর অরূপ বিশ্বাস কমিটির লাগাম পরাতে মমতা ব্যানার্জির ৪০ মাস লেগে গেল দেখেই অবাক হচ্ছি৷‌ কারণ, নিজে ছাত্রনেত্রী হিসেবে দেখেছেন সিদ্ধার্থশঙ্কর মাত্র ৫ বছরে রাজ্যবাসীর চোখে হিরো থেকে কীভাবে ভিলেন হয়ে গেলেন৷‌ ছাত্র রাজনীতির আত্মক্ষয়ী লড়াইয়ে নেপথ্যে থেকে রসদ জোগাতে গিয়ে৷‌ সামনের ২০ মাসে বিগত ৪০ মাসের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও পন্ডাবাবুর রাজনীতির ক্ষত সারবে তো!


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited