Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ ভাদ্র ১৪২১ রবিবার ৩১ আগস্ট ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর   আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--১০০ দিনেই আচ্ছে দিন অস্তগামী? ।। আজ বড় ম্যাচ, শহরের পারদ চড়ছে--অগ্নি পান্ডে ।। দুই ছাত্র সংগঠনের গোলমালের জেরে মেদিনীপুর কলেজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ ।। তৃণমূলের ছাত্রদের ঘেরাও: মন্ত্রীকে জানালেন উপাচার্য, ক্ষুব্ধ শিক্ষামহল ।। ছাত্রী নিগ্রহ: গ্রেপ্তার ৩ ছাত্রকে বহিষ্কার বিশ্বভারতী ।। সারদার অতিথিদের খোঁজে মুম্বইয়ের হোটেলে পা গোয়েন্দাদের ।। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী করে দেবে: বি জে পি-র টোপ বিশ্বাসকে? ।। বারাণসী হবে স্মার্ট সিটি, জাপানে চুক্তি সই প্রধানমন্ত্রীর ।। স্পিনের ফাঁদে কুকরা ডুবলেন!--দেবাশিস দত্ত ।। রায়নার টেম্পারামেন্ট প্রশংসনীয়--সুনীল গাভাসকার ।। মোদির ভাষণ স্কুলে? ফরমানে রাজ্যের ‘না’ ।। আলু ধর্মঘট: আজ বৈঠকে ব্যবসায়ীরা
উত্তর সম্পাদকীয়

এঁরা ভোটে-জেতা নেতা, নেতা হয়ে ভোটে-জেতা নন

এঁরা ভোটে-জেতা নেতা, নেতা হয়ে ভোটে-জেতা নন

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবেশ রায়

লোকসভার শেষ ভোটে ভারতের রাজনীতিতে যে-বদলটা ঘটেছে সেটা একেবারে মৌলিক বদল৷‌ ভোটের সংখ্যা, শতাংশ, আসন সংখ্যার বদলই নয় কেবল৷‌ দেশের সার্বভৌম স্বাধীন অস্তিত্বের ৬৭ বছরে এমন বদলের কোনও তুলনা নেই৷‌

তুলনা নেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ প্রায় দুশো বছরের রক্তক্ষরা ইতিহাসেও৷‌

সেই মৌলিক বদলটা কোথায়? বা একটু ঘুরিয়েও বলা যায়– সেই বদলের মৌলিকতা কোথায়?

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু ও বিস্তার ভারতের পরাধীনতার শুরুর আগে থেকেই৷‌ ইউরোপীয়রা এদেশে আসার সঙ্গে-সঙ্গেই তাদের বিরুদ্ধে স্হানীয় নানা প্রতিরোধ বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ভাবে গড়ে উঠেছে৷‌ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সে-ইতিহাস লেখা এখনও শুরু হতেই পারেনি৷‌ তবু অনেক ইতিহাসলেখকই স্হানীয় এই সব আন্দোলন ও সংগঠনের কথা কিছু-কিছু লিখেছেন ও স্হানীয় ইতিহাসও লেখা হচ্ছে৷‌ এই সব স্হানীয় আন্দোলনে কখনও-কখনও কোনও-কোনও সংগঠনের ভিত্তি হয়ত ধর্মভিত্তিকই ছিল তবু সাম্প্রদায়িকতা কখনও এই সব আন্দোলনের প্রধান চালকশক্তি হয়ে ওঠেনি৷‌ প্রায় পাঁচ-ছশো বছরের ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক আধিপত্য সত্ত্বেও ভারতে রাষ্ট্রশক্তির সমর্থনের জোরে কোনও হিন্দুবিরোধী দাঙ্গা ঘটেনি৷‌

২০১৪-র নির্বাচনে ভারতে প্রথম, সর্বপ্রথম, এমন এক রাজনৈতিক পার্টি কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় এল যারা অন্ধ সাম্প্রদায়িকতাবাদী৷‌ তাদের নবনির্বাচিত প্রধান নেতা, যিনি প্রধানমন্ত্রীও বটেন, গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে সরকারি সমর্থন জুগিয়েছেন৷‌ সেই ভোটের একজন প্রধান প্রচারক, যিনি বি জে পি-র পার্টি-প্রধানও বটেন, উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভোটারদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান ভিন্নতা তৈরি করে পার্টিকে জিতিয়েছেন৷‌

২৪ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের বি জে পি-র কার্যনির্বাহী সমিতির প্রকাশ্য সভায় বি জে পি-র রাজ্য সভাপতি যুবকদের আহ্বান করেছেন মুসলিম কোনও ছেলের সঙ্গে হিন্দু কোনও মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক দেখলেই সে-সম্পর্ক ভেঙে দিতে হবে৷‌

ভারতের কোনও কেন্দ্রীয় সরকারের শাসকদল এমন প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক প্রচার কখনও করেনি৷‌ মুসলমান-বিদ্বেষকে যদি আমাদের ভারতীয় জাতীয়তা রক্ষার প্রধান বুনিয়াদ করা হয়, ও সেটা যদি জনরাজনীতির স্লোগান হয়ে ওঠে, তা হলে সেই সাম্প্রদায়িকতা আমাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে৷‌ ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭– ভারতবর্ষ এই সাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধের ভিতর দিয়ে পাড়ি দিয়েছে৷‌ সেই গৃহযুদ্ধের অভিঘাত জাতি হিসেবে আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি৷‌ এখন যদি আবার সেই সাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধের মধ্যে ভারতবাসীকে ঠেলে দেওয়া হয়, তা হলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষাই চরম সঙ্কটে পড়বে৷‌ সে-সঙ্কট থেকে বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে উদ্ধার পাওয়া খুব কঠিন৷‌ প্রায় অসম্ভব৷‌ ভারত আবার টুকরো-টুকরো হয়ে যাবে– এটা হয়ত রাষ্ট্রকাঠামোর দিক থেকে এখন ঘটানো সম্ভব নয়৷‌ কিন্তু ইতিমধ্যেই তো এক আজগুবি গুজরাট মডেলের মতো আঞ্চলিকতার প্রাধান্য ভারতকে বেশ কিছু আর্থিক উন্নয়নের টুকরোতে ভাগ করে ফেলছে৷‌ বিহার-পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশাসহ সমগ্র পূর্ব ও উত্তরপূর্বাঞ্চল বিনিয়োগহীন এক অনুন্নত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে৷‌ পশ্চিম ভারতকেই প্রধান ভারত হিসেবে জাহির করা হচ্ছে৷‌ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে উত্তরপ্রদেশ ভারতের কেন্দ্রীয় অঞ্চল হিসেবে যে-প্রাধান্য পেয়ে এসেছে– ভালই হোক আর খারাপই হোক, সেটা ভারতের অভ্যম্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা সত্য– তার সংহতি নষ্ট করা হচ্ছে৷‌

এই সবই ঘটছে নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে৷‌ তিনি গণতান্ত্রিক রীতিপদ্ধতিকে তুচ্ছ করে তাঁর মন্ত্রিসভার এক সচিব নিয়োগের মতো সামান্য ঘটনায় অর্ডিন্যান্স জারি করে পূর্বতন গৃহীত নীতিকে নাকচ করলেন৷‌ তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি-নিয়োগের কলেজিয়াম ব্যবস্হা ভেঙে দিয়ে মন্ত্রিসভা নির্ভর, তার মানে প্রধানমন্ত্রী নির্ভর নিয়োগ ব্যবস্হা চালু করলেন৷‌ ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্হায় ও বিচার ব্যবস্হায় এমন কি কোনও সঙ্কট দেখা দিয়েছিল যে এই মুহূর্তে অর্ডিন্যান্স ব্যবহার করে ব্যক্তিবিশেষকে মন্ত্রিসভার সচিব না-করলেই নয়৷‌ বা, বিচারপতি নিয়োগে কলেজিয়াম ব্যবস্হা না-বদলালেই নয়৷‌ বিচারপতি হতে চান যাঁরা, তাঁরা এখন থেকে সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়ার উদ্যোগ তো হারাতেও পারেন৷‌

নরেন্দ্র মোদির সব চাইতে বড় কেলেঙ্কারি– লালকেল্লার ১৫ আগস্টের ভাষণে ঘোষণা করে দিলেন, যোজনা কমিশন ভেঙে দেওয়া হবে৷‌ তাঁর যুক্তি– রাজ্যগুলি শক্তিশালী হলেই কেন্দ্র শক্তিশালী হবে, সুতরাং রাজ্যগুলি তাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলবে৷‌

যোজনা কমিশন প্রশাসনের বাইরে একটা প্রকাশ্য সংগঠন ও মঞ্চ হিসেবে কাজ করত৷‌ সেখানে উত্থাপিত একটি রাজ্যের প্রস্তাব নিয়ে সারা দেশে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হতে পারত৷‌ হয়েছেও অনেকবার৷‌ যোজনা কমিশনের তথ্যগুলি যাঁর দরকার তিনিই পেতে পারতেন৷‌ এক দারিদ্র্যসীমা নিয়েই কত বিতর্ক হয়েছে৷‌ ও হচ্ছে৷‌

স্বীকৃত ও অভ্যস্ত একটি প্রশাসন-বহির্ভূত খোলা প্রতিষ্ঠানকে তুলে দিয়ে উন্নয়নকে নরেন্দ্র মোদি একটা সরকারি ডিপার্টমেন্ট করে ফেলছেন৷‌ তখন প্রত্যেকটি তথ্য আইনের দ্বারা সংরক্ষিত৷‌ সেই ডিপার্টমেন্টের মন্ত্রী পার্লামেন্টে শুধু তাঁর মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত প্রশ্নেরই উত্তর দেবেন৷‌ লাল ফিতের গেরোতে উন্নয়ন ও পরিকল্পনার মতো গণতান্ত্রিক মতবিনিময়ের বিষয়– হয়ে যাবে সচিবদের নোট দেওয়ার বিষয়৷‌

এই সেদিন তো ভোট হয়েছে৷‌ ইতিমধ্যেই গুজরাটের ২০০২-এর দাঙ্গায় সোহ‍্রাবুদ্দিন-প্রজাপতি জালি-সঙঘর্ষের মামলায় সি বি আই কর্তৃক অভিযুক্ত অমিত শাহ শাসক দলের জাতীয় অধ্যক্ষ৷‌ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কনফ্লি’ রিজোলিউশন ক্লিনিক-এর (আই এইচ আর সি আর সি) অন্যতম প্রধান স্টিফান সোনারবার্গ ৪৪৭টি পাদটীকার সাবুদ-সহ রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছেন ২০০২-এর গুজরাট হত্যায় নরেন্দ্র মোদির দায় ও দায়িত্ব কতটাই প্রমাণিত৷‌

প্রত্যেক ভারতবাসীর এখন একমাত্র কাজ– যিনি যে-ভাবে পারুন, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে জানিয়ে দেওয়া যে তাঁরা ভোটে জিততে পারেন কিন্তু তাঁরা ভারতের কোনও নেতা নন৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || nepathya bhasan ||
khela || sunday || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited