Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৬ চৈত্র ১৪২১ মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
দুই চিটফান্ডের জোড়া ধাক্কা হাইকোর্টে ।। দিন যাচ্ছে, তৃণমূলের লক্ষ্য এখন ১৩০ ।। সরকার ও পুরসভা একদলের হাতে থাকলে উন্নয়ন ভাল হবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী ।। ‘মালদার’ টুরিস্ট এসেছে!--খবর দিয়েছিল স্হানীয় যুবক ।। ছিল বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের ছক! ।। দেড় দিনের বৃষ্টিতে বন্যা কাশ্মীরে ।। কলকাতার সব ওয়ার্ডে নারী বাহিনী বামেদের ।। ক্যাম্পাসে এ কী কাণ্ড! তদম্ত কমিটি যাদবপুরে ।। রাহুল ফিরছেন! ১৯ এপ্রিল দেখা যাবে কিসান সমাবেশে ।। বসিরহাট পুরসভা: লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে সি পি এমের ।। কেজরিওয়াল: সব ঠিক আছে ।। অকেজো মন্ত্রী ছাঁটবেন মোদি
উত্তর সম্পাদকীয়

প্রথম বিধায়ক সম্পাদক

প্রথম বিধায়ক সম্পাদক

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অমিত বসু

অনেকটা দৌড়ে দাঁড়ালেন বিমান বসু৷‌ মাথার বোঝা সতীর্থ সূর্যকাম্ত মিশ্রের মাথায় তুলে বিশ্রাম৷‌ মনের আরাম৷‌ আর পারছিলেন না৷‌ ২০০৬ থেকে সি পি এম রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব অসহ্য হয়ে উঠেছিল৷‌ বুঝতে পারছিলেন, কাজটা তাঁর জন্য নয়৷‌ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া চাপ কতদিন নেওয়া যায়! অনিল বিশ্বাস পদটা সামলাচ্ছিলেন ভালই৷‌ আচমকা তাঁর মৃত্যুতে সি পি এমের দীর্ঘশ্বাস৷‌ এবার কী হবে? কে পরবে কাঁটার মুকুট? ঘাড়ে তৃণমূলের নিঃশ্বাস৷‌ নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বেপরোয়াভাবে এগোচ্ছেন ক্ষমতার দিকে৷‌ জ্যোতি বসু থাকলে এতটা ভাবনা হত না৷‌ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কোনক্রমে মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন৷‌ ঝড় উঠছে৷‌ চেয়ারটা যে নড়বড়ে বেশ বুঝতে পারছেন৷‌ দল বেসামাল হলে সরকারের অবস্হা যে আরও কাহিল৷‌ সরকার তো পুরোপুরি দল-নির্ভর৷‌ দলের হুকুম ছাড়া এক পা নড়তে পারে না৷‌ ১৯৯৬-তে দলের সম্মতি পাননি বলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি জ্যোতি বসু৷‌ এটা যে ঐতিহাসিক ভুল প্রকাশ্যে চিৎকার করে বলতে বসুর বাধেনি৷‌ তাই বলে দল থেকে ছিটকে বেরিয়ে যাননি৷‌ সময়টা ছিল সি পি এমের পৌষমাস৷‌ সর্বনাশের কালে দলের হাল উঠল বিমানের হাতে৷‌ যার জন্য তিনি একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না৷‌

চেয়ারে বসতে না বসতেই বিমানের অক্ষমতা প্রকাশ শুরু হল৷‌ সহজ জিনিসের সমাধানে তালগোল পাকিয়ে ফেললেন৷‌ দুর্বলতা ঢাকতে কথায় কথায় ক্রোধ৷‌ সম্পাদকের পদে অব্যাহতি নিলেও বিমান এখনও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান৷‌ ২০০১ থেকে এই দায়িত্ব পালন করছেন৷‌ এর আগে তিনজন ছিলেন৷‌ প্রমোদ দাশগুপ্ত, সরোজ মুখার্জি, শৈলেন দাশগুপ্ত৷‌ প্রমোদ অসময়ে চলে যান৷‌ তাঁর উত্তরসূরি সরোজকে কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়নি৷‌ দল তখন মধ্যগগনে৷‌ শৈলেন দাশগুপ্তও নিশ্চিম্ত ছিলেন৷‌ বিমান বসুর বেলায় অবস্হাটা বদলায়৷‌ জ্যোতি বসু তখন মুখ্যমন্ত্রী নেই৷‌ এতদিন জাতীয় ও আম্তর্জাতিক স্তরে সি পি এমের মুখ বলতে তিনি৷‌ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সংস্কৃতিমান বাঙালির ছাপ রাখেন৷‌ সেই সূত্রে জনপ্রিয়তাও বাড়ে৷‌ ঠোক্কর খেলেন সিঙ্গুরে৷‌ নিন্দিত হলেন নন্দীগ্রামে৷‌ এটা তাঁর প্রাপ্য ছিল না৷‌ দু’জায়গায় সি পি এমের সংগঠন ভেঙে পড়তেই এই অবস্হা৷‌ হলদিয়ায় সি পি এম নেতা লক্ষ্মণ শেঠের দক্ষিণপম্হী সাম্রাজ্য বিস্তার নজরে পড়তেও দল চোখ বুজে ছিল৷‌ তাঁকে ফের সাংসদ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হল৷‌ যখন তিনি দলের কোপে পড়ে সি পি এম হারা হলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে৷‌ লক্ষ্মণের জন্যই নন্দীগ্রাম সি পি এমের হাতছাড়া৷‌ সিঙ্গুরে সি পি এমের সংগঠন অনেকদিন আগেই জনবিচ্ছিন্ন হয়েছিল৷‌ সাধারণ মানুষও সি পি এম থেকে মুক্তি চাইছিল৷‌

দল যত দুর্বল হয়েছে বিমান বসু ততই ধৈর্য হারিয়েছেন৷‌ সাংবাদিক সম্মেলনেও সংযম রক্ষা করতে পারেননি৷‌ মমতা ব্যানার্জি যত সক্রিয়, সি পি এম তত নিষ্ক্রিয়৷‌ যে কোনও দলই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ঘুণ ধরবেই৷‌ দুর্নীতি মাথাচাড়া দেবেই৷‌ তাতে জনসংযোগ থাকবে কী করে! পার্টি যখন কর্মীদের বেশি করে মানুষের সঙ্গে মিশতে বলছে, তার আগেই সমাজকে তোয়াক্কা না করে মাতব্বর হয়ে উঠেছে তারা৷‌

বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় আদিবাসী, অনুন্নত শ্রেণীর সঙ্গে বিমানের ঘনিষ্ঠতা প্রশ্নাতীত৷‌ সেই জনপ্রিয়তা সব জায়গায় ছড়ায়নি৷‌ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার প্রায় ৬ কোটি৷‌ তাঁদের আটকে রাখাটা কম কথা নয়৷‌ জনপ্রিয়তার ধার জ্যোতি বসু ছাড়া কারও ছিল না৷‌ বুদ্ধদেবের জনপ্রিয়তা যখন ঊধর্বমুখী, দলের অগোছালো ভাবটা তাঁকেও ফ্যাসাদে ফেলল৷‌

সূর্যকাম্ত মিশ্রের উত্থানটা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত৷‌ ২০১১-র নির্বাচনে ধরেই নেওয়া হয়েছিল সূর্যকাম্ত হারছেন৷‌ স্বাস্হ্যমন্ত্রী, পঞ্চায়েতমন্ত্রী হয়ে তাঁকে সমালোচনার ঝড় সামলাতে হয়েছে৷‌ বিরোধীদের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল এই দুটি দপ্তর৷‌ তা সত্ত্বেও তিনি জিতলেন৷‌ এগারোর নির্বাচনে সেটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা৷‌ দল আগে তাঁকে নিয়ে বড় করে কিছু ভাবেনি৷‌ নির্বাচিত বাম বিধায়কদের মধ্যে যখন দেখা গেল তিনিই সেরা, তাঁকে সামনে টেনে আনা হল৷‌ বিরোধী নেতার দায়িত্বে তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভাবা গেল না৷‌

সি পি এমের দুর্দিনে সূর্যকাম্তের জয়টা প্রমাণ করল, তাঁর সততা নিয়ে জনমানসে কোনও সংশয় নেই৷‌ দীর্ঘদিন মন্ত্রী থেকেও জীবনযাপনের ধরনধারণ একচুল বদলায়নি৷‌ সব প্রলোভন ছেড়ে নিজের কাজের মধ্যে ডুবে থেকেছেন৷‌ দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করেছেন একশোভাগ৷‌ কতটা পারলেন বা পারলেন না সে নিয়ে ভাবার দরকার পড়েনি৷‌ বরং তাঁর একনিষ্ঠতা তাঁকে মানুষের কাছে মনোগ্রাহী করে তুলেছে৷‌

সূর্যকাম্তকে নতুন করে আবিষ্কারের কৃতিত্ব কোনও সি পি এম নেতাই নিতে পারেন না৷‌ বিমান বসুও নন৷‌ এটা ঠিক, সূর্যকাম্তকে সি পি এম সদস্য করেছিলেন বিমান বসু৷‌ তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিচার করে তাঁকে মন্ত্রীও করা হয়েছিল৷‌ তাই বলে বিধানসভায় বিরোধী নেতা হওয়াটা ছিল কল্পনাতীত৷‌ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জিতলে তিনিই এই দায়িত্ব পেতেন৷‌

সূর্যকাম্ত সি পি এমের রাজ্য সম্পাদক হয়ে ইতিহাস গড়লেন৷‌ তাঁর আগে কোনও নির্বাচনে জেতা নেতা এই পদ পাননি৷‌ আগের সবাই নির্বাচনী পরীক্ষা না দিয়েই পাস৷‌ সূর্যকাম্ত মন্ত্রীও ছিলেন৷‌ সরকারি কাজেও তাঁর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট৷‌ প্রশাসনিক দায়িত্বেও সফল৷‌ দলীয় প্রশাসন সামলাতে তাতে অবশ্যই সুবিধে হবে৷‌

সূর্যকাম্তর নজির যদি দলের সব শীর্ষ পদ লাভে গ্রাহ্য হয় তাহলে যুগাম্তর আসবে৷‌ কেউ বলতে পারবে না, যার নির্বাচন জেতার ক্ষমতা নেই সে-ই নেতা হয়ে বসেছে৷‌ গণতান্ত্রিক ব্যবস্হায় নির্বাচন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ৷‌ অন্য সব দলে শীর্ষ পদাধিকারীরা নির্বাচিত৷‌ বামেরাই বা ব্যতিক্রম হবে কেন৷‌ নির্বাচনে জিতলে আত্মবিশ্বাস আর অভিজ্ঞতা দুই-ই বাড়ে৷‌ বেশি করে মানুষ চেনা যায়৷‌ মানুষও পরখ করতে পারে নেতৃত্বকে৷‌

রাজ্যে সি পি এমের সম্পাদক বদল হয়েছে৷‌ নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পেয়েছেন৷‌ দিল্লিতে সি পি এমের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাতও পদ ছাড়ছেন৷‌ তাঁর মেয়াদ ফুরিয়েছে৷‌ সীতারাম ইয়েচুরি কারাতের জায়গা নিতে পারেন৷‌ নিলে তিনিও হবেন নির্বাচিত নেতা৷‌ রাজ্যসভার সাংসদ সীতারাম, সরাসরি জনসাধারণের ভোটের মুখোমুখি না হলেও, বিধানসভায় বিধায়কদের ভোট তো নিতে হয়েছে৷‌ তাই বা কম কীসের৷‌ নির্বাচিতদের দলের বাইরের লোকেরাও স্বীকৃতি দিতে বাধ্য৷‌ ভোটে জেতা নেতাদের মর্যাদাও বেশি৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited