Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ কার্তিক ১৪২১ শুক্রবার ১ নভেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
চিঠি দিলেও আরাবুলকে ক্ষমা নয়--দীপঙ্কর নন্দী, গৌতম চক্রবর্তী ।। পান্ধই থানার সেই এ এস আই-কে সাসপেন্ড, ও সি-কে সরাতে বলল কোর্ট ।। অর্থতত্ত্ব-কাণ্ডে গ্রেপ্তার বি জে ডি বিধায়ক ।। কলাবিভাগের ৯৭ শতাংশ উপাচার্যকে চান না ।। রাজ্যপালের কাছে সূর্য: বীরভূম পুলিসের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদম্ত হোক ।। জাতপাতের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে এই রাজ্য সরকার: বিমান বসু ।। মহা ধুমধামে শপথ দেবেন্দ্রর--মান ভাঙিয়ে আনা হল উদ্ধবকে ।। বাংলায় বিনিয়োগ-সম্ভাবনার দরজা খুলে দিলেন অর্থমন্ত্রী--দেবারুণ রায় ।। গঙ্গাসাগরকে ঘিরে পর্যটন বাড়াতে ফিল্মসিটি গড়ার প্রস্তাব ।। যারা অশাম্তি বাধাচ্ছে তাদের বোল্ড আউট করে দিন: মুখ্যমন্ত্রী ।। দাম কমে যাচ্ছে পেট্রল ও ডিজেলের ।। মারা গেলেন অ্যান্ডারসন
উত্তর সম্পাদকীয়

বৈরাগ্য-বাসনা

বৈরাগ্য-বাসনা

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আবুল বাশার

অর্থনীতি জিনিসটা বেশ প্যাঁচালো্ব আমাদের চিত্তের মেধাবী নীলিমায় চলে তার খতেন৷‌ স্কুল-কলেজে আমাকে কিছুকিঞ্চিৎ অর্থশাস্ত্র পড়াশুনো করতে হয়েছিল পাঠ্যবিষয় হিসেবে৷‌ অর্থনীতিতে অর্থ (ত্তপ্সুন্দ্বম্ভ) কাকে বলে, তার একটা চমৎকার সংজ্ঞা পড়া গেস‍্ল৷‌ হোয়াট ইজ মানি? বলা হয়েছিল, ত্তপ্সুন্দ্বম্ভ ন্ব্দ ব্ধড়্রব্ধ ভ্রড়্রব্ধ প্পপ্সুন্দ্বম্ভ স্তুপ্সন্দ্বব্দ (মানি ইজ দ্যাট হোয়াট মানি ডাজ)৷‌ কথাটা শুনতে ও বুঝতে আশ্চর্য সুন্দর ও রহস্যময়৷‌ ত্তপ্সুন্দ্বম্ভ-র ডাকনাম টাকা হলেও আসল নামটা (অর্থ) অত্যম্ত ব্যঞ্জনাপূর্ণ৷‌ যার পকেটে অর্থ নেই, তার জীবনটাও তো অর্থহীন৷‌ সংসারে পুরাতন মানুষরা বলতেন, ‘ত্তপ্সুন্দ্বম্ভ ন্ব্দ ব্ধড়ন্দ্ব ত্রন্দ্বন্তুপ্সুস্তু ণ্ডপ্সস্তু’ (মানি ইজ দ্য সেকেন্ড গড)৷‌ কারও কারও কাছে অর্থই ভগবান৷‌ ছেলেবেলায় দেখতাম, পাট-ব্যবসায়ী মাড়োয়ারির গদির দেওয়ালে লেখা থাকত, ‘শুভ লাভ’৷‌ সেদিক থেকে দেখতে গেলে নাফা-ই তো ঈশ্বর৷‌ অর্থনীতির ইতিহাসে মুনাফারূপী ট্টপ্তপ্পন্ন্ধড়ব্ধম্ভ (অলমাইটি = ঈশ্বর)-এর কথা লিখেছেন অর্থনীতিবিদরা৷‌ শরৎচন্দ্র পণ্ডিত ‘অর্থ’ নয়, ‘টাকা’ নিয়ে এক অতি চমৎকার হেঁয়ালি রচনা করেছিলেন৷‌ সেটা ছিল প্রশ্নের মধ্যেই জড়ানো উত্তরের মজা৷‌ যেমন, ‘পৃথিবীটা কার বশ!’ উত্তর হচ্ছে, ‘পৃথিবী টাকার বশ৷‌’

টাকার লোভ ব্যাপারটি লম্পটের নারী-কামনার চেয়েও লালসাপূর্ণ জিনিস৷‌ এই লালসার পঙ্কে হাবুডুবু খেতে অনেক মহাজনকেও দেখা যায়৷‌ পুরো ব্যাপারটি তো টাকারই খেলা এবং বস্তুত সেটাই ক্ষমতারও খেলা৷‌ বাদল সরকারের একটি নাটকে ‘অর্থ’ জিনিসটাকে দেখানো হয়েছিল পৃথিবীর কুৎসিততম ছবি হিসেবে৷‌ একটি বেশ বড় থালায় রাখা হয়েছিল পৃথিবীর নানা দেশের মুদ্রা এবং সেই থালাটি একটি টুলের ওপর এমন এক স্হানে রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করে প্রত্যেক দর্শককেই যেতে হব্বে সমাম্তরালভাবে দুটি দড়ি সেই পথে টাঙানো হয়েছিল, তার মধ্যবর্তী সরু প্যাসেজ অতিক্রম করে থানার কাছে পৌঁছতে হব্বে তারপর জগতের কুৎসিততম ছবি ওই মুদ্রা-দর্শন সেরে দর্শক তাঁর নিজ আসনে এসে নাটক দেখার জন্য বসবেন– এইভাবে প্রেক্ষাগৃহে নাটক শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় বাদল সরকারের থিয়েটার৷‌

বস্তুত আমরা অর্থ নিয়ে কী করি আর টাকা আমাদের দিয়ে কী করায়– তাই নিয়েই তো মানুষের গল্প৷‌ সাহিত্যিক বিমল মিত্র এই ‘টাকা’ নিয়েই গল্প-উপন্যাস লিখতে পছন্দ করতেন৷‌ তাঁর সাহিত্যিক দর্শন ছিল এরকম যে, টাকা আমাদের দিয়ে কী করায়, কতদূর অধঃপতনে নিয়ে যায় এই টাকা, টাকাই কত বড় প্রলোভন, সে কথাই বিমল মিত্র তাঁর গল্প-উপন্যাসে বলতেন৷‌

টাকা দিয়ে রতন টাটার সংস্হাসমূহ কী করে, সেই আলোচনার অবতারণা আমাদের উদ্দেশ্য নয়৷‌ একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পুঁজিপতি-উদ্যোগপতির টাকার ভূমিকা কী, সেই টাকা দিয়ে (বস্তুত উদ্যোগ দিয়ে) গরিব-প্রাম্তিক মানুষের বাস্তবিক কল্যাণ বা উপকার বা অগ্রগতি কতটা ঘটে, সে কথাও তুলছি না৷‌ আমরা বলছি না একথাও যে, দাতা মহসিনের টাকায় গরিব-মেধাবী ছাত্রের কতদূর অগ্রগতি-উন্নতি ঘটে৷‌ দেশের নেতা চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর আইনি পেশার বিপুল পরিমাণ রোজগার সমস্তই দেশের কাজে দান করে দিয়েছিলেন, এটাও তো টাকার প্রতি মানুষের এক আশ্চর্য আচরণ৷‌ কিংবা ধরুন, একজন নিতাম্ত দরিদ্র ‌ট্যাক্সিচালক যখন তাঁর ‌ট্যাক্সিতে ভুল করে কোনও প্যাসেঞ্জারের ফেলে যাওয়া ৫ লাখ টাকার বটুয়া টাকাসমেত ফেরত দেওয়ার জন্য ওই প্যাসেঞ্জারকে খুঁজে বের করেন এবং বটুয়া ফেরত দেন, তখন আমরা অবাক হয়ে ভাবি, টাকার প্রতি সামান্য একজন ‌ট্যাক্সিচালকের এ কেমন আচরণ! মজার ব্যাপার এটাই যে, ওই ড্রাইভার কিন্তু বটুয়ার টাকা গুনেগেঁথে দেখেন না অবধি, যাঁর টাকা তাঁকে ফেরত দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন৷‌ তৎসহ মনে রাখা চাই টাকা হাতে পেলে সেই টাকার কেমনতর ব্যবহার করার পর বিদ্যাসাগর মশাই স্বস্তি পেতেন্ব তাঁর রোজগারের টাকা কীভাবে ব্যয়িত হয়েছিল? ব্যাপার এই যে, সবই হচ্ছে টাকার গল্প৷‌

কোটি-কোটি টাকার গল্প৷‌ গল্প তো নয়৷‌ একে বলা হচ্ছে কেলেঙ্কারি৷‌ টাকা আমাদের দিয়ে কী করায় তার এক কুৎসিততম উদাহরণ সারদা-কেলেঙ্কারি৷‌ সেই কেলেঙ্কারিতে দাগ লেগে গেল এক চিত্রকর-শিল্পীর পবিত্র দাড়ি-গোঁফের কেতায়৷‌ ইনি এমন এক কাক-শিল্পী যাঁর গুমোরের শেষ নেই৷‌ ইনিই এই বঙ্গে এক মহৎ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন৷‌ পরিবর্তনের যে স্লোগান তার রচয়িতাই উনি৷‌ এই মানুষটি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা ব্যানার্জির বেশ ঘনিষ্ঠ বলেই মনে হয়েছে, কিন্তু তিনি যে সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেনেরও এত ঘনিষ্ঠ তা জানা ছিল না৷‌ এইরকম লোভী শিল্পী বাঙালির ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি৷‌

এই কাকেশ্বর (সংবাদপত্রে দেওয়া অভিধা) সুশীল-সমাজের যাকে বলে কলঙ্ক-চূড়ামণি– এই কাক-শিল্পী শিল্পী-সমাজের সমস্ত মর্যাদায় বিষ্ঠা লেপন করে সগর্বে ই ডি দপ্তরে এবং সি বি আই দপ্তরে হাজিরা দিচ্ছেন৷‌

কিন্তু বিচিত্র এই দেশ! এখানে কাকেশ্বরদের কোনও ধরনের ঘৃণা করা বিধেয় নয়৷‌ এঁকে যদি সি বি আই ছাড় দিয়ে চমৎকার একখানা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিয়ে তদম্ত গুটিয়ে ফেলে– তখন এই কাকেশ্বরকেই সংবাদ-মাধ্যমে মহৎ শিল্পী হিসেবে বরণ করে নেওয়া হবে৷‌ এঁকে নিয়ে রাজনৈতিক দলের চলতেও কোনও অসুবিধাই হবে না৷‌ তাঁকেই ফের করা হবে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের থিঙ্কট্যাঙ্কের মাতব্বর৷‌ এঁকে তখন হয়ত বঙ্গ-রত্ন বলে ভূষিত করা হবে৷‌ কারণ ইনি যথাসময়ে পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার ধূর্তবুদ্ধি রাখেন৷‌

সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সি বি আই চলছে, এই যা ভরসা৷‌ দেখা যাক দেবকৃপার ভড়কি ও ভ্যান্ডালা ব্যাপারে মহৎ দুর্নীতির মহাপুরুষের কী এমন সাজা হয়! আমরা আপাতত অন্য কথা বলি৷‌ কে শিল্পী? বাদল সরকার নাকি শুভাপ্রসন্ন? টাকাকে কে কেমন চোখে দেখেন, তারই তো পরিচয় ফুটে ওঠে শিল্পীর বিষয়-ভাবনায় এবং নিজ চরিত্রে৷‌ কাক যাঁর বিষয়বস্তু তাঁকে আমি শিল্পী বলব কেন? কবি বলেছিলেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’৷‌ দেবকৃপার ব্যাপারী কখনও শিল্পী হতে পারে না, চিত্রকর মমতা ব্যানার্জিকে বলি, আপনিই বলুন দিদি, পারে? শিল্পী হতে গেলে বৈরাগ্য-বাসনাও তো কিছুটা চাই৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
sangskriti || ghoroa || tv/cinema || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited