Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৬ শ্রাবণ ১৪২১ বুধবার ২৩ জুলাই ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
আধিকারিকদের তৃণমূলি হুমকি, বন্ধের মুখে ই সি এলের কোলিয়ারি ।। রাজ্য সতর্ক থাকলে এনসেফেলাইটিসে মৃত্যু কমত: সূর্য ।। তৃণমূল: পুর নির্বাচনে বি জে পি কোনও ফ্যা’র নয় ।। ৩ আগস্ট দিল্লি ও ১৭ আগস্ট সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী ।। প্রীতি: মুখে জ্বলম্ত সিগারেট ছুঁড়ে মেরেছিল নেস ।। রাষ্ট্রপতি ভবনের জাদুঘর অবারিত করছেন প্রণব ।। পাড়ুই-কাণ্ড: সি বি আই তদম্ত কেন নয় ।। ভর্তির দাবিতে প্রেসিডেন্সিতে অবস্হান আই সি-র ।। ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করবেন ভেঙে পড়া বিমানটির ব্ল্যাক ব‘ ।। সংসদের স্হায়ী কমিটি: রেলে দীনেশ, কে ডি পরিবহণ ও পর্যটনে ।। শ্যাম সেল: উল্টে এবার মানহানির মামলা ২ তৃণমূলির! ।। আজ শহরে কেশরীনাথ, কাল শপথ
উত্তর সম্পাদকীয়

ভয়ার্ত মানুষ যাবে কোথায়?

ভয়ার্ত মানুষ যাবে কোথায়?

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আবুল বাশার

অটলবিহারী বাজপেয়ী (ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী) সম্বন্ধে মুসলিমদের মনোভাব এখনও প্রসন্ন মনোভাব৷‌ কিছুটা হলেও এই মনোভারেরই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের লোকসভা ভোটে৷‌ সংখ্যালঘু ভোটের একাংশ পেয়েছে বি জে পি৷‌ ধর্মীয় মেরুকরণের যে রাজনীতি এই ভোট তার একটি ক্ষুদ্র প্রতিবাদ৷‌ যে-মুসলিম বি জে পি-কে ভোট দিয়েছে, সে মনে করে মোদিজি বাজপেয়ীজির সার্থক উত্তরসূরি ও অনুগামী৷‌ এই যে মনে করা, এটা, মানুষেরই (মুসলিম হলেও) স্বাভাবিক বুদ্ধির পরিচয়– সে মনে করেছে, অটলজির মতো মানুষ এবং বড় নেতা বি জে পি দলের মধ্যে রয়েছে, দলটা খারাপ না, চাইলে এই দলও হয়ত মুসলিমদের কল্যাণ করতে পারে, সংখ্যা গরিষ্ঠের কল্যাণের সঙ্গে সঙ্গে৷‌ গণতন্ত্রে এই বিশ্বাস বা আস্হার একটা দাম আছে৷‌

মোদিজি উন্নয়নের কথা বলেছেন ১০ বারের মধ্যে ৫ বার, জিনিসের দাম কমানোর কথা বলেছেন ১০ বারে ৪ বার আর হিন্দুত্বের কথা বলেছেন মাত্র ১ বার৷‌ এই হচ্ছে মোটামুটি দশের হিসেব৷‌ সুতরাং মোদিজি সংখ্যালঘু ভোটের একাংশ সুদিনের বার্তা দিয়েই বি জে পি-র থলিতে ভরে নিতে পেরেছেন৷‌ সংখ্যালঘু ভেবেছে, মোদিবাবু আর একজন অটলই হয়ত হবেন৷‌ এমনকি মোদিজি অটলজির চেয়েও বুঝিবা অধিক পারঙ্গম নেতা, কারণ তিনি বিকাশ-পুরুষ, এই তকমা তো অটলজির ছিল না৷‌ অতএব ভোট দাও৷‌

পশ্চিমবঙ্গের কথা ধরা যাক৷‌ লোকসভা ভোটের একেবারে মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মোদিজির যে উন্নয়নের তকমা, তার ওপর একটা জবরদস্ত তকমা চাপালেন, আর তা হচ্ছে, মোদিজি আদতে দাঙ্গার মুখ, শ্রীমতী ব্যানার্জির এতই তীব্রতার সঙ্গে মোদিজির এই অভীধা প্রচার করলেন যে, সংখ্যালঘু মানুষের মনে তার একটা প্রবল ধাক্কা লাগল৷‌ সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশ তিনি এইভাবে নিজের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হলেন৷‌ তবে মোদিজিকে ‘দাঙ্গার মুখ’ বলা গেল যে পরিপ্রেক্ষিতে, তা কি নিতাম্ত অহেতুক ছিল? একে অবশ্য যদি অপবাদ বলা হয়, তা হলেও ভাবতে হবে, এই অপবাদ দেওয়াটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে! এর কি সত্যিই কোনও বাস্তবভিত্তি নেই? ধরা যাক, এটি একটি মিথ্যা অপবাদ বা এটি অপবাদ মাত্র৷‌ তা হলে সেই অপবাদকে মুছে ফেলাই তো ভাল৷‌

ভারতীয় আদালত নরেন্দ্রভাইকে যথাযথ সেই সুযোগ দিয়েছে, কারণ গুজরাট দাঙ্গায় মোদিজির যে কোনও হাত ছিল তার প্রমাণ নেই৷‌ তা সত্ত্বেও সেই অপবাদ যাচ্ছে না কেন? উন্নয়ন মন্ত্র দ্বারা কি অপবাদ মুছে ফেলা যায়? যদি বলি, যায় না, তা হলে ভেবে দেখতে হবে কেন যায় না! যায় না এই জন্যে যে, মেরুকরণের সঙঘ-রাজনীতি এ ব্যাপারে ইচ্ছুক নয়্ব মোদিজির নামের সঙ্গে ওই বদনাম মেখে থাকলেই অশোক সিঙঘলদের সুবিধা৷‌ তাঁরা চান না বদনাম ঘুচুক৷‌ কিন্তু মোদিজির ইচ্ছেটা কী?

তিনি লোকসভা ভোটের প্রচারে এসেও বলেছিলেন, মুসলিমদের জন্য গুজরাটে যা করেছেন, যে-পার্সেন্টেজে চাকরি দিয়েছেন, বাংলায় তা হয়নি, এবং সত্যিই তা হয়নি৷‌ এ কথাগুলিকেও বাংলার মুসলমানদের এক বৃহদংশই বিশ্বাস করতে চাইছ্বে লোকসভার ভোটে তার সামান্য প্রতিফলন দেখা গেছে৷‌ এই অবস্হায় মুসলিমদের মনোভাব কী, ঝোঁক কোনদিকে, তা বোঝা কি নিতাম্ত কঠিন? বলা বাহুল্য, এই ঝোঁকের দিকে লক্ষ্য রেখেই বাংলার সাম্প্রতিক রাজনীতি এগোতে চাইছে৷‌ এ কথা আমাদের বুঝে নিতে হবে!

কিন্তু যদি সঙ্গ-রাজনীতি বি জে পি-কে বা সিঙঘলীয় উগ্র হিন্দুত্ব যদি ভা জ পা-কে গ্রস্ত করে নেয় তা হলে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল দলটারই সুবিধা হবে, মোদিজিকে দাঙ্গা-মোদি অপবাদ দিয়েই ভোটের ফায়দা তুলে নিতে পারবেন মমতা৷‌ সবটাই নির্ভর করছে সিঙঘলরা কী করছেন, তার ওপর৷‌ পুরো স্টিয়ারিং বি জে পি-র রাহুল সিংহ, তথাগত রায়, শমীক ভট্টাচার্য কিংবা বাবুল সুপ্রিয়র হাতে নেই৷‌ এঁরা আমার ধারণা, বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্মিলিত বাঙালির মানসিক ধাঁচা বা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বভাবকে বুঝে নিয়েই এগোতে চাইছেন৷‌ কারণ, বাংলা এবং গুজরাট যে জন-বিন্যাসের সূত্রেই বিশিষ্টভাবে আলাদা তা তাঁরা ভাল করেই বোঝেন৷‌ এবং ভোটের সহজ পাটিগণিতটা আমাদের সকলের জানিত বিষয় এবং তা হচ্ছে, এই যে, বাংলায় প্রতিটি চারজন ভোটারের একজন মুসলিম৷‌ এই কঠিন-কঠোর বাস্তবকে অবহেলা করা যায় না৷‌

গুজরাটে জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ মুসলিম৷‌ বাংলায় সেটা ২৭ শতাংশ৷‌ গুজরাটে দাঙ্গার ফলে মেরুকরণের রাজনীতি ভোটবাক্সে সফল হয়৷‌ বাংলায় ভোটের ক্ষেত্রে এই গুজরাট মডেল চলবে না৷‌ মাত্র দু’একটি পকেটে সফল হলেও তা সমগ্র রাজ্যে প্রচণ্ড ব্যর্থ হবে৷‌

শুধু জনবিন্যাসই কথা নয়৷‌ অন্য কথাও আছে৷‌ বাংলার রয়েছে এক বামপম্হী ঐতিহ্য৷‌ সেটা বাংলায় আজ কিছু দুর্বল হয়ে পড়েছে৷‌ কিন্তু তার সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে, তা নয়৷‌ এটা যে কোনও প্রাম্তিক শক্তিতে পর্যবসিত হয়েছে, তা-ও নয়৷‌ বাংলার প্রধান জীবনস্রোতে বামপম্হার অস্তিত্ব অনুভবযোগ্য একটা শক্তি৷‌ এই পম্হা যত দুর্বল হবে, ধর্মীয় মৌলবাদ তত শক্তিবৃদ্ধি করবে, ততই ধর্মীয় রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ মাথা তুলবে৷‌ সিঙঘলীয় উগ্র হিন্দুত্ব ততই হয়ে উঠবে সংলাপপ্রবণ ও আত্মপ্রত্যয়ী্ব দেশ ততই চরম মেরুকরণের পথে এগোব্বে দেশ গৃহযুদ্ধ ও দাঙ্গার বধ্যভূমিতে পর্যবসিত হবে৷‌ মোদিজির উন্নয়নমন্ত্র তাঁর আত্মিক বিলাপ ও মধু-বিষে মাখানো প্রলাপে ভেসে যাবে৷‌ আমেরিকা তখন ভারতকে আর পুঁছবে না৷‌ বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে নেবে৷‌ দাঙ্গার অমিত খচ্চা বিপজ্জনক ও ভয়াবহ্ব তাতে দেশ শেষাবধি কাঙাল হয়ে যায়৷‌

আজ বাংলায় তৃণমূল দলটা কথা শোনার জায়গায় নেই, দলটা হয়ে গেছে তাপস মালের কাছারি৷‌ মানুষকে মেরে-খেদিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে৷‌ এর পরিণামভাল হবে না৷‌ এই দলের সি পি এম-বিদ্বেষের নেশা এখনও ঘুচল না– এদিকে তৃণমূল দল তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেল৷‌ আদি তৃণমূল, শাসক তৃণমূল আর বিক্ষুব্ধ তৃণমূল৷‌ বিক্ষুব্ধের সংখ্যা অতি দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, তারা পালা করে করে বি জে পি-তে চলে যাচ্ছে৷‌ এই লক্ষণ একটা দলের ক্ষয়েরই লক্ষণ৷‌ মনে রাখতে হবে ক্ষমতা-কেন্দ্রের দিকে ভয়ার্ত মানুষ ছুটে যায়, কেন্দ্রে মোদিজি থাকায় বি জে পি-ও আজ ক্ষমতার কেন্দ্র, এই রাজ্যের বি জে পি-ও কিছু ক্ষমতা ধরে, তারা মোদিজির কিছু না কিছু দাক্ষিণ্য পাবেই৷‌ বিপন্ন মানুষ তার প্রবৃত্তির নির্দেশেই ক্ষমতার দিকে যাচ্ছে সাগর ঘোষ পুত্র হৃদয় ঘোষের মতো– অনুব্রত, মনিরুলরাই দলটাকে কাঙাল করে ছাড়বে আর বি জে পি এ রাজ্যে শক্তি বাড়াবে হৃদয়ের পথে৷‌ কিন্তু সিঙঘলীয় উগ্র হিন্দুত্ব এই বাংলায় বি জে পি-র উত্থানকে কোমর ভেঙে শুইয়ে দিতেও পারে৷‌ তার চেয়েও বড় কথা জিনিসের দাম কমানোর কথা মোদিজির, তিনি দেখছি গা টেনে নিচ্ছেন৷‌ তিনি কথা রাখলেন না৷‌ জিনিসের দাম কমানোর দায় চাপিয়ে দিলেন রাজ্যের ওপর৷‌ তা হলে গল্প কী দাঁড়াল মশাই? যদি দেখা যায় উন্নয়নটাও একটা কেতা (স্টাইল) মাত্র মোদিজির, তা হলে কী হবে সিঙঘলজি? আপনি তো জানেনই না, মুসলমান-সংখ্যালঘু ভা জ পা-কে ভোট দিয়েছে৷‌ আপনিই বামপম্হীদের খুব দ্রুত প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারেন দাঙ্গা-ফ্যাসাদ করে, জাতীয় রাজনীতির প্রাঙ্গণে৷‌ নাকি? হা অটলজি, কী হতে যাচ্ছে, দেখুন তো জি? দেখুন, আপনিই দেখুন!


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited