Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৯ বৈশাখ ১৪২১ বুধবার ২৩ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
সারদা-দুর্নীতি নজরে আসতেই ব্যবস্হা নিয়েছি: মমতা ।। রাজ্যের দোষেই পথে ১৮ লক্ষ: সোনিয়া ।। কত আশা! নাকি ভরসা কমিশনই?--প্রচেত গুপ্ত ।। সুষ্ঠু নির্বাচনের সব ওষুধ আমাদের জানা আছে: রাকেশ--অংশু চক্রবর্তী, রিনা ভট্টাচার্য ।। সারদায় সি বি আই? আজই রায় দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট--রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি ।। কেচ্ছার একরত্তি প্রকাশ পেতেই এত অসহিষুž মুখ্যমন্ত্রী! বিমান ।। নিরাপদ নন রাজনাথ,কথা তাই দিল্লি নিয়ে--দেবারুণ রায়, লক্ষ্নৌ ।। মনমোহনকে দুষলেন হতাশ কয়লামন্ত্রী--হারলেও ইউ পি এ ভাঙবে না: শারদ ।। সুশীল পাল হত্যা: যাবজ্জীবনে ৮, বাকিদের ৭ বছরের সাজা ।। মানিক: মানুষ প্রতিরোধ গড়লে তৃণমূল পালানোর পথ পাবে না ।। ৪ বছর পর কলকাতায় ৪০ ।। ইতালির গ্রামে রানীর বিয়ে
উত্তর সম্পাদকীয়

অভিজ্ঞতাই হোক শিক্ষক

অভিজ্ঞতাই হোক শিক্ষক

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

রমি গুপ্ত

আর ৫০০টি লোকসভা আসনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেরও নির্বাচন হচ্ছে৷‌ পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে বেশিরভাগ দল চাইছে নেতা নির্বাচন করতে আর কম হলেও কিছু দল চাইছে আগামী দিনে দেশ কোন রাস্তায় চলবে সেই নীতি নির্বাচন করতে, চাইছে এক বিকল্প পথের সন্ধান পেতে যাতে এই দেশের বেশিরভাগ মানুষের সমস্যার প্রকৃত সুরাহা হয়৷‌ এই বিকল্প পথের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে আমাদের একটা বিশেষ ভূমিকা স্মরণাতীতকাল থেকেই আছে৷‌ ইতিহাসের পাতায় ফিরে তাকালে দেখা যায় স্বাধীনতার পরের কয়েকটা পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গবাসী এমন এক অসহনীয় অবস্হার মধ্যে দিয়ে দিন গুজরান করেছিল, যা এতদিন পরে ভাবতে বসলেও শিউরে উঠতে হয়৷‌ মানুষের বেঁচে থাকার রোজকার লড়াই যেন কিছুদিনের জন্য সমস্ত বোধ-চিম্তা-ভাবনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল৷‌ সেই সময় দেশভাগ, আর দেশভাগের ফলস্বরূপ উদ্বাস্তুর বোঝা, সমস্ত পশ্চিমবঙ্গটাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল এক অম্তহীন খাদের ধারে৷‌ একদিকে ছিন্নমূল মানুষ, ভেঙে পড়া কৃষিব্যবস্হা, ন্যূনতম খাদ্য বণ্টনব্যবস্হা আর একদিকে একচোখা কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতা৷‌ এই অবস্হার ছাপ পড়ল পার্লামেন্টের প্রতিনিধি নির্বাচনে৷‌ দেখা গেল দিল্লির দরবারে এই হাহাকার পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেশিরভাগ অংশ৷‌ ছিন্নমূল মানুষগুলোকে ছড়িয়ে পড়তে হল আন্দামান থেকে দণ্ডকারণ্য পর্যম্ত৷‌ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একদিকে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার রোজকার লড়াই আর একদিকে শাসক-শ্রেণীর নিজেদের ভোটে জেতার সুবিধে অনুযায়ী অবস্হান নেওয়া চলতেই থাকল৷‌ আর এই দুই টানাপোড়েনের মাঝখানে পশ্চিমবঙ্গবাসীরা নিজেরাই নিজেদের নিস্তারের রাস্তা খুঁজে নিতে শুরু করল৷‌ বুঝতে শুরু করল দিল্লির দরবারে যাকে-তাকে নয়, নিজেদের সংগঠিত ভোট দিয়ে সেই সব মানুষকেই পাঠাতে হবে যারা তাদের সমস্যাটা সমস্যা বলে মনে করে৷‌ যারা এই অদৃশ্যপূর্ব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা খুঁজে বের করবে৷‌ যারা তাদের কথা জোর গলায় দিল্লির দরবারে তুলে ধরবে৷‌ তারা দেখল বেশ কিছু মানুষ চিরাচরিত শাসকের ভাষার বাইরে অন্য ভাষায় আম্তরিকতা নিয়ে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছে৷‌ ক্ষমতালিপ্সায় প্রায় আধাআধিভাবে কেটে দেওয়া প্রদেশটার পশ্চিমভাগে পড়ে থাকা আর নতুন করে জড়ো হওয়া গরিব লোকগুলোর কথা নিয়ে, গঙ্গার দুই ধারের শ্রমিকগুলোর কথা নিয়ে, রেললাইনের ধারে আর বনে-বাদাড়ে ঝুপড়ি বানিয়ে রাতকাটানো অগণিত ছিন্নমূল মানুষের কথা নিয়ে, ভূমিহীন চাষীগুলোর ফসলের দাবি নিয়ে এই মানুষগুলো সোচ্চারে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামছে, শাসকের লাঠি-গুলির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে কিন্তু লড়াই থেকে সরছে না৷‌ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুঝতে পারল, এই মানুষগুলো থেকেই পাঠাতে হবে দিল্লির দরবারে, না হলে এই প্রদেশটা বাঁচবে না, সমাধান হবে না তাদের সমস্যার৷‌ দেশের অগ্রগতির এই ভিন্ন পথের দিশারিরা তাদের চিম্তাভাবনা, মানুষের অধিকারের দাবি, প্রদেশের বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ জানাতে জানাতে গরিবগুর্বো মানুষগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে পৌঁছে গেল দিল্লির দরবারে৷‌ পার্লামেন্টের ভেতর তুলে ধরতে শুরু করল মানুষের দাবি৷‌ আর স্বাধীনতার শুরু থেকেই দক্ষিণপম্হায় বিশ্বাসী ভারতীয় শাসকদের ভাবতে বাধ্য করল নীতি বলে একটা বিষয় আছে৷‌ নেতার নির্বাচন নীতির ওপর দাঁড়িয়ে হওয়া উচিত এবং কাউকে সরকার চালাতে সমর্থন নির্ভর করা উচিত তার গৃহীত নীতির দিকে তাকিয়ে– তার মুখের দিকে বা পারিবারিক পরিচয়ের দিকে তাকিয়ে নয়৷‌ স্বাধীনতার আগে ও পরে ভারতবর্ষের একের পর এক ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে তাদেরকেই পথে বসিয়ে দিয়ে লোকসানে ডুবে যাচ্ছিল আর বারবার ধাক্কা খাচ্ছিল সদ্য স্বাধীন দেশটার অর্থনৈতিক ভিত্তি, থমকে যাচ্ছিল উন্নয়নের গতি৷‌ অর্থনীতির সেই ভয়ঙ্কর কঠিন সময়ে দিশাহীন শাসককে ভরসা দিল বিকল্প ভাবনার মানুষগুলো৷‌ আর সেই ভরসায় বলীয়ান হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে পেশ করলেন ‘Stray thoughts (n bank nationalisation‘ প্রস্তাবটি৷‌ অধিবেশনে তো প্রস্তাব গৃহীত হল৷‌ সরকার অর্ডিন্যান্স পাস করল৷‌ কিন্তু পার্লামেন্টে পেশ করার পর বিলে রূপাম্তরিত করার সময় যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থন দরকার ছিল তা জোগাল এই বিকল্প ভাবনার মানুষগুলো৷‌ সেই সময় তারা দল না দেখে নীতির ওপর সমর্থন জানাল, ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এল এক যুগাম্তকারী পরিবর্তন৷‌ ভারতের গরিব মানুষের পক্ষে নীতির প্রশ্নটাই গুরুত্ব পেল, নেতা নয়৷‌ আর সেদিনের এই সিদ্ধাম্ত যে কতখানি সঠিক ছিল তা আজ আবার প্রমাণিত হল নিকট অতীতের বিশ্বজোড়া আর্থিক মহা বিপর্যয়ের সময়৷‌

১৯৭১ এবং ১৯৭৩ সালে দু’দুবার কয়লা খনি জাতীয়করণের সময় এই জনপ্রতিনিধিরাই আবার নীতির ভিত্তিতে দেশ ও তার গরিব মানুষের স্বার্থে আবারও বাড়িয়ে দিল সহযোগিতার হাত৷‌ মুক্তিকামী বাংলাদেশের মানুষদের পক্ষে যখন আমাদের দেশের সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল, এই মানুষগুলোই পথে ও পার্লামেন্টের ভেতরে সোচ্চারে সমর্থন জানিয়ে দৃঢ় অবস্হান নিল সরকারের পক্ষে৷‌ এই অবস্হান শুধু যে দেশের বিদেশি নীতির ক্ষেত্রে দেশের সরকারকে সঠিক অবস্হান গ্রহণ করতে সাহায্য করল তাই নয়, এটা আসলে একইসঙ্গে সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের দাবিকেও শক্তিশালী করল৷‌ স্বাধীনতার অন্যতম এক ঘৃণ্য শর্ত হিসেবে সামম্তপ্রথার প্রতিভূ ‘রাজন্য ভাতা’ চেপে ছিল প্রতিটি গরিব ভারতবাসীর মাথায়৷‌ বিকল্প নীতির কথা বলা এই মানুষগুলো পার্লামেন্টের ভেতর শাসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল এই ঘৃণ্য প্রথার প্রতি, দাবি তুলল এই প্রথা বিলোপের৷‌ আর যখন দক্ষিণপম্হী শাসকের পক্ষ থেকে এই ভাতা বিলোপের জন্য ২৬তম সংবিধান সংশোধনের হাত ধরে ‘রাজন্য ভাতা বিলোপ বিল’ পার্লামেন্টে এল, তখন এই বিকল্প ভাবনার মানুষগুলো শাসকের মুখ না দেখে নীতি দেখে দুই হাত তুলে সমর্থন জানাল বিলটাকে৷‌ এরপর বহু পথ অতিক্রম করে এল ২০০৪ সাল৷‌ দেশের শাসনভার ধর্মান্ধদের হাতে যাওয়া আটকাতে উঠে এল ইউ পি এ-১ সরকারকে সমর্থনের প্রশ্ন৷‌ সমর্থনের সিদ্ধাম্তে দেশ আরেকবার ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়ার রাস্তায় যাওয়ার হাত থেকে বাঁচল৷‌ পাশাপাশি সমর্থনের প্রশ্নে উঠে এল দেশের মানুষের পক্ষে বিকল্প নীতির কতগুলো শর্ত, যেমন ১০০ দিনের কাজের অধিকারের কথা, তথ্য জানার অধিকারের কথা, দেশের আপামর জনগণের খাদ্য সুরক্ষার কথা, পার্লামেন্টে মহিলাদের এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের দাবি, ইত্যাদি ইত্যাদি৷‌ এই সমস্ত দাবি একত্রিত হয়ে তৈরি হল ন্যূনতম কর্মসূচি৷‌ সারা ভারতের মানুষের সামনে এসে দাঁড়াল এক বিকল্প পথের দিশা৷‌ পার্লামেন্টের ভেতর ৬১টি বিকল্প ভাবনার মানুষ তাদের সমর্থনের বিনিময়ে শাসক- শ্রেণীকে বাধ্য করল দেশের বেশিরভাগ গরিব মানুষের পক্ষে কতগুলো সিদ্ধাম্ত নিতে৷‌ এরপর ইউ পি এ-২ সরকারের সময়টা পুরোটাই দুর্নীতির পূতিগন্ধময় ইতিহাস৷‌ ভারতীয় পার্লামেন্টের ইতিহাসের ক্ষেত্রে এটা প্রমাণিত সত্য যে, এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ঠিক তখন, তখনই আলোকবর্তিকা দেখা গেছে, যখন বিকল্প ভাবনার মানুষগুলো বেশি বেশি করে পার্লামেন্টে উপস্হিত থেকেছে৷‌ ভারতীয় পার্লামেন্টের শুরুর দিন থেকে সর্বশক্তি নিয়ে তারা তাদের নীতিনির্ভর অবস্হানে অবিচল থেকেছে, শাসককে বাধ্য করেছে দেশের মানুষের কথা ভেবে সিদ্ধাম্ত নিতে৷‌ কোনও দামই পারেনি তাদের বাজারের পণ্য করে তুলতে৷‌ ইতিহাস থেকে আহরিত অভিজ্ঞতাই হোক আমাদের সব থেকে বড় শিক্ষক৷‌






bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited