Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ পৌষ ১৪২১ রবিবার ২১ ডিসেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর   আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--আছি, এটা বোঝানোই প্রথম ধাপ ।। ভারতীয়দের ‘মুখ’ রফিক--সুরজিৎ সেনগুপ্ত ।। দলকে মমতা: কলকাতা পুরভোটে বি জে পি-কে নিশ্চিহ্ন করতে হবে ।। কলকাতায় নয়, এবার ধর্না জেলায় ।। যাদবপুরের সমাবর্তন: বয়কট-স্ট্যাম্প মেরে দেওয়ার মম্তব্য প্রস্তাব ।। তৃণমূল, বি জে পি মিলে যাবে, সি পি এমও েতরি: গৌতম দেব ।। বুথ-ফেরত সমীক্ষায় ঝাড়খণ্ড বি জে পি-র, কাশ্মীর ত্রিশঙ্কু ।। সাগর দ্বীপের উন্নয়নে উচ্ছেদের আতঙ্কে আন্দোলনে মৎস্যজীবীরা ।। মিচেল জনসনের সুনামিতে ভারত ভেসে গেল--দেবাশিস দত্ত ।। সারদা সম্পত্তির তথ্য পেতে জেলে গিয়ে সুদীপ্তকে জেরা করবে ই ডি ।। মদন উডবার্ন ওয়ার্ডে ।। শপথ নিলেন মার্কিন দূত রিচার্ড রাহুল
নেপথ্য ভাষন

নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত

নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত

আছি, এটা বোঝানোই প্রথম ধাপ

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

২০০৯ লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত খারাপ ফল দেখেই বামফ্রন্ট নেতারা বুঝেছিলেন, পরিস্হিতি প্রতিকূল৷‌ তবু, সভায় মিছিলে উপস্হিতি দেখে, বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট পেয়ে আশা জেগেছিল, অম্তত ১৫০ আসন পেয়ে কোনওরকমে ক্ষমতায় থেকে যাবে বামফ্রন্ট৷‌ হাওয়া ততদিনে ঝড়ে পরিণত৷‌ আসন মাত্র ৬২৷‌ এত শোচনীয় বিপর্যয় স্তম্ভিত করে নেতাদের, হতাশ করে কর্মীদের৷‌

তারপর যা যা হওয়ার, হল৷‌ নতুন শাসক দলের হাতে আক্রাম্ত হতে হল নানা জায়গায়৷‌ দপ্তরে ভাঙচুর, আগুন৷‌ অনেক কর্মী বসে গেলেন, ভয়ে বা হতাশায়৷‌ বেনোজলের শাসক শিবিরে ভিড় করার কথা, তা-ই হল৷‌ হুহু করে বেরিয়ে গেল সেই জল৷‌

সি পি এম তথা বামফ্রন্ট নেতারা কয়েকটা কথা ভাবলেন৷‌ এক, আক্রমণ প্রতিহত করার মতো সংগঠন আর নেই৷‌ সাংগঠনিক ভিত্তি পুনরুদ্ধার করার আগে প্রত্যক্ষ আন্দোলনে যাওয়া সম্ভব নয়, উচিতও নয়৷‌ নিষ্ঠাবান সদস্য ও কর্মীদের অক্ষত রাখাই পেল অগ্রাধিকার৷‌ যুদ্ধে ফিরে আসতে হলে প্রকৃত যোদ্ধাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷‌

দুই, হতাশাটা এতই গভীর, যে, তা কাটানোর জন্য কিছু সময় চাই৷‌ ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার সূত্রে অনেকে ভুলেই গিয়েছিলেন, কোনও একদিন ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে৷‌ এত গভীর হতাশা দুটো উদ্দীপক বক্তৃতায় কাটানো যায় না৷‌ একটু একটু করে এগোতে হবে, ঘুরে দাঁড়ানোর পক্ষে৷‌

তিন, কোনও সন্দেহ থাকল না যে, মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বামফ্রন্টকে৷‌ কিছু হিসেব দেখানো যায়, কিছু অপপ্রচারের কথা বলা যায়, কিন্তু এ কথা কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না যে, ২০১১ বিধানসভা ভোটে জনরায়টা বামফ্রন্টের উদ্দেশে স্পষ্ট ছিল: যাও! এমন প্রত্যাখ্যানের পরদিনই নতুন সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামলে, মানুষ খুশি হতেন না৷‌ ভাবতেন, এরা তো নতুন সরকারকে সময়ই দিল না! সুতরাং, অপেক্ষা৷‌

তবু, নেতা ও সংগঠকরা চূড়াম্ত ভেঙে পড়েননি৷‌ আছে আদর্শগত শিক্ষা৷‌ মসৃণ সময়, সম্ভবত ছদ্মবেশী, পতনের বীজ পোঁতা থাকে সেখানেই৷‌ বিশ্বাস, বামপম্হা কখনও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে না৷‌ ক্ষমতায় না থাকলেও লাল পতাকা অদৃশ্য হয়ে যায় না৷‌

বাম নেতারা ভাবলেন, তৃণমূল সরকার প্রতিশ্রুতিমতো সবাইকে খুশি করতে পারবে না৷‌ বছর দুয়েকের মধ্যে ইস্যু আসবেই৷‌ ক্ষমতাসীন দলে দলাদলি থাকবে৷‌ লুটেপুটে খাওয়ার লোকেদের দেখে মানুষ প্রথমে হতাশ পরে ক্ষুব্ধ হবেন৷‌ বেনোজলের প্রস্হানে সংগঠন যথাযথ দিশা পাবে, আকারে দুর্বল, প্রকারে সবল৷‌

এবং, বামফ্রন্টবিরোধী জোটও থাকবে না৷‌ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভাঙল৷‌ মমতা জোটসঙ্গীদের দুর্বল করার অভিযান বন্ধ করেননি৷‌ শুধু কংগ্রেস নয়, মমতা অনেক বড় বামফ্রন্টবিরোধী জোট করেছিলেন৷‌ এস ইউ সি বেশিদিন তৃণমূলসঙ্গ উপভোগ করবে না, জানাই ছিল৷‌ তথাকথিত মাওবাদীরা কড়া শাসক মমতাকে দেখে স্তম্ভিত হলেন৷‌ বুঝলেন, রাজনীতির খেলায় হেরে গেছেন৷‌ মমতাঘনিষ্ঠ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও সরে গেছেন৷‌ কেউ সরলেন প্রতিষ্ঠানবিরোধী থাকার ভাবনায়৷‌ কেউ সরলেন উপেক্ষা পেয়ে৷‌

বামফ্রন্ট নেতারা ভেবেছেন, এমনই ঘটতে থাকবে এবং নতুন সরকারের বিকল্প হিসেবে সেই বাম সরকারকেই চাইবে জনগণ৷‌ যদি দুটো প্রধান শক্তি থাকে, এক শক্তির পতনে অন্য শক্তিটিই ফাঁক ভরাট করে৷‌ কংগ্রেস কিছু আসন পায় ও পাবে, কিন্তু বিকল্প হিসেবে থাকতে পারছে না৷‌ সুতরাং, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ক্ষয়ে বামফ্রন্টেরই সুবিধে৷‌ পাঁচটা বছর তো কম সময় নয়৷‌ সংগঠন গুছিয়ে, ২০১৬ সালে মাঠে নামলেই হবে৷‌

ভাবনায় বড় ভুল ছিল না৷‌ কিন্তু সব ভাবনাই পরিস্হিতিনির্ভর৷‌ পরিস্হিতিটা, ছবিটা পাল্টে গেল ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে৷‌ দার্জিলিং না হয় গুরুংয়ের উপহার, আসানসোলেও জিতল বি জে পি৷‌ ৬ থেকে এক লাফে ১৭ শতাংশ ভোটে পৌঁছে গেল নরেন্দ্র মোদির দল৷‌ দেশ জুড়ে মোদি-হাওয়া, রাজ্যে অপ্রত্যাশিত ভোট বৃদ্ধি, বি জে পি হইহই করে নেমে পড়ল এই বার্তা নিয়ে, যে, শোনো শোনো, আমরাই বিকল্প৷‌ বসিরহাট দক্ষিণে শমীক ভট্টাচার্যর জয় আরও উৎসাহ জোগাল৷‌ স্বয়ং অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ দখলের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন৷‌ জানেন, ২০১৬ সালে সরকার দখল সম্ভব নয়, কিন্তু দ্বিতীয় প্রধান দল হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখলেন৷‌ বিভিন্ন ইস্যুতে দেখা গেল, ঝাঁপিয়ে পড়ছে বি জে পি, বামপম্হীরা যেন দ্বিধায়৷‌

বি জে পি-র উত্থানে সি পি এম তথা বামফ্রন্ট বুঝল, তৃণমূল সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমা মানেই বামফ্রন্টের ফেরার পথ খুলে যাওয়া নয়৷‌ চাপা সাম্প্রদায়িক প্রচার খেলতে শুরু করেছে ঘরে ঘরে৷‌ ধুর, সি পি এম আর পারবে না, মমতাকে সরানোর জন্য বি জে পি-ই উপযুক্ত!

পথে নামল বামফ্রন্ট৷‌ কিছু ইস্যুতে ফ্রন্টের বাইরের বামপম্হীদের কাছে টানল৷‌ চিটফান্ড প্রতারিতদের আন্দোলনে আবদুল মান্নানের মতো কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব মানল৷‌ অসীম চ্যাটার্জি থেকে সুনন্দ সান্যাল, মান্নান থেকে সুজন, সকলেই পাশাপাশি হাঁটলেন৷‌ ১৭ বাম দলের মিছিল হল৷‌ বামফ্রন্টের মিছিল হল৷‌ সি পি এমের সভাও হতে থাকল৷‌

একটা কথা উঠছে৷‌ বামফ্রন্টের শক্তি পুনরুদ্ধার মানে তো তৃণমূলবিরোধী ভোট আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়া, তাতে ২০১৬ ভোটে তৃণমূলের সুবিধা৷‌ ভাগাভাগির জেরে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার নিশ্চয়তা৷‌ তো? যেনতেন প্রকারেণ পাঁচ বছরেই তৃণমূলকে সরানোর জন্য বি জে পি-র বৃদ্ধি অনুমোদন করা? তা তো হয় না৷‌ বামশক্তির পুনরুদ্ধার মানে আখেরে মমতারই সুদিন? তো? সেজন্য তো বামপম্হীরা ঘরে বসে থাকতে পারেন না৷‌ কার ভোট কে কাটবে, সে হিসেব অবাম্তর৷‌ বামপম্হার পতাকা হাতে রাখতে হবে, মহাকরণ-নবান্নই শেষ কথা হতে পারে না৷‌ ভোট চাইলে ভোট আসে না, সংগঠন শুদ্ধ ও শক্তিশালী হলে, জনসমর্থন পেলে ভোট আসে৷‌

বামপম্হীদের দেখাতে হবে, প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আমরা আছি, আমরা থাকব৷‌ সেটাই প্রথম ধাপ৷‌ এবং কে না জানে প্রথম ধাপটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || nepathya bhasan ||
khela || sunday || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited