Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ বৈশাখ ১৪২২ রবিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--নির্বেদবাবু ।। ফাঁকা মাঠেই গোল? ।। মানুষের একাংশ ভোট দিতে পারেনি: কমিশন--কাকলি মুখোপাধ্যায় ।। ইয়েচুরি না পিল্লাই?--দেবারুণ রায়, বিশাখাপত্তনম ।। ২০০০ বুথে পুনর্নির্বাচন না হলে ধর্মঘট: বামফ্রন্ট ।। পুরো নির্বাচনই বাতিল হোক: বি জে পি ।। আবার আলাদা রাজ্যের আন্দোলনে বংশীবদন--দেবব্রত দে সরকার ।। থমথমে শালিমার, বন্ধ কাজকর্ম--সি আই ডি চায় নিহতের পরিবার ।। রাহুল বসলেন কৃষকদের সঙ্গে--আজ রামলীলায় মস্ত সমাবেশ ।। ২৫ এপ্রিল আরও প্রতিরোধ দেখবে শাসক দল: সূর্যকাম্ত --ভোলানাথ ঘড়ই ।। মমতা: কিছু ছোট ঘটনা ঘটেছে ভোটে ।। ২৫ এপ্রিল তাপ তুঙ্গে
নেপথ্য ভাষন

নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত

নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত

নির্বেদবাবু

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

নির্বেদ রায়, আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে ছিল না কখনও, কিন্তু সুপরিচিতির কথা বলতে পারি৷‌ শিক্ষিত, মার্জিত, পড়ুয়া, তার্কিক হিসেবে আপনার জায়গা কে অস্বীকার করবে৷‌

পুরভোটের মুখে আপনার স্ত্রী মালা রায় তৃণমূলে গেলেন৷‌ কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে কংগ্রেস, ফের কংগ্রেস থেকে তৃণমূল৷‌ সাধারণ ধারণা, কাউন্সিলর থেকে যাওয়ার জন্যই তাঁর দলবদল৷‌ নিজের দাপটে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ২০১০ সালেও জিতেছেন, কিন্তু এবার কাজটা সহজ হত না৷‌ শাসক দলে নাম লিখিয়ে এখন একটা কথা অবধারিত বলা হয়, তৃণমূলে গেলে মানুষের কাজ আরও ভালভাবে করতে পারবেন৷‌ আমরা মালা রায়কে কোনও প্রশ্ন করব না৷‌

কথা আপনার সঙ্গে, আপনাকে নিয়ে৷‌ অধীর চৌধুরির জন্যই নাকি কংগ্রেস ছাড়লেন৷‌ প্রদেশ সভাপতি আপনার মতো অভিজ্ঞ, দক্ষদের গুরুত্ব দেন না, বৈঠকের কথাও জানান অন্য কাউকে দিয়ে৷‌ এমন সভাপতির সঙ্গে থাকা যায় না৷‌ নির্বেদবাবু, অধীরকে প্রদেশ সভাপতি করেছেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী৷‌ অনেক প্রবীণ নেতাই অসন্তুষ্ট৷‌ মুর্শিদাবাদের বাইরে সংগঠন দাঁড় করাতে অধীর যথেষ্ট মনোযোগ দেননি, এমনকী প্রতিবেশী জেলা মালদার আবু হাসেম চৌধুরিদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখেননি, কয়েকটি জেলায় নিজের মর্জিতে সভাপতি বসিয়েছেন, একা-একা চলতে গিয়ে শুধু প্রবীণ নেতাদের অসম্মান করেননি, দলকে আরও দুঃসময়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন৷‌ ধরা যাক, সব অভিযোগই সত্যি৷‌ উদাহরণ হিসেবে দুই নেতার কথা বলি৷‌ মানস ভুঁইয়া ও আবদুল মান্নান৷‌ সভাপতি হওয়ার আশা থাকলেও, হননি মানস৷‌ যথেষ্ট সক্রিয় থাকলেও উপেক্ষিত মান্নান৷‌ ওঁদেরও তো তাহলে কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল৷‌

অধীর চৌধুরির ওপর রাগ করে কী হবে? ক্ষোভ তো থাকা উচিত নিয়োগকর্তা ১০ জনপথের ওপর৷‌ কংগ্রেস ছাড়তে হলে কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপরই ক্ষোভ ও ক্ষোভের কারণ প্রকাশ করতে হয়৷‌ কে অধীর চৌধুরি, যাঁর জন্য কংগ্রেস ছেড়ে দিতে হবে? ধরা যাক, অধীরকে দু’মাস আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷‌ তাহলে কী করতেন? মালা রায় তৃণমূলে যেতেন না? আপনি?

কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যাওয়া আসলে এক বাড়িতেই এক ঘর থেকে আর এক ঘরে যাওয়া, অনেকে বলেন৷‌ কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে সমস্যাটা অন্য জায়গায়৷‌ এক সময়ে ছিলেন বটে তৃণমূল বিধায়ক, ভবিষ্যতে আবার হতে পারেন, কিন্তু গত কয়েক বছরে যেভাবে আক্রমণ করেছেন শাসক দলকে, তারপর এই দলবদলটাকে এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যাওয়া বলা যায় না৷‌ কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা বর্তমান পরিস্হিতিতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বলবেন, স্বাভাবিক৷‌ আপনার আক্রমণ তো স্বাভাবিক ছিল না৷‌ অতিরিক্ত ঝাঁঝ, কৌতুক, যুক্তিমালা সাজিয়ে-গুছিয়ে আপনি সন্ধের পর সন্ধেয় মমতাকে বিদ্ধ করেছেন৷‌ হাই টি আর পি৷‌ প্রত্যেকটা ইস্যুতে যা বলেছেন, তা আবার দেখালে-শোনালে মুশকিল৷‌ যে-সব বক্তব্য আক্রমণাত্মকভাবে পেশ করেছেন, তার পর তো শাসক দলে যাওয়ার কোনও পথ থাকার কথা নয়৷‌ শিক্ষিত তরুণরা রাজনীতিতে আসতে চাইছে না, অনুযোগ৷‌ যারা আসতে চায়, আসার কথা ভাবতে পারে, তারা আপনার অবস্হান দেখে ছিটকে দূরে সরে যাবে না? তথ্য ও যুক্তি দিয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতেন সন্ধের পর সন্ধেয়, তাহলে কি সেই বক্তব্যের ওপর আপনার বিশ্বাস ছিল না? পেশাদার বক্তার মতো বলে গেছেন?

প্রশ্ন, এত আক্রমণ করেছেন, তবু কেন আপনাকে নিলেন মমতা? যেদিন প্রথম একসঙ্গে মঞ্চে, নেত্রীকে আপনাকে নিয়ে বিশেষ আগ্রহী মনে হল না৷‌ বার্তা পরিষ্কার: এসেছেন বেশ করেছেন, আমার আনন্দ প্রকাশের কোনও কারণ নেই৷‌ মালা রায় এবং নির্বেদ রায় মিলে হয়ত একটা প্যাকেজ৷‌ মালা রায় দু’মাস আগেও তৃণমূল-চালিত পুরসভার কাজকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন৷‌ পথেও নেমেছেন৷‌ তিনি কাউন্সিলরের স্হানীয় সিংহাসন ধরে রাখার জন্য দল বদলেছেন৷‌ একই বাড়িতে থেকে মালার তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নির্বেদ গোলাগুলি চালালে গৃহশাম্তি হয়ত বিঘ্নিত হত৷‌

যে কথা বলছিলাম, মমতা আপনাকে নিলেন কেন? যতটুকু চিনেছি, প্রবল শত্রু কার্যত তাঁর পায়ে পড়লে, ক্ষমা করতে ভালবাসেন৷‌ হয়ত এই ডিগবাজি উপভোগও করেন৷‌ আপনি এখনও উপভোগ্য, তবে টেলিভিশন চ্যানেলে আর নয়৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || nepathya bhasan || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited