Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১১ মাঘ ১৪২১ সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বারাক! ডাক দিলেন নমো ।। ধর্মাম্তর, অর্ডিন্যান্সের সমালোচনা প্রণবের ।। পুরভোটে রিগিং হলে প্রতিরোধ হবে: নিরঞ্জন--গৌতম রায় ।। শোভন চ্যাটার্জির শ্যালকের রহস্যজনক মৃত্যু--গৌতম চক্রবর্তী ।। দল অনেক শুনেছে এবার তৃণমূল বলবে--দীপঙ্কর নন্দী ।। বাবুল বললেন, পুলিস নয়, দোষী প্রশাসনই! ।। ছাত্রীর আত্মহত্যা: স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলা রুজু ।। কুলতলিতে মহিলাকে বিবস্ত্র করে গাছে বেঁধে মারধর তৃণমূলি নেতার! ।। ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মান আদবানি, অমিতাভ বচ্চন, দিলীপকুমার... ।। সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার পদক-সম্মান ।। সাধারণতন্ত্র দিবসে কড়া নিরাপত্তা রাজ্যে ।। মমতার বাড়িতে কীর্তি আজাদ
খেলা

অবসরের আগে শচীনের বিশ্বকাপটা দরকার ছিল

ধোনি: নানারকম ছোট, বড় গল্প উঠে আসবে

বাংলার ক্রিকেটারদের আর কত বলব! সৌরভ

ডাবল হ্যাটট্রিক আমানুলের

এত তাড়াতাড়ি দ্রুততম শতরানের রেকর্ড ভাঙবে, কেউ ভাবেনি

‘মুদগাল রিপোর্টে দ্বিতীয় লোক ধোনি’

আজ পরীক্ষার রাস্তায় অসিরা

শিলটন: লক্ষ্য ৩ পয়েন্টই

এগোলেন লিয়েন্ডার

মিলারের ১৩০ কাজে এল না

ক্ষমা চেয়ে নিলেন রোনাল্ডো

দুর্দাম্ত প্রত্যাবর্তন পাঞ্জাব ওয়ারিয়র্সের

চ্যাম্পিয়ন সাইনা, কাশ্যপ

সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড

জিতল লাজং

আর্সেনাল, অ্যাটলেটিকো জয়ী

অবসরের আগে শচীনের বিশ্বকাপটা দরকার ছিল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

নিজে খেলেছেন ৪টি বিশ্বকাপ৷‌ সেগুলি নিয়ে তো বটেই, পরের ৬টি বিশ্বকাপ নিয়েও আই সি সি-র ওয়েব সাইটে লিখেছেন ভিভ রিচার্ডস৷‌



সেই ১৯৭৫ সালের কথা৷‌ প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হল৷‌ সেদিনের সেই বিশ্বকাপের থেকে আজকের প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ বদলে গেছে৷‌ আকাশ-পাতাল তফাত৷‌ তখন না ছিল রঙিন জামা, না ছিল সাদা বল, কালো সাইট স্ক্রিন৷‌ আমরা তখন ক্রিম রঙের জামা পরে খেলতাম৷‌ আমরা তখন দল হিসেবে তুমুল আত্মবিশ্বাসী৷‌ ক্লাইভ লয়েড, গর্ডন গ্রিনিজ, রয় ফ্রেডরিকস, আলভিন কালীচরণ, রোহন কানহাই, কে ছিল না৷‌ প্রত্যেকেরই কাউন্টি খেলার বিস্তর অভিজ্ঞতা৷‌ ফলে যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন তো ছিলই না, তার ওপর ওখানকার পরিবেশ সম্পর্কে আমরা প্রত্যেকে ওয়াকিবহাল ছিলাম৷‌

১৯৭৫ বিশ্বকাপে যদিও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল৷‌ ৯টি উইকেট পড়ে গিয়েছিল৷‌ সেখান থেকে ডেরেক মারে আর অ্যান্ডি রবার্টস আমাদের বাঁচিয়েছিল৷‌ আর একবার আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল৷‌ সেটা ফাইনালে৷‌ আমরা বড় রান তুললেও ওদের দুটো বড় পার্টনারশিপ আমাদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল৷‌ কিন্তু এর পর যা হয়েছিল, তা কখনও ভুলব না৷‌ অত বড় বড় তারকাদের মাঝে আমি তখন আনকোরা৷‌ পাঁচ-ছয়ের আগে নামার সুযোগ ছিল না৷‌ কিন্তু ছটফট করছিলাম, দলের জন্য কিছু করব না? ফাইনালে অ্যালান টার্নার, গ্রেগ চ্যাপেল আর ইয়ান চ্যাপেলকে রান আউট করেছিলাম৷‌

১৯৭৯৷‌ ততক্ষণে ব্যাটিংয়ে আমার আরও একটু নাম হয়েছে৷‌ সেবারও চেয়েছিলাম, অবদান রাখতে৷‌ কিন্তু আর রান আউট নয়, যার জোরে দলে ঢুকেছি, সেই ব্যাট হাতে কিছু করে দেখাতে চেয়েছিলাম৷‌ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের টপ-অর্ডার ব্যর্থ হয়েছিল৷‌ তার পর কলিস কিং এসে যা ব্যাটিং করেছিল, আমার ওপর থেকে পুরো চাপটা উবে গিয়েছিল৷‌ এরকম খুব বেশি হয়নি, আমি উইকেটে রয়েছি, আর ব্যাট হাতে অন্য কেউ আমাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে৷‌ কিন্তু কিং ঠিক সেটাই করেছিল৷‌ ওর মতো খেলার চেষ্টা করিনি, ওকে ছাপিয়েও যেতে চাইনি৷‌ শুধু উল্টোদিক থেকে ওকে সাপোর্ট করে গেছিলাম৷‌ ও যখন ৮৬ রান করে আউট হয়েছিল, তখন নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলাম৷‌ শেষ পর্যম্ত ১৩৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে ফিরেছিলাম৷‌ আমার ওই সেঞ্চুরি পুরোটাই কিংয়ের জন্য হয়েছিল৷‌

১৯৮৩৷‌ আমাদের সামনে পরপর তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল৷‌ কিন্তু সেবার আরও একটা দল ছিল৷‌ তখন একদিনের ক্রিকেটে ভারতকে কেউ চিনত না৷‌ কিন্তু কপিল দেব নামে একজন ক্যাপ্টেন ছিল৷‌ মনের মধ্যে কোনও স্বপ্ন থাকলে, তা পূরণ করা সম্ভব, এই ধারণাটা দলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিল৷‌ কপিলকে তাই আমি অসম্ভব শ্রদ্ধা করি৷‌ ফাইনালে ম্যাচ আমাদের হাতেই ছিল৷‌ কিন্তু যখন আমরা ব্যাট করতে নেমেছিলাম, একটু মেঘলা হয়ে গিয়েছিল লর্ডসের আকাশ৷‌ আর ওই পরিবেশে যে ধরনের বোলার দরকার, ভারতের ঠিক সেটাই ছিল৷‌ মদনলাল, বলবিন্দার সান্ধু, রজার বিনি এবং মহিন্দার অমরনাথ৷‌ হুক করতে গিয়ে আমি আউট হয়েছিলাম৷‌ কপিল ছাড়া ভারতীয় দলের আর কারও পক্ষে ওই ক্যাচটা নেওয়া সম্ভব ছিল না৷‌ ওটা থেকেই বুঝেছিলাম, কী তুমুল আত্মবিশ্বাস ওর৷‌ ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল৷‌ সেদিন রাতে ওদের সেলিব্রেশন আমিও কখনও ভুলব না৷‌ তবলা, ড্রাম, নাচ, সবকিছু হয়েছিল সেদিন হোটেলে৷‌ হবে না-ই বা কেন? একটা প্রতিযোগিতায় দু-দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারালে যে-কোনও দল ওরকম সেলিব্রেট করবে৷‌

১৯৮৭ বিশ্বকাপে আমি ক্যাপ্টেন৷‌ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৮১ রান করেছিলাম৷‌ কিন্তু সেমিফাইনালে উঠতে পারিনি বলে খুব খারাপ লেগেছিল৷‌ ক্যাপ্টেন হলেও তাই ওই বিশ্বকাপে বলার মতো আর কোনও ঘটনা নেই৷‌ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেলিম জাফর বারবার উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসছিল৷‌ কোর্টনি ওয়ালশ ওকে বলেওছিল, আবার এরকম করলে রান আউট করে দেবে৷‌ আমি ওয়ালশকে বলেছিলাম, সাবধান করে দাও, কিন্তু আউট কোরো না৷‌ কারণ আউট করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সঙ্গে একটা বদনাম লেগে যেত৷‌ ক্যাপ্টেন হিসেবে স্বচ্ছ ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি৷‌ ওয়ালশ ফেয়ার-প্লে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল৷‌ কিন্তু আমরা হেরে গিয়েছিলাম৷‌

এর পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতন শুরু হয়েছিল৷‌ ১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রথম রঙিন জামা, সাদা বল, ফ্লাড লাইট এল৷‌ অন্য দলগুলো তখন অনেক এগিয়ে গেছে৷‌ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে তখন আর অপ্রতিরোধ্য ছিল না, তার সব থেকে বড় প্রমাণ কেনিয়ার কাছে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে হার৷‌ ১৯৯৯ এবং ২০০৩ বিশ্বকাপেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাল খেলতে পারেনি৷‌ সুপার সিক্সেও পৌঁছতে পারেনি৷‌

২০০৭ সালে আমরা আয়োজনের দায়িত্বে৷‌ সেই প্রথমবার৷‌ আমি ছিলাম টুর্নামেন্টের অ্যাম্বাসাডর৷‌

২০১১ সালে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল৷‌ অন্য ফর্ম্যাটে খেলা হয়েছিল৷‌ কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে৷‌ নিজের দল হারলে খারাপ লাগে ঠিকই, কিন্তু গত বিশ্বকাপ নিয়ে আমার মধ্যে একটা অন্য আবেগ কাজ করেছিল৷‌ সেটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য৷‌ কারণ তখন শচীন তেন্ডুলকার অবসর নিয়ে চিম্তা-ভাবনা শুরু করে দিয়েছিল৷‌ শুধু ভারতীয় ক্রিকেটকে নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যে এতকিছু দিয়েছে, তার বিশ্বকাপ প্রাপ্য ছিল৷‌ ওরকম একজন ব্যাটসম্যানের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বকাপ দরকার ছিল৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Tripura ||
Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited