Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৩ চৈত্র ১৪২১ শনিবার ২৮ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  সংস্কৃতি  ঘরোয়া  পর্দা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
রানাঘাট গণধর্ষণ: সি বি আই তদম্ত ভার না নেওয়ায় বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী ।। গোপালই চক্রী, ডাকাতদের চিনিয়ে এনে ছিল--সব্যসাচী সরকার ।। চিটফান্ড সংস্হার দপ্তরে সি বি আই তল্লাশি ।। আলুর সঙ্কট: রাজ্যের লিখিত জবাব চাইল হাইকোর্ট ।। স্কুলে ঢুকে তাণ্ডব, ভাঙচুর ১২ বাস, তছনছ অফিসঘর ।। কড়াকড়ি কেন? স্কুলে আগুন পরীক্ষার্থীদের! ।। ফের জমি অর্ডিনান্স আনতে চলেছে সরকার ।। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬৯০ ফি‘ড ডিপোজিট ।। টসে হারাই নাকি বিপর্যয়ের প্রধান কারণ--দেবাশিস দত্ত, মেলবোর্ন ।। হোমওয়ার্ক করেনি ভারত--সম্বরণ ব্যানার্জি ।। বাজপেয়ীকে ভারতরত্ন সম্মান প্রদান ।। বেলগাছিয়ায় আজ মিছিলে বিমান বসু
খেলা

অনেক কিছু পেয়েওছি

টসে হারাই নাকি বিপর্যয়ের প্রধান কারণ

আমি একা ফ্যা’র নই: রন্টি

সাউদিকে স্লেজিং, পাল্টা জবাবে উত্তাপ

হোমওয়ার্ক করেনি ভারত

বড় ম্যাচে অভিষেক লাল-হলুদের শুভাশিস, রফিকের

প্রত্যয়ী বাগান

নর্ডির স্পেশাল ডার্বি, হিরো হতে চান না বোয়া

সঞ্জয় কাঁদুনি গাইতে নারাজ, বাগানকে ফেবারিট বললেন এলকো

লারার কথায় উপকৃত ফিঞ্চ

বোর্ডকে ধোনি: সামিদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা উচিত নয়

অনভ্যস্ত পরিবেশে কিউইরা

জোরে বোলিংয়ে আস্হা রাখছেন ক্রো

অস্ট্রেলিয়াকে থামাতে হলে বিশেষ কিছু করতে হবে

সানিয়া: অনুষ্কা মেয়ে বলেই দোষ দিতে হবে?

আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওয়াকারের

লারার একাদশে ভারতের ৩

পেলের ওষুধপত্র বদলানো দরকার: মারাদোনা

ব্রাজিলের জয়ে গোল নেইমারের

আবার হার

দুটো ভুলে হার

সাউথ ইস্টার্ন রেলের দাবা

ডেম্পো-ভারত এফ সি গোলশূন্য

অনেক কিছু পেয়েওছি

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

গোপাল বসু

এই ভারত-অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনাল ম্যাচটা দু’ভাবে দেখা যায়৷‌ ধরুন টাইম মেশিনে চড়ে পিছিয়ে গেলাম সেই সময়টায়, টেস্ট এবং ত্রিদেশীয় সিরিজের পর, তখন বিশ্বকাপ শুরু হয়নি৷‌ ওই সময় কেউ যদি ভবিষ্যদ্বাণী করত যে, এবারের বিশ্বকাপে ভারত সেমিফাইনালে খেলবে, আমরা কথাটা হেসে উড়িয়ে দিতাম৷‌ বা পাগলের প্রলাপ বলে তাঁর বাড়ির লোকদের পরামর্শ দিতাম এই বলে যে, ‘দেখুন এখনও সময় আছে৷‌ ওনার মাথার চিকিৎসা করান৷‌ হয়ত ঠিক হয়ে যাবে৷‌ না হলে দেরি হয়ে যেতে পারে৷‌’

তার পরের সময়টা, ২৬ মার্চ৷‌ সকালবেলা ঠিক সেমিফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে যখন ১২০ কোটি ভারতবাসী আশায় বুক বেঁধে বসে আছে এই ম্যাচটা জিতবে, ২৯ মার্চ মেলবোর্নে ফাইনাল খেলবে এবং আবার বিশ্বকাপ জিতবে৷‌ এই মাস দেড়েকের মধ্যে সেই একই ভারতীয় দল সারা দেশের মানসিকতা যে এমনভাবে পাল্টে দিতে পারে, তার জন্য প্রথমেই ধোনিদের আর সাপোর্ট স্টাফদের আমাদের আম্তরিক ধন্যবাদ প্রাপ্য৷‌ সত্যিই একটা অবিশ্বাস্য পরিবর্তন! ঠিক যেমনভাবে একটা কুৎসিত শুঁয়োপোকা সুন্দর প্রজাপতিতে পরিণত হয়৷‌

এবার প্রশ্ন, কেন হল সেমিফাইনালে এমন ছন্দপতন? প্রথমে দেখা যাক কী করে হল এমন উত্থান, যেখানে আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যম্ত সব দলকে অলআউট করে পর পর সাতটা ম্যাচ জিতলাম? প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর লুকিয়ে আছে৷‌ সাতটা দলকেই যখন অলআউট করেছি, মানেই তো আমাদের বোলাররা দারুণ বল করেছে৷‌ তার জন্য বোলাররা ছাড়াও পুরো কৃতিত্ব দাবি করতে পারে আমাদের বোলিং কোচ৷‌ স্ট্র্যাটেজি ঠিক হয় প্লেয়ারের ক্ষমতা দেখে৷‌ সে কী পারে আর পারে না, সেটা দেখে৷‌ রাতারাতি যখন আমাদের জোরে বোলাররা ইয়র্কার বা হরেক স্লোয়ার আয়ত্ত করতে পারবে না, তখন জোর দেওয়া হল পরবর্তী সেরা অপশনের ওপর৷‌ বোলিং করতে হবে ব্যাক অফ দ্য লেংথে ঠিক অফস্ট্যাম্পের বাইরে৷‌ সামি আর উমেশ যাদব ঠিক তাই করে গেল৷‌ এবং সফল হল৷‌ মোহিত শর্মা এক কথায় এই বিশ্বকাপের আবিষ্কার৷‌ বরাবরই ওর হাতে স্লোয়ার ছিল৷‌ যা এই বিশ্বকাপে ভীষণভাবে কার্যকরী হয়েছে৷‌ অশ্বিন মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল৷‌ বুঝতে পারছিল না কী করবে৷‌ বলটা ফ্লাইট করাবে না একটু টেনে টেনে করবে৷‌ অফস্পিনের ওপর জোর দেবে না ক্যারাম বলের ওপর? এখন বলটা আস্তে করছে৷‌ সুন্দর ফ্লাইটও করাচ্ছে৷‌ যার দরুন বলটা বাউন্স আর স্পিনও বেশি করছে৷‌ আর জোর দিচ্ছে অফস্পিনের ওপরেই৷‌ আপাতত মনে হচ্ছে ক্যারাম বলটাকে পেনশনে পাঠিয়েছে৷‌ সেমিফাইনালেও খুব ভাল বোলিং করল৷‌ অশ্বিন নিশ্চয়ই বড় প্রাপ্তি৷‌ সীমিত ওভারের ক্রিকেট এবং টেস্টেও৷‌ জাদেজার প্রথম দিকে চোট ছিল৷‌ ফিটনেস ফেরত পেলেও যেটা ওর দুর্ধর্ষ ফিল্ডিং দেখেই বোঝা গেছে৷‌ কিন্তু বোলিংয়ের ফর্ম তেমন ছিল না৷‌ এরপরে যে সব একদিনের সিরিজ খেলব আমরা তাতে অক্ষর প্যাটেলকে পরীক্ষা করে নিতে পারি৷‌ ছেলেটা মনে হয় দাঁড়িয়ে যাবে৷‌ ধোনি ক্যাপ্টেন্সি খুব ভাল করেছে৷‌ ধাওয়ান এখনও ধাঁধা রয়ে গেল! কী যে করবে বোঝা মুশকিল! প্রথমেই ওর একটা ক্যাচ পড়ল৷‌ এতদিনে নিশ্চয়ই ও জানে ৩০০-র ওপর রান তাড়া করতে গেলে প্রথম চার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একজনের সেঞ্চুরি দরকার, তারপরেও ওরকম একটা শট নিল! ওই শটটাকে ঝুঁকি নেওয়া বলে না৷‌ বলে অযথা ঝুঁকি৷‌ কারণ অস্ট্রেলিয়া তখন একটু হলেও ব্যাকফুটে৷‌ ভারতের রানরেট ছিল ওভার পিছু ৬৷‌ সব কিছু ঠিক যাচ্ছিল৷‌ রোহিত সামনের বলটা পা না বাড়িয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে খেলল৷‌ আগের বলটা বাউন্সার ছিল৷‌ ভাবল পরেরটাও হবে৷‌ বিরাটও বুঝবে যত ভালই ও পুল মারুক না কেন, ওই বাউন্সারটা ওর ছাড়া উচিত ছিল৷‌ যদিও আস্কিং রেট বলে বলে বেড়ে যাচ্ছিল, ধোনি দোটানায় ছিল, কখন থেকে চালাতে শুরু করবে৷‌ আর ও আমাদের সবার মতো জানত, যতক্ষণ ক্রিজে আছে ভারতীয় ক্ষীণতম আশা থাকলেও থাকতে পারে৷‌ কিন্তু ও আউট হলে সব শেষ৷‌ উল্টোদিকে আরেকটা ধোনি থাকলে হয়ত ব্যাপারটা সম্ভব ছিল৷‌ হ্যাঁ, আমাদের ব্যাটিংয়ের লেজটা বড়৷‌ তাই একজন অলরাউন্ডার চাই-ই চাই৷‌ আমাদের জোরে বোলাররা প্রথম দিকে ভাল বল করলেও পরের দিকে পারেনি৷‌ মানে স্মিথ করতে দেয়নি৷‌ স্মিথ একটা অতিমানবীয় ইনিংস খেলল যে ফিঞ্চ বল নষ্ট করে স্ট্রাগল করার বিলাসিতা দেখাতে পারল৷‌ অস্ট্রেলিয়ার স্কোর এক সময় দাঁড়িয়েছিল ১৯০৷‌১ উইকেটে৷‌ মনে হচ্ছিল ৩৫০ করবে৷‌ তারপর ভারতীয় বোলাররা পর পর ৬টা উইকেট তুলে নিল৷‌ ভারত ঘুরে দাঁড়াল৷‌ তখনও জেতার আশা দেখছিলাম৷‌ সব গন্ডগোল করে দিল ফকনার আর জনসন৷‌ ফকনারের ১২ বলে ২১ রান আর জনসনের ৯ বলে ২৭ অস্ট্রেলিয়ার স্কোর নিয়ে গেল ৩২৮-এ৷‌ জেতার আশা কমল৷‌ জনসনের ব্যাটে সাফল্য ওর বোলিংকে অনুপ্রাণিত করল৷‌ তুলে নিল আমাদের দুই সেরা ব্যাটসম্যান রোহিত আর বিরাটকে৷‌ এরপরও কি ভারতের জেতা সম্ভব ছিল? হয়ত ছিল, যদি না একজন বোলার থাকত, যার নাম মিচেল স্টার্ক৷‌ প্রায় সাড়ে ৬ ফুট লম্বা৷‌ এমনিতেই বল বুকের কাছে আসে আর তারপর বল রিভার্স সুইং করাতে আরম্ভ করল, তখন তো খেলাই দায়৷‌ এরপর আবার বলে বলে ইয়র্কার৷‌ মালিঙ্গা এবং গার্নারের আদর্শ উত্তরাধিকারী৷‌ অন্য একদিন কী হত জানি না, তবে ২৬ মার্চ, ২০১৫-তে আমরা যোগ্য দলের কাছেই হেরেছি৷‌ তবে এই সফর থেকে অনেক কিছু পেয়েওছি৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || khela || sangskriti ||
ghoroa || tv/cinema || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited