Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২১ শুক্রবার ২৮ নভেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
হিউজের লড়াই শেষ ।। প্রয়াত ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরি ।। বাবুলকে কটাক্ষমমতার: অন্ডালে ঝামেলা করছে বাইরের লোক ।। সি বি আই তো জানে আমি বাড়িতে আছি: মদন ।। আজ তৃণমূলের বুদ্ধিজীবীদের মিছিল ।। ৩০ নভেম্বর অনুমতি পেল না বি জে পি ।। ওড়িশায় সিল রোজভ্যালির ২৮০৭ অ্যাকাউন্ট, আটক ২৯৫ কোটি ।। এখন এস এম এসে ঢালাও সদস্য হলেও পরে কঠিন ঝাড়াই-বাছাই ।। উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবিতে আমরণ অনশন আন্দোলন মতুয়াদের ।। যেমন দল, তেমন সরকার, দিশা নেই কারও: বিমান ।। অবশেষে হাত মেলালেন মোদি-শরিফ ।। অমিত শাহর সভা ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে--অভিজিৎ বসাক
খেলা

চিয়ার আপ...!

ক্লিন বোল্ড হওয়ার মুখে শ্রীনি!

হিউজের লড়াই শেষ

টেকনিক ছেড়ে ব্যাটসম্যানেরা এখন পাওয়ারের পিছনে ছুটছে

অন্ধকার দিন, ভয়ঙ্কর দিন

পুনের মাঠ থেকে ৩ চাই হাবাসের

আমারও লেগেছিল, বেঁচে আছি: সৌরভ

৫ গোল খেয়ে বাগান করিমের মুখে, ক্ষুব্ধ সুভাষ

ত্রিমুখী লড়াই? ডালমিয়া এগিয়ে থাকবেন

কেউ খেলার মতো মানসিকতায় থাকবে না: গাভাসকার সিরিজ নিয়ে সন্দিহান

খেলা বাতিল এডিলেড, শারজায়

রাউলকে ছুঁলেন রোনাল্ডো

মেসি! আর হবে না: অঁরি

বাংলার রনজি দলে ফিরলেন শিবশঙ্কর আর রোহন

চেন্নাইনের দ্বিতীয় হার

এরকম ভাবেননি কন্ট্রা’র

পেলেকে সরানো হল স্পেশাল কেয়ার ইউনিটে

ঘুষ!

যোগার ৩ গোল

ভবানীপুরের জয়

চিয়ার আপ...!

‘বন্ধু, স্বাগত’, শোনার অপেক্ষায় অ্যাবট

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

আজকালের প্রতিবেদন: এক মুখ৷‌ অনেকগুলো ছবি৷‌ তিনটে তারিখ৷‌

মাথার ভেতর ফ্ল্যাশব্যাকের সুইচটা নাগাড়ে ধাক্কা মারছে৷‌ যতবার আঘাত, ততবার নতুন ছবি৷‌ কখনও ভেসে উঠছে এডিলেড, ওভাল৷‌ ১৭ অক্টোবর, ২০১১৷‌ শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ৷‌ মুখোমুখি সাউথ অস্ট্রেলিয়া-নিউ সাউথ ওয়েলস৷‌ খেলা শুরুর আগে এন এস ডব্লু-র ড্রেসিংরুমে ছিপছিপে চেহারার এক নবাগতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ক্যাপ৷‌ হাততালি দিয়ে ছেলেটাকে উজ্জীবিত করতে ব্যস্ত যখন বাকিরা, তখন সেই ভিড়ে হাসিখুশি এক মুখ৷‌ এমনিতে শাম্ত, স্হির৷‌ কিন্তু চোয়াল শক্ত৷‌ চোখ দুটো গভীর৷‌ সেই গভীর দিঘিতেই ফুটে উঠেছে মনের ভাষা, ‘বন্ধু, স্বাগত’৷‌

আবার আঘাত৷‌ এবার দ্বিতীয় ছবি৷‌ সজোরে আছড়ে পড়ল বাউন্সার৷‌ মুহূর্ত পেরনোর আগেই লুটিয়ে পড়ল শরীর৷‌ চোখ বন্ধ৷‌ ছুটে এসেছে অনেকে৷‌ হাত নেড়ে মেডিক্যাল টিম ডাকল কে যেন৷‌ ডাকাডাকি চলছে, মাটিতে পড়ে আছে যে তাঁকেও৷‌ কই সাড়া দিচ্ছে না তো? কেন? কী হল? ডাকা হয়েছে মেডিক্যাব৷‌ পৌঁছে গিয়েছে৷‌ না, তখনও সংজ্ঞাহীন৷‌ ওই অবস্হাতেই পাঁজাকোলা করে তোলা হল স্ট্রেচারে৷‌ হাত, পা– সবই অসাড়৷‌ এত কিছু চলছে, কিচ্ছু বুঝছেন না! কেন? অ্যাম্বুলেন্স কোনও প্রশ্নের জবাব না দিয়ে, অসাড় শরীরটাকে নিয়েই ছুটল হাসপাতালে৷‌ আতঙ্কের আবহকে আরও আতঙ্কিত করে গেল হর্নের শব্দ!

তৃতীয় আঘাত৷‌ তৃতীয় ছবি৷‌ হাসপাতালের গেট দিয়ে ঢোকার পর থেকেই হিম হিম ভাব৷‌ যত এগোনো যায়, ততই যেন মন, মস্তিষ্ক গ্রাস করে বসে৷‌ দূর থেকে দেখা যাচ্ছে কাচের ঘরটা৷‌ পর্দা একটুখানি ফাঁক করা৷‌ ওই একফালি জানলার কাছে পৌঁছনোর আগেই কে যেন টেনে ধরছে পা৷‌ কিছুতেই এগোনো যাচ্ছে না ওই এক কদম৷‌ তার পর, একরকম জোর করেই টেনে নিতে হল পা৷‌ এবারে একফালি জানলার একেবারে সামনে৷‌

চতুর্থ, পঞ্চম আঘাত৷‌ পরপর৷‌ সাদা কাপড়ে ঢাকা শরীর৷‌ মাথাটাও ঢাকা সাদা ব্যান্ডেজে৷‌ চোখ বন্ধ৷‌ মুখে, নাকে, ঠোঁটে, গলায়– নল লাগানো৷‌ ওই নলের জঙ্গল পেরিয়ে যেটুকু দেখা যাচ্ছে, তাতে যন্ত্রণার ছাপ নেই৷‌ বরং, যেন ঘুমিয়ে আছে৷‌ কিন্তু সেই হাসিটা কোথায়? সেই গভীর চোখ দুটোই বা কোথায়? দোরের বাইরে বন্ধু দাঁড়িয়ে দেখে, যে দিঘিতে ফুটে উঠবে, আবার মনের ভাষা, ‘বন্ধু, স্বাগত’৷‌

না, না, না৷‌ ফ্ল্যাশব্যাকের মুহুর্মুহু আঘাত আর সহ্য হচ্ছে না৷‌ সরে যাও, সরে যাও– চোখের সামনে থেকে সব ছবি৷‌ মুছে দাও অতীত৷‌ পারলে মুছে দাও বাস্তব৷‌ ডেসিবেলের সব মাত্রা ভেঙে চিৎকার করে বলতে চাইছে ছেলেটা৷‌ গলার কাছে দলা পাকিয়ে শব্দগুলো৷‌ কিন্তু বেরিয়ে আসছে না যন্ত্রণার লাভা৷‌ বিস্ফোরণ ঘটলে তবু কিছুটা শাম্তি হত৷‌ এ যে জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে মনের ভেতর৷‌ কেন এমন হল? ছেলেটা এখন কী করবে? লুকোবে? প্রকাশ্যেই থাকবে? হারিয়ে যাবে? নাকি নতুন করে তৈরি হবে আরও অস্বস্তি? অনেক অনেক প্রশ্ন! গত চব্বিশ, আটচল্লিশ, বাহাত্তর ঘণ্টা ধরে তাড়া করছে৷‌ বাইশ বছরের জীবনে এর আগে এত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়নি যে ছেলেটা৷‌ উল্টো করে বললে, সারা জীবনেও কি এত প্রশ্নের জবাব দেওয়া যায়? না, যায় না৷‌ তাই তো বারবার আঘাত৷‌ বারবার হোঁচট খাওয়া৷‌ ফ্ল্যাশব্যাকে৷‌ বাস্তবে৷‌ প্রতি মুহূর্তে৷‌ বিপক্ষের ক্রিকেটারকে আউট করতে চাওয়া কি অন্যায়? পেশাদারিত্ব দেখাতে গিয়ে বাউন্সার দিয়ে বসলে, সেটা কি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে ফেলে, কেন দিল, কেন মারল– এই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়বে? কেন সে সন্দেহের তালিকাভুক্ত হবে অন্যের চাহনিতে?

এ প্রশ্নগুলোও মাঝে-মধ্যে জাগছে ছেলেটার মনে৷‌ কিন্তু মুহূর্তে মিলিয়ে যাচ্ছে৷‌ গত প্রায় বাহাত্তর ঘণ্টায়, ছেলেটার দিকে প্রশ্ন উড়ে এসেছে যেমন অনেক, তেমনি কাঁধে হাত রেখে অনেকেই বলেছেন, ‘শক্ত হও৷‌’

কিন্তু পারছে না ছেলেটা৷‌ ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা পর, এস সি জি-তে পা রেখেছিল৷‌ ক্লাব কর্তারাই ডেকেছিলেন অভিশপ্ত ম্যাচের ক্রিকেটারদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য৷‌ কাউন্সেলিং? এর আগে শব্দটার সঙ্গে পরিচয় ছিল না এমন নয়৷‌ কিন্তু নিজেরও কাউন্সেলিং দরকার! বাইশের ছেলেটা ভাবেনি৷‌ ক্লাব কর্তারা অনেক করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন৷‌ সতীর্থরাও তো কেউ কেউ কাঁধে হাত রেখে বলেছে ‘চিয়ার আপ বাডি’৷‌ কিন্তু কই স্বাভাবিক তো হতে পারেনি সে? বুধবার ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত আড়াইটে৷‌ সেন্ট ভিনসেন্ট’স হাসপাতালে পৌঁছনোর পর, যখন ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দেখা হল, স্টিভ ওয়ার সঙ্গে৷‌ দু’এক কথায়, ‘চিয়ার আপ’ করার চেষ্টাটুকুই রাখলেন তিনি৷‌ নাথান লিঁয় এগিয়ে এসে দু’হাত বাড়িয়ে দিলেন৷‌ জড়িয়ে ধরলেন৷‌ উষ্ণ আলিঙ্গনেও সেই এক বার্তা, ‘ভেঙে পড়ো না৷‌’ কিন্তু পড়ব না বললেই বুঝি, পারা যায়? হাসাপাতালের কফিশপে গিয়ে বসার পরও আরও কয়েকজন সতীর্থ পাশে এসে দাঁড়ালেন৷‌ অস্ফুট স্বরে বলতে চাইলেন, ‘চিয়ার আপ’৷‌ কিন্তু না, আর পারা গেল না৷‌ খবর এল, লড়াই শেষ৷‌ ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে অসম যুদ্ধের৷‌ ছাব্বিশ বছরের জন্মদিনটার তিন দিন আগে৷‌ ছেলেটার ফর্সা গাল লাল৷‌ আরও লাল৷‌ দু’চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল৷‌ চেষ্টা করেও আর আবেগকে আগল পরানো গেল না৷‌

বারবার ঝাপসা হচ্ছে চোখ৷‌ যত মুছছে, ততই ঝাপসা হচ্ছে৷‌ বাইরের গেটটার দিকে ছুটল ছেলেটা৷‌ চোখের জল মুছতে মুছতেই৷‌ কালো রঙের ‘বেস-বল’ ক্যাপটা আরেকটু লম্বা হলে হয়ত ভাল হত৷‌ খানিকটা আড়াল খোঁজা যেত৷‌ কিন্তু কে দিচ্ছে তখন আড়াল? কেনই বা দেবে? তার আবেগকে লেন্সবন্দী করতে চাইছে তো গত বাহাত্তর ঘণ্টা ধরে বিশ্বের আলোকচিত্রীরা৷‌ কিন্তু পারেনি এতক্ষণ৷‌ পারল অবশেষে৷‌ পিছু পিছু কখন যেন ছুটে এসেছিলেন সাইমন কাটিচ৷‌ কাঁধে হাত রেখে একবার ঝাঁকিয়ে দিলেন৷‌ কিন্তু সেন অ্যাবটকে তখন যে মন থেকেই ঝাঁকিয়ে দিচ্ছেন, নাড়িয়ে দিচ্ছেন অন্য একজন৷‌ ফিলিপ হিউজ৷‌ কারও কোনও সাম্ত্বনায় এখন তার বুকের জ্বালা জুড়োবে না৷‌ ক্ষতের মলমও হবে না৷‌ অ্যাবট খুঁজছে, খুঁজেই চলেছে হিউজের মুখের সেই হাসি৷‌ পড়তে চাইছে হিউজের চোখের ভাষা, ‘স্বাগত, বন্ধু’৷‌ শুনতে চাইছে হিউজের স্বরে, ‘চিয়ার আপ বাডি’৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited