Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৪ ভাদ্র ১৪২১ বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
সারদা-কাণ্ডে গ্রেপ্তার ইস্টবেঙ্গল কর্তা--সব্যসাচী সরকার ।। ৭ মউ সই, আসছে ১৫০০ কোটির বিনিয়োগ --দীপঙ্কর নন্দী, সিঙ্গাপুর ।। পাড়ুই মামলাজ্ঞ ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার ভাবনা রাজ্যের ।। সুনিয়া: এস পি-কে সতর্ক করল রাজ্য ।। রাজীবের জন্মদিনে সোনিয়া: কংগ্রেস আবার ঘুরে দাঁড়াবে ।। রণক্ষেত্র গোলাঘাট, পুলিসের গুলিতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ১৪ ।। ধর্মতলায় রাতভর অবস্হান চলছে বামেদের ।। বরখাস্ত অবৈধ মন্টুরাম ফের মণীন্দ্রচন্দ্রেই ।। কাঁপছে পাকিস্তান, শরিফের বাড়িতে ঢুকে পড়ার হুমকি ইমরানের ।। সিঙ্গাপুরের বাঙালিদের বাংলায় ডাক মমতার ।। সুদীপ্ত সেন অসুস্হ ।। বেলিয়াতোড়ে সারদার সিমেন্ট কারখানায় সব লুট! দেখল ই ডি
খেলা

ওষুধ পাওয়া মহা মুশকিল

একটা মূর্খ কোচের খপ্পরে পড়ে দলটা ডুবছে বিদেশে: বয়কট

বোয়ার খেলা খুলছে, বাগান জিতে চলেছে

দেবব্রতর পাশে ক্লাব, আর্মান্দো-সুভাষ ‘দুঃখিত’

পর্দার পিছনে দাঁড়িয়ে কোচিং করাব না: শাস্ত্রী

কলকাতা, পাটিয়ালায় প্রস্তুতি সারবেন বাংলার চারকন্যা

মোহনবাগান জার্সিতে বোয়ার প্রথম গোল, তবু উচ্ছ্বাসহীন

বাংলার হয়ে রনজিতে নয়ন?

বড় জাতের ফুটবলার বার্তোস: আর্মান্দো

হারের ভিডিও দেখলেন মহমেডান ফুটবলাররা

রডরিগেজের গোলের পরও আটকে গেল রিয়েল মাদ্রিদ

বার্সা সব ট্রফি জিততে পারে: ইনিয়েস্তা

নেইমারকে দেখে শিখতে বললেন দুঙ্গা

গুরপ্রীত ধৈর্য ধরুক: সুব্রত

৫৫ বছর পর ভারতে জয়ী পাকিস্তান

গোষ্ঠ পালের নামে প্রতিযোগিতা?

সাকিনার বাড়িতে টিভি, আলমারি

তৃতীয় ডিভিশনে যাদবপুর অ্যাসোসিয়েশন

গৌতম গম্ভীর দশে এক!

ফুটবলের প্রতি শচীনের আবেগ! অবাক বিজয়ন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ রিচার্ডসন

ওষুধ পাওয়া মহা মুশকিল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

গোপাল বসু

এটা কোনওমতেই অস্বীকার করা যাবে না যে, ২০১৪-র ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজে সব ক্রিকেট পণ্ডিতই– সে ছোট, বড়, মাঝারি যা-ই হোক– কমবেশি হলেও বোকা বনেছে৷‌ অবশ্য একই সঙ্গে বলতে হবে, ক্রিকেটে বোকা হওয়াটা নতুন কিছু নয়৷‌ সেই প্রথম দিন থেকে হয়ে আসছে, পরবর্তীকালেও হবে৷‌ ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা না থাকলে ক্রিকেটের আর রইলটা কী! হ্যাঁ, এটা ঠিকই, ভাবতে পারিনি ভারত এই ভাবে হারবে৷‌ যে বলেছিল ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, সে-ও কিন্তু স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি যে, অনিশ্চয়তা এই পর্যায়ে যেতে পারে৷‌ আমরা এখনও হতভম্ব, হতবাক হয়ে আছি৷‌ কথায় আছে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে৷‌ সিরিজ তো বেশ কয়েকদিন শেষ হয়েছে৷‌ তাতে আমাদের বুদ্ধি বাড়ল কোথায়? এখনও কেন ভারত এইভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হারল এর কোনও উত্তর নেই৷‌ সব পণ্ডিত নিজেদের মতো করে হারার কারণ বলেছে৷‌ এবং ঠিকই বলেছে৷‌ রোগটা ধরা পড়েছে৷‌ রোগটা ধরা পড়লেই তো হল না, তাকে ওষুধ দিয়ে নির্মূল করতে হবে৷‌ এই ওষুধ বার করাটাই হল মহা মুশকিল৷‌ প্রায়-অসম্ভব৷‌ কথায় আছে, খড়ের গাদা থেকে ছুঁচ বের করাও প্রায় অসম্ভব৷‌ ভারতে ক্রিকেট রোগের ওষুধ পাওয়াটা এতটাই মুশকিল যে, এখানে খড়ের গাদাটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ছুঁচ তো পরের কথা৷‌ কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না৷‌ তাই ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থে খড়ের গাদা আর ছুঁচ দুটোই খুঁজে বের করতে হবে৷‌ তবে যদি পাওয়া যায় অমূল্য রতন৷‌ হ্যাঁ, সব বিশেষজ্ঞই বলেছে কোচ বদলের কথা৷‌ ঠিকই বলেছে৷‌ একেবারে পেরেকের মাথায় হাতুড়িটা মেরেছে৷‌ তবে কোচ কে হবে? ভারতীয় না বিদেশি? এমন তো নয় যে ভারতীয় কোচ আগে হয়নি৷‌ যেমন ওয়াদেকার, কপিল, মদনলাল, অংশুমান গায়কোয়াড়৷‌ এরা কেউই ভারতের বাইরে বিশেষ ভাল ফল করতে পারেনি৷‌ এটা মানতে কোনও বাধা নেই যে, একজন ক্রিকেট কোচের দাপট কোনও দিনই ফুটবল কোচের মতো হতে পারে না৷‌ টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াও ক্রিকেট কোচের জোরালো ব্যক্তিত্ব থাকা জরুরি৷‌ কোচের কথা ক্যাপ্টেন শুনতে বাধ্য নয়, কিন্তু কথাটাকে গুরুত্ব দিতে হবে৷‌ এবং দরকার মনে হলে ক্যাপ্টেনকে যেন কোচের বলার সাহস থাকে ‘আমার মনে হয়, তুমি এটা ভুল করছ’৷‌ এইবার যদি দেখা যায় যে, কোচ কয়েকবার ঠিক উপদেশ দিয়েছে, কোচের প্রতি ক্যাপ্টেনের শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে এবং তখনই ক্যাপ্টেন আর কোচের একটা ‘টিম’ হবে৷‌ তাই যে-ই পরবর্তী কোচ হোক, বিদেশি বা ভারতীয়, তার যেন এই গুণগুলো থাকে৷‌ ডানকান ফ্লেচারের মতো ইয়েসম্যান হলে চলবে না৷‌ কাগজে পড়লাম, বোর্ড ফ্লেচারের মাথায় শাস্ত্রীকে বসিয়েছে৷‌ এতে কতটুকু কী হবে, জানা নেই৷‌ তবে, বোর্ড যে সামান্য হলেও নড়েচড়ে বসেছে, তাতে অল্প আশার আলো দেখলাম৷‌ তার পর হল ডিসিপ্লিন৷‌ কোচের পাওয়ার না থাকলে প্লেয়ারদের ডিসিপ্লিন কম হতে বাধ্য৷‌ ডিসিপ্লিন ছাড়া সাফল্য আসা অসম্ভব৷‌ এটা সবক্ষেত্রেই সত্যি৷‌ তবে সেভাবে দেখতে গেলে ভারতীয় ক্রিকেটে ডিসিপ্লিনটা আসবে কোথা থেকে? আমাদের বোর্ড কর্তাদের দিকে তাকিয়ে কোনও লাভ নেই৷‌ এরা তো নিজেরাই কলঙ্কের পাঁকে হাবুডুবু খাচ্ছে৷‌ এরা গদি রাখতে এত ব্যস্ত যে খেলা আর খেলোয়াড়দের দিকে মন দেওয়ার সময়ই পায় না৷‌ ডিসিপ্লিনটা হল পিরামিডের মতো৷‌ ওপর থেকে নিচে নামে৷‌ ওপরেই যেটা নেই সেটা নিচে নামবে কী করে? এটা ঘটনা যে আমরা ভারতের বাইরে কোনও দিনই ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলিনি৷‌ তাই আমাদের অনেক অপবাদ শুনতে হয়৷‌ যেমন ব্যাড ট্যুরিস্ট, ভারতে বাঘ বাইরে ভেজা বেড়াল৷‌ এখানেই প্রশ্ন, এটা থেকে রেহাই কীভাবে? প্রথম কথা, আমরা কেন ভারতের বাইরে ব্যর্থ হই? কারণ ওদের ঘাসভরা শক্ত পিচে সিম, সুইং আর বাউন্সের মোকাবিলা করতে পারে না আমাদের ব্যাটসম্যানরা৷‌ এবং আমাদের স্পিনাররাও ভাল পিচে বল না করায় তাদের কার্যকারিতা হারায়৷‌ তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাদের পিচের চরিত্র পাল্টাতে হবে৷‌ আর এটার সঙ্গে কোনও মতেই সমঝোতা চলবে না৷‌ এতে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নতি হবে৷‌ সবুজ শক্ত পিচ দেখে বাচ্চা ছেলেরা জোরে বোলার হতে আরও বেশি উৎসাহিত হবে৷‌ ব্যাটসম্যানরা ক্রমাগত সিম, সুইং আর বাউন্সের বিরুদ্ধে খেলতে খেলতে নিজেদের টেকনিক উন্নত করবে৷‌ আর স্পিন বোলাররাও শিখবে ভাল পিচে কীভাবে ভাল বোলিং করতে হয়৷‌ আর এমন পিচ যে করা যায় না, এ সম্পর্কে কোনও অজুহাত কেউ শুনবে না৷‌ শারজায় মরুভূমির মাঝে যদি ক্রিকেট পিচ করা যায়, সব জায়গায় সব রকমের ক্রিকেট পিচ করা যায়৷‌ ক্রিকেট ইতিহাস ঘাঁটলেই বোঝা যাবে পৃথিবীর কোনও না কোনও দেশ কোনও না কোনও সময়ে ক্রিকেট দুনিয়াকে শাসন করেছে৷‌ কিন্তু কোনও দলই অস্ট্রেলিয়ার মতো এত বছর শাসন করেনি৷‌ কারণ হল, ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে ওরা আপস করে না৷‌ এমনকী আম্তর্জাতিক ক্রিকেটের থেকেও ঘরোয়া ক্রিকেট বেশি প্রাধান্য পায়৷‌ ওরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম৷‌ ওদের সিস্টেমটা এত ভাল যে ক্রমাগত ওদের ভাল প্লেয়ার তৈরি হয়৷‌ আমাদেরও এমন একটা সিস্টেম তৈরি করতে হবে৷‌ আমাদেরও যে ভাল প্লেয়ার হয় না, তা নয়৷‌ তবে সেটা সিস্টেমের জন্য নয়৷‌ আমাদের হল কোয়ান্টিটি প্রোডিউসিং কোয়ালিটি৷‌ এত সংখ্যক ছেলে ক্রিকেট খেলে যে, দু-একটা হীরের টুকরো পাওয়া যায়৷‌ যেমন গাভাসকার৷‌ মদনলাল আর কারসন ঘাউড়িকে খেলে কেমন করে রবার্টস-হোল্ডিং-মার্শাল-লিলিদের খেলল, কোনও বুদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না৷‌ দু-একটা হীরের টুকরো দিয়ে দু-একটা ম্যাচই জেতা যায়৷‌ ধারাবাহিকভাবে জেতা যায় না৷‌ তাই ঝাঁক ঝাঁক ভাল প্লেয়ার পেতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে হবে৷‌ হ্যাঁ, ওষুধ এগুলোই৷‌ শুধু জানলেই হবে না, করতেও হবে৷‌ তাই যত তাড়াতাড়ি বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা যায় ততই ভাল৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited