Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৩ শ্রাবণ ১৪২১ বুধবার ৩০ জুলাই ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
খুশির ইদ ।। রাস্তায় ‘রুপো’! লুটতে হুটোপুটি ।। তাপসের কুৎসিত মম্তব্যের বিরুদ্ধে সরব দলের সাংসদ মুমতাজম ।। কলকাতা পুরভোট: অবাঙালিদের আস্হা তৃণমূলিদের ।। এনসেফেলাইটিসে এবার মৃত্যু নার্সিংহোমে ।। শুভেন্দু-অখিল গোষ্ঠীর সঙঘর্ষে উত্তপ্ত তমলুক ।। অন্ধ্রের চাল বাংলাদেশ ঘুরে ত্রিপুরায়--তাপস দেব, আগরতলা ।। মার্কিনি পড়ুয়ারা এবার পড়বেন কলকাতায়--ওবামা-মনমোহন উদ্যোগের সাফল্য ।। রক্তাক্ত ইদ, খেলার মাঠে ইজরায়েলি বোমা, হত ৯ শিশু ।। বিদেশে ব্যবসা বাড়াতে ফেসবুকে কুমোরটুলি ।। উত্তরে নামী শিল্পীর ঢল ।। কড়া নিরাপত্তা, মুখ্যমন্ত্রী আজ পুরুলিয়ায়
খেলা

ফলোঅন ও হারের হুমকির মুখে ভারত

সোনা সুশীল, অমিত, ভিনেসের

মোহনবাগানকে ফেডারেশনের চিঠি বায়োডাটা চেয়ে পরীক্ষা নেবেন রব বার্নরা, আপত্তি নেই সুভাষের

বিলেতের ডায়েরি

পাঠ্যসূচিতে ১৯১১-র শিল্ড জয় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হবে

আগে তো প্রথম ইনিংস শেষ হোক: রাহানে

সামির বিশ্রাম চান সানি

নেইমার কে ভাবতে রাজি নন দুঙ্গা

আজ বাংলা বনাম বেঙ্গালুরু

দ্রুততম

ম্যা‘ গ্রুপ, আটঘরা নিউ টাউন চ্যাম্পিয়ন

শচীনকে নিয়ে বিতর্ক

স্কোর

সহজ জয়

ক্ষিপ্ত মেসি

তেভেজের বাবাকে অপহরণ

ফলোঅন ও হারের হুমকির মুখে ভারত

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবাশিস দত্ত, সাউদামটন

২৯ জুলাই– দু’টি প্রশ্ন ঝুলছে ভারতীয় ড্রেসিংরুমের দরজায়৷‌ এক, ফলোঅন বাঁচাতে পারবেন তাঁরা৷‌ দুই, ফলোঅন বাঁচালেও ম্যাচ কি বাঁচানো সম্ভব? টিম ইন্ডিয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় মাঠ ছাড়ল এই দু’টি প্রশ্নকে নিজেদের হ্যান্ড ব্যাগে নিঃশব্দে ঢুকিয়ে নিয়ে৷‌ ম্যাচ বাঁচানো পরের ব্যাপার, বুধবার সকালে ফলোঅনের লজ্জা থেকে বাঁচতে হলে, ধোনিদের করতে হবে আরও অম্তত ৪৭ রান৷‌ ৫০ রানে অপরাজিত থাকা ধোনি, আমাদের কলকাতার মহম্মদ সামিকে নিয়ে যে চেষ্টা করবেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷‌ তৃতীয় দিনের শেষেও ভারত থাকল কোণঠাসা হয়ে৷‌ ইংল্যান্ডের ৭ উইকেটে ৫৬৯ রানের জবাবে ভারতের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩২৩৷‌ ধীরে ধীরে ম্যাচে কিন্তু ইংল্যান্ডের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে৷‌ তেমন ভাল না খেলেও৷‌ জ্বলম্ত দমকা হাওয়া ছুটে আসেনি ইংরেজদের আক্রমণ থেকে৷‌ আকাশটা এফোঁড়-ওফোঁড় করে যাওয়ার মতে স্যুইংও বেরোয়নি অ্যালিস্টার কুকের বোলারদের হাত থেকে৷‌ ব্যাট-প্যাডের ফাঁক থেকে আগুনের স্রোত ধেয়ে এসে ভারতীয় মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের স্নায়ুগুলোকে পুড়িয়েও দিতে পারেনি৷‌ তবু, কেপে গেল ওজনদার ব্যাটিং লাইনআপ৷‌ লর্ডসের মতো প্রাণবম্ত বিপজ্জনক উইকেটে এমন ঘটলে না হয় বোঝা যেত৷‌ অ্যান্ডারসন ও ব্রড ছাড়া বাকি তিন বোলারকে গুরুত্ব দেওয়া অর্থহীন৷‌ তবু, ভারত তৃতীয় দিনের শেষে কেঁপেটেপে একসা৷‌ চা-পানের আগে বা পরে পরিস্হিতি বিশেষ পাল্টায়নি৷‌ নতুন বল নিলে কিছু ঘটবে, ভারতকে দ্রুত ফলোঅন করানো যাবে, এই পরিস্হিতিতে অধিনায়ক ধোনি, কখনও জাদেজা, কখনও ভুবনেশ্বর কুমারকে সঙ্গে নিয়ে সম্মান বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন৷‌ তবে, ইদের দুপুরে ভারতীয় সমর্থকদের, এলিস বোল জুড়ে ছিল শব্দহীন নিঃসঙ্গতা৷‌ সকালে ৪৩ মিনিটের মধ্যে চেতেশ্বর পুজারাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ড ফলোঅনের জাল বিছাতে শুরু করেছিল৷‌ কিন্তু ওই ফাঁস আটকানোর মতো বোলার থাকতে হবে তো! ঘুরেফিরে হয় ব্রড, না হয় অ্যান্ডারসন৷‌ ইংল্যান্ড অধিনায়ক সঙ্গত কারণেই অ্যান্ডারসনকে বেশি আক্রমণে রাখতে চাইছিলেন৷‌ ফলোঅন করাতে হবে না৷‌ কিন্তু, মুরোদ থাকা চাই তো! প্রথম ৪৬ ওভারের মধ্যে অ্যান্ডারসনকে হাত ঘোরাতে হয়েছিল ১৬ ওভার৷‌ ওয়ার্ন তো বলেই ফেললেন, ‘জি সি অ্যান্ডারসন না ভেঙে পড়ে! ফলোঅন করানো মানে ওকে দিয়েই বেশি বোলিং করাবে কুক!’ ইংল্যান্ড যেভাবেই হোক, তৃতীয় টেস্ট জিততে চাইছিল৷‌ ৭ উইকেটে ৫৬৯ রান তুলে ডিক্লেয়ার করার সময় ভাবা যায়নি, প্ল্যাঙ্কেটে অভাব এতটা অনুভব করবে৷‌ ঝুলিয়ে শেষ করে দিচ্ছেন এ টেস্টে সুযোগ পাওয়া দুই বোলার জর্জস এবং ওকস৷‌ এই দু’জনকে দিয়ে ২৬ ওভার বোলিং করাতে হল কুককে৷‌ কিন্তু ওঁরা সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি৷‌ ফলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিয়েই ইংরেজ আক্রমণে তীব্রতা আনার জন্য অধিনায়ক কুককে আনতে হচ্ছিল সেই অ্যান্ডারসন ও ব্রড জুটিকে৷‌ কিন্তু শরীর তো৷‌ ইংল্যান্ডের জন্য নিংড়ে দিতে দিতে, দুজনেই ক্রমশ নিঃস্ব হতে শুরু করেছেন৷‌ এটা ঘটনা, অ্যান্ডারসন যখনই এসেছেন, এমন ক্লাম্তিতে ভোগা সত্ত্বেও, মনে হয়েছে, কিন্তু একটা ঘটতে পারে৷‌ ওয়াসিম আক্রাম যেমন বলে গেলেন, ‘সাধে কি আর বথামের রেকর্ড ভেঙে অ্যান্ডারসন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি উইকেট তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো মঞ্চ তৈরি করেছে?’

ব্রডের বাউন্সারে কোনওরকমে মাথা, শরীর বাঁচিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি চেতেশ্বর পুজারা৷‌ ধনুকের মতো নিজেকে বেঁকিয়ে ফেললেন, ক্রমশ৷‌ ওই বাউন্সার শরীরের দিকে ধেয়ে আসতে আসতে পুজারার গ্লাভস ছুঁয়ে জমা হয়ে যায় নবাগত বাটলারের দস্তানায়৷‌ জীবনের প্রথম টেস্ট ক্যাচ৷‌ ৫২ বল খেলে ২৪ রান করলেন পুজারা৷‌ আবারও নিজের সেরা দক্ষতাকে ইলাস্টিকের মতো টেনে নিয়ে যাওয়ার পথে আচমকা ছন্দপতন ঘটল তাঁর৷‌ মুরলী বিজয় প্লেড অন হলেন, ব্রডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ইনসাইড এজ-এ লেগে উইকেটে আছড়ে পড়ল৷‌ বিস্তর সংখ্যায় বল ছাড়তে ছাড়তে, শেষে কিনা প্লেড ইন হলেন! পচা শামুকে পা কাটার মতো ব্যাপার৷‌ বিরাট কোহলি পারলেন না আবারও৷‌ ১, ৮, ২৫ ও ০-র পর এবার ৩৯! ১৮৮ মিনিট ক্রিজে থেকে নিজেকে যখন গুছিয়ে নিয়েছিলেন, তখন অ্যান্ডারসনের অনবদ্য লেগ কাটারে ব্যাট ছুঁইয়ে ফেললেন৷‌ ব্যাট লাগিয়ে দিতেই, বলা চলে গিয়েছিল স্লিপে কুকের হাতে৷‌ আবার মাঠ জুড়ে ফলোঅনের গন্ধে যখন ম ম করছিল, তখন আজিঙ্ক রাহানে-রোহিত শর্মা (২৮) জুটি যোগ করল ৭৪ রান৷‌ প্রথম ২ টেস্টে না খেলার কারণে শুরুতে নড়বড়ে মনে হলেও মানিয়ে নিয়েছিলেন৷‌ কিন্তু ‘ঢিলুরাম’ (রোহিতের নতুন ডাকনাম) হঠাৎ মঈন আলিকে স্টেপ আউট করতে গিয়ে, স্পিনের বিপক্ষে ৬ মারতে গিয়ে মিড অফে ব্রডের হাতে নিজেকে তুলে দিয়ে গেলেন৷‌ মঈন পেলেন ইদের উপহার!

কিন্তু, ভারত যে পড়ে গেল গাড্ডায়! যেভাবে, মাথা ঝাঁকিয়ে, হাঁটু মুড়ে হতাশা প্রকাশ করলেন, তাতে ছিল ভাল নাটকীয়তা৷‌ রাহানে লড়ছেন, ধোনিকে নিয়ে৷‌ কিন্তু মঈন আলিকে পুল মারতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলেন অজিঙ্ক (৫৪)৷‌ এই শটটা খুব ভাল মারতে পারেন৷‌ ১০টির মধ্যে ৯টি যাবে বাউন্ডারিতে৷‌ কিন্তু পুল করার আগে বল প্রত্যাশার বেশি লাফানোর কারণে ঠিক জায়গায় লাগেনি৷‌ পরিবর্ত ফিল্ডার শন টেরির ওই ক্যাচ ধরতে কোনও অসুবিধে হয়নি৷‌ এর পর জাদেজার (৩৮) সঙ্গে ধোনির জুটি তুলে আনল মূল্যবান ৫৮ রান৷‌ এমনকি ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে ধোনির জুটিও দিল ৩৮ রান৷‌ ফলো অন বাঁচানোর লড়াইয়েও লড়াকু ভূমিকা রেখে গেলেন ভারতের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা৷‌ অথচ কোহলি, রোহিতের মতো ব্যাটসম্যানরা ৩০ পেরোনোর পর নিজেদের উইকটে ছুঁড়ে দিয়ে এলেন অনাবশ্যকভাবে৷‌ এবং শেষের দিকেও, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙলেন সেই অ্যান্ডারসন এবং ব্রড. ভারত জিততে চাইছে বলে মনে হল না৷‌ বরং প্রথম তিন দিনে জয়কে তাড়া করার ব্যাপারে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখতে হবে৷‌


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited