Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৬ বৈশাখ ১৪২১ রবিবার ২০ এপ্রিল ২০১৪
Aajkaal 33
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর    পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--কাটাকুটির ‘কত’ কথা ।। সি বি আই নিয়ে আমাকে ভয় দেখাবেন না: মমতা--সুনীল চন্দ ও অভিজিৎ চৌধুরি ।। শ্রমিকরা বলবেন জঙ্গিপুর কার?--অরূপ বসু ।। মৌসমের পালে গনির হাওয়া--অমিতাভ সিরাজ, মালদা ।। সারদা, টেট কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে গেলেন রাহুল --অভিজিৎ চৌধুরি, স্নেহাশিস সৈয়দ ।। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের বিষয়ে সুদীপ্তকে জেরা করবে ই বি ।। ঘাম ঝরানো নেতার অম্তরেও পাগলু--অরুন্ধতী মুখার্জি ।। নিরপেক্ষভাবেই কাজ করতে হবে এস পি, ডি এম-দের নির্দেশ কমিশনের ।। আমেথিতে সোনিয়া: ইন্দিরার নীতি মেনেই রাহুলকে আপনাদের দিয়েছি ।। হুরিয়ত নেতা গিলানির কাছে মোদির দূত! অস্বীকার বি জে পি-র ।। মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিতেই বীরভূমে খুন: বিমান ।। কংগ্রেসের আসন বাড়ছে: অধীর
খেলা

ইস্টবেঙ্গল জিতল, ইউনাইটেডকে বাঁচালেন সুব্রত

লেনকে নামানো মাস্টারস্ট্রোক

নাইট নেতার সিদ্ধাম্তহীনতায় হারল দল!

সানিকে ক্ষতিপূরণ ৫ কোটি! আজ শ্রীনিকে কতটা চাপে ফেলা যাবে?

স্কোর

ধোনি: ২০০ তুললেই জিতব নাকি!

ইউনাইটেডকে কুর্নিশ সঞ্জয়ের

চ্যাম্পিয়ন মুম্বই আবার হারল

গুয়ারদিওলা বার্সাকে ইব্রার তুলোধোনা

দিন-রাতের টেস্ট চান না কে পি

দলের জয়ে কোস্তার গোল

বিশ্বকাপ মিস করছি না: নেইমার

অনুশীলন শুরু রোনাল্ডো, রুনির

সালগাঁওকার পয়েন্ট ফেরত চাইল

ফের ইংল্যান্ডের কোচ মুরস

মুম্বইয়ের নেটে অর্জুনের সঙ্গে বোলিং শচীনের

জকোভিচকে হারিয়ে ফাইনালে ফেডেরার

ইস্টবেঙ্গল জিতল, ইউনাইটেডকে বাঁচালেন সুব্রত

জেতাতে পারেন, বাঁচাতেও, তবু তিনি শাম্ত

বাবলু টেক্কা দিয়ে চলে গেল: সুভাষ

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অগ্নি পান্ডে

ইউনাইটেড ২ চার্চিল ০

(এরিক ২)

‘নেই রাজ্যের দেশের’ দল৷‌ কিছুই নেই৷‌ ছিল অদ্যম ইচ্ছে আর মনোবল৷‌ সঙ্গে অদ্ভুত একটা অম্তরিকতা৷‌

রাস্তার ঝুপরিতে রুটি, ঘুগনি খেয়ে মরশুম শুরু করা একটি দল৷‌ এবারের আই লিগ অবনমন বাঁচিয়ে ফেলল! দিনের পর দিন ফুটবলাররা টাকা পাননি৷‌ কারণ, স্পনসররা মুখ তুলে তাকায়নি৷‌ চিটফান্ডের জেরে গত মরশুমের স্পনসর হাত গুটিয়ে নিয়েছিল মরশুমের শুরু থেকেই৷‌

আলোকেশ কুণ্ডু, নবাব ভট্টাচার্যের মতো মুষ্টিমেয় কিছু কর্তা নিজেদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় উজাড় করে দল চালানোর চেষ্টা করেছেন৷‌ এমনকী এটা ঘটনা এক কর্তা তো নিজের মায়ের বন্ড পর্যম্ত বিক্রি করে ফুটবলারদের আর্থিক সাহায্য করেছেন৷‌ একটা সময়ে টাকার অভাবে দল ছেড়ে চলে গেছেন বিদেশি কোচ৷‌ এমনকী দলের সেরা স্ট্রাইকার রন্টি মার্টিনও আই লিগের মাঝপথে অন্য দলে নাম লিখিয়েছেন৷‌ সেই রকম অবস্হায় দলের হাল ধরেছিলেন এক বঙ্গসম্তান৷‌ অভিজ্ঞ, পোড়খাওয়া টিডি সুব্রত ভট্টাচার্য যখন দলের দায়িত্ব নেন, তখনও কোনও আশা ছিল না আই লিগে বেঁচে থাকার৷‌ কিন্তু তিনি চোয়াল শক্ত করে পড়েছিলেন৷‌ সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন একঝাঁক লড়াকু ফুটবলারকে৷‌ তিনি সুব্রত ভট্টাচার্য৷‌ দেখিয়ে দিলেন তিনি ‘শেষ’ হয়ে যাননি৷‌

ময়দানের বাবলু পারেন৷‌ বিনা পারিশ্রমিকে তিনিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন৷‌ একটি টাকাও নেননি৷‌ বরঞ্চ সামান্য চেষ্টা করেছেন একটা স্পনসর ধরে এনে৷‌ সত্যি চলতি মরশুমে বাংলার দল ইউনাইটেড স্পোর্টসের অবনমন বাঁচানো ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে৷‌ শনিবার গোয়ার মাটিতে চার্চিলের মতো দলকে হারিয়ে সুব্রত ভট্টাচার্যের দল শুধু নিজেদের অবনমন বাঁচাল (২৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট) না, দেখিয়ে দিল ‘এভাবেও পারা যায়’৷‌ দু’বার আই লিগ জয়ী কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য দেখিয়ে দিলেন তিনি যেমন আই লিগ জেতাতেও পারেন তেমনই আবার অবনমন থেকে বাঁচাতেও পারেন৷‌ তা সত্ত্বেও মোহনবাগানে ‘চিরকালের’ জন্য দরজা বন্ধ বাবুলর৷‌ এক দল দিশাহীন কর্মকর্তার জন্যই৷‌ বাগানে দরজা বন্ধ থাকলেও ইস্টবেঙ্গলও ভাবে না বাবলুর কথা৷‌ সেখানেই বা ট্রফির কী হাল? তারাও তো ভাবে না বাবলুর কথা৷‌ বিদেশি কোচেরদের দাপটে এখনও বাবলু যে মাথা উঁচু করে চলেছেন সেটাই কতজন বা পারেন৷‌

শনিবার চার্চিলের বিরুদ্ধে ‘বাবলু বাবুর’ দলের ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ৩৭ মিনিটে৷‌ সুভাষ ভৌমিকের দলের মাঝমাঠের স্তম্ভ শাবানা জঘন্য ফাউল করে বসলেন৷‌ কোনও দরকার ছিল না৷‌ ব্যস, রেফারি তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাতে বাধ্য হলেন৷‌ ম্যাচের শুরুতেই একটা হলুদ কার্ড দেখে ছিলেন শাবানা৷‌ দুটো হলুদ কার্ডের জন্য লাল কার্ড. শাবানাকে মাঠ ছাড়তে হল৷‌ ৩৭ মিনিটেই সুভাষের দল সুব্রতর দলের বিরুদ্ধে ১০ জন হয়ে গেল৷‌ মাঝামাঠে শাবানা যেভাবে বল ধরে খেলতেন তিনি মাঠ ছাড়ায় সেই বল ধরে খেলার ফুটবলার আর দেখতে পাওয়া গেল না৷‌ সেই সুযোগটাই কাজে লাগালেন সুব্রত ভট্টাচার্যের ফুটবলাররা৷‌ ম্যাচ শেষে ডাক্তারের সন্দেহ টাইফয়েডে আক্রাম্ত বাড়িতে বন্দী সুভাষ ভৌমিক বলেই ফেললেন আক্ষেপের সঙ্গে, ‘বাবলু আজ সব দিক দিয়ে টেক্কা দিয়ে চলে গেল৷‌ বোকার মতো ফুটবল খেললাম আমরা৷‌ সত্যি কিছু বলার নেই৷‌ বাবলু এতটুকু ধৈর্য হারায়নি৷‌ বুদ্ধি করে মাঝমাঠে লোক বাড়িয়েও নিল৷‌ সত্যি ওদের সবাইকে অভিনন্দন৷‌’

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে ডান দিক থেকে বল ধরে এগিয়ে যান ইউনাইটেড সাইডব্যাক সুখেন৷‌ মাপা ক্রস বক্সে সবার মাথা টপকে এরিক মুরান্ডার মাথায় পড়তেই চকিতে ড্রপ হেড. বল ড্রপ করে চার্চিল গোলের সেকেন্ড পোস্টের কোনা দিয়ে যেভাবে ঢুকল জালে তা কোনও গোলকিপারের বাঁচানো কঠিনতম কাজ ছিল (১)০-৷‌ মুহূর্তের মধ্যে যেন ম্যাজিক কাজ করে গেল ইউনাইটেড দলে৷‌ বারবার আক্রমণে উঠে এসে লালকমল, এরিক, ওয়াহিদরা চার্চিলকে জেরবার করে দিলেন৷‌ তবে প্রথমার্ধ থেকেই চার্চিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বাবলুর আরেক বঙ্গসম্তান৷‌ ইউনাইটেড গোলকিপার অভিজিৎ দাস৷‌ অসাধারণ ফুটবল খেললেন৷‌ যা সব সেভ করলেন তা মনে রাখার মতো৷‌ ইউনাইটেডের শেষ প্রহরীও ভরসা জোগালেন তাঁর সতীর্থদের৷‌ রক্ষণে বেলো, অনুপম অসাধারণ৷‌ অনেক দিন পরে লালকমল নিজের ছন্দে৷‌ এর মধ্যেই আবার ফিরতি বল নিয়ে চার্চিল বক্সে ঢুকে পড়লেন এরিক৷‌ বক্সের মাথা থেকে বাঁ পায়ে যে ইনসুইংটা রাখলেন সত্যি অনবদ্য (২)০-৷‌ দুটো গোলের পর মনে থাকবে সাইড লাইনে এরিকের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের নাচ৷‌

ভেবেছিলাম এমন দিনেই তো তিনি বলবেন৷‌ কিন্তু নিজেকে বদলে ফেলেছেন বাবলু৷‌ সুব্রত ভট্টাচার্য কৃতিত্ব দিলেন ফুটবলারদের৷‌ ‘ওরাই তো খেলল৷‌ ওরাই নিজেদের জাত চেনাল৷‌ মোহনবাগান ম্যাচেও আমাদের জেতা উচিত ছিল৷‌ হয়নি৷‌ কিন্তু গোয়ায় পারলাম৷‌ এই জয় গোটা ইউনাইটেড পরিবারের জয়৷‌ আমি শুধু ওদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি৷‌ সত্যি ফুটবলার, কর্তা এদের সবার আম্তরিকতা ভোলা যাবে না৷‌ বাংলার একটা দল এমন সঙ্কটে ছিল একটা চেষ্টা করেছিলাম দায়িত্ব নিয়ে৷‌ ছেলেরা দেখিয়ে লড়াই কাকে বলে৷‌ সব কৃতিত্ব ওদেরই প্রাপ্য৷‌ আমার কিছু আর বলার নেই৷‌’ সত্যি কি নিজেকে বদলে ফেলেছেন ‘ডাকাবুকো’ বাবলু? না, বদলাননি৷‌ মাঠে তো তার প্রমাণ পাওয়া গেল৷‌ যেভাবে খেলালেন তাঁর দলকে তা দেখে৷‌ দলের নেতা দীপক মণ্ডল চারটে হলুদ কার্ড দেখায় খেলতে পারেননি৷‌ আবেগতাড়িত দীপক বলছিলেন,‘উফ, কীভাবে সময় কাটিয়েছি তা শুধু আমরাই জানি৷‌ কিন্তু বিশ্বাস ছিল আমরা পারি৷‌ সেটাই ছেলেরা করে দেখাল৷‌’ আই লিগে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি শুধু নিয়মরক্ষার ম্যাচ হয়ে দাঁড়াল বাবলুর ছেলেদের কাছে৷‌






kolkata || bangla || bharat || editorial || post editorial || nepathya bhasan || khela ||
sunday || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited