Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১৪ আশ্বিন ১৪২১ বুধবার ১ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
আনন্দ প্রহর তুঙ্গে...--সব্যসাচী সরকার ।। ইস্টবেঙ্গলের পর এবার মোহনবাগানের অ্যাকাউন্ট সিল--অগ্নি পান্ডে ।। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও পুজো ভাসবে না বলছে আবহাওয়া দপ্তর--সুরজিৎ ঘোষ ।। মিরিটির বাড়ির পুজোয় অংশ নিয়েই দেশবাসীকে শারদ শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি--চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।। আজ ফের শুনানি, জামিন পেলেন না জয়ললিতা ।। কেন্দ্রে শিবসেনা থাকবে কি না মোদি ফিরলে কথা: উদ্ধব ।। তাপস পালের অশালীন মম্তব্য: তদম্তে নামল সি আই ডি ।। কয়লা কেলেঙ্কারি, অফিসারদের ক্লিনচিট ।। ‘কেম ছো?’ হোয়াইট হাউসে মোদিকে ওবামার আপ্যায়ন ।। বঙ্গের শারদোৎসবে কলিঙ্গ, কম্বোডিয়া, নাগাল্যান্ডের কারুবাসনা ।। পেট্রল কমছে লিটারে ৬৮ পয়সা ।। কলকাতাশ্রী ঘোষণা করলেন মহানাগরিক
খেলা

ইস্টবেঙ্গলের পর এবার মোহনবাগানের অ্যাকাউন্ট সিল

১২ বছর পর এশিয়াড হকি ফাইনালে ভারত

নারাইন কিন্তু ঝামেলায় ফেলে দিতে পারে: সৌরভ

এতদিনের যন্ত্রণার কথা মনে পড়তেই কেঁদেছি: সীমা

ব্রোঞ্জ: তীব্র বিতর্ক, সারিতার মতে চুরি!

বিকাশের রুপো, টিন্টু ফাইনালে, আশায় হতাশা

ক্যাসিয়াসের পাশে রবার্তো কার্লোস

ইস্টবেঙ্গলে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার মিলান সুসাক

ভারতীয় ফুটবল! ধারণা নেই প্রদানির

সেমিফাইনাল জিতবেন, আত্মবিশ্বাসী উথাপ্পা

ডোপ! সোনা কাড়া হল

চেন্নাই শেষ চারে

টেস্টে পারবেন, আশায় গেইল

ইস্টবেঙ্গলের পর এবার মোহনবাগানের অ্যাকাউন্ট সিল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

অগ্নি পান্ডে

ময়দানে এত বড় ধাক্কা এর আগে দেখা যায়নি৷‌ কলকাতা ময়দান তো বটেই, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসেও আগে এমনটা দেখা যায়নি৷‌ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ময়দানের দুই বড় ক্লাবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ জারি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট৷‌

সারদা-কাণ্ডের তদম্তে নামার পর ই ডি কর্তারা ময়দানের চারটি ক্লাবকে তলব করেছিল হিসেব দেখানোর জন্য৷‌ সেইমতো দুই বড় প্রধানের কর্তারা একাধিকবার ই ডি দপ্তরে গিয়ে হাজিরা দিয়ে এসেছিলেন৷‌ কিন্তু পঞ্চমীর রাত ও ষষ্ঠীর দুপুরে পরপর ই ডি-র তরফে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কথা জানিয়ে দেওয়া হল৷‌ ই ডি-র চিঠি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই ক্লাবের ব্যাঙ্কে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷‌ ইতিমধ্যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের দমদম শাখা ও টালিগঞ্জ শাখা ক্লাবকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে৷‌ মোহনবাগানের যে অ্যাকাউন্টে ইউ বি-র টাকা থাকে, সেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে ই ডি-র তরফ থেকে৷‌ এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবারই এক লিখিত আবেদন পাঠানো হল ই ডি-র কাছে ইস্টবেঙ্গলের তরফে৷‌ গোটা বিষয়টা আরও একবার যেন বিবেচনা করা হয়৷‌ বাগান কর্তারা নিজেদের মধ্যে সপ্তমীর দিন মিটিংয়ে বসছেন বলে জানা গেছে৷‌ ইস্টবেঙ্গলও একই পথে হাঁটতে চলেছে৷‌

ময়দানের দুই বড় ক্লাবেরই স্পনসর ইউ বি গ্রুপ৷‌ কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল ও ম্যাকডাওয়েল মোহনবাগানের যে কোম্পানি অ্যাকাউন্ট আছে, সেগুলোই বন্ধ করার আদেশ ই ডি-র৷‌ কারণ, ওই অ্যাকাউন্টে ৭৫ শতাংশ টাকা প্রধান স্পনসর ইউ বি-র হলেও, বাকি ২৫ শতাংশ টাকা ক্লাব দুটির৷‌ ই ডি সূত্রে খবর, সেই টাকার মধ্যেই সারদার কয়েক কোটি টাকা রয়েছে৷‌ সেই কারণে এমন সিদ্ধাম্ত৷‌ ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের পাশাপাশি কালীঘাট ও ভবানীপুরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্কগুলোকে৷‌ এই চারটি ক্লাবেরই সহ-স্পনসর ছিল সারদা, বিভিন্ন সময়ে৷‌ সারদা তদম্তে সি বি আই এবং ই ডি নামার পর ময়দানের এই চারটি ক্লাবকে তদম্তের জালে নিয়ে আসা হয়৷‌ বারবার দুই প্রধানের কর্তারা গিয়ে দেখা করেন ই ডি কর্তাদের সঙ্গে৷‌ নানান কাগজপত্রও দিয়ে আসেন বলে দাবি ক্লাবগুলোর৷‌ কিন্তু তার পর হঠাৎ কেন ই ডি এভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল, তা বুঝতে পারছে না ক্লাবগুলো৷‌ পেছনে ‘চক্রাম্তের’ কথা বলছেন কর্তারা৷‌

মাথায় হাত পড়ে গেছে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের৷‌ যে দুটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ এসেছে, সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ক্লাব ফুটবলারদের মাইনে দেয়৷‌ এমনকী মালিদেরও মাইনে দেওয়া হয়৷‌ সবচেয়ে বড় অ্যাকাউন্ট৷‌ সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ফলে ফুটবলারদের কীভাবে মাইনে দেওয়া হবে তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে মিটিংয়ে বসেন ক্লাব কর্তারা৷‌ ষষ্ঠীর দুপুরে লাল-হলুদ সচিব কল্যাণ মজুমদার, সহ-সচিব শাম্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত, কার্যকরী সমিতির সদস্য ঋত্বিক দাস, কোষাধ্যক্ষ দেবু সমাদ্দার ও রাজা গুহরা জরুরি মিটিংয়ে বসেন৷‌ ইস্টবেঙ্গল সচিব কল্যাণ মজুমদার জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই একটি লিখিত আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে ই ডি-কে৷‌ যেখানে বলা হয়েছে বিষয়টি আবার পুনর্বিবেচনা করার জন্য৷‌ সচিব কল্যাণ মজুমদারের বক্তব্য হল, ‘আমাদের আবেদন করা ছাড়া এই মুহূর্তে কোনও উপায় নেই৷‌ সত্যি, বারবার আমাদের যাওয়ার পরও ই ডি কেন এমন সিদ্ধাম্ত নিল তা বুঝতে পারছি না৷‌ আমরা তদম্তে কোথাও অসহযোগিতা করিনি৷‌ সব সময় সাহায্য করেছি৷‌ এখন উৎসবের সময়৷‌ আগামী কাল থেকে দীর্ঘ ছুটি৷‌ জানি না আমরা কোথা থেকে কী করব৷‌ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷‌ কোথা থেকে এবার আমরা ফুটবলারদের টাকা দেব? আমরা আরও আতঙ্কিত হতাম যদি সামনেই কোনও খেলা থাকত৷‌ তখনই ফুটবলারদের টাকা দিতে হত৷‌ সেটা না পারলে তার প্রভাব ম্যাচে পড়তে বাধ্য৷‌’ ই ডি-কে লেখা চিঠিতে ইস্টবেঙ্গল জানিয়েছে, ক্লাব কোনও বাণিজ্যিক সংগঠন নয়৷‌ প্রায় ১০০ বছরের একটা সামাজিক সংগঠন৷‌ সুতরাং এটা বিবেচনা করে দেখা উচিত৷‌ লাল-হলুদ কর্তারা চিম্তিত বিদেশি ফুটবলারদের মাইনে দেওয়া নিয়েই৷‌ ‘আমরা জানি না বিদেশিদের কীভাবে মাইনে দেব৷‌ বিদেশিরা টাকা না পেলে একবার যদি ফিফায় নালিশ করে, তা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে৷‌ ভারতীয় ফুটবলের বদনাম হবে৷‌ আবেদনপত্রে আমরা ই ডি ডিরেক্টরের কাছে সময় চেয়েছি৷‌ উনি যদি সময় দেন তা হলে তাঁর সঙ্গে আমরা গিয়ে সরাসরি কথা বলব৷‌’ ইস্টবেঙ্গল সচিব সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন যাতে ডিফল্টার না হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল৷‌ ‘দয়া করে আমাদের ডিফল্টার করবেন না৷‌ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের একটা সুনাম আছে৷‌ আমাদের ডিফল্টার করতে দেব না৷‌ যেভাবে হোক খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলব৷‌’ তার পরেই বলে ওঠেন ইস্টবেঙ্গল সচিব যে, ‘কোনও রাজনৈতিক তকমা নেই বলেই বোধহয় আমাদের এই অবস্হা৷‌’

ব্যাঙ্ক মঙ্গলবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন মোহনবাগান ক্লাবকে ফোন করে জানাতে পারেনি৷‌ ই ডি-র নির্দেশ পৌঁছে গেছে ব্যাঙ্কে৷‌ পুজোর পরেই ব্যাঙ্ক খুললেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে৷‌ বাগানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটিও অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের৷‌ মোহনবাগান সচিব অঞ্জন মিত্র বলেন, ‘আমরা শুনেছি৷‌ এখনও ব্যাঙ্কের সরকারি ফোন পাইনি৷‌ পেলেই জরুরি ভিত্তিতে আমি কার্যকরী সমিতির সভা ডাকব৷‌ সেই সভায় যা সিদ্ধাম্ত নেওয়া হবে সেইমতো ব্যবস্হা নেওয়া হবে৷‌ তবে এই মুহূর্তে সিকিম গভর্নর্স গোল্ড কাপে আদৌ খেলতে যাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে৷‌ চূড়াম্ত সিদ্ধাম্ত নেওয়া হয়নি৷‌’ মুখে এ কথা বাগান-সচিব বললেও, বুধবার বাগানের শীর্ষ কর্তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন৷‌ ক্লাবের এক শীর্ষ কর্তা বলেই ফেললেন, ‘সমস্যা ভয়ঙ্কর বাড়ল৷‌ জানি না কীভাবে ফুটবলারদের পেমেন্ট করা হবে৷‌ সত্যি ঘোরতর সঙ্কটে পড়লাম আমরা৷‌’ অপর ক্লাব ভবানীপুরের কর্তা বিষ্ণু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘অনেক দিন ধরেই শুনেছি ই ডি আমাদের ডাকবে৷‌ আমরা মানসিকভাবে তৈরি৷‌ কাগজপত্র নিয়ে চলে যাব৷‌’ কালীঘাট ক্লাবের কর্তা বাবলু কোলের বক্তব্য হল, ‘এখনও ফোন পাইনি৷‌ দেখা যাক কী করব৷‌ ক্লাবের বাকিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধাম্ত নেওয়া হবে৷‌’ ইস্টবেঙ্গল সচিব জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে মোহনাবাগানের সঙ্গে ই ডি-র কাছে দরবার করতে রাজি৷‌ শুনে বাগান সচিব অঞ্জন মিত্র বলেন, ‘এখনও কথা হয়নি৷‌ ইস্টবেঙ্গল জানালে নিশ্চয়ই ভেবে দেখব৷‌’


kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || khela ||
Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited