Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ১২ চৈত্র ১৪২১ শুক্রবার ২৭ মার্চ ২০১৫
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বিরাটকে নিয়ে তিল থেকে তাল বানাতে চাইবেন না: ধোনি--দেবাশিস দত্ত, সিডনি ।। ছবি পুড়ল, কেউ কাটলেন জিভ, ধোনির বাড়িতে পুলিস--করবী দত্ত, রাঁচি ।। জামিন খারিজ গৌতম কুণ্ডুর, ই ডি হেফাজত ।। মুম্বই, হাবড়া থেকে রানাঘাট-কাণ্ডে গ্রেপ্তার ২ ।। বি জে পি প্রার্থী এলেন তৃণমূলে--দীপঙ্কর নন্দী ।। রাজনৈতিক দল গঠনের পথে নজরুল ইসলাম--অভিজিৎ বসাক ।। আপ: সরে গেলেন যোগেন্দ্র, প্রশাম্ত--রাজীব চক্রবর্তী, দিল্লি ।। বোরোল দলের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট--সেপ্টেম্বর-শেষে রাহুল কংগ্রেসের সভাপতি? ।। যাদবপুরে শ্লীলতাহানি: ছাত্র প্রতিনিধি থাকবে না তদম্তে? ।। ককপিটে নিজেকে আটকে ইচ্ছে করে বিমান-ধ্বংস! ।। হাসিনাকে মমতার শুভেচ্ছা ।। ফের বিস্ফোরক কুণাল
খেলা

দোহাই পচা ডিম, টমেটো ছুঁড়বেন না...

বিরাটকে নিয়ে তিল থেকে তাল বানাতে চাইবেন না: ধোনি

যোগ্য ফাইনালিস্ট, তাই প্রাক্তনরা হতাশ নন

কলকাতার দুঃখ আছে, হাহাকার নেই

বোলারদের ওপর ক্ষিপ্ত সানি, কপিলরা

ছবি পুড়ল, কেউ কাটলেন জিভ, ধোনির বাড়িতে পুলিস

কাল আই লিগের ডার্বি যুবভারতীতে

ভাবিনি এতটা খারাপ খেলবে ভারত: সৌরভ

নিউজিল্যান্ডকে হারাব: ক্লার্ক

ধোনিদের খেলায় সেমিফাইনালের ঝাঁঝ ছিল না: মাইকেল হোল্ডিং

ফাইনালেও সেঞ্চুরি করতে চাই: স্মিথ

স্মিথই ফাইনালে তুলল

প্রশংসা করার মতো পারফরমেন্স

ধোনির সমালোচনা অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রে

বিশ্বকাপ জিতলে বোনের মধুচন্দ্রিমার খরচ এলিয়টের

এলকোর মাথায় মর্গান ছক?

ভারত-অস্ট্রেলিয়া স্কোর

আপত্তি নেই কে পি-র

যোগ্য দলই ফাইনালে

হতাশ হওয়ার কিছু নেই

সেই যন্ত্রণা আঘাত করে দুঙ্গাকে

পিছিয়ে পড়ে ড্র জার্মানির

শচীন: তোমরা দুর্দাম্ত খেলেছ

নারীর সম্মান, স্বাধীনতা আগলে রাখুন, বার্তা কোহলিদের

স্টিফেনের শুভেচ্ছা নিয়ে নামছে অনূর্ধ্ব ২৩ দল

শেষ আটে হারিকা, হাম্পি

খিদিরপুর জয়ী

দোহাই পচা ডিম, টমেটো ছুঁড়বেন না...

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবাশিস দত্ত, সিডনি

২৬ মার্চ– সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড আরও ভাল হয়ে গেল বৃহস্পতিবার রাতের পর৷‌ ১৫টা ম্যাচের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ১৩ বার৷‌ ভারত সেখানে মাত্র একবার৷‌ আশা করা হয়েছিল, চলতি বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচ জেতা ভারত, বৃহস্পতিবার এমন উচ্চতায় নিজেদের খেলা তুলে নিয়ে যাবে, যেখান থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফাইনাল খেলার রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে পারবে৷‌ দেখা গেল, ভারত আছে ভারতেই৷‌ চূড়ায় থাকা অস্ট্রেলিয়া ৯৫ রানে এদিন ভারতকে হারিয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলার ভিসা পেয়ে গেল! মেনে নেওয়ার সময় এসেছে, ভারত ভাল দল৷‌ কিন্তু অস্ট্রেলিয়া আরও একটু ভাল৷‌ এবং ৭ ম্যাচ জেতা ভারত ওই ব্যবধান কমাতে পারল না৷‌ তাই সেমিফাইনাল খেলেই দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে টিম ইন্ডিয়াকে৷‌ টেস্ট সিরিজ, ত্রিদেশীয় একদিনের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হাতে কচুকাটা হওয়ার পর বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপে অন্য ভারতকে দেখবেন৷‌ আমরা কিন্তু, এদিন, ভারতের খেলায় অন্য কোনও ছবি দেখতে পাইনি৷‌ সেই বোলিং ব্যর্থতা ফিরে এসেছিল৷‌ এবং তারই হাত ধরে, লাফানো বলে পরিচিত দুর্বলতা৷‌ বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ানরা তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়ার পর ৩২৯ রান তাড়া করে জেতার স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি৷‌

চেষ্টা করেছিলেন বটে অধিনায়ক ধোনি৷‌ কিন্তু তার আগে পরিস্হিতি ঘেঁটে ‘ঘ’ হয়ে যাওয়ায়, বেচারা ধোনিকে বলতে গেলে একলা লড়াই করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হল৷‌ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের গ্যালারিতে ক্রমশই নীল ঢেউ চুপসে যেতে শুরু করেছিল৷‌ এবং শুরু হয়েছিল, সংখ্যায় কম থাকা হলুদ জার্সি গায়ে অস্ট্রেলীয়দের গর্জন৷‌ টিম ইন্ডিয়া হারিয়ে যাচ্ছিল মাঠের মধ্যে, আর দর্শকরা গ্যালারিতে৷‌ অনেকেরই প্রশ্ন, এরপর কী করতে যাবেন মেলবোর্নের ফাইনালের আসরে৷‌ তাহলে কি ক্লার্ক অথবা ম্যাকালামের হাতে ট্রফি পাওয়ার মুহূর্তের জন্য মেলবোর্ন যেতে হবে?

এমন চিম্তায় বিষাদের ছাপ স্পষ্ট৷‌ খারাপ খেলার কারণে ক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক৷‌ কিন্তু মানতে হবে তুলনায় দুটি ভাল দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে৷‌ সেমিফাইনাল পর্যম্ত পৌঁছনোটায় কম কৃতিত্বের নয়৷‌ মনে রাখতে হবে, দলের যা অবস্হা ছিল, তাতে জোড়াতালি দিয়ে এতটা পথ আসার কথাও কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ভাবা সম্ভব ছিল না৷‌ পরিস্হিতি খারাপ ছির এতটাই৷‌ এটা মেনে নিলে দেখবেন, রাগ, দুঃখ, অভিমান ক্রমশ কমবে৷‌ দোহাই আপনাদের, এই ব্যর্থতার পর ধোনি, কোহলিদের বাড়িতে পচা ডিম, টমেটো যেন না ছোঁড়া হয়৷‌ যতটা যোগ্যতা, তাতে সেমিফাইনাল পর্যম্ত পৌঁছতে পারাটাও একটা ব্যাপার৷‌

খারাপ লাগছে পুরনো নোটবই ঘাঁটার সময়৷‌ যেখানে চোখ বুলিয়ে দেখছি, রোহিত শর্মা বলছেন, ‘আমরা জানি, কীভাবে বড় ম্যাচ জিততে হয়৷‌ আমাদের শেখার প্রয়োজন নেই৷‌’ বিরাট কোহলি তো বলেই আসছিলেন, ‘আমরাই সেরা’৷‌ অস্ট্রেলিয়াকে মুখে মুখে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে জনতার মধ্যে এই বিশ্বাস এনে দিয়েছিল ভারতীয় দল যে, এবার তারা ক্লার্কদের হারিয়ে দেবে৷‌ ব্যবধান যে কমেনি তা তো স্কোরের দিকে তাকালেই বোঝা যায়৷‌

সেই স্টার্কের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ৷‌ সেই স্টিভ স্মিথের ব্যাটে অস্ট্রেলীয় শাসন৷‌ নতজানু ভঙ্গিতে ম্যা‘ওয়েলের ঠ্যাঙানি মেনে নেওয়া৷‌ ‘মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সেমিফাইনালে খেলতে নামছি’, ২৪ ঘণ্টা আগে এ কথা বলেছিলেন রোহিত৷‌ দেখা গেল না কোনও পরিবর্তন৷‌ হাতে রইল সেই অশ্বডিম্ব৷‌ ঘাস তুলিয়ে সুবিধা পেতে চেয়েছিল ভারত৷‌ মম্হর উইকেট মানে স্পিনারদের সুবিধা৷‌ আর সেই ফাঁদে অস্ট্রেলিয়াকে আটকে দেওয়ার পরিকল্পনাটাও যেন ঠিক কাজে লাগল না৷‌ উল্টে ওই মম্হর পিচেও তাঁরা কতটা ভয়ঙ্কর হঠে উঠতে পারেন, তার নমুনা তাঁরা পেশ করে গেলেন৷‌ ভারত দু’জন স্পিনারকে মম্হর উইকেটে খেলাচ্ছে দেখে মাইকেল ক্লার্করা কিন্তু স্পিনার দলে রাখার ব্যাপারে ভেসে না গিয়ে নিজেদের আসল যা শক্তি, সেই জোরে বোলিংয়ের দিকে নজর দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁদের চিম্তাধারা সম্পূর্ণই আলাদা৷‌ তাই যদি কেউ বলেন, ল অফ অ্যাভারেজের কারণে ভারত হারল, আমরা, সবিনয়ে ওই যুক্তি না মানার কথা জানাব৷‌ পর পর ৭টা ম্যাচ জেতার মধ্যে স্কটল্যান্ড, জিম্বাবোয়েও ছিল৷‌ পার্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মেলবোর্নে বাংলাদেশ একটু নড়াচড়া করতেই ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে গিয়েছিল৷‌ বলা যায়, ভারত এখানে জিতলেই তা অঘটন হিসেবে চিহ্নিত হত৷‌

খারাপ টেকনিক বলে আমরা ধোনির সমালোচনা করি বটে৷‌ কিন্তু তাঁর লড়াকু মানসিকতা কেউ যদি এদিনও ধার করে নিতেন, তাতে ১৯ বল বাকি থাকতে ভারতকে হারতে হত না৷‌ ৬৫ বলে ৬৫ রান করে রান আউট হয়ে যাওয়ার আগে পর্যম্ত তিনি কিছু হবে না জেনেও লড়ে যাচ্ছিলেন৷‌ অন্য প্রাম্তে তুলনায় প্রতিভাবান হিসেবে চিহ্নিত ব্যাটসম্যানরা তো উইকেটে থাকার ব্যাপারেও ততটা আম্তরিকতা দেখাননি৷‌ টেকনিক ভুলভাল হওয়া সত্ত্বেও অ্যারন ফিঞ্চ ৮১ রান করে গেলেন৷‌ আমাদের তবুও বলা হল, বোলাররা ভাল বল করেছেন৷‌ স্টিভ স্মিথ ক্রিজে আসা মানে ভারতের নাকে খত দেওয়ার পালা শুরু হয়েছিল তিনি ৪ ওভার ক্রিজে কাটানোর সঙ্গে সঙ্গেই৷‌ দুই দলের স্কোর পাশাপাশি রাখলেই বোঝা যায়, ভারত কেন আবার হারল৷‌

রোহিত-ধাওয়ান জুটি প্রথম উইকেটে ৭৬ রান তোলার পরও ২৩৩ রানের বেশি করতে পারল না ভারত৷‌ মিডল অর্ডার ব্যর্থ হল বিচ্ছিরিরকম৷‌ বিরাট কোহলিকে বিদ্রুপাত্মক ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হল৷‌ যা দেখে লেডিস প্যাভিলিয়নে বসা অনুষ্কা শর্মা পর্যম্ত লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন৷‌ স্টার্ক-জনসনের সামনে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপকে অসহায় মনে হতে পারে, এ কথা আগাম বলা সত্ত্বেও টিম ইন্ডিয়া তা মানতে চায়নি৷‌ স্টিভ স্মিথকে দ্রুত ফেরানোর জন্য বহু ফুটেজ দেখা, পরিকল্পনা করা, তা হাতেকলমে বোলারদের দেখানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল৷‌ ৯৩ বলে ১০৫ রান করে, হবু অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কই কিন্তু ভারতকে হারানোর চিত্রনাট্য লিখে রাখলেন আগেভাগে৷‌ রাহানে-ধোনি জুটি ৭০ রান করল৷‌ যতক্ষণে করল, ততক্ষণে সবাই জেনে গিয়েছিল ভারতের ফাইনালে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই৷‌ তাই স্মিথকেই দেওয়া হল ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited