Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৬ পৌষ ১৪২১ সোমবার ২২ ডিসেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  খেলা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
দাদাকে ঘিরেই যাবতীয় উন্মাদনা--অগ্নি পান্ডে ।। দলের সব সাংসদকে দিল্লি যাওয়ার নির্দেশ মমতার--দীপঙ্কর নন্দী ।। সুদীপ্তকে অলাভজনক কারখানা বেচতে কত টাকায় চুক্তি? শাম্তনুকে জেরা সি বি আইয়ের ।। রাজ্যকে ‘রাহুমুক্ত’ করার ডাক দিলেন সোমনাথ--চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।। কং কাহিল, আপ-এ নারাজ, দিল্লি আনবে বি জে পি-কেই ।। আবার ধর্মাম্তর! এবার গুজরাটে ।। পলিটব্যুরোর নিন্দা ।। যাদবপুরের সমাবর্তনে সকলকে সামিল হতে আবেদন পার্থর ।। বিয়ের চাপ, প্রেমিকাকে ডেকে গণধর্ষণ করায় পাষণ্ড পিন্টু! ।। আরও ৪ সন্ত্রাসীকে ফাঁসি দিল পাকিস্তান ।। মদনের মেডিক্যাল বোর্ড আজ ।। সোমেন বিধঁলেন মমতাকে
খেলা

নেপথ্যে থেকেও নায়ক সৌরভ আর ফিকরু

দাদাকে ঘিরেই যাবতীয় উন্মাদনা

অলক্ষ্যে, অবহেলায় ফিরলেন ফাইনালের নায়ক

হাবাসের স্ট্র্যাটেজিকে কুর্নিশ

বিদেশে ব্যাটিংয়ের উন্নতি হয়েছে

বড় ছবিটাই ঢাকা পড়ে গেল

একার নয়, গোটা দলের কৃতিত্ব: বেটে

ফিরলেন ডুডু

ধোনির জুনিয়ররা গালিগালাজ করছে দেখে খারাপ লাগে

বাইচুংয়ের পছন্দ, কোচের দৌড়ে স্টিফেন এগিয়ে

চ্যাম্পিয়ন এরিয়ান

মার খেলেন সাংবাদিকরা

ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ রিয়েল মাদ্রিদের

ধোনিদের ছিঁড়ে খেল প্রচারমাধ্যম

বেঙ্গসরকারের পরামর্শ

ব্যর্থ গম্ভীর

বি টি টি এ-র রাজ্য প্রতিযোগিতা

সোনা জিতলেন দীপ্তায়নরা

ফাইনালে কল্যাণী আদিবাসী

ফের হাসপাতালে আলি

নেপথ্যে থেকেও নায়ক সৌরভ আর ফিকরু

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

মুনাল চট্টোপাধ্যায়

ট্রফি জয়ের উৎসবে মজে রাত ভোর করে ফেলেছিলেন অ্যাটলেটিকো দি কলকাতার ফুটবলাররা৷‌ মুম্বইয়ের টিম হোটেলে পার্টি চলে ভোর ৪টে পর্যম্ত৷‌ কর্তাদের কেউ কেউ তাই আর ঘুমোতে যাননি৷‌ সোজা চলে যান কলকাতার বিমান ধরতে৷‌ আর ফুটবলারদের একাংশ ও দলের কর্তা সৌরভ গাঙ্গুলি, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, উৎসব পারেখরা ফিরলেন মুম্বই থেকে ১১টার চার্টার্ড বিমানে৷‌ একই বিমানে টিকিট না মেলায় বিদেশি ফুটবলার, কোচ হাবাস, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সে সময় শুধু কলকাতায় ফেরেন লোবো, শুভাশিস৷‌ ফাইনালের গোলদাতা রফিক-সহ বাকি দেশি ফুটবলারদের ওই বিমানে জায়গা হয়নি৷‌ তাঁদের ফিরতে হল সন্ধের বিমানে৷‌ শহরে ফিরেই সুখবর, কর্তারা ফুটবলারদের জন্য দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছেন৷‌ এক একজনের ভাগে পড়ছে প্রায় নয় থেকে দশলাখের মতো৷‌ আই এস এলের চ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলাররা আসছেন জেনে সকাল থেকেই দমদম বিমানবন্দর চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করেছিল অ্যাটলেটিকো সমর্থকদের৷‌ ফুটবলারদের আসতে দেরি হচ্ছিল, তাতে অস্হিরতা বাড়ছিল তাঁদের মধ্যে৷‌ কলকাতা ময়দানে, ম্যাচে বিচিত্র সাজে ঘুরতে দেখা যায় এক লাল-হলুদ সমর্থককে৷‌ তিনি এদিন হাজির হয়েছিলেন অ্যাটলেটিকোর সাজে৷‌ সঙ্গে জুটেছিলেন আরও বেশ কয়েকজন সমর্থক৷‌ তাঁদের মুখে ‘এ টি কে, এ টি কে’ চিৎকার৷‌ ‘দাদা’র নামে জয়ধ্বনি৷‌ বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে মাঝে মাঝে তাঁরা এয়ারপোর্টের আকাশে ওড়াচ্ছিলেন নানা রঙের আবির৷‌ হঠাৎই বিমানবন্দর চত্বরে গুঞ্জন৷‌ অ্যাটলেটিকো জার্সি গায়ে হাজির ফিকরু৷‌ অ্যাটলেটিকো স্ট্রাইকারের নামে উল্লাস সমর্থকদের৷‌ ফিকরুও হাত তুলে বেশ উপভোগ করছিলেন তাঁকে নিয়ে এই মাতামাতি৷‌ কে বলবে, হাবাসের সঙ্গে ঝামেলায় তিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলতে পারেননি৷‌ এমনকি মুম্বইয়ে ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়নশিপ পদক নিতেও দেখা যায়নি তাঁকে৷‌ কিন্তু কলকাতায় সতীর্থদের থেকে আর দূরে সরে থাকতে পারেননি৷‌ অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান৷‌ ট্রফি ধরে বিমানবন্দরের বাইরে এলেন কোচ হাবাস ও অধিনায়ক লুইস গার্সিয়া৷‌ পেছনে সৌরভ গাঙ্গুলি ও দলের অন্য কর্তা, ফুটবলাররা৷‌ বিদেশিরাই বেশি৷‌ তার অন্যতম কারণ, কোচ-সহ বিদেশি ফুটবলাররা সন্ধের বিমানে যে যার বাড়ির পথে রওনা হলেন বড়দিনের ছুটি কাটাতে৷‌ ঘরের ছেলেদের অধিকাংশই তাই কলকাতায় এলেন সন্ধের বিমানে৷‌ এদিন বিমানবন্দরে চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ, ফুটবলার ও কর্তাদের স্বাগত জানানো হয় কপালে চন্দনের টিপ ও গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে৷‌ বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়ানো ‘ফাটাফাটি ফুটবল’ লেখা টিম বাসে ওঠার আগেই সমর্থকদের হাতে ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা পোস্টার ও মুখে নিজেদের নামের জয়ধ্বনি শুনে রীতিমতো অবাক গার্সিয়া, পোডানি, বোরজা, ন্যাটো, জোফ্রে, বেতে, হোসেমিরা৷‌ বারবার বললেন, ‘ অ্যামেজিং৷‌’ বাসে ওঠার পথে তাঁদের মাথায় ছড়ানো হল ফুল৷‌ ফুটবলাররা অভিভূত৷‌ হুডখোলা বাস এত তাড়াতাড়ি জোগাড় করা সম্ভব হয়নি৷‌ তাই কোচ-ফুটবলারদের টিম বাসে চাপিয়েই নিয়ে যাওয়া হয় কোয়েস্ট মলে৷‌ তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল৷‌ সেখানেও ভিড় উপচে পড়েছিল৷‌ কারণ চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি নিয়ে ওখানে যাওয়ার কথাটা জানাজানি হয়েই গিয়েছিল৷‌ ফলে কোয়েস্ট মলে ট্রফি নিয়ে হাবাস, গার্সিয়া ও সৌরভ ঢুকতেই চরম বিশৃঙ্খলা৷‌ অ্যাটলেটিকো দি কলকাতার রক্ষণ সংগঠনের শৃঙ্খলার জোরে প্রথমবার আই এস এল ট্রফি প্রাপ্তি, কিন্তু ফুটবলারদের সংবর্ধনার নামে কোয়েস্ট মলে ট্রফি সাধারণের সামনে তুলে ধরা নিয়ে যা বিশৃঙ্খলা হল, তা অভাবনীয়৷‌ তার মাঝেই মলের ভেতর তৈরি অস্হায়ী মঞ্চে ট্রফি রেখে শ্যাম্পেনের বোতল খুললেন গার্সিয়া, হাবাস৷‌ শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় আরও একবার ভিজলেন সৌরভ, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, হর্ষ নেওটিয়া ও অন্যরা৷‌ শ্যাম্পেনের বাকি অংশ গার্সিয়া ঢেলে দিলেন ট্রফির ভেতর৷‌ সৌরভ ট্রফি উঁচুতে তুলে ধরতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা৷‌ তবে সৌরভের দাদাগিরির মাঝে এখানেও সব কিছু ছাপিয়ে সেই ‘ফিকরু, ফিকরু’ চিৎকার৷‌ সেমিফাইনাল, ফাইনাল না খেলেও সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি ফিকরুর৷‌ পরে ফুটবলারদের নিয়ে যাওয়া হয় মলের ওপরের হলে৷‌ সেখানে সৌরভের উপস্হিতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা কেক কাটেন ফুটবলাররা৷‌ পরস্পরকে খাওয়ান৷‌ মধ্যাহ্নভোজ সেরে তড়িঘড়ি মল ছেড়ে হোটেলের উদ্দেশে বেরিয়ে গেলেন কোচ ও বিদেশি ফুটবলাররা৷‌ সেখান থেকে দেশে ফেরার বিমান ধরতে দমদমে৷‌ কলকাতা ছাড়ার আগে গার্সিয়া, বোরজা, হোসেমিরা নিয়ে গেলেন একরাশ সুখস্মৃতি৷‌ গার্সিয়ার অনুভূতি, ‘অ্যামেজিং! কলকাতায় ফুটবলের উন্মাদনা টের পেয়েছিলাম আই এস এলের শুরুতে৷‌ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যে ভালবাসা পেলাম, তা অতুলনীয়৷‌ সারা জীবন মনে রাখব৷‌ জীবনে অনেক বড় বড় সাফল্য পেয়েছি, আই এস এলের ট্রফি জয়টাও সে হিসেবে ওপরের দিকে রাখব৷‌ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের থেকে কোন অংশ কম গুরুত্বপূর্ণ বা রোমাঞ্চকর নয়৷‌ কারণ আগাগোড়া টাফ কম্পিটিশন ছিল৷‌ ফুটবলের এটাই মজা৷‌ যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি৷‌ মাঝে আমাদের খেলা ভাল হয়নি ঠিকই, তবে কখনই চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ের বাইরে চলে যাইনি৷‌ কোচ হাবাসের একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল৷‌ সেটা মেনেই সাফল্য এসেছে৷‌ সবচেয়ে বড় কথা, এটা দলগত সংহতির জয়৷‌’ গার্সিয়া আরও বলেন, ‘নজর কাড়ল ভারতীয় ফুটবলারদের খেলা৷‌ আশা করব ওরা আরও উন্নতি করবে আগামী দিনে৷‌ ওদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দক্ষতার ধার বাড়াবে৷‌’ গার্সিয়ার পরে কলকাতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে যাঁর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, তিনি স্টপার হোসেমি৷‌ সব ম্যাচে খেলেছেন৷‌ লিভারপুলে খেলা এই ডিফেন্ডার বললেন, ‘কোনও প্রতিযোগিতায় প্রথম বছরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আলাদা অনুভূতি থাকে৷‌ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মতোই এক্সাইটিং৷‌ নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিলাম৷‌ দলের শেপ কখনও নষ্ট হতে দেননি কোচ৷‌ দল বাছা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল৷‌ আমল দেননি৷‌ সেমিফাইনালে সামনে গোয়ার মতো ফেবারিট দল থাকলেও আমাদের মনে হয়নি, পারব না৷‌ ফাইনালেও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই খেলেছি৷‌ প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন মহম্মদ রফিককে৷‌ বললেন, ‘সবাই শুরু থেকে অত্যম্ত পজিটিভ ছিল৷‌ তাই রফিক খুব কম খেলেও চ্যাম্পিয়নশিপ গোলটা করে দিয়ে চলে গেল৷‌ এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় ফুটবল এগোচ্ছে৷‌’ মিডফিল্ডার বোরজা ফার্নান্ডেজ বলেন, ‘আমরা জানতাম কলকাতা বা ভারত হল ক্রিকেটের দেশ৷‌ সেই ধারণাটা বদলে গেছে৷‌ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার থেকেও বড় প্রাপ্তি সমর্থকদের এই উচ্ছ্বাস, ভালবাসা৷‌ সারা জীবন মনে থাকবে এটা৷‌’ উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে ফিকরু সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলতে না পারার দুঃখ যেন ভুলে গেলেন৷‌ ফিকরু বললেন, ‘আমার না খেলা নিয়ে কোনও কথা বলব না৷‌ আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, বরাবরই দলের সদস্য ছিলাম৷‌ তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সতীর্থদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম এ টি কের জার্সি পরে৷‌ শপিং মলের উৎসবেও সামিল হলাম৷‌ মনে করি, কলকাতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে কিছুটা আমারও অবদান আছে৷‌ সমর্থকদের আবেগই প্রমাণ করছে ওরা আমাকে কতটা ভালবাসে৷‌’





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || khela || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited