Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৫ পৌষ ১৪২১ রবিবার ২১ ডিসেম্বর ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  বিদেশ  সম্পাদকীয়  উত্তর সম্পাদকীয়  নেপথ্য ভাষন  খেলা  রবিবাসর   আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
নেপথ্য ভাষন -অশোক দাশগুপ্ত--আছি, এটা বোঝানোই প্রথম ধাপ ।। ভারতীয়দের ‘মুখ’ রফিক--সুরজিৎ সেনগুপ্ত ।। দলকে মমতা: কলকাতা পুরভোটে বি জে পি-কে নিশ্চিহ্ন করতে হবে ।। কলকাতায় নয়, এবার ধর্না জেলায় ।। যাদবপুরের সমাবর্তন: বয়কট-স্ট্যাম্প মেরে দেওয়ার মম্তব্য প্রস্তাব ।। তৃণমূল, বি জে পি মিলে যাবে, সি পি এমও েতরি: গৌতম দেব ।। বুথ-ফেরত সমীক্ষায় ঝাড়খণ্ড বি জে পি-র, কাশ্মীর ত্রিশঙ্কু ।। সাগর দ্বীপের উন্নয়নে উচ্ছেদের আতঙ্কে আন্দোলনে মৎস্যজীবীরা ।। মিচেল জনসনের সুনামিতে ভারত ভেসে গেল--দেবাশিস দত্ত ।। সারদা সম্পত্তির তথ্য পেতে জেলে গিয়ে সুদীপ্তকে জেরা করবে ই ডি ।। মদন উডবার্ন ওয়ার্ডে ।। শপথ নিলেন মার্কিন দূত রিচার্ড রাহুল
খেলা

মিচেল জনসনের সুনামিতে ভারত ভেসে গেল

ন্যাটওয়েস্ট মনে পড়ল সৌরভের, কাপের স্পর্শ দিলেন শচীনকে

ভারতীয়দের ‘মুখ’ রফিক

শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় উৎসব | গোলের আশাতেই রফিককে নামানো: হাবাস

প্র্যাকটিস পিচ নিয়ে অসম্তোষ! ড্রেসিংরুমে বোঝাপড়ায় সমস্যা, মানলেন ধোনি

বাইচুংকে স্বাগত, ফেড কাপ নিয়ে আশাবাদী নন আর্মান্দো

প্রথম টেস্টে সবাই কোহলিতে মেতে রইল, ভারত হেরে গেছে, সেই বড় ছবিটাই ঢাকা পড়ে গেল

আবেগের রাতে ভাসলেন ওঁরা

রফিক: সেরা ৩০ মিনিট

শচীনকে দেখে বিস্মিত মেহতাবরা

এলানোর টিপস নিয়ে ফেড কাপ জিততে চান বলবম্ত

উচিত ছিল ঘাড় ধরে ধাওয়ানকে নামানো

জনসনকে স্লেজিং? ফল ভাল হবে না, হুঙ্কার স্মিথের

মায়াবী পরিবেশে শেষ হল আই এস এল

গোটা দেশের গর্ব, বলছেন বাবা কাসেম

ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে মর্গান, বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই কুক

ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টের স্কোর

ম্যাচের আগে কোকের শুভেচ্ছা

২০১৪: আনন্দ নিজেকে দশে আট দিলেন

ক্লডিয়াসের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

কালীঘাট, টাউনের জয়

এক নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা

গড়া হল মোহনবাগানের নির্বাচনী বোর্ড

বিদায় শ্রীকাম্ত, সাইনার

মুখ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন

আপ্পাই মণ্ডলের ৫ গোল

মেসির জোড়া গোল

মিচেল জনসনের সুনামিতে ভারত ভেসে গেল

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

দেবাশিস দত্ত

৭ জন জোরে বোলারের মধ্যে এই সিরিজে সবচেয়ে খারাপ বোলিং করছিলেন দুনিয়ার সেরা জোরে বোলার৷‌ কিন্তু, শনিবার ভোরে হঠাৎই চার ওভারের এক স্পেলে মিচেল জনসন বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে দুনিয়ার সেরা জোরে বোলার বলা হয়৷‌ বিরাট কোহলিকে দিয়ে শুরু৷‌ তারপর একে একে অজিঙ্কা রাহানে এবং রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়ে এক ঝটকায় ভারতকে নক আউট করে দিলেন৷‌ ওটাই ছিল সুনামির মুহূর্ত৷‌ আমরা কাকভোরে কম্বলের তলায় শুয়ে ভারতের পদস্খলন দেখলাম৷‌ নতুন নয় অবশ্য৷‌ এ জিনিস দেখতে দেখতে চোখ পচে যাওয়ার জোগাড়৷‌ কখনও নটিংহ্যামে, তো কখনও ওয়েলিংটনে, কখনও ডারবানের কিংসমিডে, কখনও বা এডিলেডে৷‌ ওই তালিকায় ব্রিসবেন ছিলই৷‌ আরও একবার গাব্বার নাম উঠল ওই তালিকায়৷‌ ভারত এ পর্যম্ত ব্রিসবেনে কোনও টেস্ট জেতেনি৷‌ এবারও পারল না৷‌ দুর্দাম্ত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও৷‌

৪ উইকেটে হার৷‌ সিরিজে পিছিয়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া ০-২৷‌ ৪-০ নাকি হবে না! শনিবার হারের পর অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি জানিয়ে গেলেন, ‘আমরা অবশ্যই প্রত্যাঘাত করব৷‌’ পাড়ার যে কোনও লাইব্রেরিতে গিয়ে যদি পুরনো কাগজের ফাইল ওল্টানোর সুযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই দেখতে পাবেন ধোনির এমন মম্তব্য, যা তিনি বিদেশে টেস্টে হারের পর নিয়ম করে বলে থাকেন৷‌ ছেলে ভোলানো মোয়া হাতে নিয়ে সাধারণ জনতাও ভাবতে শুরু করে, পরের টেস্টে নিশ্চয়ই জিতবে ভারত৷‌ এই মরিচিকার পেছনে ছোটা অব্যাহত থাকবে আসন্ন মেলবোর্ন এবং সিডনি টেস্টের জন্যও৷‌

লড়াকু, তেজি, কমবয়েসি অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ জিতলেন জীবনে প্রথম টেস্টে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে৷‌ শুধু জিতলেন বললে কম বলা হয়, প্রথম ইনিংসে ১৩৩ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮ রান করে রান আউট হয়ে গেলেন৷‌ এই ২৮ রান কতটা মূল্যবান, তা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর বোর্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়৷‌ জেতার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে করতে হত ১২৮, তা করতে গিয়ে দলের ১৮ রানের মাথায় ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দিলেন ইশাম্ত শর্মা৷‌ ওয়াটসনকেও তুলে নিলেন ইশাম্ত একই ভঙ্গিমায়৷‌ কট ধোনি বোল্ড ইশাম্ত৷‌ হঠাৎই ম্যাচে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা৷‌ এই সময়ে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ ফেলে দিলেন বিরাট কোহলি৷‌ এটা ঘটনা, অসংখ্য ব্যর্থতার মুহূর্ত তুলে ধরা সত্ত্বেও, ভারত কিন্তু ওই সময়টায় খুব ভাল চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়াকে৷‌ কোহলি যদি স্মিথকে ধরে ফেলতে পারতেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ত্রাহি ত্রাহি রব কিন্তু উঠে যেত৷‌ শেষ পর্যম্ত ভারতীয় বোলাররা, পরিষ্কার করে বললে, জোরে বোলাররা বিশেষত ইশাম্ত এবং উমেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে গিয়ে ওয়ার্নার, ওয়াটসনরাও হিমশিম খাচ্ছিলেন৷‌ তাতে অবশ্য জেতা আটকায়নি৷‌ ক্রিস রজার্স ঠান্ডা মাথায়, এমন বিপজ্জনক মুহূর্তে ৫৫ রান করে গেলেন৷‌ চতুর্থ দিনের ভাঙা উইকেটে থাকাই ছিল কঠিন ব্যাপার৷‌ মিচেল জনসন সকালে যেটা করেছিলেন, তা অনুসরণ করে, ইশাম্ত-উমেশ জুটি ধারাবাহিকভাবে ঝটকা দিয়ে যাচ্ছিলেন৷‌ তাতে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার জেতা আটকানো যায়নি৷‌ এই লড়াই, যদি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিন করতে পারত তাহলে, অস্ট্রেলিয়া কিন্তু শুরুর ব্যর্থতা সত্ত্বেও ৫০৫ রান তুলতে পারত না৷‌ এমন পরাজয়ের চিত্রনাট্য তো লেখা হয়েছিল তখনই৷‌ ১৯৮১-র মেলবোর্ন টেস্ট ভেসে উঠছিল আলোচনায়৷‌ সেদিন জেতার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে করতে হত ১৮২ রান৷‌ কিন্তু কপিলদেব, দিলীপ দোশি, কারসন ঘাউড়িরা মাত্র ৮৩ রানে শেষ করে দিয়ে ওই টেস্ট ম্যাচ জিতেছিলেন ৫৯ রানে৷‌ কপিল পেয়েছিলেন ৫ উইকেট৷‌ গ্রেগ চ্যাপেলকে শূন্য রানে বোল্ড করে দিয়েছিলেন ঘাউড়ি৷‌ কিম হিউজকে বোল্ড করেছিলেন দোশি৷‌ এদিনও তেমনই একটি সুযোগ এসেছিল টিম ইন্ডিয়ার সামনে৷‌ দেখা গেল, ভারত মাঝপথে বেদম হয়ে পড়ল৷‌ সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই৷‌

আগেই বলেছি, সাক্ষী থাকতে হল এক দুঃস্বপ্নের সকালের৷‌ কাকভোরে গুলি চালিয়ে গেলেন মিচেল জনসন৷‌ অকুস্হলে ছটফট করতে করতে ভারত শেষ হয়েছিল আরও কিছুক্ষণ পর, ২২৪ রানে৷‌ অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ যদি সকালে ৪ ওভারের পরিবর্তে আরও দু-তিন ওভার করিয়ে নিতেন মিচেল জনসনকে দিয়ে, তাহলে হয়ত, ভারত লুটিয়ে পড়ত আরও আগে৷‌ এমন হারের কারণ হিসেবে নিজেদের ব্যর্থতার চেয়েও ভারত অধিনায়ক জোর দিলেন অন্য দুটি ব্যাপারে৷‌ যা নিয়ে ড্রেসিংরুম সকালেই ছিল সরগরম৷‌ সকালে অনুশীলন করতে গিয়ে হাতে চোট পেয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান৷‌ প্র্যাকটিস উইকেটে নাকি ছিল অসমান বাউন্স৷‌ সে কারণেই শিখরের কবজিতে লেগেছিল চোট৷‌ তাই, তিনি, শুক্রবার অপরাজিত থাকা সত্ত্বেও ব্যাট করতে আসেননি৷‌ আসতে হয়েছিল বিরাট কোহলিকে৷‌ (পরে ব্যাট করতে এসেছিলেন ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর, এবং করে গেলেন সবথেকে বেশি রান৷‌ কবজির চোট নিয়েও ফ্লিক, পুল মারলেন অনায়াসে৷‌ ম্যাথু হেডেনের পর্যবেক্ষণ, এই চোট নিয়ে শুরুতে আসা যেত৷‌) ধোনির দাবি হঠাৎ ব্যাটিং অর্ডারে এই পরিবর্তন করতে গিয়েই নাকি বিরাট উপযুক্ত মনঃসংযোগ করতে না পেরে বোল্ড হয়েছেন৷‌ যা শুনে সুনীল গাভাসকার বলেছেন, ‘এ আবার কী কথা? ওপেনার ছিলাম, তাই বিপক্ষ দলের ইনিংস শেষ হওয়ার পর দ্রুত প্যাড পরে তৈরি হয়ে মাঠে নেমে যেতে হত৷‌ শিখর চোট পেয়েছে প্র্যাকটিসে, তখনই তো ব্যাপারটা পরিষ্কার ছিল যে ওকেই আসতে হবে৷‌ কারণ, ও দলের ৪ নম্বর ব্যাটসম্যান৷‌’ ধোনিও কিন্তু অজুহাতের রাস্তায় হাঁটলেন৷‌

বোলিং ব্যর্থতা তো বহু আলোচিত৷‌ ব্যাটিং ব্যর্থতাও তাই৷‌ অফ স্টাম্পের বাইরে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বল একটু বেশি লাফালে সব টেকনিক যায় ফুরিয়ে৷‌ রোহিত শর্মা আবার ব্যর্থ৷‌ বিপদের মুহূর্তে রোহিত কিন্তু ইংল্যান্ডেও পারেননি৷‌ দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনকী নিউজিল্যান্ডেও নয়৷‌ বাকি দুটি টেস্ট ম্যাচে সুরেশ রায়নাকে যদি সুযোগ দেওয়া হয়, অবাক হবেন না৷‌ শুক্রবার রোহিত আবার একটি কীর্তি করে বসেছেন৷‌ মিচেল জনসন যখন ৮৮ রান করার পথে একের পর এক বাউন্ডারি মারছিলেন, তিনি তাঁকে গিয়ে টিপ্পনী কেটে বলেছিলেন, চলতি সিরিজে তো উইকেটই পাচ্ছ না! ঘুমিয়ে থাকা কুকুরকে ঢিল মারতে নেই৷‌ আগ্নেয়গিরিকে ঘুমিয়ে থাকতে দিতে হয়৷‌ রোহিতের এই উস্কানিকে জনসন যে তেড়েফুড়ে এদিন সকালে শুরুতেই ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিলেন, এরজন্যও কিন্তু রোহিতকেই দায়ী করছে ভারতীয় শিবির৷‌

চেতেশ্বর পুজারা ভাল খেলতে খেলতে আউট হওয়ার রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারছেন না৷‌ এই ব্যর্থতার দিনে, ৪৩ রান করার পথে টেস্টে ২০০০ রানের সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা না-ই বা করলাম৷‌ তবে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই সীমানা টপকেছিলেন শেহবাগ ও রাহুল দ্রাবিড় ৪০তম ইনিংসে৷‌ পুজারা নিলেন অনেক বেশি সময়৷‌

এডিলেড ও ব্রিসবেন, দুটি টেস্টেই ভারত জঘন্য ক্রিকেট খেলেনি৷‌ অম্তত ইংল্যান্ড সফরের চেয়ে তো ভাল৷‌ হতে পারে এই অস্ট্রেলিয়া দল অনভি: বলে ভারত পাল্টা আক্রমণে যেতে পেরেছে৷‌ একই সঙ্গে এটাও ঘটনা, উপযুক্ত মুহূর্তে, ঝলসে ওঠার পরিবর্তে ভারত কিন্তু কুঁকড়ে ছিল৷‌ তাহলে, জয়ের মঞ্চে পৌঁছন যাবে কীভাবে? ধোনির কাছে বিদেশে টেস্টে পরাজয় এখন জলভাত ব্যাপার৷‌ এতে তাঁর কোনও রকমের চিত্তচাঞ্চল্য হয় না৷‌ মন খারাপও হয় না৷‌ কারণ তিনি জানেন, নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেবেন না শ্রীনি৷‌ তাহলে, তাঁর কপালে চিম্তার ভাঁজ পড়বে কেন৷‌ দল সুনামিতে ভেসে গেলেও নয়, মিচেল জনসনের হাতে কড়া থাপ্পড় খেয়েও নয়৷‌





kolkata || bangla || bharat || bidesh || editorial || post editorial || nepathya bhasan ||
khela || sunday || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited