Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
কলকাতা ৩ কার্তিক ১৪২১ মঙ্গলবার ২১ অক্টোবার ২০১৪
 প্রথম পাতা   কলকাতা  বাংলা  ভারত  সম্পাদকীয়  খেলা  আজকাল-ত্রিপুরা   পুরনো সংস্করন  বইঘর 
বিষ্ণুপুরে সারদার ১৫০০ বিঘে জমি--গৌতম চক্রবর্তী ।। শব্দবাজির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ তৃণমূলি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ।। তৃণমূল ছাত্রপরিষদের ইউনিয়ন নিয়ে পর্যালোচনা--দীপঙ্কর নন্দী ।। যাদবপুর: আবার বিক্ষোভের মুখে অভিজিৎ--গৌতম চক্রবর্তী ।। হাতে পাওয়ার, চাপে শিবসেনা --বি জে পি ঝুলিয়ে রেখেছে ।। ২৭ অক্টোবর সুদীপ্ত ও দেবযানী ওড়িশা আদালতে--বরেন্দ্রকৃষ্ণ ধল, ভুবনেশ্বর ।। মাদ্রাসায় টাকা ঢালত কে ? তদম্তে ই ডি ।। রেলে চাকরির নামে বহু কোটির প্রতারণা! ধৃত বি জে পি নেতা ।। কলকাতা পুরসভা ও কে এম ডি এ-র সমন্বয়ে এক জানলা নীতি ।। জয়ললিতাকে রজনীকাম্তের শুভেচ্ছায় বি জে পি হতাশ? ।। বি জে পি-র নজরে এবার বাংলা-বিহার ।। কড়াকড়িতে বাজার কেড়েছে শব্দবাজিই
খেলা

স্পেনের শিক্ষাটাই আসল, বিদেশে ভারতীয়রাও খেলতে পারে: অর্ণব

মহমেডান এই মরশুমে আর খেলবে না

অ্যাটলোটিকোর স্বস্তি, বোরজা, চিম্তা গার্সিয়া

শ্রীনিকে পাল্টা দিলেই আমি তাদের পাশে

মেসির যেন তর সইছে না

এডুকে সই করাল চেন্নাইন এফ সি

মোদির অনুরোধে দায়িত্বে ঊষা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঝামেলায় চিম্তায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

অ্যাকশন! এবার নজরে প্রজ্ঞান

ফের আবেদন

ইডেনে ম্যাচ ৫ নভেম্বর?

ব্রাজিলে দাঙ্গায় নিহত ১

স্পেনের শিক্ষাটাই আসল, বিদেশে ভারতীয়রাও খেলতে পারে: অর্ণব

Google plus share Facebook share Twitter share LinkedIn share

মুনাল চট্টোপাধ্যায়




পরপর ম্যাচ খেলার ক্লাম্তি৷‌ তার সঙ্গে একঘেয়েমি৷‌ ফুটবলারদের মন বেশ ভালই বোঝেন অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতার কোচ হাবাস৷‌ তাই দলের ম্যানেজার রজত ঘোষ দস্তিদারকে দিল্লি ডায়নামোস ম্যাচের পর ডেকে বলে দেন সব ফুটবলারকে একদিনের জন্য ছুটি দিতে৷‌ যার যেমন খুশি সোমবার কাটাতে পারে, মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে আবার সকলের মিলিত হলেই চলবে৷‌ কারণ বিকেলে যুবভারতীতে প্র্যাকটিস গোয়া ম্যাচের জন্য৷‌ স্বাভাবিকভাবেই আই এস এলের হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের মাঝে এমন একটা আলসেমিভরা দিন পেলে ভাল তো লাগেই৷‌ কে আর হোটেলে বন্দী থাকে৷‌ অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতার নির্ভরযোগ্য স্টপার অর্ণব মণ্ডল ছুটির দিনটাকে দারুণভাবে উপভোগ করলেন৷‌ সাত সকালে হোটেল থেকে বেরিয়ে স্ত্রী দেবশ্রীকে নিয়ে গেলেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে৷‌ গঙ্গার ধারে ঘোরাও হল, দিলেন পুজোও৷‌ পরে বেহালার বাড়ি ফিরে সকালটা কাটালেন বাবা-মার সঙ্গে৷‌ অনেকদিন পর বাড়ির রান্না খেলেন৷‌ সন্ধেয় গেলেন বেহালাতেই বাড়ির খুব কাছে শ্বশুর বাড়িতে৷‌ হালকা মেজাজে সারাদিন কাটানোয় মেজাজ খুশ হলেও আই এস এলের পরবর্তী ম্যাচ থেকে ফোকাস এতটুকু নড়ছে না অর্ণবের৷‌ এটাই আই এস এলে অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতা দলের হয়ে খেলার সুফল বলেই মনে করছেন অর্ণব৷‌ সবসময় সিরিয়াস৷‌ আড্ডার মাঝেও বারবার এসে পড়ছে খেলার কথা৷‌ স্পেনের মাদ্রিদের ট্রেনিং থেকে অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতা দলের পরিবেশ ও মানসিকতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো৷‌ অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতা প্রথম তিন ম্যাচে অপরাজিত৷‌ দুটো জয়, একটা ড্র৷‌ ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকার পেছনে ভারতীয় ডিফেন্ডার অর্ণবের অবদান অনস্বীকার্য৷‌ কোচ হাবাসের মুখেও অর্ণবের খেলার প্রশংসা৷‌ মহেশ গাউলি, দীপক মণ্ডলের ভক্ত অর্ণবের মতে, ‘এটাই বড় প্রাপ্তি৷‌ হোসেমির মতো বড় ডিফেন্ডারের পাশে খেলছি৷‌ কোচ ডিফেন্সে আমাকে নিয়ে তিনজন ভারতীয় ডিফেন্ডারের ওপর ভরসা করছেন, এটা বড় ব্যাপার৷‌ এতে আত্মবিশ্বাসটা অনেকগুণ বেড়েছে৷‌’ অর্ণব জানান, ‘হোসেমি আমাকে বলেছিল দেল পিয়েরো খুব চতুর ফুটবলার৷‌ ও ডাইভ দিয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা করবে৷‌ সতর্ক থাকবে৷‌ আমি ফাঁদে পা দিইনি৷‌’ ইস্টবেঙ্গলের বর্ষসেরা ফুটবলার অর্ণবের মতে, দেল পিয়েরো, কাপডেভিয়া-সহ বিদেশের নামী ফুটবলারদের মোকাবিলা করায় এই বিশ্বাস জন্মেছে, আমরা ভারতীয় ফুটবলাররা বিদেশে গিয়েও খেলতে পারি৷‌ টেকনিকে, স্কিলে বিরাট কিছু পার্থক্য নেই৷‌ মেসি, নেইমার, রোনাল্ডোরা ব্যতিক্রম৷‌’ অর্ণব মুগ্ধ স্পেনের মাদ্রিদের পরিকাঠামো ও অনুশীলন পদ্ধতিতে৷‌ ছেলেবেলায় বাটার অমিতাভ ঘোষের কাছে ফুটবলে হাতেখড়ি৷‌ পরে কৃষ্ণেন্দু রায়ের কাছেও পেয়েছেন অনেক টিপস৷‌ আর কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যর থেকে পেয়েছেন ম্যাচ টেম্পারেন্ট তৈরির শিক্ষা৷‌ লড়াইয়ের জেদ৷‌ এখন আই এস এলে অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতা দলে খেলার সুবাদে শিখছেন নতুন অনেক কিছুই৷‌ বলেন, ‘একমাসে ওখানে যা কড়া প্র্যাকটিস করেছি, তা এর আগে জীবনে করিনি৷‌ হাই ইনটেস ট্রেনিং৷‌ দেড়ঘণ্টার প্র্যাকটিস, কিন্তু কোনও ফাঁকি নেই৷‌ এক মিনিটও দাঁড়ানোর সুযোগ নেই৷‌ তাতেই আমরা এত ফিট আছি৷‌ শেষ পর্যম্ত দৌড়তে পারছি৷‌ কলকাতার ক্লাবে যখন খেলি, তখন আবেগ আর লড়াইটাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়৷‌ বলা হয়, লড়ে যা, জিততে হবে৷‌ কিন্তু টেকনিকাল বিশ্লেষণ বিশেষ হয় না৷‌ অ্যাটলেটিকোতে খেলার আগে ও পরে প্রতিটি ফুটবলারের খেলার চুলচেরা বিশ্লেষণ হয় ভিডিও ক্লিপিংস দেখিয়ে৷‌ প্রতি ম্যাচ খেলার আগে প্রতিপক্ষর গুণ-দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হয়৷‌ মাদ্রিদে সুযোগ-সুবিধাও ছিল চোখ ধাঁধানো৷‌ সব কিছু রুটিন মাফিক৷‌ খাওয়া দাওয়া, শোয়া, বসা৷‌ এমনকী আমার কোথাও লাগলে পরের দিন আমি ভুলে গেলেও দলের সাপোর্ট স্টাফরা এসে বারবার খোঁজ নেবে আমি ঠিক আছি কিনা, কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা৷‌ একেবারে বাড়ির মতো কেয়ার করা৷‌ এখানে কলকাতাতেও ফুড সাপ্লিমেন্ট, হেলথ ড্রিঙ্কস এসেছে স্পেন থেকে৷‌ যেখানেই যাচ্ছে দল, সেখানকার হোটেলের শেফকে বলে দেওয়া হচ্ছে ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবার তৈরি করতে৷‌ সব কিছুই খুব ডিসিপ্লিনড. ব্রেকফাস্ট টেবিলে, লাঞ্চে, ডিনারে, মিটিংয়ে দেরি করলেই জরিমানা৷‌ আমরা কয়েকজন একদিন দেরি করেছিলাম ব্রেকফাস্ট টেবিলে আসতে, কোচ হাবাস সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, দেখ এই ধরনের ক্যাজুয়াল ভাব আমার পছন্দ নয়৷‌ এতে খেলায় প্রভাব পড়ে৷‌ যদি মনে কর একটু দেরি করে ব্রেকফাস্ট টেবিলে আসবে, তা হলে আমি ব্রেকফাস্টের সময়টাই পিছিয়ে দেব৷‌ শুনে লজ্জা লেগেছিল৷‌ আর দেরি হয়নি৷‌’ কোচ হাবাসের খেলানোর ধরন নিয়ে অর্ণব বলেন, ‘হাবাস কাউন্টার অ্যাটাক ফুটবলের ওপর জোর দিচ্ছেন বেশি করে৷‌ ডাবল ডিফেন্সিভ স্ক্রিন নিয়ে খেলেন৷‌ এতে প্রতিপক্ষ আমাদের ডিফেন্স ভাঙতে পারছে না সহজে৷‌ পাশাপাশি আমাদের দল পাসিং ফুটবল খেলতে পছন্দ করে৷‌ খেলছেও তাই৷‌ লুইস গার্সিয়া, ফিকরু, জোফ্রে, বোরজা ফার্নান্ডেজরা কেউই পায়ে বল রাখে না বেশিক্ষণ৷‌ বল ধরে আর ছাড়ে৷‌ স্প্যানিশ ফুটবলের খেলাটাই রপ্ত করেছি আমরা৷‌’ দিল্লি ম্যাচে ড্র নিয়ে উদ্বিগ্ন নন অর্ণব৷‌ বলেন, পরপর ম্যাচ খেলার ধকল তো ছিলই৷‌ তা ছাড়া মাঝমাঠের মূল ব্লকার বোরজা কার্ডের জন্য ছিল না৷‌ ও থাকলে এত সহজে দিল্লির পাভেল ওই শট নিয়ে গোল করতে পারত না৷‌ ঠিক ব্লক করত৷‌ তার ওপর হ্যামস্ট্রিংয়ে টান ধরায় লুইস গার্সিয়া বসে গিয়েছিল৷‌ এতে দিল্লি বাড়তি আক্রমণে ওঠার সুযোগ পায়৷‌ সামনের দুটো ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ৷‌ গোয়া এফ সি ও কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ থেকে যত বেশি পয়েন্ট নেওয়া যায় ভাল৷‌ প্রথম দফায় ১৪৷‌১৫ পয়েন্ট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ১০ থেকে ১১ পয়েন্ট পেলে সেমিফাইনাল খেলা আটকাবে না বলেই বিশ্বাস আমার৷‌ তবে চেষ্টা থাকবে, আরও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার৷‌’ লুইস গার্সিয়া কতটা উজ্জীবিত করেন দলকে? কিছু টিপস দিয়েছেন কি? অর্ণবের জবাব, ‘এমনিতে বেশি কথা বলে না গার্সিয়া৷‌ তবে প্রচণ্ড টিমম্যান৷‌ ও একটা কথাই বলে শুধু বারবার, কখনও ক্যাজুয়াল ভাব দেখিও না৷‌ সব ম্যাচে মাঠে নেমে ১০০ শতাংশ দিতে তৈরি থেকো ম্যাচ জিততে৷‌’ অর্ণব মনেপ্রাণে চাইছেন, গার্সিয়া ফিট হয়ে ২৩ অক্টোবর গোয়া এফ সি ম্যাচে খেলুন৷‌





kolkata || bangla || bharat || editorial || khela || Tripura || Error Report || archive || first page

B P-7, Sector-5, Bidhannagar, Kolkata - 700091, Phone: 30110800, Fax: 23675502/5503
Copyright © Aajkaal Publishers Limited

Designed, developed & maintained by   Remote Programmer Private Limited