আশ্বস্ত হল রাজ্যবাসী। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছেন, আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে আছে রাজ্য। মুখের কথা নয়, শ্রীমিত্র পরিসংখ্যান দিয়ে নিজের বক্তব্য প্রমাণ করেছেন। চলতি আর্থিক বছরে রাজস্ব খাতে আয় বেড়েছে যথেষ্ট। ফলে কেন্দ্র থেকে ঋণ গ্রহণের সীমা ছাড়ায়নি। এই আর্থিক বছরে রাজ্যের ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা ২৯ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার কোটি। অথচ অপপ্রচার চলে, রাজ্য নাকি সর্বোচ্চ সীমায় ঋণ নিয়ে বসে আছে। সুখবর, এই আর্থিক বছরে একবারও ওভারড্রাফট নিতে হয়নি সরকারকে। এর মধ্যেই বকেয়া ঋণ শোধ হচ্ছে। কোনও সন্দেহ নেই এটা একটা বড় কৃতিত্ব। আর্থিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে নজির তো বটেই। ঋণগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে, অথচ পুরনো ঋণ শোধ করা সহজ কাজ নয়। কেমন করে সম্ভব হচ্ছে?‌ আয় বাড়িয়ে এবং অপচয় বন্ধ করে। বিভিন্ন দপ্তরে পড়ে থাকা অর্থ দপ্তরে ফিরে আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু’‌হাজার কোটি টাকা ফিরেও এসেছে। রাজস্ব বৃদ্ধির যে হিসেব অর্থমন্ত্রী দেখাতে পেরেছেন তা প্রশংসার যোগ্য। স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি, আবগারি শুল্ক, পরিববহণ কর, বিদ্যুৎ শুল্ক বাবদ আয় এবার বেড়েছে অনেকটাই। চলতি আর্থিক বছরে এখনই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। একে বাহবা না জানিয়ে উপায় নেই। কেউ যদি বলেন, এই পরিসংখ্যানে গোলমাল আছে, তাহলে তাঁরাই গোলমাল করবেন। রাজ্য বা কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী কোনও পরিসংখ্যান যখন বলেন, দায়িত্ব নিয়েই বলেন, কারণ সেই হিসেব তাঁদের দাখিল করতে হয়। বিরোধীরা সমালোচনা করতে গিয়ে যদি মূল সমস্যা থেকে সরে যায়, সেটা ভুল হবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। আজ নয়, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের। এর বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে সোচ্চার হতে হবে।‌

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top