এখন সহজে ওজন কমানো যাচ্ছে। ডায়েট বা এক্সাসাইজ করে রোগা হওয়ার মতো সময় না থাকলে বা এক্সাসাইজ করে কমানো প্রায় অসম্ভব, শরীরের এমন জায়গায় মেদ থাকলে লাইপোসাকশান করে নিন। যাঁরা মোটা তাঁরা যেমন এভাবে ওজন কমিয়ে ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাডপ্রেশার–‌‌সহ একাধিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন, তেমনই সৌন্দর্যের খাতিরেও মেদ কমানোর জন্য লাইপোসাকশান এক চালু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এর চালু পদ্ধতিটি ম্যানুয়াল

ডাঃ অরিন্দম সরকার

  • ম্যানুয়াল ছাড়া অন্য আর কীভাবে লাইপোসাকসান করা হয়?

ডাঃ সরকার: ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ২–‌‌১০/১২ লিটার মেদ বের করা যায়। আলট্রাসাউন্ড লাইপোসাকশানে মেকানিক্যাল ক্যানুলার পরিবর্তে আলট্রাসাউন্ড রশ্মির সাহায্যে মেদ গলিয়ে সাকশান করে তা বের করে ফেলা হয়। লেজার লাইপোসাকশানে লেজার রশ্মি কাজে লাগে। এ ছাড়াও মাইক্রোএয়ার লাইপোসাকশান নামের অন্য এক পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে শরীরে ক্যানুলা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যা নড়তে (ভাইব্রেট) থাকে। মেদ গলে গেলে তাকে বাইরে বের করে ফেলা হয়। একে ভাইব্রো লাইপোসাকশানও বলে।  

          

  • লাইপোসাকশনের কোন পদ্ধতি ভাল?

ডাঃ সরকার: সেটা নির্ভর করে শরীরের কোন অংশ থেকে মেদ বের করা হচ্ছে তার ওপর। যেমন চিবুকের তলা, হাত (আর্মের নিচে) ইত্যাদি ছোট অংশের জন্য আলট্রাসাউন্ড বা লেজার লাইপোসাকশন ভাল। তবে ৮–‌‌১০ লিটার মেদ বের করার প্রয়োজনে মেকানিক্যাল লাইপোসাকশানেই ভাল কাজ হয়। এর জন্য অনেক সময় একাধিক পদ্ধতিকে কাজে লাগানো হয় এবং দু–‌তিনটি মেশিন ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রে আলট্রাসাউন্ড, ভাইব্রো কিংবা লেজার লাইপোসাকশানের সঙ্গে মেকানিক্যাল লাইপোসাকশানের কম্বিনেশন করা হয়।  উদ্দেশ্য মূলত চারটি— অনেকটা মেদ বের করা, কাজ নিখুঁত করা, রক্তক্ষরণ কমানো ও সময় সাশ্রয়। 

 

  • যত ইচ্ছে ততটা মেদই কি বের করা হয়?

ডাঃ সরকার: অনুমোদিত লাইপোসাকশন কেন্দ্র সাধারণত একজন মানুষের মোট ওজনের ১০%-এর বেশি মেদ বের করে না। অর্থাৎ একজন মানুষের ওজন ১০০ কেজি হলে সর্বাধিক ১০ কেজি (বড়জোর ১১ কেজি) মেদ বের করা নিরাপদ। তবে সিটিং–‌পিছু সাধারণত গড়ে ৫–‌‌৬ কেজির বেশি মেদ বের করা হয় না। 

 

  • কতটা সময় লাগে?

ডাঃ সরকার: লাইপোসাকশানে মোটামুটি দুই–‌‌আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। পাঁচ লিটারের কম মেদ বের করা হলে মানুষটি ওই দিনই বাড়ি চলে যেতে পারেন। তার চেয়ে বেশি হলে এক রাত হাসপাতালে রেখে পরদিন ডিসচার্জ করা হয়।  

 

  • অস্ত্রোপচারের পরে কী করা হয়?

ডাঃ সরকার: শরীর থেকে অনেকটা মেদ দ্রুত বের করে আনা হয় বলে সেখানকার চামড়া সাময়িক ঢিলে হয়ে যায়। সেই কোঁচকানো বা ভাঁজ হয়ে যাওয়া রুখতে সার্জারির পরে টাইট জ্যাকেট বা বেল্টের মতো এক বিশেষ পোশাক পরানো হয়। কতটা এলাকা জুড়ে অস্ত্রোপচার বা কতটা মেদ বের করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে পোশাকটি কত দিন পরে থাকতে হবে তা ঠিক করা হয়।

 

  • স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কত দিন সময় লাগে?

ডাঃ সরকার: ২ দিনে স্বাভাবিক হাঁটাচলা, ৭–‌‌১০ দিনে প্রাতঃভ্রমণ ও ৬ সপ্তাহে জিমে যাওয়া সম্ভব হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরে যে টাইট পোশাক পরতে হয়, তা কমপক্ষে ২ মাস পরে থাকা দরকার।


সাক্ষাৎকার: কৌশিক রায়‌‌

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top