আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মহাকাশের গভীর রহস্য আর দেবতাদের অস্তিত্বের প্রমাণ নিয়ে যুগ যুগ ধরে বহু তর্কবিতর্ক হয়েছে। প্রচুর কালি খরচ হয়েছে। অথচ, আজও এগুলি রহস্যাবৃতই থেকে গিয়েছে। সেই রহস্যের এক কণার খোঁজ মিলেছে কাশ্মীরের বারজাহামা এলাকায়। সেখানে পাওয়া ৫,০০০ বছরের পুরনো এক খণ্ড পাথরে যে ছবি আঁকা আছে তা মানব ইতিহাসের সব থেকে প্রাচীন নক্ষত্রের মৃত্যু বা সুপারনোভার প্রমাণ বলে ধারণা প্রত্নতাত্ত্বিক এবং গবেষকদের। 
বহু দিন আগেই ওই পাথুরে খণ্ডটি পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তার প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নিয়ে সেসময় কেউ মাথা ঘামায়নি। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানী ময়াঙ্ক বাহিয়ার নেতৃত্বে টাটা ইন্সটিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের একদল গবেষক ওই পাথরের খণ্ড এবং বারজাহামার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন।

সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বারজাহামায় সব থেকে পুরনো বসতি ছিল ৪৩২৫ খ্রিস্টপূর্বে। আর ৪৮ সেন্টিমিটার লম্বা, ২৭ সেন্টিমিটার চওড়া, একদিকে ভাঙা ওই শিলাখণ্ডটি প্রায় ২১০০ খ্রিস্টপূর্বের। খণ্ডের গায়ে আঁকা ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা পূর্ণ এবং একটা অর্ধেক সূর্য। প্রথমে একটিকে সূর্য এবং দ্বিতীয়টি চাঁদ বলে ভাবলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, ৩৬০০ সালে এইচবি–৯ নামে একটি নক্ষত্রের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় সূর্যের ছবিটি সেই সুপারনোভার প্রতীক বলেই দৃঢ় ধারণা বিজ্ঞানীদের। তাছাড়া, বারজাহামার সভ্যতার সময়কালের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে এইচবি–৯–এর মৃত্যুর সময়কাল।

সূর্য দুটির নিচে দুজন শিকারি একটি বড় হরিণ শিকার করছে, তিরধনুক এবং বর্শা হাতে। পাশে আরেকটি পশুও আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তিরধনুক হাতে মানুষটি ওরিওন বা কালপুরুষের, হরিণটি টরাস বা বৃষরাশি, দ্বিতীয় শিকারি সিটাস নক্ষত্রপুঞ্জ এবং পাশের পশুটি পিগেসাস নক্ষত্রপুঞ্জের প্রতীককেই মনে করাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওই এলাকায় খননকার্য চালালে এধরনের প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার অনেক নিদর্শন মিলবে।     

কাশ্মীরের বারজাহামায় মেলা পাথরের খণ্ডে আঁকা চিত্র।

 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top