সুনীল গাভাসকার: ভারত হয়তো প্রথম টেস্টে হেরে গেছে, কিন্তু এখনও সুযোগ আছে সিরিজ জেতার। তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্টে হেরে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো মোটেই সহজ নয়। কিন্তু ভারতীয় দল ঠিক এই কাজটাই করেছিল শ্রীলঙ্কায়, কয়েক বছর আগে। ফলে আবারও তেমনটা হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর যে স্বপ্ন, তা সত্যি করতে হলে ভারতের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। যে পিচে ওরা নিজেদের মেলে ধরতে পারল না, সেই পিচে ব্যাট করা সহজ ছিল না। আবার এটাও ঠিক যে, অসম্ভবও ছিল না। ভারতীয়দের শরীরীভাষা ছিল অলস প্রকৃতির, যা তাদের নড়াচড়ার ক্ষেত্রেও প্রকাশ পাচ্ছিল। দুই ইনিংসেই সুইংয়ের কাছে কাবু হয়েছে ওরা। সেই কারণেই ওদের উচিত, এই অলসতা কাটাতে গা–ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ানো এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলা।
দলের থিঙ্ক–ট্যাঙ্ক কী ভেবেছিল জানি না, অবশ্যই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। তাই তো প্রথম টেস্টে প্রোটিয়াদের জোরে বোলিং সামলাতে গিয়ে অস্বস্তির মুখে পড়েছে। সাড়ে ছ’‌ফুট উচ্চতার একজন নেট বোলারও থাকা উচিত ছিল ভারতের, যাতে মরনি মরকেলের ডেলিভারি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। বলতে খারাপ লাগছে, প্রস্তুতি ঠিক হয়নি। আর এই অপশনাল প্র‌্যাকটিসের ব্যাপারটা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। একমাত্র কোচ এবং অধিনায়কই সিদ্ধান্ত নেবে কোন প্লেয়ারকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত প্লেয়াররা নেবে না। দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্রিকেটারই টেস্টের আগের দিন এবং খেলা শেষের পরেরদিন প্র‌্যাকটিস করতে পছন্দ করে না। 
আমি এমন একজন মানুষ, যে সফরে গিয়েও পরিবারের একজন হয়ে থাকতে ভালবাসতাম। এমনকী যারা অফিস যায়, তারাও প্রতিদিন বিকেলে বাড়ি ফেরে পরিবারের কাছে। তাহলে প্লেয়াররা কেন নয়?‌ কিন্তু অফিস আওয়ার্স হল অফিস আওয়ার্সই। টেস্ট ম্যাচের জন্য প্র‌্যাকটিস হল সেই অফিস আওয়ার্সেরই সমতুল। কিন্তু সেটাই ঠিকঠাক হয়নি। যে ব্যাপারটা হতাশাজনক, তা হল
, আগের টেস্টের পরের দিন, অর্থাৎ পঞ্চম দিনে প্র‌্যাকটিস অপশনাল হওয়ায় দেখা গেল রিজার্ভের ছ’‌জন প্লেয়ারের মধ্যে চারজন প্র‌্যাকটিসে এল। বৃষ্টির জন্য তৃতীয় দিনে তো খেলাই হয়নি। ফলে ক্লান্ত হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আর সিমারদের তো সবারই উচিত ছিল প্র‌্যাকটিস করা। টেস্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাউন্ডসম্যানের কাছে বার্তা পাঠানো উচিত ছিল, পিচে যেন জল না দেওয়া হয়। যে পিচে সমস্যা হয়েছে, সেখানেই প্র‌্যাকটিস করতে পারত প্লেয়াররা। পরের দিনটা ছিল ট্র‌্যাভেল করার। ফলে সেদিন অল্প প্র‌্যাকটিস বা প্র‌্যাকটিস না করার সম্ভবনাই থাকে। হেরে যাওয়ার পর ভুলত্রুটিগুলো মেরামত করার জন্য অতিরিক্ত এফর্ট তো দিতেই হবে। আশা করব ভারত জোরদারভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, কোনও ভুল করবে না। কারণ ওরা এখনও বিশ্বের এক নম্বর দল।‌

ভারতের হাই–কমিশনারের ডিনারে বিজয়, পান্ডিয়া, রাহুল।

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top