(ভাল কথা বলেন। একটু উগ্র। ঘনিষ্ঠরা বলেন, মানুষটা ভাল। না–‌পাওয়ার যন্ত্রণায় মাঝেমধ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তবে, আধুনিক। আবার ট্র‌্যাডিশনালও। স্পষ্ট কথা বলতে ভয় পান না। তিনিই ভারতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকা রওনা হওয়ার আগে বলে দিয়েছিলেন, ‘‌বিরাট, সব পেয়েছ। ব্যর্থ হলে অজুহাত কিন্তু শোনা হবে না।’‌ সেই মন্তব্যের সুর ধরেই দেবাশিস দত্ত কথা বললেন বিষাণ সিং বেদির সঙ্গে।)

বেদি:‌ কেন, ভুল বলেছিলাম?‌ সফরে যাওয়ার আগে টিম ম্যানেজমেন্টের যা যা দাবি ছিল, সব কিন্তু আমাদের বোর্ড মেনে নিয়েছে। এবার তো দলের পক্ষ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। শুধু নিয়ে যাবে, দেবে না কিছুই— এটা কিন্তু কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। কোনও কালে ছিল না, এ–‌কালেও নয়।
 কিছু কিছু জানি, কিন্তু আপনার চোখে কোন কোন আবদার ধরা পড়েছে?‌
বেদি:‌ এই যেমন প্র‌্যাকটিস ম্যাচ খেলব না। শীর্ষস্থানীয় জোরে বোলারদের বিশ্রাম দেওয়ার জন্য গোটা তিনেক নেট–‌বোলার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সফরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ‌১৭ জন ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে ক্রিকেটারের সংখ্যা ২০। মনে পড়ছে না, এতজন ক্রিকেটার নিয়ে আগে কোনও ভারতীয় দল বিদেশ সফরে গেছে। সফরে নিয়ে গেছে সব ক্রিকেটার নিজেদের স্ত্রীদের। আর কী কী চাই?‌ বিনিময়ে মন দিয়ে খেলতে হবে। 
 সিরিজ তো সবে শুরু হল.‌.‌.‌.‌
বেদি:‌ কহাবত হ্যায়, গোঁফ দেখেই চেনা যায়, কোন বিড়ালটা ইঁদুর মারবে। আপনারা যদি বুঝে না–‌বোঝার ভান করেন, আই হ্যাভ গট নাথিং টু সে। পেশাদারদের জীবনে কোনও আহা উঁহু থাকতে নেই। পেশাদার জগৎ বড় নির্মম। আমাদের ক্রিকেটাররা কেপ টাউনে দ্বিতীয় ইনিংসে জাস্ট ম্যাচটা দিয়ে দিল। এতগুলো ব্যাটসম্যান নিয়ে ২০৮ রান তুলতে পারল না!‌ উইকেটে তো দাঁড়ানোর কোনও লক্ষণ নজরে পড়েনি। আমি একটা পাল্টা প্রশ্ন করি, সফরে যাওয়ার আগে ইন্ডিয়া টিম জানত না যে, ওদেশে বল বাড়তি গতিতে ছুটে আসে?‌ সঙ্গে থাকে বিষাক্ত স্যুইং, কাট?‌ তাহলে কেন ওরা সহানুভূতি আশা করছে?‌  সফরে যাওয়ার আগে এবং ওদেশে পৌঁছোনোর পর যে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দলের পক্ষ থেকে বিবৃতি ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তাতে তো মনে হচ্ছে না যে, ওরা পিছিয়ে রয়েছে।
 এর আগেও তো ভারত সিরিজের প্রথম টেস্টে বহুবার বিদেশে হেরেছে। তারপর আবার ফিরে এসেছে। এবারও তো প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বেদি:‌ আমি একজন ভারতীয়। সব সময় চাইব, ভারত জিতুক। ২৫ বছর ধরে ওদেশ থেকে হেরে ফিরে এসেছি আমরা। এবার যদি টিম ইন্ডিয়া জিতে ফেরে, তাহলে তো আমাদের সবারই সম্মান বেড়ে যাবে। যেভাবে সফর এগোচ্ছে, তাতে আমি খুশি নই। হু অ্যাম আই,‌ এমন প্রশ্ন কেউ কেউ করতেই পারে। আমি শুধু বলব, প্ল্যানিং ঠিকঠাক হচ্ছে না। ব্যাড প্ল্যানিং। তা সত্ত্বেও যদি দল জিতে যায়, উই উইল বি হ্যাপি। বেস্ট অফ লাক।
 আপনার কথা শুনে আশার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না।
বেদি:‌ দিল খুলে কথা বলি। আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে, যারা সব সময় ফিফটি ফিফটি কথা বলে। এটা‌ও হতে পারে, ওটা‌ও হতে পারে। আর পাঠকরা, দর্শকরা দিব্যি এদের কথা গিলে যাচ্ছে দিনের পর দিন। আমি একজন ক্রিকেট লিখিয়েকে বললাম, কীসের সততার কথা বলছ, ভাই? ইন্ডিয়া টিমের এগেনস্টে তো একটা লাইন দেখতে পাচ্ছি না। কী উত্তর পেলাম জানেন, বলল, তাহলে ক্রিকেটাররা ইন্টারভিউ দেবে না। বুঝলাম চাকরির ব্যাপার। আমরা সবাই কিন্তু এভাবেই কোনও না কোনও টিকির কাছে নিজেদের বেঁধে রাখছি। তবু আমি ওকে বলেছিলাম, বিরুদ্ধে না লিখলে, ইন্টারভিউ দেবে, এই গ্যারান্টি আছে?‌
 বলা হয়, আপনি এমন সমালোচনা করেন ঈর্ষাকাতর হিসেবে?‌
বেদি:‌ আই ক্যান নট স্টপ দেম। কীসের ঈর্ষা?‌ ভিনু মানকড়, বিজয় হাজারেরা দেশের হয়ে খেলার জন্য কোনও টাকা পায়নি। এটা তো সময়ের ব্যাপার। ঈর্ষাকাতর হয়ে লাভ হবে?‌ আমি বলি, লোক ঠকানোর ক্রিকেট খেল না। যথেষ্ট টাকাপয়সা পাচ্ছ। গোটা দেশ মাথায় করে রেখেছে। এবার সেই মর্যাদা ফেরত দিতে হবে, জিতে। এই তো কদিন আগে রনজি ট্রফি ফাইনাল হল। দেখলাম টিভিতে। বিদর্ভ খেলছিল ট্রফি জেতার জন্য। আর আমার দিল্লি খেলছিল আইপিএলে টিম পাওয়ার জন্য। এই কথাটা বলছি বলে ঈর্ষাকাতর হয়ে গেলাম?‌ অন্য কেউ, এমন সোজাসুজি কথা বলছে না বলে, আমি বলব না, এটা ধরে নিচ্ছেন কেন?‌ ক্রিকেট জীবনে ডন ব্র‌্যাডম্যানও, কখনও নিজেকে ইনভিনসেবল মনে করতেন না। খেলা ছাড়ার পর ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সামাজিক জীবন থেকে। আমাদের এখনকার দলের কেউ কেউ নিজেদের ক্রিকেট খেলার থেকে বড় ভাবছে। হঁাটুর ওপর বল উঠলে, যাবতীয় কেরামতি শেষ, এটা জনতা অদ্ভুতভাবে বুঝেও বুঝে উঠতে পারছে না। 
 শোনা যাচ্ছে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে বসিয়ে আরও একজন জোরে বোলার নাকি খেলানো হবে?‌
বেদি:‌ আরও একজন জোরে বোলার। আমাদের বোলিং বিভাগে যারা রয়েছে, তারা দক্ষিণ আফ্রিকার ২০টা উইকেট তুলে নেবে। এটা গ্যারান্টেড। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারবে, এই গ্যারান্টি, আমি অন্তত দিতে পারছি না। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ৬ নম্বরে একটা ভাল ব্যাটসম্যান থাকলে ইন্ডিয়া আরও বেশি কাবু হয়ে যেত।

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top