স্নেহাশিস সৈয়দ, রানিনগর: ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের রেজিষ্ট্রেশন করা প্রায় দেড়শো অটো অবাধেই ভাড়া খাটছে জঙ্গিপুর–লালগোলা রুটে। ওই সব অটোয় উঠতে যাত্রীদের অবশ্য কিছুই যাচ্ছে–আসছে না। বরং, যাতায়াতে বাড়তি অটো পেয়ে তাঁরা খুশি। তবে ভিন রাজ্যের নম্বর প্লেট লাগানো অটো রুখতে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানেনই না বলে দাবি করেছেন আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের মুর্শিদাবাদ জেলা আধিকারিক তথা আরটিও অনন্তচন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, ‘‌বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই অটো বন্ধ করার ব্যাপারে আমাদের দফতরের কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছি।’‌ জানা গেছে, ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের রেজিষ্ট্রেশন করা নম্বরের প্রায় দেড়শো অটো জঙ্গিপুর–লালগোলা রুট ছাড়াও ছুটছে লালগোলা–রাজারামপুর, রঘুনাথগঞ্জ থানার রামপুরা-লালগোলা ও সাইদাপুর-লালগোলা রুটেও। এমনকি লালগোলা-ভগবানগোলা রুটেও ভিন রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন করা কয়েকটি অটো যাত্রী পরবহণ করছে বলে অভিযোগ। লালগোলা ট্রেকার মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মাসাদুল হকের অভিযোগ, নাকের ডগায় শতাধিক বেআইনি অটো চললেও প্রশাসন দেখেও দেখছে না। জানা গেছে, জঙ্গিপুর থেকে লালগোলা রুটে চলে প্রায় চারশো অটো। তার মধ্যে দেড়শো অটোয় রয়েছে ঝাড়খণ্ডের নম্বর প্লেট। ৫০টি অটো রেজিষ্ট্রেশন না করা অবস্থায় নম্বর প্লেট ছাড়াই চলছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ড থেকে অটোর নম্বর রেজিষ্ট্রেশন হচ্ছে কেন?  নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটো মালিক জানান, মুর্শিদাবাদ আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর অটো রুটের পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছে। তাই মুর্শিদাবাদ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের দুমকা, পাকুড় এলাকার দোকান থেকে অটো কিনে সেখানকার আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরে রেজিষ্ট্রেশন করানোর পরে সেই অটো নিয়ে এসে এখানে চালাচ্ছেন অনেকে। এছাড়া এরাজ্যের তুলনায় ঝাড়খণ্ডে রেজিষ্ট্রেশন খরচ কম,ট্যাক্সের পরিমাণও কম। এসবের জেরে ঝাড়খণ্ডের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর লাগানো অটোর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আবার পাল্লা দিয়ে চলছে বিনা রেজিষ্ট্রেশনের অটো।                        

নম্বরেই স্পষ্ট ঝাড়খণ্ডের অটো। ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top