অমিতকুমার ঘোষকৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের প্রাচীন ভবনকে হেরিটেজ ভবন হিসাবে ঘোষণার দাবি উঠেছে। এই বাড়িটি প্রখ্যাত ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের। তাঁর মৃত্যুর পর বংশধররা এই বিশাল ভবন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েক বিঘা জমি শিক্ষার প্রসারে ব্যবহারের জন্যে সরকারকে দান করেন। পরবর্তীকালে এই ভবনে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল উঠে আসে। 
ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের এই বাসভবনটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এর গঠনশৈলিও অপূর্ব। এই বিশাল ভবনের কিছুটা তিনতলা এবং বাকিটা দোতলা। অনেকগুলি বড় বড় ঘর রয়েছে এখানে। দানের শর্ত অনুযায়ী, ভবনের কোথাও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা নেই। মূল ভবনের রঙও পরিবর্তন করা হয়নি। প্রধান ফটকের গায়ে শুধু লেখা আছে  ‘‌বঙ্গের গৌরব দেশপূজ্য মনমোহন ঘোষের নিবাস’‌। ভবনটি আনুমানিক দেড়শো বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। এই ভবনকে হেরিটেজ ভবন হিসাবে ঘোষণার দাবি অনেক দিন থেকেই উঠছে।  স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশন এবিষয়ে সরব হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি দিলীপ গুহ জানিয়েছেন, 'এই দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। আগামী ২৮ জানুয়ারি আমাদের বার্ষিক অধিবেশনের এই বিষয়ে আলোচনা হবে। তারপর বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা জেলা শাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’‌  কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলটি দেড় শতাধিক বছরের পুরনো হলেও প্রথম দিকে এর স্থায়ী কোনও ভবন ছিল না। প্রথমে কৃষ্ণনগর কলেজে এই স্কুল চলত। পরে বিভিন্ন সরকারি ভবনে এই বিদ্যালয়ের কাজ হয়েছে। পরবর্তীকালে বর্তমান ভবনে উঠে আসে এই সরকারি বিদ্যালয়। উল্লেখ্য, এই স্কুলের নতুন একটি ভবন তৈরি করা হয়েছে। এরপর সেখানেই পড়াশোনার কাজ হবে। পুরনো ভবনে শুধু অফিস থাকবে। তাই এখনই এই ভবনকে হেরিটেজ বিল্ডিং হিসাবে ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জোরালো হয়েছে। 
 

দেড়শো বছরের পুরনো এই ভবনকেই হেরিটেজ ঘোষণার দাবি উঠেছে। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top