‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ গণতন্ত্র বিপন্ন। সুপ্রিম কোর্টে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না। মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের চার প্রবীণ বিচারপতির। শুক্রবার নজিরবিহীন সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিচারপতি জে চেলামেশ্বর প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ আনেন। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় প্রবীণতম বিচারপতি তিনি। তাঁর বাড়িতেই সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি মদন বি লকুর এবং বিচারপতি ক্যুরিয়েন জোসেফ। কী কারণে তাঁদের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ?‌ বিচারপতি চেলামেশ্বর বলেছেন, ‘‌দেশের ইতিহাসে এটা একটা অস্বাভাবিক ঘটনা। এরমধ্যে কোনও আনন্দ নেই, আমরা এটা করতে বাধ্য হয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট ঠিকভাবে চলছে না।’‌ এমনকি তাঁদের প্রশ্ন করা হয়, তাঁরা প্রধান বিচারপতির ইমপিচমেন্ট চাইছেন কিনা। প্রশ্ন এড়িয়ে চেলামেশ্বর বলেছেন, দেশই ঠিক করুক। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির বৈঠকের পরেই আইনমন্ত্রীর রবিশংকর প্রসাদের সঙ্গে বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপরেই সরকারের পক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিচারবিভাগের কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। বিচারপতিরাই নিজেদের মত বিরোধ মিটিয়ে নিক। এরপরেই প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়, প্রত্যেক বিচারপতিই সমান। ঠিকভাবেই মামলা বণ্টন করা হয়।

 

 

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের কাজে যে তাঁরা অসন্তুষ্ট, তা গোপন না করেই চেলামেশ্বর বলেন, ‘দেশ এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমরা ঋণী। এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে প্রধান বিচারপতি যাতে পদক্ষেপ করেন তা ‌নিয়ে বোঝাতে গিয়েছিলাম। আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’‌ কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন বিচারপতিরা এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ডিসেম্বর মাসে একটি মামলার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের সঙ্গে বিচারপতি চেলামেশ্বরের সংঘাত বাধে। সেই মামলা চেলামেশ্বরের হাত থেকে নিয়ে অন্য চার বিচারপতির হাতে দিয়ে দেন। এই চার বিচারপতি মেনে নিয়েছিলেন— সুপ্রিম কোর্টে কোনও মামলার শুনানি কার হাতে যাবে তার সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রধান বিচারপতির রয়েছে। ডিসেম্বরে মেডিকেল দুর্নীতি সংক্রান্ত ওই মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। লখনউ এর একটি মেডিকেল কলেজ ঘুষ নিয়ে ছাত্র ভর্তি করিয়েছে এমন অভিযোগ ওঠে। তার জন্য কালো তালিকা করা হয় ওই কলেজকে। কলেজটি সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিল। বিচারবিভাগও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগ ওঠার পরে সেই মামলা অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। শুক্রবার প্রবীণ বিচারপতিরা বলেন, প্রধান বিচারপতি সমানের মধ্যে প্রথম। তিনি প্রধান নন। ২০ বছর পরে কেউ যেন বলতে না পারে আমরা আত্মা বিক্রি করে দিয়েছিলাম। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top